সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

‘আইনজীবী নন’ বলে শুনানিতে বাধা, ইউএনও’র কাছে অভিযোগ

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ১২:২৮ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
‘আইনজীবী নন’ বলে শুনানিতে বাধা, ইউএনও’র কাছে অভিযোগ

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামছুজ্জামানের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য উপস্থাপনে বাধা দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি স্থানীয় সচেতন মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন রিদুয়ানুল হক নামের এক আইন শিক্ষার্থী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাতকানিয়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের রেভিনিউ কোর্টে চলমান বিভিন্ন মিচ (বিবিধ) মামলায় দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল পর্যায়ের সাধারণ মানুষ নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ করে আসছেন। এসব প্রতিনিধিদের মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পাস ব্যক্তি, আইন শিক্ষার্থী, দলিল লেখক, স্বশিক্ষিত ব্যক্তি এবং কখনো কখনো আইনজীবীরাও অংশগ্রহণ করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতিনিধিত্বের জন্য কোনো নির্ধারিত ফরম কিংবা লিখিত নীতিমালা প্রচলিত নেই। ফলে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাস্তবতায় সাধারণ জনগণ তাদের আস্থাভাজন ব্যক্তিদের মাধ্যমে শুনানিতে বক্তব্য উপস্থাপন করে আসছেন।
লিখিত অভিযোগে রিদুয়ানুল হক উল্লেখ করেন, গত ৪ মে মিচ মামলা নং-২২/২০২৪ এর শুনানিকালে তিনি প্রতিপক্ষের পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করতে গেলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হঠাৎ তাকে থামিয়ে দেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নাকি প্রকাশ্যে বলেন, তিনি রিদুয়ানুল হককে চেনেন না এবং আগে কখনো ভূমি অফিসে দেখেননি, তাই তিনি কোনো পক্ষের হয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারবেন না।
অভিযোগকারী দাবি করেন, তিনি এর আগেও একই রেভিনিউ কোর্টে বিভিন্ন মামলায় গ্রামীণ জনগণের পক্ষে তথ্য-উপাত্ত, যুক্তি ও দলিলাদি উপস্থাপন করেছেন। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের অশিক্ষিত ও দরিদ্র মানুষদের আইনগত বিষয়ে সহায়তা দিয়ে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে।
তিনি বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ঢাকা সিটি ‘ল’ কলেজে এলএলবি প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত এবং সাতকানিয়া-লোহাগাড়া চৌকি আদালতে এডভোকেট ক্লার্ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২০ এপ্রিল মিচ মামলা নং-১২৮/২০২৫ এর শুনানিকালে তাকে কোনো ধরনের বাধা দেওয়া হয়নি। কিন্তু মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ৪ মে’র শুনানিতে তাকে ‘অগ্রহণযোগ্য ব্যক্তি’, ‘আইনজীবী নন’ এবং ‘কখনো ভূমি অফিসে দেখা যায়নি’—এমন মন্তব্য করে অপমান করা হয়। শুধু তাই নয়, তাকে কোনো ধরনের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দিয়েই শুনানির কার্যক্রম থেকে কার্যত সরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিদুয়ানুল হক তার আবেদনে উল্লেখ করেন, একই আদালতে বহু ব্যক্তি রয়েছেন যারা আইনজীবী বা আইন শিক্ষার্থী নন, এমনকি কোনো আনুষ্ঠানিক আইনি জ্ঞানও নেই; তবুও তারা নিয়মিতভাবে শুনানিতে অংশগ্রহণ করে বক্তব্য উপস্থাপন করছেন। অথচ তাকে আলাদাভাবে টার্গেট করে বাধা দেওয়া হয়েছে, যা তার মতে স্পষ্ট বৈষম্যমূলক আচরণ।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাকে মৌখিকভাবে এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ভবিষ্যতেও তিনি আর কোনো শুনানিতে অংশ নিতে পারবেন না। এতে তিনি মানসিকভাবে ভীষণভাবে মর্মাহত ও অপমানিত বোধ করেছেন বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আইন অঙ্গনেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একাধিক সচেতন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রেভিনিউ কোর্টে প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা না থাকায় মাঠপর্যায়ে অনেক সময় ব্যক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত তৈরি হয়। এতে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাতকানিয়াসহ বিভিন্ন উপজেলায় ভূমি সংক্রান্ত শুনানিতে সাধারণ মানুষ প্রায়ই আইনজীবী নিয়োগের আর্থিক সক্ষমতা না থাকায় পরিচিত প্রতিনিধি বা আইন শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে বক্তব্য উপস্থাপন করিয়ে থাকেন। বিশেষ করে দরিদ্র ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য এ ধরনের প্রতিনিধিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
রিদুয়ানুল হক তার অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি জানতে চেয়েছেন—কোন কোন যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তি রেভিনিউ কোর্টে শুনানিতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন, সে বিষয়ে লিখিত নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে কি না। এছাড়া শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট শুনানিতে তাকে অপমান ও ভবিষ্যতে অংশগ্রহণে নিরুৎসাহিত করার অভিযোগেরও প্রশাসনিক তদন্ত দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে সাতকানিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামছুজ্জামান বলেন, কাউকে অপমান বা হেয় করার কোনো ঘটনা ঘটেনি। আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে নিয়ম-শৃঙ্খলা বজায় রেখে শুনানি পরিচালনা করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সঠিক নয়।
অন্যদিকে, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান।

টাকা না পেলে ফেসবুকে ছবি ছড়িয়ে দেন ওসি!

জাহেদুল ইসলাম প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১:১১ পিএম
টাকা না পেলে ফেসবুকে ছবি ছড়িয়ে দেন ওসি!

টাকা না দিলে থানায় আটক ব্যক্তিদের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীমের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, আটক ব্যক্তি বা তাঁদের পরিবারের কাছ থেকে অর্থ দাবি করা হয়। সেই অর্থ না পেলে থানায় তোলা ছবি বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও পেজে ছড়িয়ে দিয়ে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়।

একাধিক অভিযোগকারী দাবি করেছেন, আটক ব্যক্তিদের ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে একই ধরনের নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে না। তাঁদের অভিযোগ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো প্রেস রিলিজে আটক ব্যক্তির ছবি ব্লার করা অবস্থায় দেওয়া হলেও, একই ব্যক্তির অব্লার ছবি এর আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে এমন ভিন্নতা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। তাঁদের দাবি, যদি কোনো ব্যক্তির পরিচয় গোপন রাখার প্রয়োজন থাকে, তবে সেই নীতি সবক্ষেত্রেই সমানভাবে অনুসরণ করা উচিত। অন্যথায় বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ভুক্তভোগী কয়েকটি পরিবারের অভিযোগ, কোনো ব্যক্তি আটকের পর আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই তাঁর ছবি ফেসবুকে প্রকাশ হয়ে যায়। এতে আদালতে বিচার শুরুর আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার সামাজিকভাবে চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে চাকরি, ব্যবসা ও পারিবারিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে সাতকানিয়া থানায় আটক একাধিক ব্যক্তির ছবি প্রেস রিলিজ প্রকাশের আগেই ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, থানার ভেতরে তোলা ছবি কীভাবে এত দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পৌঁছে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, আমার এক স্বজনকে আটকের পর বিভিন্নভাবে টাকার কথা বলা হয়। টাকা দিতে না পারার কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখি থানায় তোলা তাঁর ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। পরে পরিচিতজনরা ফোন করে জানতে চান কী হয়েছে। এতে আমরা সামাজিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ি।

আরেক ভুক্তভোগীর ভাষ্য, আইনি প্রক্রিয়া চলার আগেই একজনের ছবি এভাবে প্রকাশ করে দেওয়া ঠিক নয়। পরে মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেও সমাজের মানুষের কাছে সেই অপবাদ থেকেই যায়।

আরেকজন অভিযোগ করেন, ছবি প্রকাশ করে সামাজিক চাপ তৈরি করা হয় বলে আমাদের মনে হয়েছে। এতে পরিবার ভয় ও মানসিক চাপে থাকে। আমরা চাই, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য বের করা হোক।

আরেক ভুক্তভোগী বলেন, কোনো ব্যক্তি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে তাঁর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া তাঁর সম্মান ও পরিবারের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

আইনজীবীদের মতে, কোনো ব্যক্তি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে তাঁকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা কিংবা তাঁর ছবি অপ্রয়োজনীয়ভাবে প্রকাশ করা ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এতে অভিযুক্ত ব্যক্তি পরবর্তীতে নির্দোষ প্রমাণিত হলেও সামাজিক ক্ষতি পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, পুলিশি হেফাজতে থাকা ব্যক্তির ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে কঠোর সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক, তদন্তাধীন বা বিচারাধীন মামলার ক্ষেত্রে এমন ছবি প্রকাশ ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মানবাধিকারের প্রশ্নও তৈরি করতে পারে।

এ বিষয়ে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীমের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে ছুটিতে থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

যদিও এর আগে কয়েকবার এ বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেছিলেন, থানা থেকে কোনো ব্যক্তির ছবি ফাঁস করা হয় না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ছবি ছড়ায়, সেগুলোর উৎস সম্পর্কে  জানা নেই।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, পুলিশ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। আইন অমান্য করার কোনো সুযোগ নেই। যদি এ ধরনের কোনো ঘটনা সত্যিই ঘটে থাকে, তাহলে বিষয়টি আমি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখব।

বান্দরবানে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:০৮ পিএম
বান্দরবানে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত

মুহাম্মদ আলী,বান্দরবান  প্রতিনিধি:

‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা ও যুব মেলাসহ নানা আয়োজনে বান্দরবানে জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে।

রবিবার (১ নভেম্বর) সকালে বান্দরবান শহরের বালাঘাটায় যুব ভবনে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম।

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কনভেনিং কমিটির আহ্বায়ক অংজাই উই চাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এসএম হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ সরদার, জেলা জামায়াতের আমীর এসএম আব্দুস সালাম আজাদ,বান্দরবান ইসলামিক ফাউণ্ডেশন উপপরিচালক মো সেলিম উদ্দিন,বান্দরবান প্রেসক্লাব সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চু,বিএনপি নেতা মো.আবু তাহের।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বান্দরবান যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক এনায়েত করিম। এ সময় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ডিপিসি মোখলেসুর রহমান, বান্দরবানের বিশিষ্ট সাংবাদিক মুহাম্মদ আলী, বালাঘাটা ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো:আলী’সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি, যুব সংগঠক ও তরুণ-তরুণীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বান্দরবান সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার লুবু প্রু মারমা।

দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত র‍্যালিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি যুব মেলায় তরুণদের কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানের বিভিন্ন সুযোগ তুলে ধরা হয়।

সভায় তরুণ উদ্যোক্তাদের মাঝে ২লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ঋণের চেক বিতরণ ও ৩টি যুব সংগঠনের নিবন্ধন সনদ প্রদান করা হয়।

বক্তারা বলেন,দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় যুবসমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠা এবং দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করতে হবে।

বান্দরবানে এবারও শীর্ষে ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:০৫ পিএম
বান্দরবানে এবারও শীর্ষে ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’

মোহাম্মদ আবুল হাশেম লামা প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ হলেও বরাবরের মতো এবারও এইচ.এস.সি পরীক্ষায় শতভাগ পাশ করে ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের বোধিছড়াস্থ ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’। এ প্রতিষ্ঠান থেকে চলতি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ৬০ জনেই পাশ করেছে। এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস পেয়েছে ১৭ জন, এতে পাশের হার শতভাগ। সে মতে জেলার অন্যান্য কলেজের চেয়ে ফলাফলে এগিয়ে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা যায়, এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় বান্দরবান জেলার ১৪ টি কলেজ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ থেকে ৩টি বিভাগে ৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন ১৪জন, এতে ‘এ’ প্লাস ৫জন ও ‘এ’ গ্রেড পায় ৯জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন ১২জন, এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস ৪জন ও ‘এ’ গ্রেড পায় ৮জন। মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষায় ৩৪জন অংশ গ্রহণ করে ‘এ’ প্লাস ৮জন, ২৫ জন ‘এ’ গ্রেড ও ১ জন ‘এ’ মাইনেস পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। প্রকাশিত ফলাফলে শতভাগ উত্তীর্ণ কলেজের মধ্যে শিক্ষার্থী ও ‘এ’ প্লাস সংখ্যায় কোয়ান্টাম কসমো কলেজের অবস্থান জেলায় শীর্ষে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছেন।

এদিকে উপজেলার সরকারী মাতামুহুরী কলেজ থেকে একই পরীক্ষায় অংশ নেন ৭৫৫জন। এর মধ্যে পাশ করে মাত্র ২৭৮জন। এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস পায় ৫জন, পাশের হার ৩৬.৮২ । চাম্বি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে পরীক্ষা দেয় ৪৯জন, এর মধ্যে পাশ করে ৬জন, পাশের হার ১২.৭৭। হেফাজতুর রহমান কলেজ থেকে পর এতে পাশের হার শরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ২৪জন শিক্ষার্থী, পাশ করে ১১জন, পাশের হার ৪৬.০০। লামা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ১৭জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ৬জন, পাশের হার ৩৫.২৯।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এ প্লাস পাওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা কলেজের হোস্টেলে ছিলাম। আমাদের শিক্ষকরা যে পরিমাণ অক্লান্ত পরিশ্রম করে সার্বক্ষনিক মনিটরিং এ রেখেছেন তাতে ভালো ফলাফল না করে উপায় নেই। তাই সকল শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

দিক-নির্দেশনা, প্রশিক্ষিত শিক্ষকদের আন্তরিক পাঠদান, বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ক্লাশ পরীক্ষা গ্রহণ, ফলাফল প্রদান এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশ-এ ফলাফল অর্জনে ভূমিকা রেখেছে বলে জানান, কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ অধ্যক্ষ ছালেহ আহমেদ।
বান্দরবান জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন জানায়, সর্বোচ্চ এ প্লাস ও শতভাগ পাশের হারে শীর্ষ স্থান অর্জন করে লামা উপজেলার ভারমূর্তি উজ্জ্বল করেছে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ। কলেজগুলোর এ র‌্যাংকিং করা হয় মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা, জিপিএ-৫ ও পাশের হারের ভিত্তিতে।