‘জনগণের বন্ধু’ পুলিশের আচরণে হতাশ ক্রিকেটার নাঈমের বাবা
জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্য নাঈম হাসানকে মারধরের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে তার পরিবার। নাঈমের বাবা মাহবুবুল আলম অভিযোগ করেছেন, জনগণের বন্ধু হিসেবে পরিচিত পুলিশ বাহিনীর কিছু সদস্যের আচরণ বাস্তবে তার সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র তুলে ধরেছে।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে নাঈমের বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে এবং নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়, সেটিই দেখার বিষয়।
মাহবুবুল আলম জানান, ঘটনার সময় নাঈম তাকে ফোন করে জানিয়েছিল যে পুলিশ তাকে আটক করেছে এবং তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছে। এরপর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ সম্ভব হয়নি, কারণ নাঈমের মোবাইল ফোনও নিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে থানায় গিয়ে ছেলের কাছ থেকে পুরো ঘটনার বিবরণ শোনেন বলে জানান মাহবুবুল। তার দাবি, জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় দেওয়ার পরও পুলিশ নাঈমের কথা গুরুত্ব দেয়নি। বরং জোরপূর্বক গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয়। ভয় পেয়ে সরে আসতে চাইলে কয়েকজন মিলে তাকে মারধর করে থানায় নিয়ে যায়।
নিজেও থানায় গিয়ে কাঙ্ক্ষিত আচরণ পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। মাহবুবুল আলম বলেন, সাবেক কাউন্সিলর এবং নাঈমের বাবা হিসেবে পরিচয় দেওয়ার পরও তাকে বাইরে অপেক্ষা করতে বলা হয়। তার ভাষায়, “আমার সঙ্গে যদি এমন আচরণ করা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করা হয় তা সহজেই অনুমেয়।”
এদিকে নাঈমের বড় ভাই মো. সাব্বির দাবি করেন, বিমানবন্দর থেকে ফেরার পথে তল্লাশির নামে নাঈমকে থামানো হয়। তিনি বলেন, নাঈম তল্লাশিতে কোনো আপত্তি করেনি। কিন্তু এক পর্যায়ে এক উপপরিদর্শক (এসআই) তার গলা চেপে ধরে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করেন।
সাব্বিরের ভাষ্য, এতে আতঙ্কিত হয়ে নাঈম নিজেকে ছাড়িয়ে বাইরে চলে আসে। এরপর তাকে জোর করে গাড়ির কাছে নিয়ে যাওয়া হয় এবং উঠতে অস্বীকৃতি জানালে মারধর করা হয়। শুধু এসআই নয়, সঙ্গে থাকা এক কনস্টেবল এবং পরে ডিবি পরিচয় দেওয়া আরেক ব্যক্তি তাকে পিটিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তার দাবি, নাঈম বারবার ব্যাগ তল্লাশি করার অনুরোধ করলেও সেটি না করে তাকে অপমান, গালাগালি এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, মারধরের কারণে নাঈমের কোমর, পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। থানায় গিয়ে ভাইকে দেখে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন বলেও জানান সাব্বির। তার দাবি, নাঈম তাকে বলেছেন— তাকে নিজের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি এবং গলা চেপে ধরার কারণে শ্বাসকষ্টেরও উপক্রম হয়েছিল।
উল্লেখ্য, শুক্রবার (১২ জুন) রাতে চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজার এলাকায় জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে ডিবি পরিচয়ে আটক ও মারধরের অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।










