রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপ কামনা

বান্দরবানে টোল পয়েন্ট ইজারায় রাজস্ব ফাঁকির পায়তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ জুন, ২০২৫, ৪:১৮ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
বান্দরবানে টোল পয়েন্ট ইজারায় রাজস্ব ফাঁকির পায়তারা

বান্দরবানে পার্বত্য জেলা পরিষদের তত্ত্ববধানে নাইক্ষ্যংছড়ি হাসপাতাল রোড় সংলগ্ন টোল পয়েন্টটি কম মূল্যে ইজারা নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে একটি মহল।

সরকারী রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ইজারাদারের পকেট ভর্তি করতে গত বছরের তুলনায় প্রায় ৪৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা কম মূল্যে ইজারা নেয়ার পাঁয়তারা চালাচ্ছে সিন্ডিকেট।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের আওতাধীন নাইক্ষ্যংছড়ি থানা হাসপাতাল সংলগ্ন সড়ক পথ টোল পয়েন্টটি ইজারা দেওয়ার জন্য মে মাসের ৮ ও ২৯ তারিখ এবং সর্বশেষ ২৬জুন তিন দফায় টেন্ডার আহ্বান করা হয়।

যেখানে ২৯ জন ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান পরিষদ থেকে দরপত্র সংগ্রহ করলেও পরিকল্পিত সিন্ডিকেট মাত্র একটি দরপত্র জমা দেন। যে দরপত্রে ইজারাদার টোল পয়েন্টটির ইজারা মূল্য দাখিল করে ৫৬লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

অথচ গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এর মূল্য ছিল ১কোটি ৩লাখ টাকা। তিনবার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার পরও কম মূল্যে নিলাম পেতে নানা কারসাজিতে তৎপর সিন্ডিকেট।

এতে করে সরকার বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের এই পয়েন্ট থেকে মোটা অংকের রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হতে চলছে।

এই প্রসঙ্গে দরপত্র সংগ্রহ করা জসিম উদ্দিন, ছৈয়দ আলম, মামুন উদ্দিনসহ একাধিক ব্যবসায়ী জানান, একটি চক্র গত অর্থ বছরের চেয়ে ৪৬লাখ ২৫ হাজার টাকা কম দিয়ে টোল পয়েন্টটি নিতে নানা ছলছাতুরী করছে।

জেলা পরিষদ উক্ত টোল পয়েন্টটির পুনরায় দর যাছাই করলে আরো অধিক মূল্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সূত্রমতে, ওই টোল পয়েন্ট ইজারা নিতে ২৯টি দরপত্র সংগ্রহ করলেও নানা প্রতিবন্ধকতা ও একটি মহলের চাপ প্রয়োগের কারনে ২৮জন তাদের ফরম জমা দিতে পারেননি। শুধুমাত্র এক ব্যাক্তি দরপত্র দাখিল করেন।

এদিকে একটি মাত্র দরপত্র দাখিলকারী
মিজানুর রহমান জানান, সকল নিয়মকানুন মেনে তিনি ফরম জমা দিয়েছেন। নিয়মানুযায়ী টোল পয়েন্ট ইজারা পাওয়ার হকদার তিনি।

টোল পয়েন্টের গত বছরের ইজারাদার আনোয়ারুল ইসলাম রাসেল বলেন, গত অর্থবছরে এই পয়েন্টের ১কোটি ৩লাখ টাকার সবোর্চ্চ দরদাতা ছিলেন তিনি। তাই পুনরায় দর যাছাই করার দাবী জানান তিনি।

এদিকে দরপত্র উম্মুক্ত কমিটির সদস্য ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নিবার্হী প্রকৌশলী লেলিন চাকমা বলেন, ওই টোল পয়েন্টের জন্য মাত্র একটি সিডিউল জমা পড়েছিল।

২৯জুন পরিষদের নির্ধারিত সভায় কমিটি টোল পয়েন্ট নিয়ে সিদ্ধান্ত দিবেন। সবার উপস্থিতিতে দরপত্র উম্মুক্ত করার ক্ষেত্রে সবোর্চ্চ স্বচ্ছতার সাথে করা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা পরিষদের এক কর্মকতার্ জানান, উপযুক্ত ইজারামূল্য পেতে আমরা ৩বার দরপত্র আহ্বান করেছি। এখন ইজারাদার নির্বাচন বা পুন: দর যাছাই হবে কিনা সেটি পরিষদ কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবেন।

এদিকে গত ২৪ জুন প্রাপ্ত একক দরপত্রটি বাতিল করে পুনরায় দরপত্র বিজ্ঞপ্তি যাছাই এর মাধ্যমে পুনরায় দর যাছাই করার জন্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন পেশাদার ইজারাদারসহ স্থানীয়রা।

পলাতক জীবনের অবসান

দুবাইয়ে গ্রেফতার সাবেক আইজিপি বেনজীর

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৪:০৫ পিএম
দুবাইয়ে গ্রেফতার সাবেক আইজিপি বেনজীর

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ইন্টারপোলের সহযোগিতায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেফতার হয়েছেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। রোববার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদে এ তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত ১২ জুন দুবাই পুলিশ বেনজীর আহমেদকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে তিনি সেখানে আটক রয়েছেন। দুবাইয়ের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) বাংলাদেশকে জানিয়েছে, গ্রেফতারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) আবেদন করতে হবে। সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এটি বাংলাদেশ পুলিশের জন্য একটি ঐতিহাসিক সাফল্য। অপরাধী যত প্রভাবশালী বা শক্তিশালীই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।”
জানা গেছে, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী ও দুই কন্যার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে পৃথক চারটি মামলা দায়ের করে দুদক। এসব মামলায় প্রায় ৭৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।
এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি দুদকের আবেদনের পর আদালত বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দেন। পরে আন্তর্জাতিক আইনশৃঙ্খলা সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টায় তাকে দুবাইয়ে শনাক্ত ও গ্রেফতার করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এই দুর্নীতি মামলায় বেনজীর আহমেদের গ্রেফতারকে দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জন্য বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন নজর রয়েছে তাকে কবে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা হয়।

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক ৬ লেন হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৯:৫০ পিএম
চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক ৬ লেন হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ককে বর্তমান চার লেন থেকে ছয় লেনে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, কক্সবাজার অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও পর্যটন গুরুত্ব বিবেচনায় মহাসড়কটির সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।

আজ শনিবার সন্ধ্যায় কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর বাসটার্মিনাল এলাকায় চকরিয়া উপজেলা ও পৌর বিএনপি আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। জনসভায় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান।
তারেক রহমান বলেন, প্রায় ২৫ বছর আগে তিনি যে সড়ক দেখে গিয়েছিলেন, তার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন এখনো হয়নি। এ সময়ে কক্সবাজারের গুরুত্ব বহুগুণ বেড়েছে। পর্যটন ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনার কারণে যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি হয়ে উঠেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর চালু হলে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও সম্প্রসারিত হবে। এ বাস্তবতায় চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ককে আধুনিক ও অধিক সক্ষম সড়কে রূপান্তর করা প্রয়োজন। তিনি জানান, যানবাহনের বাড়তি চাপ ও ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক চাহিদা বিবেচনায় মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করা হবে এবং শিগগিরই প্রকল্পের কাজ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
লবণচাষিদের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, উৎপাদিত লবণের ন্যায্যমূল্য থেকে অনেক চাষি বঞ্চিত হচ্ছেন। এ অবস্থার পরিবর্তনে সরকার মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেবে, যাতে চাষিরা উৎপাদিত লবণের উপযুক্ত দাম পান।
প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট নিয়ে বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি উপস্থাপিত বাজেটটি সাধারণ মানুষের কল্যাণকে গুরুত্ব দিয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর কমানো বা প্রত্যাহারের বিষয়ও বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্বাস্থ্যসেবা খাত নিয়ে তিনি বলেন, দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পর্যায়ক্রমে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি আগামী বাজেটে ৪২ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড এবং ৪০ লাখ কৃষককে কৃষি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এসব উদ্যোগ তাঁর ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ কর্মসূচির অংশ বলে উল্লেখ করেন।

চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হকের সভাপতিত্বে জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করা বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অন্যতম ছিল। পাশাপাশি লবণচাষীরা যাতে প্রতি কেজি লবণের ন্যূনতম ১৫ টাকা মূল্য পান, সে লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগের প্রশংসা করেন তিনি।
সভায় আরও বক্তব্য দেন কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না এমপি। এতে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
এর আগে একই দিন কক্সবাজার জেলার দশম উপজেলা হিসেবে নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলা ও থানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

লোহাগাড়ায় বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্বোধন

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৯:০১ পিএম
লোহাগাড়ায় বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্বোধন

রায়হান সিকদার,লোহাগাড়াঃ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বৃক্ষরোপন কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় বৃক্ষ রোপন ও চারা বিতরন করা হয়েছে।

শনিবার(১৩জুন) দুপুরে উপজেলা প্রশাসন এবং পদুয়া বনরেঞ্জ ও টংকাবতী বিটের উদ্যোগে চরম্বা মাইজবিলা এলাকায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) মোঃ বায়োজীদ-বিন-আখন্দ।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পদুয়া বনরেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ রিয়াদুর রহমান ভূঁইয়া,চরম্বা টংকাবতী বিট কর্মকর্তা ইমন বিল্লাহ, লোহাগাড়া প্রেস ক্লাব সভাপতি এম সাইফুল্লাহ চৌধুরী, উপজেলা সহকারি প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ ফয়সাল আমীর সহ গণমাধ্যম কর্মী ও বন বিভাগের স্টাফবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

একই সাথে ওই এলাকায় বনবিভাগের পক্ষ থেকে রোপনকৃত বাগানটি পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) মোঃ বায়োজীদ-বিন-আখন্দ, পদুয়া বনরেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ রিয়াদুর রহমান ভূঁইয়া,চরম্বা টংকাবতী বিট কর্মকর্তা ইমন বিল্লাহ।

ইউএনও মোঃ বায়োজীদ-বিন-আখন্দ বলেন, ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষ রোপণের গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অধিক সংখ্যক গাছ লাগানো এবং সেগুলোর পরিচর্যা করার আহ্বান জানান।

প্রসঙ্গত: কক্সবাজারের ডুলাহাজরায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্তৃক বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্বোধনের পর এ বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।