পরিবেশ সংরক্ষণ, নিরাপদ পানি নিশ্চিতকরণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ঝিরি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত
মুহাম্মদ আলী, বান্দরবান প্রতিনিধি:
বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে পরিবেশ সংরক্ষণ, নিরাপদ পানি নিশ্চিতকরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বান্দরবানের কাশেম পাড়া এলাকায় একটি ঝিরি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে।
Youth Development for Sustainable Bangladesh (YDSB)-এর উদ্যোগে এবং World Vision ও GRAUS-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় তরুণ স্বেচ্ছাসেবকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান ওয়ার্ল্ড ভিশনের সিনিয়র ম্যানেজার আশীষ কুমার হালদার, ওয়ার্ল্ড ভিশনের টেকনিক্যাল স্পেশালিস্ট এম. এ. আজিজ, GRAUS-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার টুলু মারমা, সোনিয়া আক্তার এবং YDSB-এর গ্রুপ লিডার সামিরা আক্তার শিরিন।
দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ও দূষণের কারণে এলাকার ঝিরির পানি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছিল। স্থানীয় অনেক পরিবার ঝিরির পাশের কুয়া থেকে দৈনন্দিন প্রয়োজনের পানি সংগ্রহ করে থাকেন। ফলে ঝিরির দূষণ কুয়ার পানির গুণগত মানের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছিল, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এ প্রেক্ষাপটে YDSB এলাকার পানির উৎস সংরক্ষণ এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঝিরি পরিষ্কার কার্যক্রমের উদ্যোগ গ্রহণ করে। কর্মসূচির আওতায় স্বেচ্ছাসেবকরা ঝিরি ও এর আশপাশের এলাকা থেকে বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা ও বর্জ্য অপসারণ করেন। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের মধ্যে পরিবেশ পরিচ্ছন্নতা, পানির উৎস সংরক্ষণ এবং নিরাপদ পানি ব্যবহারের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা ঝিরির ভেতরে নেমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করেন। পরে সবাই মিলে পরিবেশ রক্ষার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে দলীয় ছবিতে অংশ নেন। সবুজ বনাঞ্চল ও প্রাকৃতিক পরিবেশের মাঝে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচি স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে YouthNet Global এবং বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের GDS Club-এর সদস্যরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের আন্তরিক সহযোগিতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণে কর্মসূচি আরও সফল ও ফলপ্রসূ হয়ে ওঠে। বিভিন্ন সংগঠনের তরুণদের সম্মিলিত এই উদ্যোগ পরিবেশ সংরক্ষণে সামাজিক দায়িত্ববোধ ও অংশীদারিত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
আয়োজকরা বলেন, পরিবেশ রক্ষা এবং নিরাপদ পানির উৎস সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন হতে হবে। এ ধরনের কার্যক্রম স্থানীয় জনগণের মধ্যে দায়িত্ববোধ জাগ্রত করবে এবং একটি সুস্থ, নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতেও পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।










