ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিংয়ে স্থবির জনজীবন
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বিদ্যুতের ভয়াবহ সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। দিনরাতের বিরামহীন লোডশেডিং এখন এলাকাবাসীর নিত্যদিনের যন্ত্রণা। ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা থেকে শুরু করে ঘরোয়া জীবন পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই নেমে এসেছে স্থবিরতা।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) ছিল লোডশেডিংয়ের ভয়াবহ এক দিন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাঁচ থেকে সাতবার পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়। কোথাও এক ঘণ্টা, আবার কোথাও দুই ঘণ্টা পর্যন্ত অন্ধকারে ডুবে থাকে গ্রাম-শহর। গরমে অতিষ্ঠ মানুষ, ক্ষুব্ধ সাধারণ ভোক্তা।
পিডিবি ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকাগুলোতে এখন যেন চলছে “বিদ্যুতের লুকোচুরি খেলা”। কখন আসবে, কখন যাবে—এ নিয়েই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন মানুষ। ঘনঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার কারণে নষ্ট হচ্ছে ফ্রিজ, ফ্যান, কম্পিউটারসহ নিত্যব্যবহার্য যন্ত্রপাতি। দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কাজ থমকে যাচ্ছে, পাম্পে পানি ওঠানো বন্ধ, রাতের ঘুম হারাম।
কেঁওচিয়া এলাকার গৃহিণী নুরুন নাহার বলেন, ‘সকাল থেকে এখন পর্যন্ত ছয়-সাতবার বিদ্যুৎ গেছে। ফ্রিজের খাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পানির পাম্প চালানো যায় না। দুপুরে গরমে ঘরে থাকা যায় না, বাইরে বসে থাকতে হয়।’
ঢেমশা এলাকার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বললেন, ‘শিশু-বয়স্করা গরমে কাবু। দিনের বেলা না থাকলে চলেও যায়, কিন্তু রাতের বেলায় ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ না থাকলে ঘুম আসে না। অসহ্য গরমে জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।’
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশের কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রে যান্ত্রিক ত্রুটি ও জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন কমে গেছে। এতে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহও হ্রাস পেয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলে।
সাতকানিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত ১০টা পর্যন্ত উপজেলার বিদ্যুতের চাহিদা ছিল প্রায় ১৯ মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ পাওয়া গেছে মাত্র ১০ মেগাওয়াট। ফলে ৯ মেগাওয়াটের ঘাটতি মেটাতে ঘনঘন লোডশেডিং দিতে বাধ্য হতে হয়েছে।
দীর্ঘ লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সাতকানিয়ার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। এছাড়া স্থানীয় ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ফার্মেসিগুলোর বিদ্যুৎনির্ভর যন্ত্রপাতি সচল রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। জেনারেটর চালাতে হচ্ছে অতিরিক্ত খরচে, ফলে স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় বেড়ে গেছে।
কেরানীহাট বাজার এলাকার ব্যবসায়ীরা জানান, একদিনে পাঁচ থেকে সাতবার বিদ্যুৎ না থাকায় বিক্রি অর্ধেকে নেমে এসেছে।
কেরানীহাটের ব্যবসায়ী মো. তারেক বলেন, ‘বিদ্যুৎ চলে গেলে দোকান অন্ধকারে পড়ে থাকে। ক্রেতা আসে না।’
দীর্ঘ সময় ধরে চলা লোডশেডিংয়ে জনজীবন যেন অচল হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষক—সবাই এখন বিদ্যুৎ বিভাগের দিকে তাকিয়ে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর সাতকানিয়া জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) মো. শহিদ বলেন, ‘জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। আমরা যতটা পাই, ততটাই বণ্টন করি। আশা করছি, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে।’











