আচারের নামে বিষ! যাচ্ছে কক্সবাজার
সাতকানিয়ায় অস্বাস্থ্যকর কারখানায় অভিযান, সিলগালা ও জরিমানা
দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় গোপনে পরিচালিত একটি অবৈধ আচার তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করেছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ও অস্বাস্থ্যকর কাঁচামাল দিয়ে তৈরি আচার উৎপাদনের অভিযোগে কারখানার মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একইসঙ্গে আচারের জন্য মজুদ করে রাখা সব কাঁচামাল ধ্বংস করা হয়েছে।
আজ বুধবার দুপুরে উপজেলার দক্ষিণ ঢেমশা ইউনিয়নের নাপিতের চর এলাকায় একটি বন্ধ ইটভাটার ভেতরে গড়ে ওঠা “ইয়াম্মি ফুড প্রোডাক্টস” নামের কারখানাটিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান।
স্থানীয় সূত্র ও প্রশাসন জানায়, বিএসটিআইয়ের কোনো অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে গোপনে জলপাই, বরই ও আমের আচার তৈরি করে আসছিল প্রতিষ্ঠানটি। উৎপাদনে ব্যবহার করা হচ্ছিল নিম্নমানের ও স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক রং এবং গবাদিপশুর খাদ্যে ব্যবহৃত লবণ। নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি এসব আচার বাজারজাত করা হচ্ছিল বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের বার্মিজ মার্কেটগুলোতে।
অভিযানকালে কারখানার ভেতরে স্বাস্থ্যবিধির চরম লঙ্ঘনের প্রমাণ পায় প্রশাসন। খাদ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কোনো প্রশিক্ষিত কর্মী, কেমিস্ট বা মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও সেখানে ছিল না।
সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন,
“একটি বন্ধ ইটভাটার ভেতরে নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে আচার তৈরি হচ্ছিল। গবাদিপশুর খাদ্যে ব্যবহৃত লবণ পর্যন্ত এসব আচারে ব্যবহার করা হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এসব আচার কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের কাছেও পৌঁছে যাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন,
“খাদ্যপণ্য উৎপাদনে বিএসটিআই অনুমোদন, মান নিয়ন্ত্রণ ও বিশেষজ্ঞ জনবল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই কারখানায় তার কিছুই ছিল না। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে কারখানাটি সিলগালা করা হয়েছে এবং মজুদকৃত সব কাঁচামাল ধ্বংস করা হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”










