শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

বান্দরবানে বন্যাদুর্গত পরিবারের পাশে ওয়ার্ল্ড ভিশন ও গ্রাউস,নগদ অর্থ সহায়তা ও হাইজিন কিটস বিতরণ অনুষ্ঠানে সাচিং প্রু জেরী এমপি

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৮:১১ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
বান্দরবানে বন্যাদুর্গত পরিবারের পাশে ওয়ার্ল্ড ভিশন ও গ্রাউস,নগদ অর্থ সহায়তা ও হাইজিন কিটস বিতরণ অনুষ্ঠানে সাচিং প্রু জেরী এমপি

মুহাম্মদ আলী,বান্দরবান প্রতিনিধি:

বান্দরবানে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে স্টার্ট ফান্ড বাংলাদেশ, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ ও গ্রাম উন্নয়ন সংস্থা (গ্রাউস)।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বান্দরবান সদর উপজেলা হলরুমে ‘Flood Emergency Response in Bandarban 2026’ কর্মসূচির আওতায় বান্দরবান সদর উপজেলার বান্দরবান পৌর সভার ৫, ৬ ও ৮ নং ওয়ার্ডের ১৯৩টি বন্যাদুর্গত পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ সহায়তা ও হাইজিন কিটস বিতরণ করা হয়।

সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য ও বান্দরবান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী এমপি। তিনি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং তাদের হাতে নগদ অর্থ ও হাইজিন কিটস তুলে দেন। এ সময় তিনি ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ ও গ্রাউসের মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন গ্রাউসের চেয়ারপারসন মং থুই চিং মারমা। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত), স্থানীয় সরকার এস. এম. মনজুরুল হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বান্দরবান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফা সুলতানা খান হিবামনি।
এ সময় বক্তব্য দেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন বিভাগের পরিচালক দোলন যোসেফ গমেজ, বান্দরবান এরিয়া সিনিয়র ম্যানেজার আশীষ কুমার হালদার, স্টার্ট ফান্ড রেসপন্স ম্যানেজার মো.রুহুল আমিন, টেকনিক্যাল অফিসার মো.আব্দুল আজিজ এবং গ্রাউসের প্রোগ্রাম ম্যানেজার টুলু মারমা। এছাড়া ডা. এম. মাহমুদুল হক, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক, উপকারভোগী পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করছে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ ও গ্রাউস। সহযোগিতায় রয়েছে স্টার্ট ফান্ড বাংলাদেশ, ইউকেএইড (UKAid), সিডা (Sida), নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জেএওএ (JOA) এবং কনরাড এন. হিলটন ফাউন্ডেশন।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বান্দরবানে আলোচনা সভা

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:০১ পিএম
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বান্দরবানে আলোচনা সভা

আবুবকর ছিদ্দিক

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বান্দরবানে আলোচনা সভা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ৩০০ নম্বর আসনের সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী। সভাপতিত্ব করেন বান্দরবানের জেলা প্রশাসক নাজনীন সুলতানা।

বিশেষ অতিথি ছিলেন বান্দরবানের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ওয়াহাবুল ইসলাম খন্দকার, বাংলাদেশ বেতারের আঞ্চলিক পরিচালক রফিকুল ইসলাম, বান্দরবান সেনা রিজিয়নের জিটুআই মেজর পারভেজ রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফা সুলতানা খান হীরামনি, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এস এম হাসান এবং বান্দরবান প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. নাছিরুল আলম।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। এ দিবসের চেতনা ধারণ করে জাতীয় ঐক্য, গণতন্ত্র ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী বলেন, “ ৭ নভেম্বর দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। তরুণ প্রজন্মকে দেশের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সম্পর্কে জানতে হবে এবং দেশ গঠনে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই।”

তিনি আরও বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। একইভাবে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ তাদের অধিকার ও গণতান্ত্রিক প্রত্যাশা প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক নাজনীন সুলতানা বলেন, “দেশের ইতিহাস ও জাতীয় দিবসগুলোর তাৎপর্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে আমাদের এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখতে হবে।”

পরে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, বান্দরবানের উদ্যোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশুদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে উপলক্ষে চিম্বুক সড়কে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারে নামলেন পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রু

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৭ পিএম
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে উপলক্ষে চিম্বুক সড়কে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারে নামলেন পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রু

আবুবকর ছিদ্দিক

ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে এবং প্রতি শনিবার দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বান্দরবানের চিম্বুক রেঞ্জে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও বান্দরবান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী এমপির তত্ত্বাবধানে শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে বান্দরবান-থানচি সড়কের চিম্বুক রেঞ্জের প্রায় ২৭ কিলোমিটার এলাকায় বিভিন্ন স্থানে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

সকালে চিম্বুক সড়কের বিভিন্ন স্থানে দলীয় নেতাকর্মীরা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন। সড়কের পাশে পড়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণ, জমে থাকা জঙ্গল ও আগাছা পরিষ্কার এবং বিভিন্ন স্থানে ড্রেন ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন করার কাজ করেন তাঁরা। এ সময় সড়কের সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষায় পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সচেতন করা হয়।

পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নেতৃত্ব দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী এমপি। এ সময় জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযান চলাকালে মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় প্রতি শনিবার দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের দিন বান্দরবানের গুরুত্বপূর্ণ চিম্বুক সড়কের ২৭ কিলোমিটার এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুধু রাস্তা পরিষ্কার করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে নিজের এলাকা, সড়ক ও পরিবেশ পরিষ্কার রাখার বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, পাহাড়ি জেলা বান্দরবানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে। সড়কের পাশে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা না ফেলা এবং নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের নিজ নিজ এলাকায় নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

স্থানীয়দের মতে, বান্দরবান-থানচি সড়কের চিম্বুক অংশটি জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও পর্যটনসমৃদ্ধ সড়ক। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে পর্যটক, স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যাতায়াত করেন। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকলে পরিবেশের পাশাপাশি পর্যটন এলাকার সৌন্দর্যও নষ্ট হয়। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হলে চিম্বুক সড়কের পরিবেশ আরও সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব হবে।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে আয়োজিত এ পরিচ্ছন্নতা অভিযানের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সামাজিক দায়িত্ববোধ ও পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তোলার বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে জানান আয়োজকেরা।
অভিযানে জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। তাঁরা চিম্বুক রেঞ্জের সড়কের বিভিন্ন অংশে দলবদ্ধভাবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

কালুরঘাটের কণ্ঠ থেকে ডাকটিকিটের খাম

বাংলার পত্রিকা প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:২২ এম
কালুরঘাটের কণ্ঠ থেকে ডাকটিকিটের খাম

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর। রাত তখনো ফুরোয়নি। ঢাকার আকাশে গুলির শব্দ। ঘুমহীন নগরবাসী রেডিওর দিকে কান পেতে আছে।

হঠাৎ রেডিও বাংলাদেশের ঢাকা কেন্দ্র থেকে ঘোষকের কণ্ঠে স্লোগান ভেসে এল: “সিপাহি বিপ্লব জিন্দাবাদ।” পরদিন দৈনিক ইত্তেফাক সেই সকালের ঢাকাকে বর্ণনা করেছিল “প্রাণবন্যার উচ্ছল নগরী” হিসেবে।

৫১ বছর পর আজ সেই দিন। তবে এবারের ৭ নভেম্বর আগের অনেক বছরের মতো নয়। দিনটি আবার সরকারি ক্যালেন্ডারে ছুটির দিন হিসেবে ফিরেছে।

চলতি বছরের ১৬ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ৭ নভেম্বরকে আবার ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালন এবং দিনটিকে ‘ক-শ্রেণি’ভুক্ত দিবস ঘোষণা করে সরকারি ছুটি পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি তখন জানান, গত ১৬ বছর দিবসটি রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হয়নি; এখন থেকে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের পাশাপাশি এদিন ছুটি থাকবে।

অর্থাৎ দেড় যুগ পর এটাই প্রথম ৭ নভেম্বর, যেদিন অফিস-আদালত বন্ধ রেখে রাষ্ট্র নিজেই দিনটি পালন করছে। আর ১৯৭৫ সালের সেই ভোরে যাঁর মুক্তির খবর বেতারে এসেছিল, সেই জিয়াউর রহমানের ছেলে এবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দিনটির মুখোমুখি।

চট্টগ্রামের কানে চেনা কণ্ঠ

চট্টগ্রামের মানুষের কাছে এই দিনের একটা আলাদা প্রতিধ্বনি আছে। একাত্তরের মার্চে কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান। সেই কণ্ঠ প্রথম ছড়িয়েছিল এই শহর থেকেই।

সাড়ে চার বছরেরও বেশি সময় পর, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর, দেশ আবার বেতারে শোনে সেই কণ্ঠ: “আমি জিয়া বলছি।” এবার ঢাকা থেকে। ভাষণে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে কঠোর পরিশ্রমের আহ্বান জানান।

আবার এই চট্টগ্রামেই, সার্কিট হাউসে, ১৯৮১ সালের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় নিহত হন জিয়াউর রহমান। এক শহরে শুরু, আরেক শহরে মোড় বদল, আবার এই শহরেই শেষ। চট্টগ্রামের ইতিহাসে তাই দিনটির ভার একটু বেশি।

পত্রিকার পাতায় সেদিনের সকাল

৮ নভেম্বরের পত্রিকাগুলো পড়লে বোঝা যায়, ঢাকার রাস্তায় সেদিন কী ঘটেছিল। দৈনিক সংবাদ লিখেছিল, রাত প্রায় দুটোয় বেতারে ঘোষণা আসার পরপরই রাজপথে নেমেছিল মানুষ। ট্যাংকের কামানের নলে মালা পরানো হয়েছিল, সৈনিকদের মুখে মিষ্টি তুলে দিয়েছিল পাড়ার মানুষ।

দৈনিক বাংলা জানিয়েছিল, রায়েরবাজার, জিগাতলা, ধানমন্ডি থেকে শাহবাগ পর্যন্ত ভোর থেকেই লোকে লোকারণ্য। বেলা দুটোর দিকে জিয়ার আহ্বানে সৈনিকেরা ছাউনিতে ফিরে যান, কিন্তু রাস্তায় মিছিল থামেনি।

ছোট একটা তথ্য অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। সেদিনের বাংলাদেশ অবজারভারের প্রথম পাতার শিরোনাম ছিল, রাষ্ট্রপতি সায়েম প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হয়েছেন এবং তিন বাহিনীর প্রধান উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক। জিয়া তখন সেনাপ্রধান। রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রে তাঁর পুরোপুরি আসা আরও পরের কথা।

এবারের দিনে নতুন কী

এবার দিনটি ঘিরে প্রথমবারের মতো স্মারক ডাকটিকিট এসেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এ বছর ৪ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১০ টাকা মূল্যমানের একটি স্মারক ডাকটিকিট, ১০ টাকার একটি উদ্বোধনী খাম এবং ৫ টাকার একটি ডেটা কার্ড অবমুক্ত করেছেন। ডাক বিভাগের প্রকাশিত এই ডাকটিকিট দেশের সব ডাকঘরে বিক্রি হবে।

যে দিনের খবর একসময় বেতারতরঙ্গে ছড়িয়েছিল, সেই দিন এখন খামের কোণে চড়ে ঘুরবে ডাকঘর থেকে ডাকঘরে। চট্টগ্রামের ডাকঘরগুলোও তার বাইরে নয়।

ঢাকায় আজ বিএনপির বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। দলীয় সূত্রের বরাতে আগেই জানানো হয়েছিল, এই কর্মসূচিতে নিজে পায়ে হেঁটে অংশ নিয়ে নেতৃত্ব দেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী একটি প্রবাদ মনে করিয়ে দিয়েছেন: অতীত আঁকড়ে থাকলে এক চোখ অন্ধ, অতীত ভুলে গেলে দুই চোখই। তাঁর কথায়, সারাক্ষণ ইতিহাসচর্চায় ডুবে থাকা যেমন ঠিক নয়, তেমনি ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নেওয়াও ভুল। বাণীর শেষে তিনি স্লোগান তুলেছেন, ‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁর বাণীতে দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দুর্নীতি, বৈষম্য ও ষড়যন্ত্রের অবসান ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্র চলবে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনে।

ইতিহাসের এই দিনটি নিয়ে অবশ্য দেশে এক সুরে কথা হয়নি কখনো। দিনটিকে বিএনপি ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’, জাসদ ‘সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান দিবস’ এবং আওয়ামী লীগ ‘মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করে। সেদিনের অস্থিরতায় খালেদ মোশাররফসহ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তা নিহত হন। পরে সামরিক আদালতের বিচারে কর্নেল তাহেরের ফাঁসি হয়। সেই বিতর্ক ইতিহাসের পাতায় রয়ে গেছে।

তবু ১৯৭৫ সালের সেই ভোর আর ২০২৬ সালের এই সকালের মধ্যে একটা মিল চোখে পড়ে। সেদিনও মানুষ রাস্তায় নেমেছিল, আজও নামবে। সেদিন খবর এসেছিল বেতারে, আজ আসবে খামে। একান্ন বছরে মাধ্যম বদলেছে, তারিখটা বদলায়নি।