নিরাপত্তা জোরদার
আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচের আড়ালে আ. লীগের নাশকতার শঙ্কা
ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়ার মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচকে ঘিরে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় একদিকে যেমন বিরাজ করছে উৎসবমুখর আমেজ ও ব্যাপক উন্মাদনা, অন্যদিকে সম্ভাব্য রাজনৈতিক নাশকতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় দেখা দিয়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠাও। গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে আশঙ্কা করা হচ্ছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ম্যাচ চলাকালীন কিংবা খেলা শেষে ফুটবলপ্রেমীদের স্বাভাবিক জনসমাগমকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে দলটির কিছু নেতাকর্মী ঝটিকা মিছিল, শোডাউন কিংবা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করতে পারেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সোমবার (২২ জুন) রাত ১১টায় শুরু হওয়া আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচটি শেষ হবে ২৩ জুন ভোরে। একই দিনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী হওয়ায় বিষয়টিকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়ন করছে গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিশেষ করে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় যেকোনো ধরনের আকস্মিক অপতৎপরতা বা জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন এলাকায় বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন, চায়ের দোকান, বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে স্বাভাবিকভাবেই ফুটবলপ্রেমীদের ভিড় থাকবে। এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক পরিচয়ে সংগঠিত কিছু ব্যক্তি সাধারণ দর্শকদের ভিড়ের মধ্যে মিশে গিয়ে হঠাৎ মিছিল বা শোডাউনের চেষ্টা করতে পারেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কয়েকটি এলাকায় ছোট ছোট দলে অবস্থান নিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আকস্মিক কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা থাকতে পারে। এসব কর্মসূচির মধ্যে উসকানিমূলক স্লোগান, দলীয় পতাকা প্রদর্শন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার কিংবা ভিডিও ধারণ করে প্রচারের চেষ্টাও থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ফুটবল খেলার আবেগকে কেন্দ্র করে জনসমাগমের সুযোগ নিয়ে কোনো পক্ষ যদি রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে তা স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। ফলে সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি এড়াতে আগে থেকেই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সাতকানিয়ার কেরানীহাট, সাতকানিয়া পৌর সদর, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, বাসস্ট্যান্ড, বাজার এলাকা, বড় পর্দায় খেলা দেখার স্থান এবং জনসমাগম বেশি হয়—এমন এলাকাগুলোকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।
সূত্র জানায়, পুলিশি টহলের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যদেরও মাঠে সক্রিয় রাখা হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সন্দেহজনক গতিবিধি পর্যবেক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বিত যোগাযোগও জোরদার করা হয়েছে।
মাঠপর্যায়ের তৎপরতার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। ফেসবুক, মেসেঞ্জার গ্রুপ এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কোনো ধরনের উসকানিমূলক পোস্ট, গুজব কিংবা শোডাউনের আহ্বান ছড়ানো হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রচারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় এ ক্ষেত্রটিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার মতো কোনো প্রচারণা শনাক্ত হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।
পুলিশের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হবে।
বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত স্থানগুলোতে নিয়মিত টহল, চেকপোস্ট এবং গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য কয়েকটি মোবাইল টিমও প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পুলিশি টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের সদস্যরা প্রস্তুত রয়েছেন।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে—এমন কোনো কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেওয়া হবে না। ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে মানুষের স্বাভাবিক আনন্দ-উৎসব যেন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, সেদিকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।
ওসি আরও বলেন, কেউ যদি খেলাকে কেন্দ্র করে জনসমাগমের সুযোগ নিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার এবং সন্দেহজনক কোনো তৎপরতা চোখে পড়লে দ্রুত পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে।











