সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

নিরাপত্তা জোরদার

আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচের আড়ালে আ. লীগের নাশকতার শঙ্কা

জাহেদুল ইসলাম প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ৭:৩০ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচের আড়ালে আ. লীগের নাশকতার শঙ্কা

ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়ার মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচকে ঘিরে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় একদিকে যেমন বিরাজ করছে উৎসবমুখর আমেজ ও ব্যাপক উন্মাদনা, অন্যদিকে সম্ভাব্য রাজনৈতিক নাশকতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় দেখা দিয়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠাও। গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে আশঙ্কা করা হচ্ছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ম্যাচ চলাকালীন কিংবা খেলা শেষে ফুটবলপ্রেমীদের স্বাভাবিক জনসমাগমকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে দলটির কিছু নেতাকর্মী ঝটিকা মিছিল, শোডাউন কিংবা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করতে পারেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সোমবার (২২ জুন) রাত ১১টায় শুরু হওয়া আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচটি শেষ হবে ২৩ জুন ভোরে। একই দিনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী হওয়ায় বিষয়টিকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়ন করছে গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিশেষ করে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় যেকোনো ধরনের আকস্মিক অপতৎপরতা বা জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন এলাকায় বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন, চায়ের দোকান, বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে স্বাভাবিকভাবেই ফুটবলপ্রেমীদের ভিড় থাকবে। এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক পরিচয়ে সংগঠিত কিছু ব্যক্তি সাধারণ দর্শকদের ভিড়ের মধ্যে মিশে গিয়ে হঠাৎ মিছিল বা শোডাউনের চেষ্টা করতে পারেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কয়েকটি এলাকায় ছোট ছোট দলে অবস্থান নিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আকস্মিক কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা থাকতে পারে। এসব কর্মসূচির মধ্যে উসকানিমূলক স্লোগান, দলীয় পতাকা প্রদর্শন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার কিংবা ভিডিও ধারণ করে প্রচারের চেষ্টাও থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ফুটবল খেলার আবেগকে কেন্দ্র করে জনসমাগমের সুযোগ নিয়ে কোনো পক্ষ যদি রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে তা স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। ফলে সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি এড়াতে আগে থেকেই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সাতকানিয়ার কেরানীহাট, সাতকানিয়া পৌর সদর, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, বাসস্ট্যান্ড, বাজার এলাকা, বড় পর্দায় খেলা দেখার স্থান এবং জনসমাগম বেশি হয়—এমন এলাকাগুলোকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।

সূত্র জানায়, পুলিশি টহলের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যদেরও মাঠে সক্রিয় রাখা হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সন্দেহজনক গতিবিধি পর্যবেক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বিত যোগাযোগও জোরদার করা হয়েছে।

মাঠপর্যায়ের তৎপরতার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। ফেসবুক, মেসেঞ্জার গ্রুপ এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কোনো ধরনের উসকানিমূলক পোস্ট, গুজব কিংবা শোডাউনের আহ্বান ছড়ানো হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রচারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় এ ক্ষেত্রটিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার মতো কোনো প্রচারণা শনাক্ত হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।

পুলিশের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হবে।

বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত স্থানগুলোতে নিয়মিত টহল, চেকপোস্ট এবং গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য কয়েকটি মোবাইল টিমও প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পুলিশি টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের সদস্যরা প্রস্তুত রয়েছেন।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে—এমন কোনো কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেওয়া হবে না। ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে মানুষের স্বাভাবিক আনন্দ-উৎসব যেন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, সেদিকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।

ওসি আরও বলেন, কেউ যদি খেলাকে কেন্দ্র করে জনসমাগমের সুযোগ নিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার এবং সন্দেহজনক কোনো তৎপরতা চোখে পড়লে দ্রুত পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে।

টাকা না পেলে ফেসবুকে ছবি ছড়িয়ে দেন ওসি!

জাহেদুল ইসলাম প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১:১১ পিএম
টাকা না পেলে ফেসবুকে ছবি ছড়িয়ে দেন ওসি!

টাকা না দিলে থানায় আটক ব্যক্তিদের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীমের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, আটক ব্যক্তি বা তাঁদের পরিবারের কাছ থেকে অর্থ দাবি করা হয়। সেই অর্থ না পেলে থানায় তোলা ছবি বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও পেজে ছড়িয়ে দিয়ে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়।

একাধিক অভিযোগকারী দাবি করেছেন, আটক ব্যক্তিদের ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে একই ধরনের নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে না। তাঁদের অভিযোগ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো প্রেস রিলিজে আটক ব্যক্তির ছবি ব্লার করা অবস্থায় দেওয়া হলেও, একই ব্যক্তির অব্লার ছবি এর আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে এমন ভিন্নতা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। তাঁদের দাবি, যদি কোনো ব্যক্তির পরিচয় গোপন রাখার প্রয়োজন থাকে, তবে সেই নীতি সবক্ষেত্রেই সমানভাবে অনুসরণ করা উচিত। অন্যথায় বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ভুক্তভোগী কয়েকটি পরিবারের অভিযোগ, কোনো ব্যক্তি আটকের পর আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই তাঁর ছবি ফেসবুকে প্রকাশ হয়ে যায়। এতে আদালতে বিচার শুরুর আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার সামাজিকভাবে চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে চাকরি, ব্যবসা ও পারিবারিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে সাতকানিয়া থানায় আটক একাধিক ব্যক্তির ছবি প্রেস রিলিজ প্রকাশের আগেই ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, থানার ভেতরে তোলা ছবি কীভাবে এত দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পৌঁছে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, আমার এক স্বজনকে আটকের পর বিভিন্নভাবে টাকার কথা বলা হয়। টাকা দিতে না পারার কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখি থানায় তোলা তাঁর ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। পরে পরিচিতজনরা ফোন করে জানতে চান কী হয়েছে। এতে আমরা সামাজিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ি।

আরেক ভুক্তভোগীর ভাষ্য, আইনি প্রক্রিয়া চলার আগেই একজনের ছবি এভাবে প্রকাশ করে দেওয়া ঠিক নয়। পরে মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেও সমাজের মানুষের কাছে সেই অপবাদ থেকেই যায়।

আরেকজন অভিযোগ করেন, ছবি প্রকাশ করে সামাজিক চাপ তৈরি করা হয় বলে আমাদের মনে হয়েছে। এতে পরিবার ভয় ও মানসিক চাপে থাকে। আমরা চাই, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য বের করা হোক।

আরেক ভুক্তভোগী বলেন, কোনো ব্যক্তি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে তাঁর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া তাঁর সম্মান ও পরিবারের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

আইনজীবীদের মতে, কোনো ব্যক্তি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে তাঁকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা কিংবা তাঁর ছবি অপ্রয়োজনীয়ভাবে প্রকাশ করা ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এতে অভিযুক্ত ব্যক্তি পরবর্তীতে নির্দোষ প্রমাণিত হলেও সামাজিক ক্ষতি পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, পুলিশি হেফাজতে থাকা ব্যক্তির ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে কঠোর সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক, তদন্তাধীন বা বিচারাধীন মামলার ক্ষেত্রে এমন ছবি প্রকাশ ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মানবাধিকারের প্রশ্নও তৈরি করতে পারে।

এ বিষয়ে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীমের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে ছুটিতে থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

যদিও এর আগে কয়েকবার এ বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেছিলেন, থানা থেকে কোনো ব্যক্তির ছবি ফাঁস করা হয় না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ছবি ছড়ায়, সেগুলোর উৎস সম্পর্কে  জানা নেই।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, পুলিশ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। আইন অমান্য করার কোনো সুযোগ নেই। যদি এ ধরনের কোনো ঘটনা সত্যিই ঘটে থাকে, তাহলে বিষয়টি আমি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখব।

বান্দরবানে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:০৮ পিএম
বান্দরবানে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত

মুহাম্মদ আলী,বান্দরবান  প্রতিনিধি:

‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা ও যুব মেলাসহ নানা আয়োজনে বান্দরবানে জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে।

রবিবার (১ নভেম্বর) সকালে বান্দরবান শহরের বালাঘাটায় যুব ভবনে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম।

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কনভেনিং কমিটির আহ্বায়ক অংজাই উই চাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এসএম হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ সরদার, জেলা জামায়াতের আমীর এসএম আব্দুস সালাম আজাদ,বান্দরবান ইসলামিক ফাউণ্ডেশন উপপরিচালক মো সেলিম উদ্দিন,বান্দরবান প্রেসক্লাব সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চু,বিএনপি নেতা মো.আবু তাহের।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বান্দরবান যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক এনায়েত করিম। এ সময় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ডিপিসি মোখলেসুর রহমান, বান্দরবানের বিশিষ্ট সাংবাদিক মুহাম্মদ আলী, বালাঘাটা ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো:আলী’সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি, যুব সংগঠক ও তরুণ-তরুণীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বান্দরবান সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার লুবু প্রু মারমা।

দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত র‍্যালিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি যুব মেলায় তরুণদের কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানের বিভিন্ন সুযোগ তুলে ধরা হয়।

সভায় তরুণ উদ্যোক্তাদের মাঝে ২লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ঋণের চেক বিতরণ ও ৩টি যুব সংগঠনের নিবন্ধন সনদ প্রদান করা হয়।

বক্তারা বলেন,দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় যুবসমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠা এবং দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করতে হবে।

বান্দরবানে এবারও শীর্ষে ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:০৫ পিএম
বান্দরবানে এবারও শীর্ষে ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’

মোহাম্মদ আবুল হাশেম লামা প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ হলেও বরাবরের মতো এবারও এইচ.এস.সি পরীক্ষায় শতভাগ পাশ করে ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের বোধিছড়াস্থ ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’। এ প্রতিষ্ঠান থেকে চলতি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ৬০ জনেই পাশ করেছে। এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস পেয়েছে ১৭ জন, এতে পাশের হার শতভাগ। সে মতে জেলার অন্যান্য কলেজের চেয়ে ফলাফলে এগিয়ে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা যায়, এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় বান্দরবান জেলার ১৪ টি কলেজ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ থেকে ৩টি বিভাগে ৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন ১৪জন, এতে ‘এ’ প্লাস ৫জন ও ‘এ’ গ্রেড পায় ৯জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন ১২জন, এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস ৪জন ও ‘এ’ গ্রেড পায় ৮জন। মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষায় ৩৪জন অংশ গ্রহণ করে ‘এ’ প্লাস ৮জন, ২৫ জন ‘এ’ গ্রেড ও ১ জন ‘এ’ মাইনেস পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। প্রকাশিত ফলাফলে শতভাগ উত্তীর্ণ কলেজের মধ্যে শিক্ষার্থী ও ‘এ’ প্লাস সংখ্যায় কোয়ান্টাম কসমো কলেজের অবস্থান জেলায় শীর্ষে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছেন।

এদিকে উপজেলার সরকারী মাতামুহুরী কলেজ থেকে একই পরীক্ষায় অংশ নেন ৭৫৫জন। এর মধ্যে পাশ করে মাত্র ২৭৮জন। এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস পায় ৫জন, পাশের হার ৩৬.৮২ । চাম্বি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে পরীক্ষা দেয় ৪৯জন, এর মধ্যে পাশ করে ৬জন, পাশের হার ১২.৭৭। হেফাজতুর রহমান কলেজ থেকে পর এতে পাশের হার শরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ২৪জন শিক্ষার্থী, পাশ করে ১১জন, পাশের হার ৪৬.০০। লামা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ১৭জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ৬জন, পাশের হার ৩৫.২৯।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এ প্লাস পাওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা কলেজের হোস্টেলে ছিলাম। আমাদের শিক্ষকরা যে পরিমাণ অক্লান্ত পরিশ্রম করে সার্বক্ষনিক মনিটরিং এ রেখেছেন তাতে ভালো ফলাফল না করে উপায় নেই। তাই সকল শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

দিক-নির্দেশনা, প্রশিক্ষিত শিক্ষকদের আন্তরিক পাঠদান, বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ক্লাশ পরীক্ষা গ্রহণ, ফলাফল প্রদান এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশ-এ ফলাফল অর্জনে ভূমিকা রেখেছে বলে জানান, কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ অধ্যক্ষ ছালেহ আহমেদ।
বান্দরবান জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন জানায়, সর্বোচ্চ এ প্লাস ও শতভাগ পাশের হারে শীর্ষ স্থান অর্জন করে লামা উপজেলার ভারমূর্তি উজ্জ্বল করেছে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ। কলেজগুলোর এ র‌্যাংকিং করা হয় মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা, জিপিএ-৫ ও পাশের হারের ভিত্তিতে।