মাহা সাংগ্রাইকে ঘিরে উৎসবমুখর বান্দরবান, চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি
আবুবকর ছিদ্দিক, বান্দরবান
আর ক’দিন পরেই শুরু হচ্ছে পাহাড়ি সম্প্রদায়ের বর্ষবরণ উৎসব বৈসাবি। চাকমা ও তঞ্চঙ্গা সম্প্রদায়ের বিজু ও বিসু, মারমাদের সাংগ্রাই, ত্রিপুরাদের বৈসু আর ম্রোদের চাংক্রানকে ঘিরে উৎসবমুখর বান্দরবান পার্বত্য জেলা ।
প্রধান এই সামাজিক উৎসবকে কেন্দ্র করে পাহাড়ি এলাকাগুলোতে বইছে উৎসবের হাওয়া। প্রতিটি পল্লিতে চলছে জোর প্রস্তুতি। গ্রামগুলোতে এখন ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো- ঘরে ঘরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নতুন পোশাক তৈরি এবং ঐতিহ্যবাহী খাবার প্রস্তুতের তোড়জোড় চলছে। তরুণ-তরুণীরা নাচ-গানের মহড়ায় ব্যস্ত, আর বয়োজ্যেষ্ঠরা আচার-অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সাংগ্রাই উৎসবের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হলো পানি খেলা বা জলকেলি। এই আয়োজনে একে অপরকে পানি ছিটিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। এতে পুরোনো বছরের দুঃখ-কষ্ট ধুয়ে যায় এবং নতুন বছর আসে নির্মল আনন্দের বার্তা নিয়ে- এমনটাই বিশ্বাস স্থানীয়দের।
মারমা সম্প্রদায়ের মতে, সাংগ্রাই এখন আর শুধু তাদের নিজস্ব উৎসব নয়; এটি বান্দরবানের সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের অংশগ্রহণে এটি সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে। পাহাড়ের নীরব প্রকৃতির মাঝে সাংগ্রাই যেন এক রঙিন জাগরণ- পুরোনোকে বিদায় আর নতুনকে স্বাগত জানানোর এক আনন্দঘন উপলক্ষ।
স্থানীয় মারমা বাজারগুলোতেও উৎসবের ছোঁয়া লেগেছে। জমে উঠেছে কেনাবেচা- হাতে তৈরি অলংকার, ঐতিহ্যবাহী থামি পোশাক এবং বিভিন্ন হস্তশিল্পের চাহিদা বেড়েছে। বৌদ্ধ বিহারগুলোতে চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, আর সাঙ্গু নদীতে নারী-পুরুষ মিলিতভাবে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে কাপড় ধোয়ার কর্মযজ্ঞে অংশ নিচ্ছেন তরুণরাও।
এদিকে জেলা শহরে শুভযাপন নিয়ে দুই কমিটির মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকায় অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল শহরের উৎসব। তবে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) এ বিশেষ সিদ্ধান্ত হওয়ায় শঙ্কা এখন অনেকটাই কেটেছে। পুরনো কমিটি শহরের উজানী পাড়া সাঙ্গু নদীর চরে ও নতুন কমিটির শহরের রাজার মাঠে আলাদা আলাদাভাবে জলকেলি উৎসবের আয়োজন করেছে।
উৎসব উদযাপন পরিষদের সভাপতি উ চথুইপ্রু বলেন, ‘১৩ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত সাংগ্রাই উৎসব পালন করতে যাচ্ছি। এ উপলক্ষে ১৩ তারিখ সকাল ১০টায় মঙ্গল শোভাযাত্রার মাধ্যমে এর সূচনা করা হবে। পরে ১৪ তারিখ বুদ্ধ মূর্তি স্নান এর মাধ্যমে ধর্মীয় কাজ শেষে, ১৫ ও ১৬ এপ্রিল আলোক চিত্র প্রদর্শনী, মৈত্রী পানি বর্ষণ এবং খেলাধুলার মাধ্যমে আমাদের এ উৎসবের সমাপ্তি করা হবে। পুলিশ প্রশাসন ও সাংবাদিকসহ সকলের সহযোগিতায় আমরা এবার এ উৎসব পালন করবো।’
জেলা পুলিশ সুপার আবদুর রহমান জানিয়েছেন, উৎসবকে কেন্দ্র করে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সাদা পোশাকের পুলিশ, বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা এবং ড্রোন নজরদারির মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবার অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে এবারের সাংগ্রাই উৎসব সম্পন্ন হবে।













