সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে সাশৈপ্রু কে মনোয়ন প্রদানের জন্য জেলার সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের দাবী

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৭:২২ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে সাশৈপ্রু কে মনোয়ন প্রদানের জন্য জেলার সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের দাবী

বান্দরবান প্রতিনিধি

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও দীর্ঘদিনের পরিক্ষিত নেতা রাজ পরিবারের অন্যতম সদস্য সাশৈপ্রু কে মনোয়ন প্রদানের জন্য বান্দরবান জেলার সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা আবেদন করেছেন। বান্দরবান জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক অধ্যাপক মোঃ ওসমান গনি, যুগ্ম আহবায়ক মুজিবুর রশিদ, যুগ্ম আহবায়ক আব্দুর মাবুদ, যুগ্ম আহবায়ক মশিউর রহমান মিটন, যুগ্ম আহবায়ক জাহাঙ্গীর আলম, যুগ্ম আহবায়ক আমির হোসেন আমু, যুগ্ম আহবায়ক নেজাম উদ্দিন চৌধুরীসহ জেলা বিএনপির সকল সদস্য, জাতীয়তাবাদী যুবদল, শ্রমিক দল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, ছাত্রদল, তাঁতী দল, কৃষক দল, মৎস্যজীবিদল, ওলামা দল সহ সকল অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ স্বাক্ষরিত পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রানালয়ে মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী বরাবর আবেদন করেন। আবেদনের উল্লেখ্য করেন, বান্দরবান জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক সাশৈপ্রু বান্দরবান বিএনপির প্রতিষ্ঠকালীন সদস্য, তিনি জাগদলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে রাজনীতি শুরু করেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে বান্দরবানে যে কয়েকজন ব্যক্তির রাজনীতির হাতগড়ি হয়েছিল তার মধ্যে তিনি অন্যতম। লিখিত আবেদনে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ১৯৮০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপ্রতি জিয়াউর রহমান সুয়ালক ম্রো কমপ্লেক্স এলাকায় রাত্রী যাপনকালীন বোমাং রাজা প্রতিমন্ত্রী উ অংশৈ প্রু চৌধুরীর ভাগিনা হিসাবে আপ্যায়নের দায়িত্ব পালন করেন, ১৯৯৩ সালে টাউন হলে বিএনপি বান্দরবান জেলা কাউন্সিলের মাধ্যমে গঠিত কমিটির প্রচার সম্পাদক ছিলেন। তিনি ১/১১ এর পূর্বেও তাকে বিএনপি সকল প্রকার কর্মসূচীতে সক্রীয় ও তিনি বিগত ১৭ বছরের আওয়ামী স্বৈরচার ও ফ্যাস্টিট সরকার আমলে নির্যাতন ও হয়রানী শিকার হয়েছেন। অবরোধ ও হরতালের মত কঠোর আন্দোলনে সক্রীয় ভূমিকা পালন করেছেন। পুলিশের তৎপরতার কারণে অগনিত দিন ঘর ছাড়া ছিলেন। নেতৃবৃন্দ আরো উল্লেখ করেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে বিএনপির সকল প্রকার কর্মসূচী বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি একজন কর্মীবান্ধব সকলের প্রিয়ভাজন নেতা। তিনি একজন বোমাং সার্কেলের রাজপ্রথার ৩৬৩নং আলেক্ষ্যং মৌজার হেডম্যান (মৌজা প্রধান)। নেতৃৃবন্দের মধ্যে আরো স্বাক্ষর করেন, জেলা বিএনপি সদস্য নাজমুল ইসলাম চৌধুরী, জেলা বিএনপির সদস্য আব্দুস শুক্কুর, জেলা বিএনপির সদস্য সাবিকুর রহমান জুয়েল, জেলা বিএনপির সদস্য থোয়াইনু অং চৌধুরী, জেলা বিএনপির সদস্য আলহাজ্ব মোঃ মুছা, জেলা বিএনপির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মংশৈহ্লা চৌধুরী, জেলা বিএনপির সদস্য নুরুল আলম কোম্পানী, জেলা বিএনপির সদস্য মংক্যনু চৌধুরী, জেলা বিএনপির সদস্য শ্যামল কান্তি বড়ুয়া, জেলা বিএনপির সদস্য মোঃ নাছির উদ্দিন চৌধুরী, জেলা বিএনপির সদস্য আবু তাহের মিয়া, জেলা বিএনপির সদস্য আবু বক্কর, জেলা বিএনপির সদস্য আবুল হাশেম, জেলা বিএনপির সদস্য মংশৈম্রায়, জেলা বিএনপির সদস্য শৈসাঅং, জেলা বিএনপির সদস্য মোঃ নজরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সদস্য নু মংপ্রু মার্মা, জেলা যুবদলের সভাপতি মোঃ জহির উদ্দিন (মাসুম), সাধারন সম্পাদক মোঃ আরিফুল ইসলাম চৌধুরী, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আব্দুল শুক্কুর, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল, জেলা মহিলা দলের সভাপতি নিরুতাজ বেগম, সিনিয়র সহ-সভাপতি উম্মে কুলসুম সুলতানা লীনা, জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবু বক্কর, প্রচার সম্পাদক মোঃ রিদুয়ানুল হক, জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি আবুল হাসেম, সাধারন সম্পাদক মোঃ কামাল হোসেন, জেলা কৃষক দলের সভাপতি ইয়াছিনুল হক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোঃ মনির হোসেন ভূঁইয়া, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আলী হায়দার বাবুল, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক অমিত ভূষন তঞ্চঙ্গ্যা, জেলা ওলামা দলের সভাপতি শহিদুল ইসলাম, সাধারন সম্পাদক আব্দুল আলিম, জেলা জাসাস সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক থুইমংপ্রু, যুগ্ম আহবায়ক রুবেল মহাজন, জেলা তাঁতীদলের সভাপতি শ্যামল তঞ্চঙ্গ্যা, জেলা জিয়ামঞ্চ এ আহবায়ক মোঃ হেলার উদ্দিন স্বাধীন, সদস্য সহিব মহিউদ্দিন, বান্দরবান সদর উপজেলা বিএনপি সাবেক সাধারন সম্পাদক মোঃ আয়ুব আলী, সাবেক যুগ্ন সাধারন সম্পাদক হিিরশ চন্দ্র তঞ্চঙ্গ্যা, সাবেক কোষাধ্যক্ষ সুবীর তঞ্চঙ্গ্যা, সাবেক সদস্য মোঃ জসিম উদ্দিন (মেম্বার) সাবেক সদস্য মানন্ত তঞ্চঙ্গ্যা (শান্ত), সদর মংক্যপু মার্মা, সদস্য ওয়াপ্রæমং মার্মা, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুল আলম কোং, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান তোফাইল আহমদ, সাবেক সাধারন সম্পাদক কামার উদ্দিন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুদ্দিন বাহাদুর, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা শ্রমিকদলের আহবায়ক ইয়াহিয়া খান মামুন, সাবেক উপজেলা বিএনপির সদস্য আমিরুল কবির , সাবেক ছাত্রনেতা উছাইমং মার্মা, সাবেক থানচি উপজেলা বিএনপি সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যা খামলাই ম্রো, সাবেক জেলা বিএনপির সদস্য মং সই ম্রায়, রোয়াংছড়ি উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি শৈসাঅং, সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মানন্ত তঞ্চঙ্গ্যা, থানচি উপজেলা বিএনপি সাবেক সহ-সভাপি ক্যসাউ মার্মা, সাবেক রুমা উপজেলার বিএনপি সহসভাপতি থুইমঅং প্রমুখ।
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক সাশৈপ্রু বলেন আমি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতের স্পর্শ পাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন কর্মী। ১৯৮০ সালে বান্দরবানের সুয়ালকে সফর কালে তিনি তার পবিত্র হাত আমার কার্ধে রেখে বলেিেছলেন “ইয়ংম্যান এগিয়ে যাও, পার্বত্য এলাকায় উন্নয়নে দুধের নহর বাসিয়ে দাও
”। তার এ কথার পর থেকে একজন সক্রীয় জাতীয়তাবাদী দলের কর্মী হিসেবে অদ্যাবধি কাজ করে যাচ্ছি। জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মুজিবুর রশিদ বলেন, সাশৈপ্রু একজন দলের নিবেদিত নেতা, তিনি গত ১৭ বছর ফ্যাস্টিস সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিটি কর্মসূচীতের সক্রীয় অংশ গ্রহণ করেছেন। তিনি ঢাকা এবং চট্টগ্রামে প্রতিটি মহাসমাবেশে বান্দরবানের পক্ষে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।
আবেদনে নেতৃবৃন্দ আরো উল্লেখ করেন, তিনি ১৩ তম বোমাং রাজা উক্যজসাই এবং ১৪ তম বোমাংরাজা উ অংশৈ প্রু চৌধুরীর ভাগিনা এবং ১৬ তম রাজা উ ক্যসাই প্রু এর ভাগিনা এবং ১৭ তম বর্তমান বোমাং রাজা উ উচপ্রু এর চাচাত ভাই। অর্থাৎ বর্তমানে বোমাং রাজ পরিবারের জৈষ্ঠতম ব্যক্তিদের ভেতর একজন। তিনি জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবার গ্রহণ যোগ্য ব্যক্তিত্ব। বান্দরবান পার্বত্য জেলার সকল ধরনের উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ডের অগ্রণী ভূমিকা পালনে যথাযথ এক গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব হিসাবে বিবেচনা করে থাকি।

টাকা না পেলে ফেসবুকে ছবি ছড়িয়ে দেন ওসি!

জাহেদুল ইসলাম প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১:১১ পিএম
টাকা না পেলে ফেসবুকে ছবি ছড়িয়ে দেন ওসি!

টাকা না দিলে থানায় আটক ব্যক্তিদের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীমের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, আটক ব্যক্তি বা তাঁদের পরিবারের কাছ থেকে অর্থ দাবি করা হয়। সেই অর্থ না পেলে থানায় তোলা ছবি বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও পেজে ছড়িয়ে দিয়ে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়।

একাধিক অভিযোগকারী দাবি করেছেন, আটক ব্যক্তিদের ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে একই ধরনের নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে না। তাঁদের অভিযোগ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো প্রেস রিলিজে আটক ব্যক্তির ছবি ব্লার করা অবস্থায় দেওয়া হলেও, একই ব্যক্তির অব্লার ছবি এর আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে এমন ভিন্নতা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। তাঁদের দাবি, যদি কোনো ব্যক্তির পরিচয় গোপন রাখার প্রয়োজন থাকে, তবে সেই নীতি সবক্ষেত্রেই সমানভাবে অনুসরণ করা উচিত। অন্যথায় বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ভুক্তভোগী কয়েকটি পরিবারের অভিযোগ, কোনো ব্যক্তি আটকের পর আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই তাঁর ছবি ফেসবুকে প্রকাশ হয়ে যায়। এতে আদালতে বিচার শুরুর আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার সামাজিকভাবে চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে চাকরি, ব্যবসা ও পারিবারিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে সাতকানিয়া থানায় আটক একাধিক ব্যক্তির ছবি প্রেস রিলিজ প্রকাশের আগেই ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, থানার ভেতরে তোলা ছবি কীভাবে এত দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পৌঁছে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, আমার এক স্বজনকে আটকের পর বিভিন্নভাবে টাকার কথা বলা হয়। টাকা দিতে না পারার কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখি থানায় তোলা তাঁর ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। পরে পরিচিতজনরা ফোন করে জানতে চান কী হয়েছে। এতে আমরা সামাজিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ি।

আরেক ভুক্তভোগীর ভাষ্য, আইনি প্রক্রিয়া চলার আগেই একজনের ছবি এভাবে প্রকাশ করে দেওয়া ঠিক নয়। পরে মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেও সমাজের মানুষের কাছে সেই অপবাদ থেকেই যায়।

আরেকজন অভিযোগ করেন, ছবি প্রকাশ করে সামাজিক চাপ তৈরি করা হয় বলে আমাদের মনে হয়েছে। এতে পরিবার ভয় ও মানসিক চাপে থাকে। আমরা চাই, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য বের করা হোক।

আরেক ভুক্তভোগী বলেন, কোনো ব্যক্তি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে তাঁর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া তাঁর সম্মান ও পরিবারের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

আইনজীবীদের মতে, কোনো ব্যক্তি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে তাঁকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা কিংবা তাঁর ছবি অপ্রয়োজনীয়ভাবে প্রকাশ করা ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এতে অভিযুক্ত ব্যক্তি পরবর্তীতে নির্দোষ প্রমাণিত হলেও সামাজিক ক্ষতি পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, পুলিশি হেফাজতে থাকা ব্যক্তির ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে কঠোর সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক, তদন্তাধীন বা বিচারাধীন মামলার ক্ষেত্রে এমন ছবি প্রকাশ ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মানবাধিকারের প্রশ্নও তৈরি করতে পারে।

এ বিষয়ে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীমের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে ছুটিতে থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

যদিও এর আগে কয়েকবার এ বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেছিলেন, থানা থেকে কোনো ব্যক্তির ছবি ফাঁস করা হয় না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ছবি ছড়ায়, সেগুলোর উৎস সম্পর্কে  জানা নেই।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, পুলিশ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। আইন অমান্য করার কোনো সুযোগ নেই। যদি এ ধরনের কোনো ঘটনা সত্যিই ঘটে থাকে, তাহলে বিষয়টি আমি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখব।

বান্দরবানে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:০৮ পিএম
বান্দরবানে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত

মুহাম্মদ আলী,বান্দরবান  প্রতিনিধি:

‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা ও যুব মেলাসহ নানা আয়োজনে বান্দরবানে জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে।

রবিবার (১ নভেম্বর) সকালে বান্দরবান শহরের বালাঘাটায় যুব ভবনে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম।

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কনভেনিং কমিটির আহ্বায়ক অংজাই উই চাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এসএম হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ সরদার, জেলা জামায়াতের আমীর এসএম আব্দুস সালাম আজাদ,বান্দরবান ইসলামিক ফাউণ্ডেশন উপপরিচালক মো সেলিম উদ্দিন,বান্দরবান প্রেসক্লাব সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চু,বিএনপি নেতা মো.আবু তাহের।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বান্দরবান যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক এনায়েত করিম। এ সময় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ডিপিসি মোখলেসুর রহমান, বান্দরবানের বিশিষ্ট সাংবাদিক মুহাম্মদ আলী, বালাঘাটা ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো:আলী’সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি, যুব সংগঠক ও তরুণ-তরুণীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বান্দরবান সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার লুবু প্রু মারমা।

দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত র‍্যালিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি যুব মেলায় তরুণদের কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানের বিভিন্ন সুযোগ তুলে ধরা হয়।

সভায় তরুণ উদ্যোক্তাদের মাঝে ২লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ঋণের চেক বিতরণ ও ৩টি যুব সংগঠনের নিবন্ধন সনদ প্রদান করা হয়।

বক্তারা বলেন,দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় যুবসমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠা এবং দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করতে হবে।

বান্দরবানে এবারও শীর্ষে ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:০৫ পিএম
বান্দরবানে এবারও শীর্ষে ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’

মোহাম্মদ আবুল হাশেম লামা প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ হলেও বরাবরের মতো এবারও এইচ.এস.সি পরীক্ষায় শতভাগ পাশ করে ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের বোধিছড়াস্থ ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’। এ প্রতিষ্ঠান থেকে চলতি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ৬০ জনেই পাশ করেছে। এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস পেয়েছে ১৭ জন, এতে পাশের হার শতভাগ। সে মতে জেলার অন্যান্য কলেজের চেয়ে ফলাফলে এগিয়ে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা যায়, এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় বান্দরবান জেলার ১৪ টি কলেজ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ থেকে ৩টি বিভাগে ৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন ১৪জন, এতে ‘এ’ প্লাস ৫জন ও ‘এ’ গ্রেড পায় ৯জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন ১২জন, এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস ৪জন ও ‘এ’ গ্রেড পায় ৮জন। মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষায় ৩৪জন অংশ গ্রহণ করে ‘এ’ প্লাস ৮জন, ২৫ জন ‘এ’ গ্রেড ও ১ জন ‘এ’ মাইনেস পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। প্রকাশিত ফলাফলে শতভাগ উত্তীর্ণ কলেজের মধ্যে শিক্ষার্থী ও ‘এ’ প্লাস সংখ্যায় কোয়ান্টাম কসমো কলেজের অবস্থান জেলায় শীর্ষে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছেন।

এদিকে উপজেলার সরকারী মাতামুহুরী কলেজ থেকে একই পরীক্ষায় অংশ নেন ৭৫৫জন। এর মধ্যে পাশ করে মাত্র ২৭৮জন। এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস পায় ৫জন, পাশের হার ৩৬.৮২ । চাম্বি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে পরীক্ষা দেয় ৪৯জন, এর মধ্যে পাশ করে ৬জন, পাশের হার ১২.৭৭। হেফাজতুর রহমান কলেজ থেকে পর এতে পাশের হার শরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ২৪জন শিক্ষার্থী, পাশ করে ১১জন, পাশের হার ৪৬.০০। লামা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ১৭জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ৬জন, পাশের হার ৩৫.২৯।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এ প্লাস পাওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা কলেজের হোস্টেলে ছিলাম। আমাদের শিক্ষকরা যে পরিমাণ অক্লান্ত পরিশ্রম করে সার্বক্ষনিক মনিটরিং এ রেখেছেন তাতে ভালো ফলাফল না করে উপায় নেই। তাই সকল শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

দিক-নির্দেশনা, প্রশিক্ষিত শিক্ষকদের আন্তরিক পাঠদান, বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ক্লাশ পরীক্ষা গ্রহণ, ফলাফল প্রদান এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশ-এ ফলাফল অর্জনে ভূমিকা রেখেছে বলে জানান, কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ অধ্যক্ষ ছালেহ আহমেদ।
বান্দরবান জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন জানায়, সর্বোচ্চ এ প্লাস ও শতভাগ পাশের হারে শীর্ষ স্থান অর্জন করে লামা উপজেলার ভারমূর্তি উজ্জ্বল করেছে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ। কলেজগুলোর এ র‌্যাংকিং করা হয় মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা, জিপিএ-৫ ও পাশের হারের ভিত্তিতে।