ভাইরাল সেই ভিডিওটিতে ডেলিভারি রোগী দাবিটির ঠিক নয়’ সিএনজিতে ছিলেন না কোনো ডেলিভারি রোগী
জাহাঙ্গীর আলম কাজল,নাইক্ষ্যংছড়ি,(বান্দরবান)প্রতিনিধি:
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে ডেলিভারি রোগী বহনকারী সিএনজি কাঁধে তুলে খাল পার করছেন স্থানীয়রা—এমন দাবিতে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভাইরাল ভিডিওটির দাবিটির সঠিক নয়।
ভিডিওটি সঠিক নয়। এটি নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের রাঙাঝিরি খাল এলাকার।
এছাড়া ভিডিওতে থাকা সিএনজিতে কোনো ডেলিভারি রোগী ছিলেন না বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়,প্রবল স্রোতের মধ্যে প্রায় ১০ থেকে ১৫ জন ব্যক্তি একটি ইঞ্জিনচালিত সিএনজি কাঁধে তুলে একটি খাল পার হচ্ছেন। ভিডিওর শুরুতে দেখা যায়, সিএনজিটি উঁচু স্থান থেকে কয়েকজন মিলে বহন করে স্রোত পার করছেন। পরে অপর প্রান্তে থাকা আরও কয়েকজন সেটি টেনে ওপরে তুলছেন। পুরো ভিডিওতে সিএনজির ভেতরে কোনো ডেলিভারি রোগী বা যাত্রীকে দেখা যায় না।
এদিকে কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজেও ভিডিওটি ‘চট্টগ্রামের ঘটনা’ এবং ‘ডেলিভারি রোগী বহনকারী সিএনজি’ দাবি করে শেয়ার করা হয়েছে। তবে ভিডিওটির স্থান, স্থানীয়দের বক্তব্য এবং প্রশাসনের তথ্য যাচাই করে এসব দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি।
বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: আলম বলেন, ‘ভিডিওটি আমাদের ইউনিয়নের রাঙাঝিরি পাহাড়ি খাল এলাকার। এটি আমাদের ইউনিয়ন ও পাশের পাইয়াখালী ইউনিয়নের মাঝামাঝি অংশের ঘটনা। দুই পাশে সড়ক রয়েছে। একদিকে দোলাধড়া এবং অন্যদিকে ঈদগাবাজারমুখী সড়ক। কিন্তু মাঝখানে এখনো কোনো সেতু নির্মাণ হয়নি। বর্ষাকালে পাহাড়ি ঢলে খালের পানি বেড়ে গেলে এ পথ দিয়ে চলাচলে ভোগান্তি হয়।’
ডেলিভারি রোগী বহনের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সিএনজিতে একজন প্রসূতি (ডেলিভারি) রোগী ছিলেন—এমন কোনো তথ্য আমার জানা নেই। আমি শুধু নদীতে সিএনজিটি দেখেছি।
একই তথ্য নিশ্চিত করেছেন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এনামুল হাসান। তিনি বলেন, ‘ভাইরাল ভিডিওটি আমাদের নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে আমরা বিষয়টি যাচাই করেছি। ওই সিএনজিতে কোনো ডেলিভারি রোগী ছিল না। বর্তমানে আমার দায়িত্বাধীন এলাকায় পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ নয়, যেমনটি ভিডিওর সঙ্গে প্রচার করা হচ্ছে’।







