আলীকদমে সেনাবাহিনীর উদ্যোগ: মেডিকেল ক্যাম্পেইন, অর্ধেক ভাড়ায় যাতায়াত সেবা ও বৃক্ষরোপণ
আবু জুয়েল নুরখান বান্দরবান প্রতিনিধি:
বান্দরবানের আলীকদমে সীমান্ত এলাকার দুর্গম পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর কল্যাণে এক প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ৩১ বীর, আলীকদম জোনের অধীনস্থ পোয়ামুহুরী আর্মি ক্যাম্পের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্পেইন, স্বল্প ভাড়ায় গণপরিবহন সেবা উদ্বোধন এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।
রবিবার (০২ আগস্ট ২০২৬) বেলা ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত আলীকদম থানাধীন ৪নং কুরুকপাতা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী বিদ্যামনি পাড়ায় এসব কর্মসূচি পালিত হয়।
বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ বিতরণ:
৩১ বীর আলীকদম ব্যাটালিয়নের মেডিকেল অফিসার ক্যাপ্টেন খন্দকার রায়হান আহমেদের নেতৃত্বে পোয়ামুহুরী এলাকার অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। এ ক্যাম্পেইনে পাহাড়ি ও বাঙালি সম্প্রদায়ের মোট ১৩০ জন (৮০ জন পুরুষ ও ৫০ জন নারী) রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরামর্শ ও ওষুধ প্রদান করা হয়।
অর্ধেক ভাড়ায় গাড়ি ও নৌকা সেবা চালু:
যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ ও সাশ্রয়ী করতে আলীকদম জোন কমান্ডার লেঃ কর্নেল আশিকুর রহমান আশিক, এসপিপি, পিএসসি আনুষ্ঠানিকভাবে দড়িমুখ পাড়া এলাকায় সড়ক ও নৌপথে গণপরিবহন সেবার উদ্বোধন করেন। এর ফলে:
আলীকদম – পোয়ামুহুরী সড়ক পথ: পূর্বে চাঁন্দের গাড়ির ভাড়া ৩০০ টাকা থাকলেও জোন কর্তৃক তা নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ১৫০ টাকা।
পোয়ামুহুরী – সিন্দুমুখ পাড়া নদী পথ: মাতামুহুরি নদীতে ট্রলার বা নৌকার ভাড়া পূর্বের ৩০০ টাকার স্থলে নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ১৫০ টাকা।
আলীকদম জোনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে সিভিল চালকদের মাধ্যমে প্রতিদিন সড়ক ও নৌপথে দুটি করে ট্রিপ পরিচালিত হবে। ভাড়া একলাফে ৫০ শতাংশ কমে যাওয়ায় স্থানীয় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি যাতায়াত খরচ অনেকটাই সাশ্রয় হবে।
বৃক্ষরোপণ ও উপস্থিতি:
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে জোন কমান্ডার ও তাঁর সফরসঙ্গীরা নৌকাযোগে সীমান্তবর্তী সতীরাম পাড়ায় যান এবং সেখানে পরিবেশ রক্ষায় একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ১৭ ইসিবির অধিনায়ক, ৫৮ ইস্ট বেঙ্গলের উপ-অধিনায়ক, ৩১ বীরের ভারপ্রাপ্ত উপ-অধিনায়ক, আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), ৪নং কুরুকপাতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ এবং প্রায় দুই শতাধিক পাহাড়ি অধিবাসী উপস্থিত ছিলেন।
সেনাবাহিনীর এই মানবসেবামূলক উদ্যোগে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে ব্যাপক আনন্দ ও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনুষ্ঠান চলাকালে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার ছিল এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।











