যুবদল নেতার সংবাদ সম্মেলন
‘আমি অপরাধী হলে বিচার হোক, না হলে দোষীদের শাস্তি চাই’
২০০৩ সালে স্কুলপড়ুয়া অবস্থায় রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি মেজর জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে। এরপর পেরিয়ে গেছে দুই দশকের বেশি সময়। দীর্ঘ এই রাজনৈতিক জীবনে একের পর এক মামলা, হামলা, নির্যাতন, বাড়িঘর ভাঙচুর, জীবনের ওপর বারবার হুমকি—সবই পেছনে ফেলে এখনো বিএনপি এবং এর সহযোগী সংগঠনের কর্মী হিসেবে মাঠে আছেন মোহাম্মদ ইসমাইল উদ্দীন।
সম্প্রতি একটি জাতীয় পত্রিকায় ইসমাইল উদ্দীনের বিরুদ্ধে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়, যেখানে অভিযোগ করা হয় যে, তিনি চারজন আসামির কাছ থেকে চার লক্ষ টাকা নিয়ে মামলা থেকে রেহাই দিয়েছেন। তবে এই অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে তার বক্তব্য তুলে ধরে সোমবার বিকেলে বাজালিয়া ইউনিয়নে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মোহাম্মদ ইসমাইল উদ্দীন।
সংবাদ সম্মেলনে ইসমাইল উদ্দীন বলেন, “২০০৩ সালে ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পর থেকে আজ অবধি আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের আদর্শ বুকে ধারণ করে পথে আছি। বিগত ১৭ বছর ধরে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে আমি প্রায় ২০টিরও বেশি রাজনৈতিক মামলার আসামি হয়েছি। আল্লাহর অশেষ রহমতে এখনো বেঁচে আছি।”
তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার কারণেই তার পরিবার এবং এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট, শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
ইসমাইল উদ্দীনের দাবি, “উত্তর সাতকানিয়া যুবদলে বর্তমানে কথিত গ্রুপিংয়ের মূল হোতা আহ্বায়ক রাজীব ও তার অনুসারীরা এবং আমার নিজ ইউনিয়ন পুরানগড়ের মিষ্টি জসিম মিলে আমার বিরুদ্ধে ‘আমার দেশ’ পত্রিকায় মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করেছে। এতে আমার ব্যক্তিগত সুনাম ও রাজনৈতিক ক্যারিয়ার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দলের ভাবমূর্তিও কলুষিত হয়েছে।”
তিনি সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, “মিষ্টি জসিমরা আমার বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের মিথ্যা তথ্য দিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “৪ আগস্ট আমি দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের নির্দেশে ‘এক দফা এক দাবির’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিই। এরপরই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা একযোগে আমার ও আমার সহযোদ্ধাদের ঘরবাড়িতে হামলা চালায়। এর ভিডিও ফুটেজ আমার কাছে আছে যেখানে ৬৯ জন হামলাকারীকে সনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।”
সম্প্রতি একটি হলফনামা ঘিরে অভিযোগ উঠেছে যে, ইসমাইল উদ্দীন চারজন আসামির কাছ থেকে ৪ লক্ষ টাকা নিয়েছেন তাদের আসামিপনার বিষয়টি থেকে মুক্ত রাখতে। কিন্তু তিনি বলেন—“যদি সত্যিই আমি কারও কাছ থেকে টাকা নিয়ে থাকি, তাহলে অবশ্যই আমার বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু যদি না নিয়ে থাকি, তাহলে যারা এ ধরনের মিথ্যা অভিযোগ করেছে, তাদেরও আইনানুগ বিচারের আওতায় আনা দরকার।”
তিনি আরও বলেন, “আমি ক্ষমতার অপব্যবহার করতে চাই না। আওয়ামী লীগের মতো অনাচারী হতে চাই না। আল্লাহর আদালতে আমাকে জবাব দিতে হবে, এ বিশ্বাস নিয়েই কাজ করি।”
মোহাম্মদ ইসমাইল উদ্দীন নিজেকে উত্তর সাতকানিয়া যুবদলের আহ্বায়ক প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়ে বলেন, “আমি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া এবং সদস্য সচিব লায়ন হেলালের নেতৃত্বে উত্তর সাতকানিয়া বিএনপিকে আরও শক্তিশালী করতে চাই। আমি আশাবাদী, তৃণমূলের নেতাকর্মীরা সত্য-মিথ্যা যাচাই করেই আগামী দিনের নেতৃত্ব ঠিক করবেন।”
সবশেষে ইসমাইল উদ্দীনের আহ্বান— “আমার বিরুদ্ধে যে ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তার নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। সাংবাদিক ভাইদের বলব, আপনারা যাতে প্রতারিত না হন, সে বিষয়ে সতর্ক থাকুন। একই সঙ্গে প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, যারা সত্যিকারের অপরাধী, যারা হামলায় অংশ নিয়েছে, যারা মিথ্যা অভিযোগ করছে, তাদের আইনের আওতায় আনুন। আমি কোনো নিরপরাধ মানুষকে মামলায় জড়াতে চাই না। আমি বিচার চাই, প্রতিশোধ নয়।”









