সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

বাইক দিয়ে ব্যারিকেড দিয়ে ট্রাক থামিয়ে ৩০ হাজার ইয়াবা লুট করলো পুলিশ

জাহেদুল ইসলাম প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৫ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
বাইক দিয়ে ব্যারিকেড দিয়ে ট্রাক থামিয়ে ৩০ হাজার ইয়াবা লুট করলো পুলিশ

চট্টগ্রামে মোটরসাইকেল দিয়ে সড়কে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে একটি ট্রাক থামিয়ে ৩০ হাজার ইয়াবা লুটের অভিযোগ উঠেছে সাতকানিয়া থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও তাদের কথিত সোর্সের বিরুদ্ধে।

গত ২৪ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টার দিকে লোহাগাড়া উপজেলার পুটিবিলা ইউনিয়নের এম চর হাট সংলগ্ন মাইরগ্গ্যারচর ফকিরহাটের একটি সড়কের নির্জন স্থানে ট্রাকটি থামানোর পর কথিত সোর্স রবিন ও মোমেনের মাধ্যমে থানার কনস্টেবল ফয়েজ আহম্মদ ও গাজী মো. মহসিন সামনের সিটে বসে ট্রাকটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেন।

এ সংক্রান্ত দুটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষিত রয়েছে প্রতিবেদকের হাতে। সেখানে কনস্টেবল ফয়েজ আহম্মদকে ট্রাকের সামনে এবং মহসিনকে চালকের পাশে অবস্থান করতে দেখা যায়। তবে তারা উভয়ই মাস্ক পরিহিত ছিল। পরে থানার একাধিক উপ পরিদর্শক, সহকারী উপ পরিদর্শক ও কনস্টেবল তাদেরকে সনাক্ত করেন।

একইদিন রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে তারা দুজনেই কথিত সোর্স রবিন ও মোমেনের মাধ্যমে ট্রাকটি সাতকানিয়া উপজেলার কেরানীহাট রেলক্রসিং সংলগ্ন একটি এলপিজি পাম্প স্টেশনে আনার পর ব্যাপক তল্লাশি করে ৩০ হাজার ইয়াবা সরিয়ে ফেলেন।

দুই কনস্টেবল ও তাদের কথিত সোর্স ট্রাকটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পুরো কার্যক্রম তদারকি করেন থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) এসএম মাহবুবুল ইসলাম। ওই সময় তিনি সঙ্গে করে থানার কম্পিউটার অপারেটর ও কনস্টেবল প্রীতম সাহাকে সঙ্গে নিয়ে যান।

ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ৮টার দিকে এসআই মাহবুব এবং কনস্টেবল প্রীতমসহ লোহাগাড়া এলাকায় অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে। এমনকি ঘটনার সময় কনস্টেবল ফয়েজ ও মহসিনও লামার সীমান্তবর্তী পুটিবিলা এলাকায় অবস্থান করেছিলেন বলে একটি বিশ্বস্ত সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

থানা সংশ্লিষ্ট একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি নজরে আসার পর এ ব্যাপারে পুলিশের অভ্যন্তরীণ তদন্ত ও সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদও করেছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ২৪ অক্টোবর দুপুরে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ইসলামনগর এলাকায় নীল রঙের একটি মিনিট্রাক সড়কের পাশে রেখে হোটেলে খাবার খাচ্ছিলেন চালক নাছির। ট্রাকটির নিবন্ধন নম্বর ঢাকা মেট্রো-ড-১২-৭৫৩৮। এ সময় সেখানে পুলিশের কথিত সোর্স রবিন ও মোমেনের সঙ্গে তার দেখা হয়।

পরে নাছির মাতামুহুরী নদীর সেতু সংলগ্ন একটি পাম্প স্টেশন থেকে জ্বালানি নিয়ে বান্দরবান পার্বত্য জেলার লামার উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে পৌঁছে তিনি অপর এক মাদক বহনকারীর কাছ থেকে ৩০ হাজার ইয়াবা সংগ্রহ করেন। পরে সেগুলো ট্রাকের চালকের আসনের নিচে তৈরি করা বিশেষ জায়গায় লুকিয়ে রাখেন। এরপর তিনি খালি ট্রাক নিয়ে লোহাগাড়া উপজেলার পুটিবিলা সড়ক হয়ে ফকিরহাট এলাকায় ট্রাকটিতে সবজি বোঝাই করার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

চালক নাছির তার গন্তব্যে পৌঁছানোর কিছু দূর আগে থেকে একটি লাল রঙের মোটরসাইকেল ও একটি নোহা গাড়ি নিয়ে রবিন, মোমেন এবং কনস্টেবল ফয়েজ ও মহসিন ট্রাকটির পিছু নেন। একপর্যায়ে নির্জন স্থানে পৌঁছালে রবিন ও কনস্টেবল ফয়েজ মোটরসাইকেল দিয়ে সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে ট্রাকটি থামান। এরপর কনস্টেবল মহসিন ট্রাকের জানালা খুলে চালকের পাশের আসনে বসেন এবং নাছিরকে হাতকড়া পরিয়ে দেন। পরে কনস্টেবল ফয়েজও চালকের পাশের আসনে বসেন।

এরপর তারা ট্রাকটি বিভিন্ন আমিরাবাদ ও ঠাকুরদীঘি ঘুরিয়ে কেরানীহাট রেলক্রসিং সংলগ্ন একটি এলপিজি পাম্প স্টেশনে নেওয়া হয়। সেখানে চালককে ট্রাক থেকে নামিয়ে তল্লাশি করা হয়। এ সময় তারা ট্রাকের চালকের আসনের নিচে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা ৩০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেন। পরে এসআই মাহবুব একটি মোটরসাইকেল নিয়ে পৌঁছালে ঘটনাস্থলে থাকা অন্যরা ট্রাকের চাবি ও চালককে তার জিম্মায় দিয়ে দ্রুত সরে যান। পরে এসআই মাহবুব ট্রাকচালক নাছিরকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং চড়-থাপ্পড় মারেন বলে জানা গেছে।

পরবর্তীতে এসআই মাহবুব পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ট্রাক আটকে রাখার খবর থানায় জানিয়ে আরও দুই পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে নিয়ে আসেন। তবে এরই মধ্যে ট্রাকটিতে তল্লাশি চালানো হয়েছে বলে জানতে পেরে তারা দুজনেই সেখান থেকে চলে যান। পরে এসআই মাহবুব চালক নাছিরের কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে মোবাইলে একটি ভিডিও ধারণ করে চালক ও ট্রাকটি ছেড়ে দেন। এর পরপরই ট্রাকের চালক চট্টগ্রাম নগরীর উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।

পুলিশের কথিত সোর্স মোমিন শুরুতে মাইক্রোবাস ও পরে ট্রাকের চালক ছিল। পরে তিনি বিভিন্ন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলেন। পরবর্তীতে তিনি পুলিশের মাদক উদ্ধার সোর্স হিসেবে কাজ শুরু করেন।

ট্রাক চালক নাছির বলেন, আমি লামা থেকে লোহাগাড়া আসার পথে মাইরগ্গ্যারচর ফকিরহাট এলাকায় পৌঁছালে রবিন ও কনস্টেবল ফয়েজ মোটরসাইকেল দিয়ে আমার ট্রাকের গতিরোধ করেন। এরপর এক পুলিশ সদস্য ট্রাকের সামনের সিটে উঠে আমার এক হাতে হাতকড়া পরিয়ে দেন। কিছুক্ষণ পর কনস্টেবল ফয়েজও ট্রাকে ওঠেন। এ সময় তারা ট্রাকে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার তার ছিঁড়ে ফেলেন।

পরে তারা আমাকে লোহাগাড়া ট্রাফিক পুলিশ বক্সে নিয়ে তাদের সাইট না দেওয়ার অভিযোগ তুলে ট্রাফিক আইনে একটি মামলা দেওয়ার কথা বলেন। এরপর ফোনে কথা বলে আমাকে আবার সাতকানিয়ার ঠাকুরদিঘী পেট্রোল পাম্প এলাকায় নিয়ে আসেন। সেখানে রবিন ও মোমিনের মোটরসাইকেলের সঙ্গে অপর একটি মোটরসাইকেল নিয়ে আরও তিন যুবক যোগ দেন।

একপর্যায়ে আমাকে সাতকানিয়ার কেরানীহাট রেলক্রসিংয়ের পর একটি এলপিজি পাম্পের নির্জন স্থানে নেওয়া হয়। সেখানে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় এক পুলিশ সদস্য আসেন। এরপর আমাকে ট্রাক থেকে নামিয়ে ওই অটোরিকশায় তোলা হয়। আমার এক হাতে এবং অটোরিকশার লোহার সাথে হাতকড়া লাগানো হয়। ওই পুলিশ সদস্য আমাকে নিয়ে অটোরিকশাটি কিছুটা সামনে এগিয়ে অবস্থান করেন। এ সময় ফয়েজ, রবিন, মোমিনসহ অন্য পুলিশ সদস্য ও তাদের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা আমার ট্রাকে তল্লাশির নামে জিনিসপত্র এলোমেলো করেন। পরে ট্রাকের সিটের নিচে রাখা ৩০ হাজার ইয়াবা নিয়ে যান। সেখানে তিনটি বড় পোটলায় ১০ হাজার করে এসব ইয়াবা রাখা ছিল। এ ছাড়াও পরবর্তীতে আমার ট্রাকের সিসিটিভি ক্যামেরার মেমোরি কার্ড ফরম্যাট করে দেওয়া হয়।

এরপর কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও সোর্সরা ইয়াবা নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে আর কয়েকজন আমাকে ঘুরিয়ে সী ওয়ার্ল্ড রেস্টুরেন্টের সামনে নিয়ে যান। এর কিছুক্ষণ পর ওবাইদিয়া মাদ্রাসা গেইট সংলগ্ন সড়ক বিভাগের একটি পরিত্যক্ত ভবনের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দুই পুলিশ সদস্য আমার ট্রাকের চাবি এসআই মাহবুবের কাছে বুঝিয়ে দিয়ে তারাও চলে যান। পরে এসআই মাহবুব ও এক কনস্টেবল আমার ট্রাকে ইয়াবা আছে বলে অভিযোগ তুলে আমাকে মারধর করেন এবং জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। তবে এর আগে একদল ব্যক্তি আমার ট্রাক থেকে ইয়াবা নিয়ে গেছেন, গ্রেপ্তারের ভয়ে বিষয়টি আমি তাদের কাছে স্বীকার করিনি। পরে সেখানে আসা আরও দুই পুলিশ সদস্যকে আমি জানায়, কয়েক ঘণ্টা ধরে আমার ট্রাকটি বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে তল্লাশি করা হয়েছে। এ কথা শুনে ওই দুই পুলিশ সদস্য আর তল্লাশি করতে অপারগতা প্রকাশ করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে এসআই মাহবুব ট্রাকটি তল্লাশি করেননি, এমন একটি ভিডিও বক্তব্য রেকর্ড করে আমাকে ছেড়ে দেন। এরপর আমি গাড়ি নিয়ে চট্টগ্রামের দিকে চলে যাই।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কনস্টেবল ফয়েজ আহম্মদ বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তাই আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেও কোনো লাভ হবে না। এ বিষয়ে আমি আপনাকে কিছু জানাতেও রাজি নই। কারণ ঘটনার দিন রাতে আমি থানায় ছিলাম। এ বিষয়ে কিছু জানার থাকলে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলুন।

অপর কনস্টেবল গাজী মো. মহসিন বলেন, আমি সেখানে ছিলাম না, তাই আমি এসব বিষয়ে কোন ধরনের মন্তব্য করতে রাজি না।

থানার কম্পিউটার অপারেটর ও কনস্টেবল প্রীতম সাহা বলেন, ঘটনার দিন রাতে এসআই মাহবুব স্যারের দাঁতের চিকিৎসক দেখানোর জন্য আমি তার সঙ্গে লোহাগাড়া গিয়েছিলাম। সেখানে চিকিৎসককে না পেয়ে আমরা ফিরে আসি। পরে ঠাকুরদিঘী হয়ে কেরানীহাটে যাই। ওই সময় স্যারকে ফোনে সোর্সের সঙ্গে কথা বলতে শুনেছি। এর অনেকক্ষন পর ট্রাকটি আটকানো হয় আমি সাধারণত বাইরে ডিউটি করি না। তবে সেদিন স্যার আমাকে ডেকে নিয়েছিলেন।

এদিকে, সোর্স রবিনের ফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। আর অপর সোর্স মোমিনের ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

সাতকানিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এসএম মাহবুবুল ইসলাম বলেন, সোর্সের তথ্যের ভিত্তিতে আমরা একটি ট্রাক থামিয়েছিলাম। পরে ট্রাক চালক আগেই তল্লাশি করা হয়েছে বলে জানালে আমি সোর্সকে বকাঝকা করার পর ট্রাকটিতে আর তল্লাশি না চালিয়ে চালকের ভিডিও নিয়ে ছেড়ে দিয়েছি।

কনস্টেবল ফয়েজ আহম্মদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রায় এক বছর আগে আমার সন্তান অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। ওই সময় আমি ব্যস্ত থাকায় ফয়েজকে দিয়ে সন্তানকে হাসপাতালে পাঠিয়েছিলেন। ওই সময় ফয়েজ আমার সন্তানের অনেক সেবা-যত্ন করেছিলেন। সেই থেকেই ফয়েজের সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক তৈরি হয়।

সোর্স রবিনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই মাহবুব বলেন, ইতোপূর্বে রবিনের বাবা মাছ ব্যবসায়ী বাবুলকে একবার রাজনৈতিক মামলায় আটক করা হয়েছিল। ওই সময় রবিন থানায় এসেছিল। সেখানেই আমার সঙ্গে রবিনের পরিচয় হয়। পরে রবিনকে মাদক পাচার সংক্রান্ত কোনো তথ্য জানা থাকলে আমাকে জানাতে বলেছিলেন।

সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল আলীম বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পর তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত হলে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

টাকা না পেলে ফেসবুকে ছবি ছড়িয়ে দেন ওসি!

জাহেদুল ইসলাম প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১:১১ পিএম
টাকা না পেলে ফেসবুকে ছবি ছড়িয়ে দেন ওসি!

টাকা না দিলে থানায় আটক ব্যক্তিদের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীমের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, আটক ব্যক্তি বা তাঁদের পরিবারের কাছ থেকে অর্থ দাবি করা হয়। সেই অর্থ না পেলে থানায় তোলা ছবি বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও পেজে ছড়িয়ে দিয়ে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়।

একাধিক অভিযোগকারী দাবি করেছেন, আটক ব্যক্তিদের ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে একই ধরনের নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে না। তাঁদের অভিযোগ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো প্রেস রিলিজে আটক ব্যক্তির ছবি ব্লার করা অবস্থায় দেওয়া হলেও, একই ব্যক্তির অব্লার ছবি এর আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে এমন ভিন্নতা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। তাঁদের দাবি, যদি কোনো ব্যক্তির পরিচয় গোপন রাখার প্রয়োজন থাকে, তবে সেই নীতি সবক্ষেত্রেই সমানভাবে অনুসরণ করা উচিত। অন্যথায় বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ভুক্তভোগী কয়েকটি পরিবারের অভিযোগ, কোনো ব্যক্তি আটকের পর আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই তাঁর ছবি ফেসবুকে প্রকাশ হয়ে যায়। এতে আদালতে বিচার শুরুর আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার সামাজিকভাবে চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে চাকরি, ব্যবসা ও পারিবারিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে সাতকানিয়া থানায় আটক একাধিক ব্যক্তির ছবি প্রেস রিলিজ প্রকাশের আগেই ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, থানার ভেতরে তোলা ছবি কীভাবে এত দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পৌঁছে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, আমার এক স্বজনকে আটকের পর বিভিন্নভাবে টাকার কথা বলা হয়। টাকা দিতে না পারার কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখি থানায় তোলা তাঁর ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। পরে পরিচিতজনরা ফোন করে জানতে চান কী হয়েছে। এতে আমরা সামাজিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ি।

আরেক ভুক্তভোগীর ভাষ্য, আইনি প্রক্রিয়া চলার আগেই একজনের ছবি এভাবে প্রকাশ করে দেওয়া ঠিক নয়। পরে মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেও সমাজের মানুষের কাছে সেই অপবাদ থেকেই যায়।

আরেকজন অভিযোগ করেন, ছবি প্রকাশ করে সামাজিক চাপ তৈরি করা হয় বলে আমাদের মনে হয়েছে। এতে পরিবার ভয় ও মানসিক চাপে থাকে। আমরা চাই, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য বের করা হোক।

আরেক ভুক্তভোগী বলেন, কোনো ব্যক্তি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে তাঁর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া তাঁর সম্মান ও পরিবারের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

আইনজীবীদের মতে, কোনো ব্যক্তি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে তাঁকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা কিংবা তাঁর ছবি অপ্রয়োজনীয়ভাবে প্রকাশ করা ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এতে অভিযুক্ত ব্যক্তি পরবর্তীতে নির্দোষ প্রমাণিত হলেও সামাজিক ক্ষতি পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, পুলিশি হেফাজতে থাকা ব্যক্তির ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে কঠোর সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক, তদন্তাধীন বা বিচারাধীন মামলার ক্ষেত্রে এমন ছবি প্রকাশ ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মানবাধিকারের প্রশ্নও তৈরি করতে পারে।

এ বিষয়ে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীমের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে ছুটিতে থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

যদিও এর আগে কয়েকবার এ বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেছিলেন, থানা থেকে কোনো ব্যক্তির ছবি ফাঁস করা হয় না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ছবি ছড়ায়, সেগুলোর উৎস সম্পর্কে  জানা নেই।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, পুলিশ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। আইন অমান্য করার কোনো সুযোগ নেই। যদি এ ধরনের কোনো ঘটনা সত্যিই ঘটে থাকে, তাহলে বিষয়টি আমি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখব।

বান্দরবানে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:০৮ পিএম
বান্দরবানে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত

মুহাম্মদ আলী,বান্দরবান  প্রতিনিধি:

‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা ও যুব মেলাসহ নানা আয়োজনে বান্দরবানে জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে।

রবিবার (১ নভেম্বর) সকালে বান্দরবান শহরের বালাঘাটায় যুব ভবনে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম।

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কনভেনিং কমিটির আহ্বায়ক অংজাই উই চাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এসএম হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ সরদার, জেলা জামায়াতের আমীর এসএম আব্দুস সালাম আজাদ,বান্দরবান ইসলামিক ফাউণ্ডেশন উপপরিচালক মো সেলিম উদ্দিন,বান্দরবান প্রেসক্লাব সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চু,বিএনপি নেতা মো.আবু তাহের।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বান্দরবান যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক এনায়েত করিম। এ সময় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ডিপিসি মোখলেসুর রহমান, বান্দরবানের বিশিষ্ট সাংবাদিক মুহাম্মদ আলী, বালাঘাটা ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো:আলী’সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি, যুব সংগঠক ও তরুণ-তরুণীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বান্দরবান সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার লুবু প্রু মারমা।

দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত র‍্যালিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি যুব মেলায় তরুণদের কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানের বিভিন্ন সুযোগ তুলে ধরা হয়।

সভায় তরুণ উদ্যোক্তাদের মাঝে ২লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ঋণের চেক বিতরণ ও ৩টি যুব সংগঠনের নিবন্ধন সনদ প্রদান করা হয়।

বক্তারা বলেন,দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় যুবসমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠা এবং দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করতে হবে।

বান্দরবানে এবারও শীর্ষে ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:০৫ পিএম
বান্দরবানে এবারও শীর্ষে ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’

মোহাম্মদ আবুল হাশেম লামা প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ হলেও বরাবরের মতো এবারও এইচ.এস.সি পরীক্ষায় শতভাগ পাশ করে ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের বোধিছড়াস্থ ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’। এ প্রতিষ্ঠান থেকে চলতি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ৬০ জনেই পাশ করেছে। এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস পেয়েছে ১৭ জন, এতে পাশের হার শতভাগ। সে মতে জেলার অন্যান্য কলেজের চেয়ে ফলাফলে এগিয়ে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা যায়, এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় বান্দরবান জেলার ১৪ টি কলেজ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ থেকে ৩টি বিভাগে ৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন ১৪জন, এতে ‘এ’ প্লাস ৫জন ও ‘এ’ গ্রেড পায় ৯জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন ১২জন, এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস ৪জন ও ‘এ’ গ্রেড পায় ৮জন। মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষায় ৩৪জন অংশ গ্রহণ করে ‘এ’ প্লাস ৮জন, ২৫ জন ‘এ’ গ্রেড ও ১ জন ‘এ’ মাইনেস পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। প্রকাশিত ফলাফলে শতভাগ উত্তীর্ণ কলেজের মধ্যে শিক্ষার্থী ও ‘এ’ প্লাস সংখ্যায় কোয়ান্টাম কসমো কলেজের অবস্থান জেলায় শীর্ষে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছেন।

এদিকে উপজেলার সরকারী মাতামুহুরী কলেজ থেকে একই পরীক্ষায় অংশ নেন ৭৫৫জন। এর মধ্যে পাশ করে মাত্র ২৭৮জন। এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস পায় ৫জন, পাশের হার ৩৬.৮২ । চাম্বি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে পরীক্ষা দেয় ৪৯জন, এর মধ্যে পাশ করে ৬জন, পাশের হার ১২.৭৭। হেফাজতুর রহমান কলেজ থেকে পর এতে পাশের হার শরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ২৪জন শিক্ষার্থী, পাশ করে ১১জন, পাশের হার ৪৬.০০। লামা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ১৭জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ৬জন, পাশের হার ৩৫.২৯।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এ প্লাস পাওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা কলেজের হোস্টেলে ছিলাম। আমাদের শিক্ষকরা যে পরিমাণ অক্লান্ত পরিশ্রম করে সার্বক্ষনিক মনিটরিং এ রেখেছেন তাতে ভালো ফলাফল না করে উপায় নেই। তাই সকল শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

দিক-নির্দেশনা, প্রশিক্ষিত শিক্ষকদের আন্তরিক পাঠদান, বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ক্লাশ পরীক্ষা গ্রহণ, ফলাফল প্রদান এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশ-এ ফলাফল অর্জনে ভূমিকা রেখেছে বলে জানান, কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ অধ্যক্ষ ছালেহ আহমেদ।
বান্দরবান জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন জানায়, সর্বোচ্চ এ প্লাস ও শতভাগ পাশের হারে শীর্ষ স্থান অর্জন করে লামা উপজেলার ভারমূর্তি উজ্জ্বল করেছে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ। কলেজগুলোর এ র‌্যাংকিং করা হয় মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা, জিপিএ-৫ ও পাশের হারের ভিত্তিতে।