জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপ কামনা
বান্দরবানে টোল পয়েন্ট ইজারায় রাজস্ব ফাঁকির পায়তারা
বান্দরবানে পার্বত্য জেলা পরিষদের তত্ত্ববধানে নাইক্ষ্যংছড়ি হাসপাতাল রোড় সংলগ্ন টোল পয়েন্টটি কম মূল্যে ইজারা নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে একটি মহল।
সরকারী রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ইজারাদারের পকেট ভর্তি করতে গত বছরের তুলনায় প্রায় ৪৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা কম মূল্যে ইজারা নেয়ার পাঁয়তারা চালাচ্ছে সিন্ডিকেট।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের আওতাধীন নাইক্ষ্যংছড়ি থানা হাসপাতাল সংলগ্ন সড়ক পথ টোল পয়েন্টটি ইজারা দেওয়ার জন্য মে মাসের ৮ ও ২৯ তারিখ এবং সর্বশেষ ২৬জুন তিন দফায় টেন্ডার আহ্বান করা হয়।
যেখানে ২৯ জন ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান পরিষদ থেকে দরপত্র সংগ্রহ করলেও পরিকল্পিত সিন্ডিকেট মাত্র একটি দরপত্র জমা দেন। যে দরপত্রে ইজারাদার টোল পয়েন্টটির ইজারা মূল্য দাখিল করে ৫৬লাখ ৭৫ হাজার টাকা।
অথচ গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এর মূল্য ছিল ১কোটি ৩লাখ টাকা। তিনবার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার পরও কম মূল্যে নিলাম পেতে নানা কারসাজিতে তৎপর সিন্ডিকেট।
এতে করে সরকার বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের এই পয়েন্ট থেকে মোটা অংকের রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হতে চলছে।
এই প্রসঙ্গে দরপত্র সংগ্রহ করা জসিম উদ্দিন, ছৈয়দ আলম, মামুন উদ্দিনসহ একাধিক ব্যবসায়ী জানান, একটি চক্র গত অর্থ বছরের চেয়ে ৪৬লাখ ২৫ হাজার টাকা কম দিয়ে টোল পয়েন্টটি নিতে নানা ছলছাতুরী করছে।
জেলা পরিষদ উক্ত টোল পয়েন্টটির পুনরায় দর যাছাই করলে আরো অধিক মূল্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্রমতে, ওই টোল পয়েন্ট ইজারা নিতে ২৯টি দরপত্র সংগ্রহ করলেও নানা প্রতিবন্ধকতা ও একটি মহলের চাপ প্রয়োগের কারনে ২৮জন তাদের ফরম জমা দিতে পারেননি। শুধুমাত্র এক ব্যাক্তি দরপত্র দাখিল করেন।
এদিকে একটি মাত্র দরপত্র দাখিলকারী
মিজানুর রহমান জানান, সকল নিয়মকানুন মেনে তিনি ফরম জমা দিয়েছেন। নিয়মানুযায়ী টোল পয়েন্ট ইজারা পাওয়ার হকদার তিনি।
টোল পয়েন্টের গত বছরের ইজারাদার আনোয়ারুল ইসলাম রাসেল বলেন, গত অর্থবছরে এই পয়েন্টের ১কোটি ৩লাখ টাকার সবোর্চ্চ দরদাতা ছিলেন তিনি। তাই পুনরায় দর যাছাই করার দাবী জানান তিনি।
এদিকে দরপত্র উম্মুক্ত কমিটির সদস্য ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নিবার্হী প্রকৌশলী লেলিন চাকমা বলেন, ওই টোল পয়েন্টের জন্য মাত্র একটি সিডিউল জমা পড়েছিল।
২৯জুন পরিষদের নির্ধারিত সভায় কমিটি টোল পয়েন্ট নিয়ে সিদ্ধান্ত দিবেন। সবার উপস্থিতিতে দরপত্র উম্মুক্ত করার ক্ষেত্রে সবোর্চ্চ স্বচ্ছতার সাথে করা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা পরিষদের এক কর্মকতার্ জানান, উপযুক্ত ইজারামূল্য পেতে আমরা ৩বার দরপত্র আহ্বান করেছি। এখন ইজারাদার নির্বাচন বা পুন: দর যাছাই হবে কিনা সেটি পরিষদ কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবেন।
এদিকে গত ২৪ জুন প্রাপ্ত একক দরপত্রটি বাতিল করে পুনরায় দরপত্র বিজ্ঞপ্তি যাছাই এর মাধ্যমে পুনরায় দর যাছাই করার জন্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন পেশাদার ইজারাদারসহ স্থানীয়রা।













