পাহাড়ে কৃষি বিপ্লব ঘটানোর তাগিদ পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রুর অর্থকরী ফসল উৎপাদন, কাজু-কফি চাষ ও কৃষিভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণের আহ্বান
আবুবকর ছিদ্দিক স্টাফ রিপোর্টারঃ
পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি ভূমিকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক মূল্যসম্পন্ন কৃষি প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে কৃষি বিপ্লব ঘটানোর তাগিদ দিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু এমপি। তিনি বলেছেন, পাহাড়ি মাটি বিশেষ ধরনের প্লান্টেশনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে অর্থকরী ফসল উৎপাদন বাড়াতে হবে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ঢাকার বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স ভবনের সভাকক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ২০২৬ সালের জুলাই মাসের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী সাচিং প্রু বলেন, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও নেপালসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ কৃষিকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে গেছে। বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলেও কৃষির সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে একই ধরনের অর্থনৈতিক পরিবর্তন আনতে হবে। অর্থনৈতিক মূল্য রয়েছে—এমন প্রকল্প গ্রহণ এখন অত্যন্ত জরুরি।
তিনি উচ্চ ফলনশীল প্রযুক্তি ব্যবহার করে কাজু বাদাম ও কফি চাষ সম্প্রসারণের আহ্বান জানান। পাশাপাশি ভূমির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে অর্থকরী ফসল উৎপাদনে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
পার্বত্য অঞ্চলের মাটির গুণগত মান নির্ণয়ের জন্য ‘মৃত্তিকা ট্রেড সেন্টার’ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, পাহাড়ের মাটি ও অবস্থান বিবেচনা করে পরিবেশবান্ধব অর্থকরী ফসল, উন্নতমানের মাশরুম ও ভালো জাতের লটকন চাষের উদ্যোগ নিতে হবে। অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে গারল, ভেড়া ও মেষ পালনের প্রতিও গুরুত্ব দেন তিনি।
সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে। অধিগ্রহণের কারণে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সরকারি খাসজমিতে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জমির মালিকানা সংক্রান্ত সমস্যাগুলো জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রথাগত বিধি অনুযায়ী সমাধান করতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা পরিহার করে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে।
তামাক চাষকে সমাজ ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী তা পরিহারের আহ্বান জানান। এর পরিবর্তে কৃষকদের ইক্ষু, তুলা, কাজু বাদাম ও কফি চাষে উৎসাহিত করার নির্দেশ দেন তিনি। দুর্গম এলাকায় পানির সংকট নিরসন, অর্গানিক ফল উৎপাদনে বাগান বৃদ্ধি, রাম্বুটান চাষ সম্প্রসারণ এবং কোল্ড স্টোরেজ ও ড্রাই ফ্রুটস প্রসেসিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
এসডিজি অর্জন ও টেকসই উন্নয়নের অংশ হিসেবে পাহাড়ের পাড়াকেন্দ্রের মেয়েদের জন্য বিশেষ শিক্ষামূলক ব্যবস্থা এবং সেন্ট্রাল স্যাটেলাইটের মাধ্যমে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী।
সভায় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর কাছ থেকে শ্রেষ্ঠ উদ্ভাবনী পুরস্কার গ্রহণ করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা ও ভাইস চেয়ারম্যান (যুগ্মসচিব) শেখ ছালেহ্ আহাম্মদ।
এছাড়া সভায় প্রথমবারের মতো যোগ দিয়ে নিজেদের অভিমত তুলে ধরেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মা ম্যা চিং, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ম্রা সা থোয়াই মারমা এবং রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার।
সভায় পার্বত্য অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সচ্ছলতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন বিষয়ে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুল ইসলাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কে এস মং, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ কমপ্লেক্স নির্মাণ, ক্লাইমেট রেসিলিয়েন্ট লাইভলিহুড ইমপ্রুভমেন্ট অ্যান্ড ওয়াটারশেড ম্যানেজমেন্ট (সিআরএলআইডব্লিউএম-সিএইচটি) প্রকল্প, তুলা চাষ বৃদ্ধি ও দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্প, টেকসই সামাজিক সেবা প্রদান প্রকল্প এবং বিভিন্ন যোগাযোগ ও সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।











