রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

‘জনগণের বন্ধু’ পুলিশের আচরণে হতাশ ক্রিকেটার নাঈমের বাবা

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৩:৪১ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
‘জনগণের বন্ধু’ পুলিশের আচরণে হতাশ ক্রিকেটার নাঈমের বাবা

জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্য নাঈম হাসানকে মারধরের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে তার পরিবার। নাঈমের বাবা মাহবুবুল আলম অভিযোগ করেছেন, জনগণের বন্ধু হিসেবে পরিচিত পুলিশ বাহিনীর কিছু সদস্যের আচরণ বাস্তবে তার সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র তুলে ধরেছে।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে নাঈমের বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে এবং নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়, সেটিই দেখার বিষয়।
মাহবুবুল আলম জানান, ঘটনার সময় নাঈম তাকে ফোন করে জানিয়েছিল যে পুলিশ তাকে আটক করেছে এবং তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছে। এরপর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ সম্ভব হয়নি, কারণ নাঈমের মোবাইল ফোনও নিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে থানায় গিয়ে ছেলের কাছ থেকে পুরো ঘটনার বিবরণ শোনেন বলে জানান মাহবুবুল। তার দাবি, জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় দেওয়ার পরও পুলিশ নাঈমের কথা গুরুত্ব দেয়নি। বরং জোরপূর্বক গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয়। ভয় পেয়ে সরে আসতে চাইলে কয়েকজন মিলে তাকে মারধর করে থানায় নিয়ে যায়।
নিজেও থানায় গিয়ে কাঙ্ক্ষিত আচরণ পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। মাহবুবুল আলম বলেন, সাবেক কাউন্সিলর এবং নাঈমের বাবা হিসেবে পরিচয় দেওয়ার পরও তাকে বাইরে অপেক্ষা করতে বলা হয়। তার ভাষায়, “আমার সঙ্গে যদি এমন আচরণ করা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করা হয় তা সহজেই অনুমেয়।”
এদিকে নাঈমের বড় ভাই মো. সাব্বির দাবি করেন, বিমানবন্দর থেকে ফেরার পথে তল্লাশির নামে নাঈমকে থামানো হয়। তিনি বলেন, নাঈম তল্লাশিতে কোনো আপত্তি করেনি। কিন্তু এক পর্যায়ে এক উপপরিদর্শক (এসআই) তার গলা চেপে ধরে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করেন।
সাব্বিরের ভাষ্য, এতে আতঙ্কিত হয়ে নাঈম নিজেকে ছাড়িয়ে বাইরে চলে আসে। এরপর তাকে জোর করে গাড়ির কাছে নিয়ে যাওয়া হয় এবং উঠতে অস্বীকৃতি জানালে মারধর করা হয়। শুধু এসআই নয়, সঙ্গে থাকা এক কনস্টেবল এবং পরে ডিবি পরিচয় দেওয়া আরেক ব্যক্তি তাকে পিটিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তার দাবি, নাঈম বারবার ব্যাগ তল্লাশি করার অনুরোধ করলেও সেটি না করে তাকে অপমান, গালাগালি এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, মারধরের কারণে নাঈমের কোমর, পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। থানায় গিয়ে ভাইকে দেখে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন বলেও জানান সাব্বির। তার দাবি, নাঈম তাকে বলেছেন— তাকে নিজের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি এবং গলা চেপে ধরার কারণে শ্বাসকষ্টেরও উপক্রম হয়েছিল।
উল্লেখ্য, শুক্রবার (১২ জুন) রাতে চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজার এলাকায় জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে ডিবি পরিচয়ে আটক ও মারধরের অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক ৬ লেন হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৯:৫০ পিএম
চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক ৬ লেন হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ককে বর্তমান চার লেন থেকে ছয় লেনে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, কক্সবাজার অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও পর্যটন গুরুত্ব বিবেচনায় মহাসড়কটির সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।

আজ শনিবার সন্ধ্যায় কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর বাসটার্মিনাল এলাকায় চকরিয়া উপজেলা ও পৌর বিএনপি আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। জনসভায় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান।
তারেক রহমান বলেন, প্রায় ২৫ বছর আগে তিনি যে সড়ক দেখে গিয়েছিলেন, তার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন এখনো হয়নি। এ সময়ে কক্সবাজারের গুরুত্ব বহুগুণ বেড়েছে। পর্যটন ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনার কারণে যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি হয়ে উঠেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর চালু হলে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও সম্প্রসারিত হবে। এ বাস্তবতায় চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ককে আধুনিক ও অধিক সক্ষম সড়কে রূপান্তর করা প্রয়োজন। তিনি জানান, যানবাহনের বাড়তি চাপ ও ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক চাহিদা বিবেচনায় মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করা হবে এবং শিগগিরই প্রকল্পের কাজ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
লবণচাষিদের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, উৎপাদিত লবণের ন্যায্যমূল্য থেকে অনেক চাষি বঞ্চিত হচ্ছেন। এ অবস্থার পরিবর্তনে সরকার মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেবে, যাতে চাষিরা উৎপাদিত লবণের উপযুক্ত দাম পান।
প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট নিয়ে বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি উপস্থাপিত বাজেটটি সাধারণ মানুষের কল্যাণকে গুরুত্ব দিয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর কমানো বা প্রত্যাহারের বিষয়ও বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্বাস্থ্যসেবা খাত নিয়ে তিনি বলেন, দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পর্যায়ক্রমে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি আগামী বাজেটে ৪২ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড এবং ৪০ লাখ কৃষককে কৃষি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এসব উদ্যোগ তাঁর ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ কর্মসূচির অংশ বলে উল্লেখ করেন।

চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হকের সভাপতিত্বে জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করা বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অন্যতম ছিল। পাশাপাশি লবণচাষীরা যাতে প্রতি কেজি লবণের ন্যূনতম ১৫ টাকা মূল্য পান, সে লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগের প্রশংসা করেন তিনি।
সভায় আরও বক্তব্য দেন কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না এমপি। এতে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
এর আগে একই দিন কক্সবাজার জেলার দশম উপজেলা হিসেবে নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলা ও থানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

লোহাগাড়ায় বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্বোধন

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৯:০১ পিএম
লোহাগাড়ায় বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্বোধন

রায়হান সিকদার,লোহাগাড়াঃ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বৃক্ষরোপন কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় বৃক্ষ রোপন ও চারা বিতরন করা হয়েছে।

শনিবার(১৩জুন) দুপুরে উপজেলা প্রশাসন এবং পদুয়া বনরেঞ্জ ও টংকাবতী বিটের উদ্যোগে চরম্বা মাইজবিলা এলাকায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) মোঃ বায়োজীদ-বিন-আখন্দ।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পদুয়া বনরেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ রিয়াদুর রহমান ভূঁইয়া,চরম্বা টংকাবতী বিট কর্মকর্তা ইমন বিল্লাহ, লোহাগাড়া প্রেস ক্লাব সভাপতি এম সাইফুল্লাহ চৌধুরী, উপজেলা সহকারি প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ ফয়সাল আমীর সহ গণমাধ্যম কর্মী ও বন বিভাগের স্টাফবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

একই সাথে ওই এলাকায় বনবিভাগের পক্ষ থেকে রোপনকৃত বাগানটি পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) মোঃ বায়োজীদ-বিন-আখন্দ, পদুয়া বনরেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ রিয়াদুর রহমান ভূঁইয়া,চরম্বা টংকাবতী বিট কর্মকর্তা ইমন বিল্লাহ।

ইউএনও মোঃ বায়োজীদ-বিন-আখন্দ বলেন, ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষ রোপণের গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অধিক সংখ্যক গাছ লাগানো এবং সেগুলোর পরিচর্যা করার আহ্বান জানান।

প্রসঙ্গত: কক্সবাজারের ডুলাহাজরায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্তৃক বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্বোধনের পর এ বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

বান্দরবান এলজিইডির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৮:৫৬ পিএম
বান্দরবান এলজিইডির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশব্যাপী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসুচির লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কর্তৃক বাস্তবায়িত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৬ এর শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।

১৮০ দিনব্যাপী এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার সকালে বান্দরবানের সদর উপজেলার রেইছা-গোয়ালিয়াখোলা সড়কে দু-পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর রাঙ্গামাটি অঞ্চল এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী(এসি) মো: শরীফ উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বান্দরবান নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ান।

এসময় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)সদর উপজেলা প্রকৌশলী অনুপম সিকদারসহ এলজিইডির কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মসূচির আওতায় উপজেলার বিভিন্ন সড়কের পাশে পরিবেশবান্ধব ও ফলজ, বনজ এবং ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হবে। এর মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশি­ষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)বান্দরবান নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ান বলেন,”বৃক্ষরোপণ শুধু একটি কর্মসূচি নয়, এটি পরিবেশ ও মানব কল্যাণে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ। এলজিইডির উদ্যোগে সড়কের পাশে সবুজ বেষ্টনী গড়ে উঠলে পরিবেশের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণও নানাভাবে উপকৃত হবে।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা সড়কের পাশে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের চারা রোপণ করেন।