যানজটে নাকাল থাকে কেরানীহাট, পুলিশ বক্সে আড্ডায় ব্যস্ত থাকেন সার্জেন্ট মাহফুজ
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়ার কেরানীহাট অংশে প্রতিদিনই যানজট নিত্যদিনের দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। অথচ এ যানজট নিরসনের বদলে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা, বিশেষ করে দায়িত্বরত সার্জেন্ট মাহফুজুর রহমান, অধিকাংশ সময় কাটাচ্ছেন কেরানীহাট পুলিশ বক্সে বসে ‘আড্ডা’ দিয়ে—এমন অভিযোগ চালক ও যাত্রীদের।
কেরানীহাট বাজারসংলগ্ন পুলিশ বক্সটি দিনে বেশিরভাগ সময়ই হয়ে ওঠে একপ্রকার ‘চা আড্ডার কেন্দ্র’। অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্বে থাকা সার্জেন্ট মাহফুজুর রহমান যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে গল্পে মেতে থাকেন। এর ফলে নিয়মিতই তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট।
স্থানীয় কয়েকজন দোকানদার বলেন, বাজারে প্রবেশের মুখেই রিকশা, সিএনজি, থ্রি-হুইলার আর ট্রাকের বিশৃঙ্খলা। অথচ পুলিশ বক্সে গিয়ে দেখবেন, সার্জেন্ট মাহফুজ চা খাচ্ছেন, গল্প করছেন। ওনার যেন কোনো দায় নেই!
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কটি দেশের অন্যতম ব্যস্ততম সড়ক। অথচ কেরানীহাট অংশে প্রতিনিয়ত চলছে নিষিদ্ধ যানবাহন, বিশেষ করে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও থ্রি-হুইলার। এসব যান মূল সড়কে উঠে এসে তৈরি করছে বিশৃঙ্খলা ও যানজট। তবে সেগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে না সার্জেন্ট মাহফুজকে।
একজন পরিবহন চালক জানান, যখন টাকা দেন, তখন থ্রি-হুইলার চলতে পারে। টাকা না দিলে মামলা। যারা নিয়ম মানে, তাদেরকেই হয়রানি করে। যারা মাসোহারা দেয়, তাদের দিকে পুলিশ চায়ও না।
কেরানীহাট পেরিয়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সকালে এবং বিকেলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সময় ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। কয়েক মিনিটের পথ পেরোতেই লেগে যায় আধাঘণ্টা। অনেক সময় অ্যাম্বুলেন্স বা রোগীবাহী যানবাহনও আটকে পড়ে।
স্থানীয় এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্কুল ছুটির সময় মেয়েকে আনতে গিয়ে দেখি—রাস্তা পুরো জ্যামে। অথচ পুলিশরা কই? পুলিশ বক্সে চায়ের কাপ হাতে গল্প করছে!
একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যবসায়ী নেতা বলেন, সার্জেন্ট মাহফুজের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ শুনেছি। কিন্তু মনে হয় কেউ তার পৃষ্ঠপোষকতায় আছেন, তাই ব্যবস্থা হয় না।
সাতকানিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি মহাসড়কের এমন নাজুক ট্রাফিক পরিস্থিতি শুধু স্থানীয় বাসিন্দাদের নয়, দেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলছে। জরুরি ব্যবস্থা না নিলে কেরানীহাট অংশ হয়ে উঠবে অনিয়মের এক অভয়ারণ্য।
জনগণের দাবির জায়গা থেকে অনেকে বলছেন, দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ পুলিশ সদস্যদের সরিয়ে দক্ষ ও আন্তরিক কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হোক।











