যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে শুল্ক কমানোর আশ্বাস পেল বাংলাদেশ
বাংলাদেশের ওপর আরোপিত পাল্টা শুল্ক কমানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সবুজ সংকেত পেয়েছে ঢাকা। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান তৃতীয় দফার আলোচনার প্রথম দিনে এ ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান। তিনি গতকাল মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় ওয়াশিংটন ডিসি থেকে সমকালকে বলেন, ‘আমরা ইতিবাচক বার্তা পেয়েছি। শুল্ক যথেষ্ট পরিমাণে কমবে। তবে নির্দিষ্ট হার এখনই বলা যাচ্ছে না।’
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে স্থানীয় সময় ২৯ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টায় শুরু হওয়া এ বৈঠক চলে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত। আলোচনায় নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান এবং অতিরিক্ত সচিব নাজনীন কাউসার চৌধুরী। দূতাবাসের শীর্ষ কর্মকর্তারা ও বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি দল ভার্চুয়ালি অংশ নেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে নেতৃত্ব দেন সহকারী ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ ব্রেন্ডন লিঞ্চ। উপস্থিত ছিলেন দেশটির বাণিজ্য ও শুল্কবিষয়ক কর্মকর্তারাও।
প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের জন্য নতুন পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়। ৮ জুলাই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়ে দেন, ১ আগস্ট থেকে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ হার হবে ৩৫ শতাংশ, যা আগে ছিল গড়ে ২২ থেকে ২৩ শতাংশ। তবে আলোচনা ফলপ্রসূ হলে এ হার কমে ১৫-২০ শতাংশে নামতে পারে বলে ধারণা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশাধিকার সহজ করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বোয়িং কোম্পানির কাছ থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার প্রতিশ্রুতি এবং পাঁচ বছরের জন্য প্রতিবছর সাত লাখ টন গম আমদানির সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ)। সয়াবিন, এলএনজি, তুলা ও সামরিক সরঞ্জাম আমদানির বিষয়েও ইতিবাচক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাণিজ্য সচিব বলেন, বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি মাত্র ছয় বিলিয়ন ডলার। এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে তা অনেকটাই কমে আসবে। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আমাদের প্রতিশ্রুতি—আমদানি অন্তত দেড় বিলিয়ন ডলার বাড়ানো হবে। এ প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের জন্য শুল্ক হার ভিয়েতনামের (২০%) চেয়ে কম হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।













