ভোটের হাওয়ায় সরগরম চট্টগ্রাম-১৫
default
চট্টগ্রাম–১৫ (সাতকানিয়া–লোহাগাড়া) আসনে প্রচার-প্রচারণা শুরুর পর থেকেই বদলে গেছে এলাকার চিত্র। গ্রামপথ, বাজারঘাট, চায়ের দোকান—সবখানেই ভোটের আলোচনা। মাইকিং, গণসংযোগ-পথসভা আর কুশল বিনিময়ের মধ্য দিয়ে প্রার্থীরা ছুটে বেড়াচ্ছেন এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায়। গত কয়েক দিন প্রচার চললেও পরিবেশ ছিল শান্ত ও উৎসবঘন।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে সাতকানিয়া উপজেলার চরতি ইউনিয়ন থেকে দিনের কর্মসূচি শুরু করেন জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী। ইউনিয়নের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় ঘুরে সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। কোথাও দাঁড়িয়ে কয়েক মিনিটের বক্তব্য, কোথাও আবার স্থানীয়দের সমস্যার কথা শোনা—এই ছিল দিনের মূল চিত্র।
উত্তর ব্রাহ্মণডেঙ্গায় এক পথসভায় তিনি আওয়ামী লীগের কঠোর সমালোচনা করেন। বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ড এবং আবরার ফাহাদের মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে ধরে দলটির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনেন। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের কথা উল্লেখ করে বলেন, ছাত্র–জনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারিয়েছে এবং বিদেশে বসে ষড়যন্ত্র করছে। এসব মোকাবিলায় ভোটের মাঠে ১০ দলীয় জোটকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি।
একই দিনে লোহাগাড়া উপজেলায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন শুরু করেন তাঁর তৃতীয় দিনের প্রচার। সকালে তিনি আমিরাবাদ এলাকায় গিয়ে জুলাই–আগস্টের অভ্যুত্থানে নিহত ইশমামুল হকের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। শহীদের মা ও ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানান এবং পরিবারের খোঁজখবর নেন।
এরপর আমিরাবাদ, পদুয়া ও ঠাকুরদিঘী এলাকায় গণসংযোগে নামেন তিনি। বাজারকেন্দ্রিক ছোট ছোট পথসভায় উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও নিরাপদ সাতকানিয়া–লোহাগাড়া গড়ার প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও বেকারত্ব এই এলাকার বড় সংকট। এসব থেকে মুক্তি পেতে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। অতীতের রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলে দায়বদ্ধ ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার কথাও বলেন তিনি।
এদিকে স্থানীয় প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে বিভিন্ন এলাকায়।











