ফ্যাসিস্টদের নেতৃত্বে ফাইতং ইউনিয়নে ৩৬টি অবৈধ ইটভাটায় চলছে পাহাড় কাটার মহোৎসব
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে ৩৬টি অবৈধ ইটভাটা। আর পাহাড় ও বনকেখোাঁ নাজু- জলিল – শফি- মোক্তারের নেতৃতে নতুন করে আবারে পাহাড় কাটা শুরু হযেছে। চলছে আগামী মৌসুমের জন্য ইটভাটা তৈরীর কার্যক্রম। ইতিমধ্যে ই.ইএ, ই.ই.গ, অঝঝই, ঝঝই, ঝঅই, অইঈ ইটভাটায় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পাহাড় কেটে ইটভাটা তৈরীর কাজ শুরু করেছে।
ইটভাটা গুলোতে মানা হচ্ছে না সরকারের কোনো বিধিনিষেধ। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, আদালতের নিষেধাজ্ঞা, পরিবেশ ও প্রশাসনের নির্দেশনা কোনো কিছুরই তোয়াক্কা করছেন না এখানকার অবৈধ ইটভাটার মালিকরা। কৃষিজমি ও পাহাড় কেটে এবং স্থানীয় ছড়ার বালু উত্তোলন করেই চালানো হচ্ছে এসব ভাটা। এতে পরিবেশ দূষণ যেমন বাড়ছে, তেমনি ধ্বংস হচ্ছে বনভূমির গাছপালা। এছাড়া জেলার আলীকদম, থানচি ও আজিজনগরে প্রায় অর্ধশত অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম চললেও সেগুলো বন্ধ করতে পারছে না প্রশাসন। অনেক স্থানে প্রশাসন দায়সারা অভিযান চালালেও ফের ভাটা গড়ে তোলা হচ্ছে। আবার শ্রমিক-মালিকদের বাধার মুখে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও ইটভাটায় ঢুকতে পারেন না এমন ঘটনাও ঘটেছে। সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, বান্দরবানের সাতটি উপজেলায় ৭০টি ইটভাটা রয়েছে। এসব ইটভাটার সবগুলোই অবৈধ। কোনোটিরই নেই পরিবেশের ছাড়পত্র। গত বছর সবকটি ইটভাটা বন্ধ ছিল। তবে বর্তমানে লামা, আলীকদম, থানচি উপজেলা ও নাইক্ষ্যংছড়ির সীমান্তবর্তী ৪৮টি ভাটায় ইট ভাটার প্রস্তুতি চলছে। এর মধ্যে লামার ফাইতং, বনপুর, আজিজনগরে ৪০টি, আলীকদমে তিনটি, নাইক্ষ্যংছড়িতে চারটি ও থানচিতে একটি ইটভাটা চালু রয়েছে। রুমা, রোয়াংছড়ি ও বান্দরবান সদর উপজেলায় ইটভাটা বন্ধ রয়েছে। জেলার সবচেয়ে বেশি ফাইতং ইউনিয়নেই রয়েছে ৩৬টি ইটভাটা। গত বছরের ১৫ ও ১৮ নভেম্বর পরিবেশ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালত সেখানে অভিযান চালাতে গিয়ে বিফল হন। সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশের দুই শতাধিক সদস্য সঙ্গে থাকাসত্ত্বেও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মালিক-শ্রমিকদের বাধায় ইটভাটায় ঢুকতে পারেননি।
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, লামার ৪৭টি ইটভাটার মধ্যে মাত্র ১৩টিতে জিগজ্যাগ চুল্লি রয়েছে। ওইসব ইটভাটায় জ্বালানি হিসাবে কয়লা ব্যবহার করা হয়। অন্য ৩৪টি ইটভাটায় বনাঞ্চল ধ্বংস করে জ্বালানি কাঠ পোড়ানো হয়। মাটি সংগ্রহ করা হয় পাহাড় কেটে ও কৃষিজমি খনন করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফাইতংয়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, ফাইতংয়ের শিবাতলীপাড়া এবং মে অংপাড়ার তিনটি পাহাড় কেটে ধ্বংস করা হয়েছে। ইটভাটার চুল্লির ধোঁয়া, তাপ ও যানবাহনের শব্দে পাড়াবাসী নাকাল হচ্ছেন। প্রতিবাদে কয়েকবার সড়কে বাঁশ বেঁধে ইট পরিবহণ বন্ধ করে দিয়েছিলেন পরিবেশ দূষণের শিকার স্থানীয় বাসিন্দা। তবে ইটভাটা মালিকদের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ভয়ভীতি দেখিয়ে ফের পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। শিবাতলীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘেঁষে একটি ইটভাটা রয়েছে। এ কারণে শিক্ষার্থীরা দূষণে আক্রান্ত হচ্ছে। স্থানীয় কয়েকজন জনপ্রতিনিধি বলেন, শিবাতলীর ৭নং ওয়ার্ডেই ১১টি ইটভাটা রয়েছে। সেখানে ব্যাপক হারে পাহাড় কাটা ও বন ধ্বংসের কারণে পানির উৎস শুকিয়ে গেছে। দূষণের কারণে সবচেয়ে সংকটে পড়েছে এ গ্রামের মানুষজন। চালু ইটভাটার মধ্যে চারটিতে পরিবেশের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর ড্রাম চিমনি ব্যবহার করা হয়। এছাড়া ১২টিতে রয়েছে ইটের তৈরি চিমনি। জিগজ্যাগ ভাটায় জ্বালানি কাঠের পরিবর্তে কয়লা ব্যবহার করলেও অন্য ইটভাটার মতো একইভাবে পরিবেশ ধ্বংস করে পাহাড় ও কৃষিজমি কেটে সেখানে ইট তৈরির মাটি সংগ্রহ করা হয়। এদিকে ইটভাটা মালিক সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা মোক্তার মেম্বার, মো. মহিউদ্দিন ও নাজমুল ইসলাম নাজু সাংবাদিক এবং প্রশাসন ম্যানেজের নামে প্রতিটি অবৈধ ইটভাটা থেকে ১৫ লাখ টাকা করে চাঁদা তুলেছেন বলে ভাটা মালিকরা জানিয়েছেন। তবে অভিযুক্ত মোক্তার মেম্বার ও মো. মহিউদ্দিন বলেন, জেলায় কর্মরত প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের ইতোমধ্যে খরচ দেওয়া হয়েছে। আপনাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হবে। প্রশাসন যা করবে করুক কোনো সমস্যা নেই, ইটভাটা চলবে।







