সাতকানিয়ার জানার কেঁওচিয়ায় ২০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ নেই, চরম ভোগান্তিতে গ্রাহকরা
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের জানার কেঁওচিয়া এলাকায় প্রায় ২০ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর দেড়টা থেকে শনিবার সকাল ১১টা পর্যন্ত এলাকাজুড়ে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় থাকে গ্রাহকরা। এতে সীমাহীন গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি চট্টগ্রাম-১ এর সাতকানিয়া জোনাল অফিসের ১ নম্বর ফিডারের কয়েক সহস্রাধিক গ্রাহক এ ভোগান্তির শিকার হন। গ্রিডের ব্রেকার নষ্টসহ নানা কারিগরি সমস্যায় প্রায় ৮০ হাজার গ্রাহক দিনকে দিন বিদ্যুৎ সংকটে পড়ছেন বলে জানা গেছে।
জানার কেঁওচিয়ার আশেকের পাড়ার বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, “শুক্রবার দুপুর থেকে রাত শনিবার সকাল ১১টা পর্যন্ত একটানা বিদ্যুৎ ছিল না। রাত ১১টার দিকে আধা ঘণ্টার জন্য এলেও পরে আবার বন্ধ হয়ে যায়। সপ্তাহজুড়ে দিনে মাত্র পাঁচ-ছয় ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে। দুপুরে এমন গরমে ঘরে থাকা যায় না, বাধ্য হয়ে বাইরে বসে থাকতে হয়।”
একই এলাকার নুর মোহাম্মদ বলেন, “গরমে শিশু-বয়স্করা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার—দুদিনই টানা ১০ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ ছিল না। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির খামখেয়ালিপনায় আমরা ভীষণ কষ্টে আছি।”
এদিকে, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর সাতকানিয়া জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “গতকল শুক্রবার তেমুহনী এলাকায় তাঁরের উপর গাছ উপড়ে পড়ায় ১ নং ফিডারের লাইন বন্ধ রয়েছে। তবে চেষ্টা চলছে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার।
এছাড়া জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় কম সরবরাহ পাওয়ায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। আমরা যতটুকু বিদ্যুৎ পাই, এলাকাভেদে তা বণ্টন করি। আশা করছি শিগগিরই পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হবে।”
তবে গ্রাহকরা বলছেন, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার কারণে এ ভোগান্তি দিন দিন অসহনীয় হয়ে উঠছে। রাতের বেলায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগে কাটছে সাতকানিয়াবাসীর জীবন।
স্থানীয় অভিযোগ পল্লী বিদ্যুতের জরুরী সেবা নাম্বারে সারাদিন কল করেও পাওয়া যায় না। এটি প্রায় সময় বন্ধ থাকে।













