সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

‘আতঙ্কের নাম DH-69’

জাহেদুল ইসলাম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
‘আতঙ্কের নাম DH-69’

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ‘DH-69’ নামে একটি কিশোর গ্যাংয়ের প্রকাশ্য শোডাউন ও সামাজিক মাধ্যমে নিজেদের ‘আতঙ্কের নাম DH-69’ হিসেবে প্রচার করাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনমনে উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি বিপুল সংখ্যক সদস্য নিয়ে লাল রঙের পতাকা হাতে কেরানীহাট এলাকায় মিছিল ও শক্তি প্রদর্শন করে গ্রুপটির সদস্যরা। পরে সেই শোডাউনের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। টিকটকে তাদের সদস্যদের আপলোড করা কয়েকটি ভিডিওতে দেশীয় অস্ত্রসদৃশ বস্তু বহন করতে দেখা গেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক, ব্যবসায়ী এবং সচেতন মহলের অনেকে বলছেন, কিশোর গ্যাং সংস্কৃতি ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। এর মধ্যে কোনো গ্রুপ যদি প্রকাশ্যে নিজেদের ‘আতঙ্কের নাম’ হিসেবে পরিচিত করার চেষ্টা করে, তাহলে তা শুধু সামাজিক শৃঙ্খলার জন্য নয়, কিশোরদের ভবিষ্যতের জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সাতকানিয়ার কেরানীহাটের সী-ওয়ার্ল্ড রেস্টুরেন্টের সামনে জড়ো হন ওই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। পরে একটি বড় লাল রঙের পতাকা হাতে কয়েক ডজন তরুণ ও কিশোরকে একসঙ্গে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে মিছিল-শোডাউন করতে দেখা যায়। তাদের হাতে থাকা লাল রঙের পতাকায় বড় অক্ষরে লেখা ছিল ‘DH-69’। দলবদ্ধভাবে মহাসড়কে অবস্থান, স্লোগান এবং শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে তারা নিজেদের উপস্থিতি জানান দেয়।

স্থানীয়রা জানান, সাধারণত রাজনৈতিক কর্মসূচি, সামাজিক অনুষ্ঠান বা সাংস্কৃতিক আয়োজন ছাড়া এত বড় সংখ্যক তরুণকে একই ব্যানারে প্রকাশ্যে শোডাউন করতে দেখা যায় না। ফলে অনেকেই বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে নেননি। শোডাউনের সময় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষজন কৌতূহল ও শঙ্কা নিয়ে ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করেন।

একজন ব্যবসায়ী বলেন, প্রথমে ভেবেছিলাম কোনো সংগঠনের অনুষ্ঠান। পরে দেখি অনেকেই ভিডিও করছে, ছবি তুলছে। পরে সামাজিক মাধ্যমে দেখি ওরা নিজেদের DH-69 নামে পরিচয় দিচ্ছে। তখন বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।

শোডাউনের পরপরই ফেসবুক, টিকটকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে গ্রুপটির সদস্যরা নিজেদের কর্মকাণ্ডের ভিডিও পোস্ট করে বিভিন্ন ধরনের ক্যাপশন ব্যবহার করেন। কয়েকটি পোস্টে স্পষ্টভাবে লেখা হয়—‘আতঙ্কের নাম DH-69’।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অনেক সদস্য নিজেদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকেও একই ধরনের ছবি ও ভিডিও শেয়ার করেছেন। কেউ কেউ গ্রুপের নাম সম্বলিত পোস্টারধর্মী ছবি ব্যবহার করেছেন। আবার অনেকে ভিডিও সম্পাদনার মাধ্যমে নিজেদের শক্তিশালী বা ভয়ংকর হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন।

সচেতন মহলের মতে, সামাজিক মাধ্যমে ‘আতঙ্ক’ শব্দ ব্যবহার করে নিজেদের প্রচার করা একটি নেতিবাচক বার্তা বহন করে। এটি অন্য কিশোরদের মধ্যেও একই ধরনের গ্রুপ তৈরির আগ্রহ সৃষ্টি করতে পারে।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিও নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। ভিডিওগুলোতে কয়েকজনের হাতে ধারালো অস্ত্রসদৃশ বস্তু দেখা গেছে বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা।

একজন অভিভাবক বলেন, কিশোর বয়সী ছেলেদের হাতে যদি অস্ত্রসদৃশ কিছু দেখা যায়, সেটা অবশ্যই চিন্তার বিষয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচিত বিষয়টি খতিয়ে দেখা।

স্থানীয়দের মতে, অস্ত্র প্রদর্শনের মতো দৃশ্য ব্যবহার করে ভয়ভীতি সৃষ্টির চেষ্টা সামাজিকভাবে ক্ষতিকর।

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, DH-69 নামটি সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি দেখা যাচ্ছে। গ্রুপটির সদস্যদের বেশিরভাগই কিশোর ও তরুণ বয়সী। তারা মূলত নিজেদের মধ্যে একটি আলাদা পরিচয় তৈরি করতে এই নাম ব্যবহার করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে গ্রুপটির আনুষ্ঠানিক কোনো কাঠামো, নিবন্ধন বা বৈধ সংগঠন হিসেবে অস্তিত্বের তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়ভাবে এটি একটি কিশোর গ্যাং বা অনানুষ্ঠানিক তরুণদের দল হিসেবেই পরিচিতি পেয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের গ্রুপগুলো সাধারণত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক পরিচিতি তৈরির মাধ্যমে সদস্য সংগ্রহ করে। পরে নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের জন্য দলবদ্ধ ছবি, ভিডিও এবং শোডাউন আয়োজন করে।

কেরানীহাটের বাসিন্দাদের অনেকেই বলছেন, এ ধরনের কিশোর গ্যাংয়ের প্রকাশ্য শক্তি প্রদর্শনের ফলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

একজন প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, আমরা চাই আমাদের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করুক। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে অনেকেই গ্রুপ বানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার চেষ্টা করছে। এটা ভালো লক্ষণ নয়।

স্থানীয় এক শিক্ষক বলেন, কিশোর বয়সে অনেক সময় বন্ধুবান্ধবের প্রভাবে ভুল পথে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিশোর গ্যাং কোনো একক এলাকার সমস্যা নয়। দেশের বিভিন্ন শহর ও উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন নামে কিশোর গ্রুপ গড়ে উঠছে। এসব গ্রুপের সদস্যরা নিজেদের পরিচিতি বাড়াতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে থাকে।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, গ্রুপের সদস্যরা একসঙ্গে ছবি তোলা, ভিডিও তৈরি করা, মোটরসাইকেল শোডাউন, উচ্চ শব্দে সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে।

সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করেন, সামাজিক স্বীকৃতির আকাঙ্ক্ষা, পারিবারিক নজরদারির ঘাটতি, বেকারত্ব, অনলাইন সংস্কৃতির নেতিবাচক প্রভাব এবং সহপাঠীদের চাপ—এসব কারণে অনেক কিশোর এমন গ্রুপের প্রতি আকৃষ্ট হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিশোরদের আচরণে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। অনেকেই ‘ভিউ’, ‘লাইক’ ও ‘ফলোয়ার’ বৃদ্ধির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বা বিতর্কিত কনটেন্ট তৈরি করে।

কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়, ভয়ভীতি, দাপট কিংবা ক্ষমতার প্রদর্শনমূলক ভিডিও দ্রুত ভাইরাল হয়। ফলে অন্যরাও একই ধরনের ভিডিও তৈরি করতে উৎসাহিত হয়।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, কিশোর বয়সে আত্মপ্রকাশের প্রবল ইচ্ছা থাকে। সেই ইচ্ছাকে ইতিবাচক পথে পরিচালিত না করতে পারলে তারা নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তে পারে।

স্থানীয় অভিভাবকরা বলছেন, সন্তানরা কার সঙ্গে মিশছে, কোথায় যাচ্ছে এবং সামাজিক মাধ্যমে কী ধরনের কার্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে—এসব বিষয়ে নজরদারি প্রয়োজন।

একজন অভিভাবক বলেন, “শুধু স্কুলে পাঠালেই দায়িত্ব শেষ হয় না। সন্তান মোবাইলে কী করছে সেটাও দেখতে হবে।”

শিক্ষাবিদদের মতে, সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা, নিয়মিত কথোপকথন এবং মানসিক সহায়তা প্রদান কিশোর গ্যাংয়ে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

স্থানীয়দের দাবি, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিগুলো দ্রুত যাচাই করা উচিত। যদি সেখানে অস্ত্র প্রদর্শন, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি বা আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

কেঁওচিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মো. জাহেদুল ইসলাম বলেন, কিশোর ও তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার বিকল্প নেই। কোনো ধরনের সহিংসতা, অস্ত্র প্রদর্শন বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের সংস্কৃতি সমাজের জন্য ক্ষতিকর। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত অভিযোগগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

জানতে চাইলে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও ও ছবির বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যদি অস্ত্র প্রদর্শন, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর মতো কোনো কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে আইনের ঊর্ধ্বে বিবেচনা করা হবে না।

টাকা না পেলে ফেসবুকে ছবি ছড়িয়ে দেন ওসি!

জাহেদুল ইসলাম প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১:১১ পিএম
টাকা না পেলে ফেসবুকে ছবি ছড়িয়ে দেন ওসি!

টাকা না দিলে থানায় আটক ব্যক্তিদের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীমের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, আটক ব্যক্তি বা তাঁদের পরিবারের কাছ থেকে অর্থ দাবি করা হয়। সেই অর্থ না পেলে থানায় তোলা ছবি বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও পেজে ছড়িয়ে দিয়ে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়।

একাধিক অভিযোগকারী দাবি করেছেন, আটক ব্যক্তিদের ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে একই ধরনের নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে না। তাঁদের অভিযোগ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো প্রেস রিলিজে আটক ব্যক্তির ছবি ব্লার করা অবস্থায় দেওয়া হলেও, একই ব্যক্তির অব্লার ছবি এর আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে এমন ভিন্নতা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। তাঁদের দাবি, যদি কোনো ব্যক্তির পরিচয় গোপন রাখার প্রয়োজন থাকে, তবে সেই নীতি সবক্ষেত্রেই সমানভাবে অনুসরণ করা উচিত। অন্যথায় বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ভুক্তভোগী কয়েকটি পরিবারের অভিযোগ, কোনো ব্যক্তি আটকের পর আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই তাঁর ছবি ফেসবুকে প্রকাশ হয়ে যায়। এতে আদালতে বিচার শুরুর আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার সামাজিকভাবে চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে চাকরি, ব্যবসা ও পারিবারিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে সাতকানিয়া থানায় আটক একাধিক ব্যক্তির ছবি প্রেস রিলিজ প্রকাশের আগেই ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, থানার ভেতরে তোলা ছবি কীভাবে এত দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পৌঁছে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, আমার এক স্বজনকে আটকের পর বিভিন্নভাবে টাকার কথা বলা হয়। টাকা দিতে না পারার কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখি থানায় তোলা তাঁর ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। পরে পরিচিতজনরা ফোন করে জানতে চান কী হয়েছে। এতে আমরা সামাজিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ি।

আরেক ভুক্তভোগীর ভাষ্য, আইনি প্রক্রিয়া চলার আগেই একজনের ছবি এভাবে প্রকাশ করে দেওয়া ঠিক নয়। পরে মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেও সমাজের মানুষের কাছে সেই অপবাদ থেকেই যায়।

আরেকজন অভিযোগ করেন, ছবি প্রকাশ করে সামাজিক চাপ তৈরি করা হয় বলে আমাদের মনে হয়েছে। এতে পরিবার ভয় ও মানসিক চাপে থাকে। আমরা চাই, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য বের করা হোক।

আরেক ভুক্তভোগী বলেন, কোনো ব্যক্তি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে তাঁর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া তাঁর সম্মান ও পরিবারের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

আইনজীবীদের মতে, কোনো ব্যক্তি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে তাঁকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা কিংবা তাঁর ছবি অপ্রয়োজনীয়ভাবে প্রকাশ করা ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এতে অভিযুক্ত ব্যক্তি পরবর্তীতে নির্দোষ প্রমাণিত হলেও সামাজিক ক্ষতি পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, পুলিশি হেফাজতে থাকা ব্যক্তির ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে কঠোর সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক, তদন্তাধীন বা বিচারাধীন মামলার ক্ষেত্রে এমন ছবি প্রকাশ ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মানবাধিকারের প্রশ্নও তৈরি করতে পারে।

এ বিষয়ে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীমের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে ছুটিতে থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

যদিও এর আগে কয়েকবার এ বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেছিলেন, থানা থেকে কোনো ব্যক্তির ছবি ফাঁস করা হয় না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ছবি ছড়ায়, সেগুলোর উৎস সম্পর্কে  জানা নেই।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, পুলিশ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। আইন অমান্য করার কোনো সুযোগ নেই। যদি এ ধরনের কোনো ঘটনা সত্যিই ঘটে থাকে, তাহলে বিষয়টি আমি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখব।

বান্দরবানে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:০৮ পিএম
বান্দরবানে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত

মুহাম্মদ আলী,বান্দরবান  প্রতিনিধি:

‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা ও যুব মেলাসহ নানা আয়োজনে বান্দরবানে জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে।

রবিবার (১ নভেম্বর) সকালে বান্দরবান শহরের বালাঘাটায় যুব ভবনে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম।

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কনভেনিং কমিটির আহ্বায়ক অংজাই উই চাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এসএম হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ সরদার, জেলা জামায়াতের আমীর এসএম আব্দুস সালাম আজাদ,বান্দরবান ইসলামিক ফাউণ্ডেশন উপপরিচালক মো সেলিম উদ্দিন,বান্দরবান প্রেসক্লাব সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চু,বিএনপি নেতা মো.আবু তাহের।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বান্দরবান যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক এনায়েত করিম। এ সময় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ডিপিসি মোখলেসুর রহমান, বান্দরবানের বিশিষ্ট সাংবাদিক মুহাম্মদ আলী, বালাঘাটা ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো:আলী’সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি, যুব সংগঠক ও তরুণ-তরুণীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বান্দরবান সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার লুবু প্রু মারমা।

দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত র‍্যালিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি যুব মেলায় তরুণদের কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানের বিভিন্ন সুযোগ তুলে ধরা হয়।

সভায় তরুণ উদ্যোক্তাদের মাঝে ২লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ঋণের চেক বিতরণ ও ৩টি যুব সংগঠনের নিবন্ধন সনদ প্রদান করা হয়।

বক্তারা বলেন,দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় যুবসমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠা এবং দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করতে হবে।

বান্দরবানে এবারও শীর্ষে ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:০৫ পিএম
বান্দরবানে এবারও শীর্ষে ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’

মোহাম্মদ আবুল হাশেম লামা প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ হলেও বরাবরের মতো এবারও এইচ.এস.সি পরীক্ষায় শতভাগ পাশ করে ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের বোধিছড়াস্থ ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’। এ প্রতিষ্ঠান থেকে চলতি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ৬০ জনেই পাশ করেছে। এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস পেয়েছে ১৭ জন, এতে পাশের হার শতভাগ। সে মতে জেলার অন্যান্য কলেজের চেয়ে ফলাফলে এগিয়ে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা যায়, এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় বান্দরবান জেলার ১৪ টি কলেজ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ থেকে ৩টি বিভাগে ৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন ১৪জন, এতে ‘এ’ প্লাস ৫জন ও ‘এ’ গ্রেড পায় ৯জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন ১২জন, এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস ৪জন ও ‘এ’ গ্রেড পায় ৮জন। মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষায় ৩৪জন অংশ গ্রহণ করে ‘এ’ প্লাস ৮জন, ২৫ জন ‘এ’ গ্রেড ও ১ জন ‘এ’ মাইনেস পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। প্রকাশিত ফলাফলে শতভাগ উত্তীর্ণ কলেজের মধ্যে শিক্ষার্থী ও ‘এ’ প্লাস সংখ্যায় কোয়ান্টাম কসমো কলেজের অবস্থান জেলায় শীর্ষে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছেন।

এদিকে উপজেলার সরকারী মাতামুহুরী কলেজ থেকে একই পরীক্ষায় অংশ নেন ৭৫৫জন। এর মধ্যে পাশ করে মাত্র ২৭৮জন। এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস পায় ৫জন, পাশের হার ৩৬.৮২ । চাম্বি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে পরীক্ষা দেয় ৪৯জন, এর মধ্যে পাশ করে ৬জন, পাশের হার ১২.৭৭। হেফাজতুর রহমান কলেজ থেকে পর এতে পাশের হার শরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ২৪জন শিক্ষার্থী, পাশ করে ১১জন, পাশের হার ৪৬.০০। লামা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ১৭জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ৬জন, পাশের হার ৩৫.২৯।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এ প্লাস পাওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা কলেজের হোস্টেলে ছিলাম। আমাদের শিক্ষকরা যে পরিমাণ অক্লান্ত পরিশ্রম করে সার্বক্ষনিক মনিটরিং এ রেখেছেন তাতে ভালো ফলাফল না করে উপায় নেই। তাই সকল শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

দিক-নির্দেশনা, প্রশিক্ষিত শিক্ষকদের আন্তরিক পাঠদান, বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ক্লাশ পরীক্ষা গ্রহণ, ফলাফল প্রদান এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশ-এ ফলাফল অর্জনে ভূমিকা রেখেছে বলে জানান, কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ অধ্যক্ষ ছালেহ আহমেদ।
বান্দরবান জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন জানায়, সর্বোচ্চ এ প্লাস ও শতভাগ পাশের হারে শীর্ষ স্থান অর্জন করে লামা উপজেলার ভারমূর্তি উজ্জ্বল করেছে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ। কলেজগুলোর এ র‌্যাংকিং করা হয় মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা, জিপিএ-৫ ও পাশের হারের ভিত্তিতে।