বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

সাতকানিয়ায় আদালতের আদেশে দায়িত্বে ফিরলেন আওয়ামীপন্থী দুই চেয়ারম্যান, এলাকায় বাড়ছে উত্তেজনা

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ৯:৩৭ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
সাতকানিয়ায় আদালতের আদেশে দায়িত্বে ফিরলেন আওয়ামীপন্থী দুই চেয়ারম্যান, এলাকায় বাড়ছে উত্তেজনা

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার দুটি ইউনিয়ন পরিষদে আদালতের নির্দেশে আওয়ামী লীগ মনোনীত দুই চেয়ারম্যানের পুনর্বহালকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা, উদ্বেগ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দায়িত্বচ্যুত হওয়া আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ জনপ্রতিনিধিদের প্রশাসনিক ক্ষমতায় ফিরে আসার প্রক্রিয়া এলাকায় নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সোনাকানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন এবং এর আগে ৩১ মে খাগরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন আদালতের আদেশের ভিত্তিতে আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতাসহ দায়িত্ব পালনের সুযোগ পান। এরপর থেকেই স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, খাগরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আক্তার হোসেনের আবেদনের পর মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী তাকে পুনরায় ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক ও আর্থিক দায়িত্ব প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতের আদেশে পূর্ববর্তী স্থগিতাদেশ ছয় মাসের জন্য স্থগিত হওয়ায় তিনি পুনরায় দায়িত্ব পালনের সুযোগ পান।
একইভাবে সোনাকানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিনও হাইকোর্টের শরণাপন্ন হয়ে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ফিরে পান। আদালতের নির্দেশনার পর সংশ্লিষ্ট প্রশাসন তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়।

এ বিষয়ে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, “আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন ছাড়া প্রশাসনের অন্য কোনো এখতিয়ার নেই। আদালতের আদেশ অনুযায়ী দুই চেয়ারম্যানকে আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নগুলোতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালন করছিলেন।”
স্থানীয় সূত্র বলছে, আক্তার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমানের ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত ও উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে খাগরিয়ায় ছাত্রলীগ ও আওয়ামীলীগ সক্রিয় হওয়ার পেছনে আক্তার হোসেনের ভূমিকায় বেশি রয়েছে বলে জানা যায়। গত কয়েক সপ্তাহ আগে খাগরিয়ায় ছাত্রলীগের ধান কাটার একটি ছবি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ফেসবুক পেজে পোস্ট করলে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। এছাড়া একাধিক কর্মসূচি পালনের ছবিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। আক্তার হোসেনের নেতৃত্বে খাগরিয়ায় আওয়ামী লীগসহ অঙ্গ সংগঠন সক্রিয় হচ্ছে।

অন্যদিকে জসিম উদ্দিনকে সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কুতুব উদ্দিন চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহচর হিসেবে দেখা হয়। জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার ওপর আক্রমণের অভিযোগ গত বছরের ২২ এপ্রিল রাতে চট্টগ্রামের সদরঘাট এলাকা থেকে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। দীর্ঘ কারাভোগের পর সে জামিন বের হন।
সাবেক চেয়ারম্যান জসিমের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর লোহাগাড়া উপজেলার পুরাতন থানা এলাকার মফিজুর রহমানের ছেলে মোহাম্মদ মোমেন হোসেন জয় বাদী হয়ে বিস্ফোরক আইনে সদরঘাট থানায় এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট সকাল ১১টা থেকে ৫ আগস্ট রাত আনুমানিক ১০টা পর্যন্ত সদরঘাট থানার সিটি কলেজের সামনে থেকে ইসলামিয়া কলেজের মোড় পর্যন্ত বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার ওপর আক্রমণের অভিযোগ করা হয়।

আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যানদের পুনর্বহালকে স্থানীয় রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন অনেকে। তাদের পুনর্বহালে স্থানীয় একাধিক রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের অনেক জনপ্রতিনিধি প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতায় দায়িত্বের বাইরে চলে যান। সেই প্রেক্ষাপটে আদালতের মাধ্যমে একের পর এক জনপ্রতিনিধির দায়িত্বে ফেরার ঘটনাকে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সূচনা হিসেবে বিবেচনা করছেন স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা।
খাগরিয়ায় চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। গত ৩১ মে তিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের চেয়ারে বসার পর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়। স্থানীয়দের একটি প্রতিনিধি দল তাকে গ্রেপ্তারের দাবিতে সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।

অন্যদিকে সোনাকানিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন এলাকায় ফিরবেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের পক্ষ থেকে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

দুই চেয়ারম্যান ইউনিয়ন পরিষদে নিয়মিত অফিস শুরু করলে সমর্থক ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সাতকানিয়ার বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হামলায় সরাসরি জড়িত বলে এই দুই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, “আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বা কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”

আইনজীবীদের মতে, আদালতের আদেশে দায়িত্ব ফিরে পাওয়া কোনো জনপ্রতিনিধিকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বিচার করা সমীচীন নয়। আদালত যদি আইনগতভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেন, তবে তা বিচার বিভাগের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। তবে মাঠপর্যায়ে জনমত ও রাজনৈতিক বাস্তবতা কী অবস্থান নেয়, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

স্থানীয় সূত্র আরও জানিয়েছে, সাতকানিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সমর্থিত আরও কয়েকজন সাবেক চেয়ারম্যান ও জনপ্রতিনিধি আদালতের মাধ্যমে দায়িত্ব ফিরে পাওয়ার লক্ষ্যে আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে আগামী দিনে উপজেলার আরও কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ভাষ্য, আদালতের নির্দেশে জনপ্রতিনিধিদের প্রত্যাবর্তন কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; এর সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক অভিঘাতও রয়েছে। রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর সাতকানিয়ায় এই প্রত্যাবর্তন স্থানীয় ক্ষমতার ভারসাম্য, রাজনৈতিক সমীকরণ এবং মাঠের রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়িয়ে দিতে পারে।

সাতকানিয়ায় মাদক সম্রাট ছাত্রলীগ নেতা সাব্বির আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৫১ পিএম
সাতকানিয়ায় মাদক সম্রাট ছাত্রলীগ নেতা সাব্বির আটক

Oplus_131072

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ছাত্রলীগ নেতা আজাদ হোসেন সাব্বিরকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজাদ হোসেন সাব্বির ছাত্রলীগের সক্রিয় নেতা। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সময় তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নগরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর গুলিবর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও দীর্ঘদিনের বলে স্থানীয়দের দাবি।

তবে ঠিক কি কারণে তাকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানাতে পারেনি পুলিশ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেন, বিষয়টি আমাকে জেনে দেখতে হবে।

৫ দিনের সফরে বান্দরবান আসছেন পার্বত্যমন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:২৬ পিএম
৫ দিনের সফরে বান্দরবান আসছেন পার্বত্যমন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী

আবুবকর ছিদ্দিক, বার্তা সম্পাদক

পাঁচ দিনের সরকারি সফরে আগামী ৬ নভেম্বর বান্দরবান আসছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী এমপি। ৫ থেকে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত তাঁর এই সফরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস, ৫৪তম জাতীয় সমবায় দিবস, শ্রমিকদের মৃত্যুজনিত আর্থিক সহায়তা প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-১ শাখা থেকে ৪ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এক সরকারি সফরসূচিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

সফরসূচি অনুযায়ী, ৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার বেইলি রোডস্থ পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স থেকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের উদ্দেশে যাত্রা করবেন মন্ত্রী। রাত ১১টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ট্রেনযোগে ঢাকা ত্যাগ করবেন তিনি। পরদিন ৬ নভেম্বর শুক্রবার ভোরে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে সেখান থেকে সড়কপথে বান্দরবানের উদ্দেশে রওনা দেবেন। সকাল ৮টায় বান্দরবান সার্কিট হাউসে উপস্থিত হওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

৭ নভেম্বর (শনিবার) সকালে চিম্বুকের উদ্দেশে যাত্রা করবেন মন্ত্রী। সকাল সাড়ে ৬টায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা অভিযানের অংশ হিসেবে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বান্দরবান পার্বত্য জেলার চিম্বুক রেঞ্জের ২৭ কিলোমিটার সড়কে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

একই দিন দুপুরে বান্দরবান সার্কিট হাউসে ফিরে বিশ্রাম শেষে বিকেল ৩টায় জেলা প্রশাসন আয়োজিত জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় যোগ দেবেন। বিকেল ৪টায় জেলা বিএনপি আয়োজিত বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশেও অংশ নেবেন তিনি।

৮ নভেম্বর রোববার সকাল ৯টায় ৫৪তম জাতীয় সমবায় দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন মন্ত্রী। সকাল ১১টায় বান্দরবান জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয়ে মৃত্যুবরণকারী শ্রমিকদের অনুকূলে মৃত্যুঘটিত আর্থিক সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

পরে বিকেল ৪টায় চট্টগ্রামের উদ্দেশে বান্দরবান ত্যাগ করবেন। চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে অবস্থান শেষে রাতের ট্রেনে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন। ৯ নভেম্বর সোমবার ভোরে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে ঢাকার বেইলি রোডস্থ পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সে উপস্থিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর পাঁচ দিনের সফর শেষ হবে।

সরকারি সফরসূচিতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা রয়েছে।

মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরীর এই সফরকে ঘিরে বান্দরবানে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মসূচিতে প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, শ্রমিক ও সমবায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

রুমা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ১১টি পদ শূন্য, শিক্ষক সংকটে ব্যাহত পাঠদান, প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী, নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উদ্বেগ

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:২৪ পিএম
রুমা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ১১টি পদ শূন্য, শিক্ষক সংকটে ব্যাহত পাঠদান, প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী, নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উদ্বেগ

উবাসিং মারমা, রুমা প্রতিনিধি।

বান্দরবানের রুমা উপজেলায় মাধ্যমিক শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রুমা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে।

বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক ও কর্মচারী মিলিয়ে ১১টি পদ শূন্য থাকায় ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। এতে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত অধ্যয়নরত প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মাত্র তিনজন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং দুজন সহকারী শিক্ষক। অথচ প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক ও বিভিন্ন বিষয়ের শিক্ষকসহ মোট আটটি শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। পাশাপাশি অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, অফিস সহায়ক ও নৈশপ্রহরী পদেও জনবল নেই। ফলে শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

শিক্ষক সংকটে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত
বিদ্যালয়ে ইংরেজি, গণিত, সামাজিক বিজ্ঞান, কৃষিশিক্ষা, শারীরিক শিক্ষা ও ধর্মসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রম সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষে বিষয়ভিত্তিক পাঠ বুঝতে পারছে না। এতে পরীক্ষার প্রস্তুতি, ভালো ফলাফল অর্জন ও শিক্ষার ধারাবাহিকতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

বিশেষ করে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সামনে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাকে ঘিরে দুশ্চিন্তায় রয়েছে। শিক্ষক সংকটের কারণে নির্ধারিত সময়ে সব বিষয়ে পাঠ শেষ করা এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।
শিক্ষার্থীদের বক্তব্য: শিক্ষক না থাকায় পড়ালেখায় পিছিয়ে পড়ছি

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক সময় নির্ধারিত বিষয়গুলোতে ক্লাস হয় না। ফলে নিজেরা পড়াশোনা করলেও কঠিন বিষয়গুলো বুঝতে সমস্যা হয়। পরীক্ষার আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার ক্ষেত্রেও তারা পর্যাপ্ত সহযোগিতা পাচ্ছে না।

অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলে, “আমরা নিয়মিত স্কুলে আসি, কিন্তু সব বিষয়ে শিক্ষক না থাকায় অনেক সময় ক্লাস হয় না। কোনো বিষয় বুঝতে সমস্যা হলে তা বুঝিয়ে দেওয়ার মতো শিক্ষক পাই না। এতে আমাদের পড়ালেখায় অনেক ক্ষতি হচ্ছে।”
নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, “শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক বিষয় নিজেরাই পড়ার চেষ্টা করি। কিন্তু গণিত ও ইংরেজির মতো বিষয়ে শিক্ষকের সহযোগিতা ছাড়া ভালোভাবে শেখা কঠিন। নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় পরীক্ষার প্রস্তুতিও ঠিকমতো নিতে পারছি না।

নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী মেসিংউ মার্মা জানান , “আমাদের সামনে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। এখন শিক্ষক না থাকায় কোন বিষয়ে কতটুকু পড়া শেষ হবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তা হচ্ছে। আমরা চাই, দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা হোক।

২ নং সদর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড মেম্বার মংমিন মার্মা তিনি জানান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য রুমা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক সংকট দীর্ঘদিন অব্যাহত থাকলে শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে। বিশেষ করে দরিদ্র ও দূরবর্তী পাড়ার শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়া কঠিন। শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় ৩০০ জনের মতো সরকারি ভাবে নিয়োগকৃত বর্তমানে শিক্ষক রয়েছে তিনজন সেখানেও আবার একজন শিক্ষক রয়েছে বিএড এ প্রশিক্ষণরত। তাহলে দুইজন শিক্ষক দিয়ে কেমনে চলবে মানতে পারছি না।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, বিদ্যালয়ের শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। পাশাপাশি অফিসের শূন্য পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হলে প্রশাসনিক কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিখিল কান্তি দেব তিনি জানান বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট হওয়াতে পালাক্রমে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়া হচ্ছে মাঝেমধ্যে হতাশ হয় এই বাচ্চাগুলোকে দেখে।বিশেষ করে বিজ্ঞান বিভাগ শিক্ষক ইংরেজি শিক্ষক সাথে শূন্য পদে শিক্ষকগুলো খুবই অভাব তবে শুনেছি শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। যদি নিয়োগ হয় তাহলে যেসব বিদ্যালয় শিক্ষক সংকট সেসব বিদ্যালয়ের শিক্ষক পূরণ হওয়ার আশাবাদী রুমা উপজেলায় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রায় এগারোটি পথ শূন্য রয়েছে এ বিষয় নিয়ে খুবই হতাশে রয়েছি।

তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে শিক্ষক সংকট নিরসন করবে। এতে নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে।