সাতকানিয়ায় আওয়ামী নাশকতার গুঞ্জন, নেতৃত্বে ডলার-জসিম
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর সাংগঠনিক তৎপরতা পুনরায় সক্রিয় করার চেষ্টা চলছে—এমন আলোচনা এখন স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনের অন্যতম আলোচিত বিষয়। গত কয়েক মাস ধরে নীরব থাকা দলটির কিছু নেতাকর্মীর মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, সাংগঠনিক সমন্বয় এবং মাঠপর্যায়ে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার নানা উদ্যোগের খবর ছড়িয়ে পড়লেও সম্প্রতি কেরানীহাট এলাকায় ছাত্রলীগের ব্যানারে একটি আকস্মিক মিছিল অনুষ্ঠিত হওয়ার পর বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে।
মিছিলের ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক মহল, ব্যবসায়ী সমাজ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—এটি কি বিচ্ছিন্ন কোনো কর্মসূচি, নাকি সাতকানিয়ায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক পুনর্গঠনের দৃশ্যমান সূচনা?
একই সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। পুলিশের দাবি, আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড কিংবা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির লক্ষ্যে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে—এমন তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে রাজনৈতিক তৎপরতা পর্যবেক্ষণে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন বার্তা, গোপন বৈঠকের তথ্য এবং হঠাৎ করে সংগঠিত কর্মসূচিগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি কেরানীহাটের উত্তরে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে ছাত্রলীগের ব্যানারে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি খুব বেশি সময় স্থায়ী না হলেও এর প্রতিক্রিয়া ছিল ব্যাপক। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পূর্বঘোষণা ছাড়া আকস্মিকভাবে মিছিলটি অনুষ্ঠিত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে বিস্ময় ও উদ্বেগ তৈরি হয়।
কেরানীহাটের এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, অনেক দিন ধরে এমন কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি দেখা যায়নি। হঠাৎ ছাত্রলীগের ব্যানারে মিছিল হওয়ায় সবাই অবাক হয়েছে।
আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, মিছিলের চেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে কারা এটি আয়োজন করেছে এবং এর পেছনের উদ্দেশ্য কী—সেটি নিয়ে।
আওয়ামী লীগের একাধিক অভ্যন্তরীণ সূত্র দাবি করেছে, সাতকানিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা নেতাকর্মীদের মধ্যে আবারও যোগাযোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সূত্রগুলো বলছে, মোবাইল ফোন, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ এবং ব্যক্তিগত বৈঠকের মাধ্যমে সাংগঠনিক সমন্বয়ের চেষ্টা চলছে। কিছু এলাকায় পুরোনো কমিটির সদস্য ও সমর্থকদের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ করা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এসব দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো নথি বা তথ্য পাওয়া যায়নি।
এসব কাজে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচিত নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক গোলাম ফারুক ডলার এবং সোনাকানিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জসিম উদ্দীন। দলীয় একাধিক সূত্রের দাবি, তারা মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছেন এবং সাংগঠনিক সমন্বয়ে ভূমিকা রাখছেন।
বিভিন্ন সূত্র আরও অভিযোগ করছে, ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নেতাকর্মীদের সংগঠিত করার প্রচেষ্টাও চালানো হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে গোলাম ফারুক ডলার ও জসিম উদ্দীনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সাবেক নেতাকর্মীদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা রয়েছে। বিশেষ করে কেরানীহাট, সোনাকানিয়া, এওচিয়া, আমিলাইষ, চরতি এবং সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক যোগাযোগ বাড়ার খবর স্থানীয়ভাবে আলোচিত হচ্ছে। যদিও এসব যোগাযোগকে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা স্বাভাবিক রাজনৈতিক যোগাযোগ হিসেবে বর্ণনা করছেন, বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা বিষয়টিকে সাংগঠনিক পুনর্গঠনের প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন।
স্থানীয় প্রশাসনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে পাওয়া তথ্যগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত হতে পারে—এমন কোনো তৎপরতা দেখা গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।
কেরানীহাটে ছাত্রলীগের ব্যানারে মিছিল, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক তৎপরতা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বাড়তে থাকা আলোচনা এবং পুলিশের সতর্ক অবস্থানের কারণে সাতকানিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
বর্তমানে প্রশাসন পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজরদারি চালাচ্ছে। অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলও অপেক্ষা করছে—সাম্প্রতিক এসব তৎপরতা কেবল বিচ্ছিন্ন ঘটনা নাকি ভবিষ্যতে আরও বড় কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রমের পূর্বাভাস, সেটি দেখার জন্য।
সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আওয়ামী লীগের নাশকতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তৎপরতার যে তথ্য আমরা পাচ্ছি, সেগুলো যাচাই-বাছাই করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কোনো অবস্থাতেই কাউকে নাশকতার সুযোগ দেওয়া হবে না। জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।











