ভাষা শহীদদের অবমাননায় যাত্রা শুরু ‘গেইম পার্ক’র!
Oplus_131072
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার কেরানীহাটে উদ্বোধনের কয়েক দিনের মাথায় বিতর্কে জড়িয়েছে বিনোদনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান “গেইম পার্ক”। ভাষা শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত শহীদ মিনারে প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক ফেস্টুন টানানোর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সচেতন মহলের অভিযোগ, ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিচিহ্নকে ব্যবহার করে প্রচারণা চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটি তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে “অবমাননার মধ্য দিয়ে”।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ মে সাতকানিয়ার কেরানীহাট এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে “গেইম পার্ক”। উদ্বোধন উপলক্ষে এলাকায় ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়। তবে উদ্বোধনের কয়েক দিনের মধ্যেই থানার সামনে অবস্থিত শহীদ মিনারে তাদের প্রচারণামূলক ফেস্টুন ঝুলতে দেখা যায়। পরে সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় সমালোচনার ঝড়।
ছবিতে দেখা যায়, শহীদ মিনারের মূল কাঠামোর সামনে বড় আকারের একটি রঙিন ফেস্টুন টানানো হয়েছে। সেখানে “গেইম পার্ক”-এর নাম, প্রচারণামূলক বার্তা ও যোগাযোগসংক্রান্ত তথ্য উল্লেখ রয়েছে। ফেস্টুনটি এমনভাবে স্থাপন করা হয়েছে যে শহীদ মিনারের সৌন্দর্য ও প্রতীকী অংশ আংশিকভাবে ঢেকে গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শহীদ মিনার শুধু একটি স্থাপনা নয়; এটি ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস, আত্মত্যাগ ও বাঙালির জাতীয় চেতনার প্রতীক। সেই স্থানে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন টানানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, “একটি প্রতিষ্ঠান ব্যবসা করবে, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু প্রচারণার জন্য শহীদ মিনারকে ব্যবহার করা খুবই দুঃখজনক। যাত্রার শুরুতেই তারা যে বার্তা দিয়েছে, তা মোটেও ইতিবাচক নয়।”
একজন শিক্ষক বলেন, “শহীদ মিনার আমাদের আবেগের জায়গা। এখানে দাঁড়িয়ে মানুষ ভাষা শহীদদের স্মরণ করে। সেখানে ফেস্টুন লাগানো মানে জাতীয় মূল্যবোধের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করা।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকে মন্তব্য করেছেন, ব্যবসায়িক প্রচারণার নামে এখন জাতীয় স্থাপনাগুলোকেও ব্যবহার করা হচ্ছে। কেউ কেউ এটিকে “অসচেতনতা”, আবার কেউ “ইচ্ছাকৃত দায়িত্বহীনতা” হিসেবে দেখছেন।
স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মী রাশেদুল ইসলাম বলেন, “ভাষা শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলা ভাষার স্মৃতিচিহ্ন শহীদ মিনার। সেখানে একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন ঝুলে থাকবে—এটি কল্পনাও করা যায় না। এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক।”
তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের ঘটনায় প্রশাসনকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। না হলে ভবিষ্যতে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর মর্যাদা আরও ক্ষুণ্ন হবে।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কেরানীহাট এলাকায় বিভিন্ন সময় সড়ক, সরকারি স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ দেয়ালে অনুমতি ছাড়াই পোস্টার-ব্যানার লাগানোর প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু কার্যকর তদারকি না থাকায় এসব বন্ধ হচ্ছে না।
একজন শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা ছোটবেলা থেকে শিখেছি শহীদ মিনারে সম্মান দেখাতে হয়। সেখানে যদি ব্যবসার ফেস্টুন ঝুলতে থাকে, তাহলে নতুন প্রজন্ম কী শিক্ষা পাবে?”
এ ঘটনায় গেইম পার্ক কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।












