সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

ফুল নেওয়া থামছে না ইউএনওর, এক সপ্তাহেও মাঠে প্রশাসনিক তৎপরতার দেখা নেই

সাতকানিয়া প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩১ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ফুল নেওয়া থামছে না ইউএনওর, এক সপ্তাহেও মাঠে প্রশাসনিক তৎপরতার দেখা নেই

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার এক সপ্তাহ পার হয়েছে ৩৬তম বিসিএসের কর্মকর্তা রাজীব দাশ পুরকায়স্থের। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের পর সাত দিনেও থামেনি ফুলেল শুভেচ্ছা। প্রতিদিনই উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতা, সামাজিক সংগঠন ও পেশাজীবী প্রতিনিধিদের ফুল নিয়ে আসা, সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং ছবি তোলার ব্যস্ততা চলছে।

অন্যদিকে, নতুন ইউএনও দায়িত্ব নেওয়ার পর এক সপ্তাহে মাঠ প্রশাসনে তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। বাজার তদারকি, মোবাইল কোর্ট, ফুটপাত দখল, যানজট, অতিরিক্ত মূল্য আদায় কিংবা রাত ৮টার পর দোকানপাট বন্ধ রাখার সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে নতুন ইউএনওর নেতৃত্বে কোনো অভিযান বা দৃশ্যমান কার্যক্রম দেখা যায়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

গত সোমবার বিকেলে সাতকানিয়ার ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব নেন রাজীব দাশ পুরকায়স্থ। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তার কার্যালয়ে শুরু হয় ফুলেল শুভেচ্ছার পর্ব। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তি ও সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুল নিয়ে তাকে স্বাগত জানানো হচ্ছে।

কেউ এককভাবে, কেউ আবার দলবদ্ধ হয়ে ইউএনওর সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন। ফুল দেওয়ার পর অনেকেই ছবি তুলছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এসব ছবি ছড়িয়ে পড়ছে।

দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম দু-এক দিন এমন সৌজন্য সাক্ষাৎকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখলেও এক সপ্তাহ পরও একই চিত্র অব্যাহত থাকায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন—একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণের চেয়ে উপজেলার দীর্ঘদিনের সমস্যা চিহ্নিত করে মাঠ প্রশাসনকে সক্রিয় করা কি বেশি জরুরি নয়?

সাংবাদিক নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘শুনলাম ইউএনও অফিসে নাকি প্রচুর ভিড় থাকে, ফুলের শুভেচ্ছা নিতে নিতে ইউএনও হয়রান।’

নুরুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারের এমন একটা প্রজ্ঞাপন দেওয়া উচিত—কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে ফুল দেওয়া যাবে না। তাহলে সব তেলবাজি বন্ধ হবে।’

স্থানীয় বাসিন্দা রাশেদ বলেন, প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে নতুন ইউএনওকে শুভেচ্ছা জানানো স্বাভাবিক। তবে বাইরের ব্যক্তিদের একের পর এক ফুল নিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

তার ভাষায়, ‘উনি জনগণের সেবা করার জন্য আসছেন। আমার মনে হয় উনি ফুল নিতে নিতে আবার বিদায়ের সময় হয়ে যাবে।’

দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা সাতকানিয়ার কেরানীহাট। দীর্ঘদিন ধরে এই বাজারে যানজট, ফুটপাত দখল ও বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে।

সড়কের পাশে অবৈধভাবে দোকান ও বিভিন্ন স্থাপনা বসানো, ফুটপাত দখল এবং সড়কের ওপর পণ্য ওঠানামার কারণে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে ভোগান্তির অভিযোগও রয়েছে।

এসব সমস্যা সমাধানে উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত বাজার তদারকি ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রত্যাশা করেন স্থানীয়রা।

কিন্তু নতুন ইউএনও দায়িত্ব নেওয়ার এক সপ্তাহেও এসব বিষয়ে মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান কোনো ধরনের প্রশাসনিক অভিযান দেখা যায়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

উপজেলা প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যমান কার্যক্রম হলো মোবাইল কোর্ট। ভেজালবিরোধী অভিযান, অতিরিক্ত মূল্য আদায়, অবৈধ স্থাপনা, পরিবেশ দূষণ, খাদ্যপণ্যে অনিয়মসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে প্রশাসন।

সাতকানিয়ার বিভিন্ন বাজারে এসব অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ফলে নতুন ইউএনও দায়িত্ব নেওয়ার পর স্থানীয়দের প্রত্যাশা ছিল দ্রুত বাজার পরিদর্শন ও নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার।

কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের এক সপ্তাহেও এ ধরনের দৃশ্যমান তৎপরতা চোখে না পড়ায় প্রশ্ন উঠেছে—নতুন ইউএনওর মাঠ প্রশাসনের ‘অ্যাকশন’ শুরু হবে কবে?

অন্যদিকে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে নির্দিষ্ট সময়ের পর মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ রাখার সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু সাতকানিয়ার বিভিন্ন এলাকায় রাত ৮টার পরও দোকানপাট খোলা থাকার অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, শুধু নির্দেশনা জারি করলেই তার বাস্তবায়ন নিশ্চিত হয় না; প্রয়োজন নিয়মিত তদারকি ও প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা।

নতুন ইউএনও দায়িত্ব নেওয়ার পর এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রশাসনের তৎপরতা নেই বলে জানান স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, নতুন ইউএনওকে স্বাগত জানানো অবশ্যই সৌজন্যের বিষয়। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের এক সপ্তাহ পর জনগণের প্রত্যাশা বদলে যায়। তাদের ভাষায়, এখন আর ফুলের তোড়া নয়, তারা দেখতে চান প্রশাসনের মাঠপর্যায়ের কাজ।

বাজারে অনিয়ম বন্ধ, যানজট নিরসন, ফুটপাত দখলমুক্ত করা, নিত্যপণ্যের বাজার তদারকি, অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রশাসনের সক্রিয়তা চান তারা।

সাতকানিয়ার বাসিন্দাদের একাংশের প্রশ্ন, নতুন ইউএনওর কার্যালয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণের এই ধারাবাহিকতা আর কতদিন চলবে? প্রশাসনিক দায়িত্বের ব্যস্ততার মধ্যে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও ফুল গ্রহণের জন্য কতটা সময় ব্যয় হচ্ছে, আর জনগণের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো দেখতে মাঠে কতটা সময় দেওয়া হচ্ছে—সেটিও এখন আলোচনার বিষয়।

তাদের প্রত্যাশা, শুভেচ্ছা ও ফুলেল আয়োজনের আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত শেষ করে নতুন ইউএনও মাঠ প্রশাসনে সক্রিয় হবেন। বিশেষ করে কেরানীহাটসহ উপজেলার ব্যস্ত বাজারগুলোতে নিয়মিত তদারকি, মোবাইল কোর্ট, যানজট নিরসন, ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং রাত ৮টার পর দোকানপাট বন্ধের সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব দাশ পুরকায়স্থের সরকারি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।

ফলে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রশাসনের মাঠপর্যায়ের দৃশ্যমান কার্যক্রম না থাকার অভিযোগ এবং ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণের ধারাবাহিকতা নিয়ে ইউএনওর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

টাকা না পেলে ফেসবুকে ছবি ছড়িয়ে দেন ওসি!

জাহেদুল ইসলাম প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১:১১ পিএম
টাকা না পেলে ফেসবুকে ছবি ছড়িয়ে দেন ওসি!

টাকা না দিলে থানায় আটক ব্যক্তিদের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীমের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, আটক ব্যক্তি বা তাঁদের পরিবারের কাছ থেকে অর্থ দাবি করা হয়। সেই অর্থ না পেলে থানায় তোলা ছবি বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও পেজে ছড়িয়ে দিয়ে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়।

একাধিক অভিযোগকারী দাবি করেছেন, আটক ব্যক্তিদের ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে একই ধরনের নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে না। তাঁদের অভিযোগ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো প্রেস রিলিজে আটক ব্যক্তির ছবি ব্লার করা অবস্থায় দেওয়া হলেও, একই ব্যক্তির অব্লার ছবি এর আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে এমন ভিন্নতা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। তাঁদের দাবি, যদি কোনো ব্যক্তির পরিচয় গোপন রাখার প্রয়োজন থাকে, তবে সেই নীতি সবক্ষেত্রেই সমানভাবে অনুসরণ করা উচিত। অন্যথায় বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ভুক্তভোগী কয়েকটি পরিবারের অভিযোগ, কোনো ব্যক্তি আটকের পর আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই তাঁর ছবি ফেসবুকে প্রকাশ হয়ে যায়। এতে আদালতে বিচার শুরুর আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার সামাজিকভাবে চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে চাকরি, ব্যবসা ও পারিবারিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে সাতকানিয়া থানায় আটক একাধিক ব্যক্তির ছবি প্রেস রিলিজ প্রকাশের আগেই ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, থানার ভেতরে তোলা ছবি কীভাবে এত দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পৌঁছে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, আমার এক স্বজনকে আটকের পর বিভিন্নভাবে টাকার কথা বলা হয়। টাকা দিতে না পারার কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখি থানায় তোলা তাঁর ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। পরে পরিচিতজনরা ফোন করে জানতে চান কী হয়েছে। এতে আমরা সামাজিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ি।

আরেক ভুক্তভোগীর ভাষ্য, আইনি প্রক্রিয়া চলার আগেই একজনের ছবি এভাবে প্রকাশ করে দেওয়া ঠিক নয়। পরে মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেও সমাজের মানুষের কাছে সেই অপবাদ থেকেই যায়।

আরেকজন অভিযোগ করেন, ছবি প্রকাশ করে সামাজিক চাপ তৈরি করা হয় বলে আমাদের মনে হয়েছে। এতে পরিবার ভয় ও মানসিক চাপে থাকে। আমরা চাই, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য বের করা হোক।

আরেক ভুক্তভোগী বলেন, কোনো ব্যক্তি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে তাঁর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া তাঁর সম্মান ও পরিবারের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

আইনজীবীদের মতে, কোনো ব্যক্তি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে তাঁকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা কিংবা তাঁর ছবি অপ্রয়োজনীয়ভাবে প্রকাশ করা ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এতে অভিযুক্ত ব্যক্তি পরবর্তীতে নির্দোষ প্রমাণিত হলেও সামাজিক ক্ষতি পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, পুলিশি হেফাজতে থাকা ব্যক্তির ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে কঠোর সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক, তদন্তাধীন বা বিচারাধীন মামলার ক্ষেত্রে এমন ছবি প্রকাশ ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মানবাধিকারের প্রশ্নও তৈরি করতে পারে।

এ বিষয়ে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীমের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে ছুটিতে থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

যদিও এর আগে কয়েকবার এ বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেছিলেন, থানা থেকে কোনো ব্যক্তির ছবি ফাঁস করা হয় না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ছবি ছড়ায়, সেগুলোর উৎস সম্পর্কে  জানা নেই।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, পুলিশ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। আইন অমান্য করার কোনো সুযোগ নেই। যদি এ ধরনের কোনো ঘটনা সত্যিই ঘটে থাকে, তাহলে বিষয়টি আমি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখব।

বান্দরবানে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:০৮ পিএম
বান্দরবানে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত

মুহাম্মদ আলী,বান্দরবান  প্রতিনিধি:

‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা ও যুব মেলাসহ নানা আয়োজনে বান্দরবানে জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে।

রবিবার (১ নভেম্বর) সকালে বান্দরবান শহরের বালাঘাটায় যুব ভবনে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম।

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কনভেনিং কমিটির আহ্বায়ক অংজাই উই চাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এসএম হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ সরদার, জেলা জামায়াতের আমীর এসএম আব্দুস সালাম আজাদ,বান্দরবান ইসলামিক ফাউণ্ডেশন উপপরিচালক মো সেলিম উদ্দিন,বান্দরবান প্রেসক্লাব সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চু,বিএনপি নেতা মো.আবু তাহের।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বান্দরবান যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক এনায়েত করিম। এ সময় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ডিপিসি মোখলেসুর রহমান, বান্দরবানের বিশিষ্ট সাংবাদিক মুহাম্মদ আলী, বালাঘাটা ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো:আলী’সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি, যুব সংগঠক ও তরুণ-তরুণীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বান্দরবান সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার লুবু প্রু মারমা।

দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত র‍্যালিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি যুব মেলায় তরুণদের কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানের বিভিন্ন সুযোগ তুলে ধরা হয়।

সভায় তরুণ উদ্যোক্তাদের মাঝে ২লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ঋণের চেক বিতরণ ও ৩টি যুব সংগঠনের নিবন্ধন সনদ প্রদান করা হয়।

বক্তারা বলেন,দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় যুবসমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠা এবং দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করতে হবে।

বান্দরবানে এবারও শীর্ষে ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:০৫ পিএম
বান্দরবানে এবারও শীর্ষে ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’

মোহাম্মদ আবুল হাশেম লামা প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ হলেও বরাবরের মতো এবারও এইচ.এস.সি পরীক্ষায় শতভাগ পাশ করে ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের বোধিছড়াস্থ ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’। এ প্রতিষ্ঠান থেকে চলতি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ৬০ জনেই পাশ করেছে। এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস পেয়েছে ১৭ জন, এতে পাশের হার শতভাগ। সে মতে জেলার অন্যান্য কলেজের চেয়ে ফলাফলে এগিয়ে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা যায়, এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় বান্দরবান জেলার ১৪ টি কলেজ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ থেকে ৩টি বিভাগে ৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন ১৪জন, এতে ‘এ’ প্লাস ৫জন ও ‘এ’ গ্রেড পায় ৯জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন ১২জন, এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস ৪জন ও ‘এ’ গ্রেড পায় ৮জন। মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষায় ৩৪জন অংশ গ্রহণ করে ‘এ’ প্লাস ৮জন, ২৫ জন ‘এ’ গ্রেড ও ১ জন ‘এ’ মাইনেস পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। প্রকাশিত ফলাফলে শতভাগ উত্তীর্ণ কলেজের মধ্যে শিক্ষার্থী ও ‘এ’ প্লাস সংখ্যায় কোয়ান্টাম কসমো কলেজের অবস্থান জেলায় শীর্ষে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছেন।

এদিকে উপজেলার সরকারী মাতামুহুরী কলেজ থেকে একই পরীক্ষায় অংশ নেন ৭৫৫জন। এর মধ্যে পাশ করে মাত্র ২৭৮জন। এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস পায় ৫জন, পাশের হার ৩৬.৮২ । চাম্বি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে পরীক্ষা দেয় ৪৯জন, এর মধ্যে পাশ করে ৬জন, পাশের হার ১২.৭৭। হেফাজতুর রহমান কলেজ থেকে পর এতে পাশের হার শরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ২৪জন শিক্ষার্থী, পাশ করে ১১জন, পাশের হার ৪৬.০০। লামা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ১৭জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ৬জন, পাশের হার ৩৫.২৯।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এ প্লাস পাওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা কলেজের হোস্টেলে ছিলাম। আমাদের শিক্ষকরা যে পরিমাণ অক্লান্ত পরিশ্রম করে সার্বক্ষনিক মনিটরিং এ রেখেছেন তাতে ভালো ফলাফল না করে উপায় নেই। তাই সকল শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

দিক-নির্দেশনা, প্রশিক্ষিত শিক্ষকদের আন্তরিক পাঠদান, বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ক্লাশ পরীক্ষা গ্রহণ, ফলাফল প্রদান এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশ-এ ফলাফল অর্জনে ভূমিকা রেখেছে বলে জানান, কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ অধ্যক্ষ ছালেহ আহমেদ।
বান্দরবান জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন জানায়, সর্বোচ্চ এ প্লাস ও শতভাগ পাশের হারে শীর্ষ স্থান অর্জন করে লামা উপজেলার ভারমূর্তি উজ্জ্বল করেছে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ। কলেজগুলোর এ র‌্যাংকিং করা হয় মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা, জিপিএ-৫ ও পাশের হারের ভিত্তিতে।