২০-৩০ ফুট গর্ত করে কেটে নেওয়া হচ্ছে মাটি
কৃষি জমির মাটি গিলে খাচ্ছে ‘সোনার বাংলা’ ইটভাটা
default
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় কৃষি জমির মাটি কেটে ভয়াবহ পরিবেশ ও কৃষি বিপর্যয়ের অভিযোগে শাস্তির মুখে পড়েছে ‘সোনার বাংলা’ নামক একটি ইটভাটা। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুরে অভিযোগের ভিত্তিতে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে কৃষি জমির মাটি অবৈধভাবে কেটে নেওয়ার প্রমাণ পাওয়ায় উপজেলার নলুয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ মরফলা এলাকায় অবস্থিত ইটভাটাটিকে তিন লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সামছুজ্জামানের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে দেখা যায়, ইটভাটার আশপাশের একাধিক ফসলি জমি থেকে ২০ থেকে ৩০ ফুট গভীর গর্ত করে মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে। এসব মাটি সরাসরি ইটভাটার কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, এভাবে গভীর গর্ত করে মাটি কাটার ফলে শুধু ওই জমিগুলোই নয়, পাশের আবাদি জমিগুলোও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। অতিরিক্ত গভীর গর্তের কারণে যে কোনো সময় পাশের জমি ধসে পড়তে পারে, নষ্ট হয়ে যেতে পারে ধান ও অন্যান্য ফসলের ক্ষেত। এতে কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
অভিযানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০–এর সংশ্লিষ্ট ধারায় সোনার বাংলা ইটভাটাকে তিন লক্ষ টাকা জরিমানা করেন। একই সঙ্গে ৭ দিনের মধ্যে সব গর্ত ভরাট করে জমি সমতল করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে ইটভাটার পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে আর মাটি না কাটার অঙ্গীকারসহ লিখিত মুচলেকা গ্রহণ করা হয়। নির্দেশনা অমান্য করা হলে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সামছুজ্জামান।
তিনি বলেন, ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে ২০–৩০ ফুট গভীর করে মাটি কাটার সত্যতা পাওয়া গেছে। এতে আশপাশের জমি ধসে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এজন্য তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং ৭ দিনের মধ্যে গর্ত ভরাটের নির্দেশ দিয়ে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, ফসলি জমির ওপরের উর্বর টপসয়েল কেটে নেওয়া হলে সেই জমি দীর্ঘদিন চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। জমির স্বাভাবিক পানি ধারণক্ষমতা নষ্ট হয়, ফলে বোরো ও আমন মৌসুমে পানি সংকট তৈরি হয়। একই সঙ্গে জমিতে ফসলের ফলন উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়। এছাড়া গভীর গর্তের কারণে বৃষ্টির সময় জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, পাশের জমির মাটি সরে গিয়ে ধস নামতে পারে, শিশু ও গবাদিপশুর জন্য মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয় এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়।
এর আগে গত ১৭ নভেম্বর একই ইটভাটাকে অবৈধভাবে কৃষি জমি দখল করে ইটভাটা স্থাপন ও পরিচালনার দায়ে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়। সে সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খোন্দকার মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত ইট প্রস্তুত ও ভাটা নিয়ন্ত্রণ আইন–২০১৩ এর ১৮ ধারায় এ দণ্ড দেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার জরিমানা হলেও সোনার বাংলা ইটভাটা কর্তৃপক্ষ অনিয়ম বন্ধ না করে সুযোগ বুঝে আবারও ফসলি জমির মাটি কেটে নিচ্ছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কৃষি জমি রক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণে অবৈধ ইটভাটা এবং মাটি কাটার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতে নির্দেশনা অমান্য করলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, ফসলি কৃষি জমি ও পরিবেশ রক্ষা প্রশাসনের অগ্রাধিকার। অবৈধভাবে কৃষি জমির মাটি কেটে ইটভাটা পরিচালনা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। সোনার বাংলা ইটভাটার বিরুদ্ধে আগেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, এবারও আইন অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে নির্দেশনা অমান্য করলে ইটভাটা বন্ধসহ আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।













