রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

‘আতঙ্কের নাম DH-69’

জাহেদুল ইসলাম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
‘আতঙ্কের নাম DH-69’

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ‘DH-69’ নামে একটি কিশোর গ্যাংয়ের প্রকাশ্য শোডাউন ও সামাজিক মাধ্যমে নিজেদের ‘আতঙ্কের নাম DH-69’ হিসেবে প্রচার করাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনমনে উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি বিপুল সংখ্যক সদস্য নিয়ে লাল রঙের পতাকা হাতে কেরানীহাট এলাকায় মিছিল ও শক্তি প্রদর্শন করে গ্রুপটির সদস্যরা। পরে সেই শোডাউনের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। টিকটকে তাদের সদস্যদের আপলোড করা কয়েকটি ভিডিওতে দেশীয় অস্ত্রসদৃশ বস্তু বহন করতে দেখা গেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক, ব্যবসায়ী এবং সচেতন মহলের অনেকে বলছেন, কিশোর গ্যাং সংস্কৃতি ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। এর মধ্যে কোনো গ্রুপ যদি প্রকাশ্যে নিজেদের ‘আতঙ্কের নাম’ হিসেবে পরিচিত করার চেষ্টা করে, তাহলে তা শুধু সামাজিক শৃঙ্খলার জন্য নয়, কিশোরদের ভবিষ্যতের জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সাতকানিয়ার কেরানীহাটের সী-ওয়ার্ল্ড রেস্টুরেন্টের সামনে জড়ো হন ওই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। পরে একটি বড় লাল রঙের পতাকা হাতে কয়েক ডজন তরুণ ও কিশোরকে একসঙ্গে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে মিছিল-শোডাউন করতে দেখা যায়। তাদের হাতে থাকা লাল রঙের পতাকায় বড় অক্ষরে লেখা ছিল ‘DH-69’। দলবদ্ধভাবে মহাসড়কে অবস্থান, স্লোগান এবং শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে তারা নিজেদের উপস্থিতি জানান দেয়।

স্থানীয়রা জানান, সাধারণত রাজনৈতিক কর্মসূচি, সামাজিক অনুষ্ঠান বা সাংস্কৃতিক আয়োজন ছাড়া এত বড় সংখ্যক তরুণকে একই ব্যানারে প্রকাশ্যে শোডাউন করতে দেখা যায় না। ফলে অনেকেই বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে নেননি। শোডাউনের সময় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষজন কৌতূহল ও শঙ্কা নিয়ে ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করেন।

একজন ব্যবসায়ী বলেন, প্রথমে ভেবেছিলাম কোনো সংগঠনের অনুষ্ঠান। পরে দেখি অনেকেই ভিডিও করছে, ছবি তুলছে। পরে সামাজিক মাধ্যমে দেখি ওরা নিজেদের DH-69 নামে পরিচয় দিচ্ছে। তখন বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।

শোডাউনের পরপরই ফেসবুক, টিকটকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে গ্রুপটির সদস্যরা নিজেদের কর্মকাণ্ডের ভিডিও পোস্ট করে বিভিন্ন ধরনের ক্যাপশন ব্যবহার করেন। কয়েকটি পোস্টে স্পষ্টভাবে লেখা হয়—‘আতঙ্কের নাম DH-69’।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অনেক সদস্য নিজেদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকেও একই ধরনের ছবি ও ভিডিও শেয়ার করেছেন। কেউ কেউ গ্রুপের নাম সম্বলিত পোস্টারধর্মী ছবি ব্যবহার করেছেন। আবার অনেকে ভিডিও সম্পাদনার মাধ্যমে নিজেদের শক্তিশালী বা ভয়ংকর হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন।

সচেতন মহলের মতে, সামাজিক মাধ্যমে ‘আতঙ্ক’ শব্দ ব্যবহার করে নিজেদের প্রচার করা একটি নেতিবাচক বার্তা বহন করে। এটি অন্য কিশোরদের মধ্যেও একই ধরনের গ্রুপ তৈরির আগ্রহ সৃষ্টি করতে পারে।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিও নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। ভিডিওগুলোতে কয়েকজনের হাতে ধারালো অস্ত্রসদৃশ বস্তু দেখা গেছে বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা।

একজন অভিভাবক বলেন, কিশোর বয়সী ছেলেদের হাতে যদি অস্ত্রসদৃশ কিছু দেখা যায়, সেটা অবশ্যই চিন্তার বিষয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচিত বিষয়টি খতিয়ে দেখা।

স্থানীয়দের মতে, অস্ত্র প্রদর্শনের মতো দৃশ্য ব্যবহার করে ভয়ভীতি সৃষ্টির চেষ্টা সামাজিকভাবে ক্ষতিকর।

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, DH-69 নামটি সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি দেখা যাচ্ছে। গ্রুপটির সদস্যদের বেশিরভাগই কিশোর ও তরুণ বয়সী। তারা মূলত নিজেদের মধ্যে একটি আলাদা পরিচয় তৈরি করতে এই নাম ব্যবহার করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে গ্রুপটির আনুষ্ঠানিক কোনো কাঠামো, নিবন্ধন বা বৈধ সংগঠন হিসেবে অস্তিত্বের তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়ভাবে এটি একটি কিশোর গ্যাং বা অনানুষ্ঠানিক তরুণদের দল হিসেবেই পরিচিতি পেয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের গ্রুপগুলো সাধারণত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক পরিচিতি তৈরির মাধ্যমে সদস্য সংগ্রহ করে। পরে নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের জন্য দলবদ্ধ ছবি, ভিডিও এবং শোডাউন আয়োজন করে।

কেরানীহাটের বাসিন্দাদের অনেকেই বলছেন, এ ধরনের কিশোর গ্যাংয়ের প্রকাশ্য শক্তি প্রদর্শনের ফলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

একজন প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, আমরা চাই আমাদের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করুক। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে অনেকেই গ্রুপ বানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার চেষ্টা করছে। এটা ভালো লক্ষণ নয়।

স্থানীয় এক শিক্ষক বলেন, কিশোর বয়সে অনেক সময় বন্ধুবান্ধবের প্রভাবে ভুল পথে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিশোর গ্যাং কোনো একক এলাকার সমস্যা নয়। দেশের বিভিন্ন শহর ও উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন নামে কিশোর গ্রুপ গড়ে উঠছে। এসব গ্রুপের সদস্যরা নিজেদের পরিচিতি বাড়াতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে থাকে।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, গ্রুপের সদস্যরা একসঙ্গে ছবি তোলা, ভিডিও তৈরি করা, মোটরসাইকেল শোডাউন, উচ্চ শব্দে সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে।

সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করেন, সামাজিক স্বীকৃতির আকাঙ্ক্ষা, পারিবারিক নজরদারির ঘাটতি, বেকারত্ব, অনলাইন সংস্কৃতির নেতিবাচক প্রভাব এবং সহপাঠীদের চাপ—এসব কারণে অনেক কিশোর এমন গ্রুপের প্রতি আকৃষ্ট হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিশোরদের আচরণে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। অনেকেই ‘ভিউ’, ‘লাইক’ ও ‘ফলোয়ার’ বৃদ্ধির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বা বিতর্কিত কনটেন্ট তৈরি করে।

কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়, ভয়ভীতি, দাপট কিংবা ক্ষমতার প্রদর্শনমূলক ভিডিও দ্রুত ভাইরাল হয়। ফলে অন্যরাও একই ধরনের ভিডিও তৈরি করতে উৎসাহিত হয়।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, কিশোর বয়সে আত্মপ্রকাশের প্রবল ইচ্ছা থাকে। সেই ইচ্ছাকে ইতিবাচক পথে পরিচালিত না করতে পারলে তারা নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তে পারে।

স্থানীয় অভিভাবকরা বলছেন, সন্তানরা কার সঙ্গে মিশছে, কোথায় যাচ্ছে এবং সামাজিক মাধ্যমে কী ধরনের কার্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে—এসব বিষয়ে নজরদারি প্রয়োজন।

একজন অভিভাবক বলেন, “শুধু স্কুলে পাঠালেই দায়িত্ব শেষ হয় না। সন্তান মোবাইলে কী করছে সেটাও দেখতে হবে।”

শিক্ষাবিদদের মতে, সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা, নিয়মিত কথোপকথন এবং মানসিক সহায়তা প্রদান কিশোর গ্যাংয়ে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

স্থানীয়দের দাবি, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিগুলো দ্রুত যাচাই করা উচিত। যদি সেখানে অস্ত্র প্রদর্শন, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি বা আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

কেঁওচিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মো. জাহেদুল ইসলাম বলেন, কিশোর ও তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার বিকল্প নেই। কোনো ধরনের সহিংসতা, অস্ত্র প্রদর্শন বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের সংস্কৃতি সমাজের জন্য ক্ষতিকর। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত অভিযোগগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

জানতে চাইলে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও ও ছবির বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যদি অস্ত্র প্রদর্শন, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর মতো কোনো কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে আইনের ঊর্ধ্বে বিবেচনা করা হবে না।

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক ৬ লেন হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৯:৫০ পিএম
চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক ৬ লেন হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ককে বর্তমান চার লেন থেকে ছয় লেনে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, কক্সবাজার অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও পর্যটন গুরুত্ব বিবেচনায় মহাসড়কটির সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।

আজ শনিবার সন্ধ্যায় কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর বাসটার্মিনাল এলাকায় চকরিয়া উপজেলা ও পৌর বিএনপি আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। জনসভায় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান।
তারেক রহমান বলেন, প্রায় ২৫ বছর আগে তিনি যে সড়ক দেখে গিয়েছিলেন, তার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন এখনো হয়নি। এ সময়ে কক্সবাজারের গুরুত্ব বহুগুণ বেড়েছে। পর্যটন ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনার কারণে যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি হয়ে উঠেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর চালু হলে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও সম্প্রসারিত হবে। এ বাস্তবতায় চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ককে আধুনিক ও অধিক সক্ষম সড়কে রূপান্তর করা প্রয়োজন। তিনি জানান, যানবাহনের বাড়তি চাপ ও ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক চাহিদা বিবেচনায় মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করা হবে এবং শিগগিরই প্রকল্পের কাজ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
লবণচাষিদের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, উৎপাদিত লবণের ন্যায্যমূল্য থেকে অনেক চাষি বঞ্চিত হচ্ছেন। এ অবস্থার পরিবর্তনে সরকার মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেবে, যাতে চাষিরা উৎপাদিত লবণের উপযুক্ত দাম পান।
প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট নিয়ে বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি উপস্থাপিত বাজেটটি সাধারণ মানুষের কল্যাণকে গুরুত্ব দিয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর কমানো বা প্রত্যাহারের বিষয়ও বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্বাস্থ্যসেবা খাত নিয়ে তিনি বলেন, দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পর্যায়ক্রমে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি আগামী বাজেটে ৪২ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড এবং ৪০ লাখ কৃষককে কৃষি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এসব উদ্যোগ তাঁর ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ কর্মসূচির অংশ বলে উল্লেখ করেন।

চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হকের সভাপতিত্বে জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করা বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অন্যতম ছিল। পাশাপাশি লবণচাষীরা যাতে প্রতি কেজি লবণের ন্যূনতম ১৫ টাকা মূল্য পান, সে লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগের প্রশংসা করেন তিনি।
সভায় আরও বক্তব্য দেন কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না এমপি। এতে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
এর আগে একই দিন কক্সবাজার জেলার দশম উপজেলা হিসেবে নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলা ও থানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

লোহাগাড়ায় বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্বোধন

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৯:০১ পিএম
লোহাগাড়ায় বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্বোধন

রায়হান সিকদার,লোহাগাড়াঃ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বৃক্ষরোপন কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় বৃক্ষ রোপন ও চারা বিতরন করা হয়েছে।

শনিবার(১৩জুন) দুপুরে উপজেলা প্রশাসন এবং পদুয়া বনরেঞ্জ ও টংকাবতী বিটের উদ্যোগে চরম্বা মাইজবিলা এলাকায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) মোঃ বায়োজীদ-বিন-আখন্দ।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পদুয়া বনরেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ রিয়াদুর রহমান ভূঁইয়া,চরম্বা টংকাবতী বিট কর্মকর্তা ইমন বিল্লাহ, লোহাগাড়া প্রেস ক্লাব সভাপতি এম সাইফুল্লাহ চৌধুরী, উপজেলা সহকারি প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ ফয়সাল আমীর সহ গণমাধ্যম কর্মী ও বন বিভাগের স্টাফবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

একই সাথে ওই এলাকায় বনবিভাগের পক্ষ থেকে রোপনকৃত বাগানটি পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) মোঃ বায়োজীদ-বিন-আখন্দ, পদুয়া বনরেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ রিয়াদুর রহমান ভূঁইয়া,চরম্বা টংকাবতী বিট কর্মকর্তা ইমন বিল্লাহ।

ইউএনও মোঃ বায়োজীদ-বিন-আখন্দ বলেন, ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষ রোপণের গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অধিক সংখ্যক গাছ লাগানো এবং সেগুলোর পরিচর্যা করার আহ্বান জানান।

প্রসঙ্গত: কক্সবাজারের ডুলাহাজরায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্তৃক বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্বোধনের পর এ বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

বান্দরবান এলজিইডির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৮:৫৬ পিএম
বান্দরবান এলজিইডির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশব্যাপী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসুচির লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কর্তৃক বাস্তবায়িত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৬ এর শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।

১৮০ দিনব্যাপী এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার সকালে বান্দরবানের সদর উপজেলার রেইছা-গোয়ালিয়াখোলা সড়কে দু-পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর রাঙ্গামাটি অঞ্চল এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী(এসি) মো: শরীফ উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বান্দরবান নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ান।

এসময় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)সদর উপজেলা প্রকৌশলী অনুপম সিকদারসহ এলজিইডির কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মসূচির আওতায় উপজেলার বিভিন্ন সড়কের পাশে পরিবেশবান্ধব ও ফলজ, বনজ এবং ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হবে। এর মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশি­ষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)বান্দরবান নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ান বলেন,”বৃক্ষরোপণ শুধু একটি কর্মসূচি নয়, এটি পরিবেশ ও মানব কল্যাণে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ। এলজিইডির উদ্যোগে সড়কের পাশে সবুজ বেষ্টনী গড়ে উঠলে পরিবেশের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণও নানাভাবে উপকৃত হবে।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা সড়কের পাশে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের চারা রোপণ করেন।