সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

সাতকানিয়ায় আওয়ামী নাশকতার গুঞ্জন, নেতৃত্বে ডলার-জসিম

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ৮:০৮ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
সাতকানিয়ায় আওয়ামী নাশকতার গুঞ্জন, নেতৃত্বে ডলার-জসিম

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর সাংগঠনিক তৎপরতা পুনরায় সক্রিয় করার চেষ্টা চলছে—এমন আলোচনা এখন স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনের অন্যতম আলোচিত বিষয়। গত কয়েক মাস ধরে নীরব থাকা দলটির কিছু নেতাকর্মীর মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, সাংগঠনিক সমন্বয় এবং মাঠপর্যায়ে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার নানা উদ্যোগের খবর ছড়িয়ে পড়লেও সম্প্রতি কেরানীহাট এলাকায় ছাত্রলীগের ব্যানারে একটি আকস্মিক মিছিল অনুষ্ঠিত হওয়ার পর বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে।

মিছিলের ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক মহল, ব্যবসায়ী সমাজ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—এটি কি বিচ্ছিন্ন কোনো কর্মসূচি, নাকি সাতকানিয়ায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক পুনর্গঠনের দৃশ্যমান সূচনা?

একই সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। পুলিশের দাবি, আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড কিংবা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির লক্ষ্যে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে—এমন তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে রাজনৈতিক তৎপরতা পর্যবেক্ষণে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন বার্তা, গোপন বৈঠকের তথ্য এবং হঠাৎ করে সংগঠিত কর্মসূচিগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি কেরানীহাটের উত্তরে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে ছাত্রলীগের ব্যানারে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি খুব বেশি সময় স্থায়ী না হলেও এর প্রতিক্রিয়া ছিল ব্যাপক। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পূর্বঘোষণা ছাড়া আকস্মিকভাবে মিছিলটি অনুষ্ঠিত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে বিস্ময় ও উদ্বেগ তৈরি হয়।

কেরানীহাটের এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, অনেক দিন ধরে এমন কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি দেখা যায়নি। হঠাৎ ছাত্রলীগের ব্যানারে মিছিল হওয়ায় সবাই অবাক হয়েছে।

আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, মিছিলের চেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে কারা এটি আয়োজন করেছে এবং এর পেছনের উদ্দেশ্য কী—সেটি নিয়ে।

আওয়ামী লীগের একাধিক অভ্যন্তরীণ সূত্র দাবি করেছে, সাতকানিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা নেতাকর্মীদের মধ্যে আবারও যোগাযোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সূত্রগুলো বলছে, মোবাইল ফোন, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ এবং ব্যক্তিগত বৈঠকের মাধ্যমে সাংগঠনিক সমন্বয়ের চেষ্টা চলছে। কিছু এলাকায় পুরোনো কমিটির সদস্য ও সমর্থকদের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ করা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এসব দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো নথি বা তথ্য পাওয়া যায়নি।

এসব কাজে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচিত নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক গোলাম ফারুক ডলার এবং সোনাকানিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জসিম উদ্দীন। দলীয় একাধিক সূত্রের দাবি, তারা মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছেন এবং সাংগঠনিক সমন্বয়ে ভূমিকা রাখছেন।

বিভিন্ন সূত্র আরও অভিযোগ করছে, ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নেতাকর্মীদের সংগঠিত করার প্রচেষ্টাও চালানো হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে গোলাম ফারুক ডলার ও জসিম উদ্দীনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সাবেক নেতাকর্মীদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা রয়েছে। বিশেষ করে কেরানীহাট, সোনাকানিয়া, এওচিয়া, আমিলাইষ, চরতি এবং সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক যোগাযোগ বাড়ার খবর স্থানীয়ভাবে আলোচিত হচ্ছে। যদিও এসব যোগাযোগকে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা স্বাভাবিক রাজনৈতিক যোগাযোগ হিসেবে বর্ণনা করছেন, বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা বিষয়টিকে সাংগঠনিক পুনর্গঠনের প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন।

স্থানীয় প্রশাসনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে পাওয়া তথ্যগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত হতে পারে—এমন কোনো তৎপরতা দেখা গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।

কেরানীহাটে ছাত্রলীগের ব্যানারে মিছিল, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক তৎপরতা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বাড়তে থাকা আলোচনা এবং পুলিশের সতর্ক অবস্থানের কারণে সাতকানিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

বর্তমানে প্রশাসন পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজরদারি চালাচ্ছে। অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলও অপেক্ষা করছে—সাম্প্রতিক এসব তৎপরতা কেবল বিচ্ছিন্ন ঘটনা নাকি ভবিষ্যতে আরও বড় কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রমের পূর্বাভাস, সেটি দেখার জন্য।

সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আওয়ামী লীগের নাশকতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তৎপরতার যে তথ্য আমরা পাচ্ছি, সেগুলো যাচাই-বাছাই করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কোনো অবস্থাতেই কাউকে নাশকতার সুযোগ দেওয়া হবে না। জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

টাকা না পেলে ফেসবুকে ছবি ছড়িয়ে দেন ওসি!

জাহেদুল ইসলাম প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১:১১ পিএম
টাকা না পেলে ফেসবুকে ছবি ছড়িয়ে দেন ওসি!

টাকা না দিলে থানায় আটক ব্যক্তিদের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীমের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, আটক ব্যক্তি বা তাঁদের পরিবারের কাছ থেকে অর্থ দাবি করা হয়। সেই অর্থ না পেলে থানায় তোলা ছবি বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও পেজে ছড়িয়ে দিয়ে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়।

একাধিক অভিযোগকারী দাবি করেছেন, আটক ব্যক্তিদের ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে একই ধরনের নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে না। তাঁদের অভিযোগ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো প্রেস রিলিজে আটক ব্যক্তির ছবি ব্লার করা অবস্থায় দেওয়া হলেও, একই ব্যক্তির অব্লার ছবি এর আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে এমন ভিন্নতা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। তাঁদের দাবি, যদি কোনো ব্যক্তির পরিচয় গোপন রাখার প্রয়োজন থাকে, তবে সেই নীতি সবক্ষেত্রেই সমানভাবে অনুসরণ করা উচিত। অন্যথায় বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ভুক্তভোগী কয়েকটি পরিবারের অভিযোগ, কোনো ব্যক্তি আটকের পর আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই তাঁর ছবি ফেসবুকে প্রকাশ হয়ে যায়। এতে আদালতে বিচার শুরুর আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার সামাজিকভাবে চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে চাকরি, ব্যবসা ও পারিবারিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে সাতকানিয়া থানায় আটক একাধিক ব্যক্তির ছবি প্রেস রিলিজ প্রকাশের আগেই ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, থানার ভেতরে তোলা ছবি কীভাবে এত দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পৌঁছে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, আমার এক স্বজনকে আটকের পর বিভিন্নভাবে টাকার কথা বলা হয়। টাকা দিতে না পারার কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখি থানায় তোলা তাঁর ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। পরে পরিচিতজনরা ফোন করে জানতে চান কী হয়েছে। এতে আমরা সামাজিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ি।

আরেক ভুক্তভোগীর ভাষ্য, আইনি প্রক্রিয়া চলার আগেই একজনের ছবি এভাবে প্রকাশ করে দেওয়া ঠিক নয়। পরে মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেও সমাজের মানুষের কাছে সেই অপবাদ থেকেই যায়।

আরেকজন অভিযোগ করেন, ছবি প্রকাশ করে সামাজিক চাপ তৈরি করা হয় বলে আমাদের মনে হয়েছে। এতে পরিবার ভয় ও মানসিক চাপে থাকে। আমরা চাই, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য বের করা হোক।

আরেক ভুক্তভোগী বলেন, কোনো ব্যক্তি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে তাঁর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া তাঁর সম্মান ও পরিবারের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

আইনজীবীদের মতে, কোনো ব্যক্তি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে তাঁকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা কিংবা তাঁর ছবি অপ্রয়োজনীয়ভাবে প্রকাশ করা ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এতে অভিযুক্ত ব্যক্তি পরবর্তীতে নির্দোষ প্রমাণিত হলেও সামাজিক ক্ষতি পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, পুলিশি হেফাজতে থাকা ব্যক্তির ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে কঠোর সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক, তদন্তাধীন বা বিচারাধীন মামলার ক্ষেত্রে এমন ছবি প্রকাশ ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মানবাধিকারের প্রশ্নও তৈরি করতে পারে।

এ বিষয়ে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীমের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে ছুটিতে থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

যদিও এর আগে কয়েকবার এ বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেছিলেন, থানা থেকে কোনো ব্যক্তির ছবি ফাঁস করা হয় না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ছবি ছড়ায়, সেগুলোর উৎস সম্পর্কে  জানা নেই।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, পুলিশ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। আইন অমান্য করার কোনো সুযোগ নেই। যদি এ ধরনের কোনো ঘটনা সত্যিই ঘটে থাকে, তাহলে বিষয়টি আমি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখব।

বান্দরবানে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:০৮ পিএম
বান্দরবানে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত

মুহাম্মদ আলী,বান্দরবান  প্রতিনিধি:

‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা ও যুব মেলাসহ নানা আয়োজনে বান্দরবানে জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে।

রবিবার (১ নভেম্বর) সকালে বান্দরবান শহরের বালাঘাটায় যুব ভবনে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম।

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কনভেনিং কমিটির আহ্বায়ক অংজাই উই চাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এসএম হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ সরদার, জেলা জামায়াতের আমীর এসএম আব্দুস সালাম আজাদ,বান্দরবান ইসলামিক ফাউণ্ডেশন উপপরিচালক মো সেলিম উদ্দিন,বান্দরবান প্রেসক্লাব সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চু,বিএনপি নেতা মো.আবু তাহের।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বান্দরবান যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক এনায়েত করিম। এ সময় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ডিপিসি মোখলেসুর রহমান, বান্দরবানের বিশিষ্ট সাংবাদিক মুহাম্মদ আলী, বালাঘাটা ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো:আলী’সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি, যুব সংগঠক ও তরুণ-তরুণীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বান্দরবান সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার লুবু প্রু মারমা।

দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত র‍্যালিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি যুব মেলায় তরুণদের কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানের বিভিন্ন সুযোগ তুলে ধরা হয়।

সভায় তরুণ উদ্যোক্তাদের মাঝে ২লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ঋণের চেক বিতরণ ও ৩টি যুব সংগঠনের নিবন্ধন সনদ প্রদান করা হয়।

বক্তারা বলেন,দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় যুবসমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠা এবং দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করতে হবে।

বান্দরবানে এবারও শীর্ষে ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:০৫ পিএম
বান্দরবানে এবারও শীর্ষে ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’

মোহাম্মদ আবুল হাশেম লামা প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ হলেও বরাবরের মতো এবারও এইচ.এস.সি পরীক্ষায় শতভাগ পাশ করে ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের বোধিছড়াস্থ ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’। এ প্রতিষ্ঠান থেকে চলতি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ৬০ জনেই পাশ করেছে। এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস পেয়েছে ১৭ জন, এতে পাশের হার শতভাগ। সে মতে জেলার অন্যান্য কলেজের চেয়ে ফলাফলে এগিয়ে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা যায়, এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় বান্দরবান জেলার ১৪ টি কলেজ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ থেকে ৩টি বিভাগে ৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন ১৪জন, এতে ‘এ’ প্লাস ৫জন ও ‘এ’ গ্রেড পায় ৯জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন ১২জন, এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস ৪জন ও ‘এ’ গ্রেড পায় ৮জন। মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষায় ৩৪জন অংশ গ্রহণ করে ‘এ’ প্লাস ৮জন, ২৫ জন ‘এ’ গ্রেড ও ১ জন ‘এ’ মাইনেস পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। প্রকাশিত ফলাফলে শতভাগ উত্তীর্ণ কলেজের মধ্যে শিক্ষার্থী ও ‘এ’ প্লাস সংখ্যায় কোয়ান্টাম কসমো কলেজের অবস্থান জেলায় শীর্ষে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছেন।

এদিকে উপজেলার সরকারী মাতামুহুরী কলেজ থেকে একই পরীক্ষায় অংশ নেন ৭৫৫জন। এর মধ্যে পাশ করে মাত্র ২৭৮জন। এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস পায় ৫জন, পাশের হার ৩৬.৮২ । চাম্বি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে পরীক্ষা দেয় ৪৯জন, এর মধ্যে পাশ করে ৬জন, পাশের হার ১২.৭৭। হেফাজতুর রহমান কলেজ থেকে পর এতে পাশের হার শরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ২৪জন শিক্ষার্থী, পাশ করে ১১জন, পাশের হার ৪৬.০০। লামা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ১৭জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ৬জন, পাশের হার ৩৫.২৯।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এ প্লাস পাওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা কলেজের হোস্টেলে ছিলাম। আমাদের শিক্ষকরা যে পরিমাণ অক্লান্ত পরিশ্রম করে সার্বক্ষনিক মনিটরিং এ রেখেছেন তাতে ভালো ফলাফল না করে উপায় নেই। তাই সকল শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

দিক-নির্দেশনা, প্রশিক্ষিত শিক্ষকদের আন্তরিক পাঠদান, বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ক্লাশ পরীক্ষা গ্রহণ, ফলাফল প্রদান এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশ-এ ফলাফল অর্জনে ভূমিকা রেখেছে বলে জানান, কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ অধ্যক্ষ ছালেহ আহমেদ।
বান্দরবান জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন জানায়, সর্বোচ্চ এ প্লাস ও শতভাগ পাশের হারে শীর্ষ স্থান অর্জন করে লামা উপজেলার ভারমূর্তি উজ্জ্বল করেছে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ। কলেজগুলোর এ র‌্যাংকিং করা হয় মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা, জিপিএ-৫ ও পাশের হারের ভিত্তিতে।