মহাসড়ক বন্ধ রেখে মনোনয়ন আদায়ের চাপ
নেতার মনোনয়ন বঞ্চনার আগুনে জ্বলছে মানুষের পথ
চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক দক্ষিণ চট্টগ্রামের লাখো মানুষের জীবনরেখা। আর সেই জীবনরেখা বারবার থমকে যাচ্ছে এক নেতার মনোনয়ন না পাওয়ার রাগে–ক্ষোভে। চট্টগ্রাম–১৫ (সাতকানিয়া–লোহাগাড়া) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে আবারও অচল হয়ে গেল এ মহাসড়ক।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের মিঠারদোকান এলাকায় চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যানের সমর্থকরা গাছের গুঁড়িতে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ শুরু করলে মুহূর্তেই থেমে যায় সব যানচলাচল। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট—শত শত যাত্রীবাহী বাস, অ্যাম্বুলেন্স, ট্রাক, মাইক্রোবাস একেবারে আটকা পড়ে। যেন কারো ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ক্ষোভের মূল্য সাধারণ মানুষকেই দিতে হয়।
অবরোধের সময় যে দৃশ্য তৈরি হয়, তা যেন হাহাকারের জীবন্ত ছবি। অ্যাম্বুলেন্সে থাকা রোগী শ্বাসকষ্টে কাতরাচ্ছেন, গাড়ির ভেতর বসে থাকা শিশুরা কান্নাকাটি করছে, কর্মস্থল থেকে বাড়ি যাওয়ার সময় আটকা পড়ে হাজারো মানুষ বিরক্ত, ক্ষুব্ধ, অসহায়।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যানকে পাশ কাটিয়ে নাজমুল মোস্তফা আমিনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তাই তারা আমিনের মনোনয়ন বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
উপজেলা যুবদল কর্মী দেলোয়ার হোসেন বলেন, দলের কঠিন সময়ে মুজিব ভাই রাজপথে ছিলেন। তাকে বাদ দিয়ে এলাকায় অপরিচিত অপরিচিত নাজমুল মোস্তফা আমিনকে মনোনয়ন দেওয়া অন্যায়।
এদিকে, ৪ ডিসেম্বর মনোনয়ন ঘোষণার দিনও একই দাবিতে সাতকানিয়ার ঠাকুরদিঘীর পেট্রোল পাম্প এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে একই গ্রুপ। দুই দিন ব্যবধানে একই নেতার সমর্থকদের বারবার রাস্তা অবরোধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এখন তীব্র।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হামিদ বলেন, রাজনৈতিক মনোনয়ন নিয়ে ঝামেলা হতে পারে, কিন্তু এজন্য তো আমরা হাজারো মানুষ রাস্তার ওপর আটকে থাকব কেন? এই অন্যায় কে দেখবে?
দূরপাল্লার শামলী বাসের চালক আবু বক্কর বলেন, রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে রাখলে বিপদ শুধু যাত্রীদের নয়, আমাদেরও। গাড়ি আটকে থাকে, কোম্পানিকে জবাব দিতে হয়, যাত্রীরা গালি দেয়। এভাবে মহাসড়ক বন্ধ রাখা অন্যায়।
সৌদিয়া বাসের চালক আব্দুল কাদের বলেন, দিনরাত এই রাস্তা দিয়ে হাজারো গাড়ি চলে। কোনো নেতার মনোনয়ন না পেয়ে রাস্তায় আগুন–অবরোধ—এটা কোন ধরনের রাজনীতি?
মাইক্রোবাস চালক জামাল উদ্দিন বলেন, রোগী নিয়ে আসলে, শিশু–বৃদ্ধ থাকলে আমাদের সামনে দায় পড়ে। মানুষ কষ্টে থাকে, আর রাজনীতির নামে কেউ নিজের ক্ষমতা দেখায়। এ বন্ধ হওয়া উচিত।
যাত্রী কাওসার মিয়া বলেন, এই রাস্তায় প্রতিদিন কত মানুষ জরুরি কাজে বের হয়। আজ একজন নেতা মনোনয়ন না পাওয়ায় আমাদের দাঁড়িয়ে থাকতে হলো!
অন্য একজন ক্ষুব্ধ যাত্রী বলেন, মনোনয়ন কীভাবে হবে তা দলের বিষয়। কিন্তু রাস্তা বন্ধ করে রাখলে ছোট শিশু থেকে রোগী পর্যন্ত সবাই বিপদে পড়ে। ফুটো ছাতার মতো পরিস্থিতি—কষ্টের শেষ নেই!
দোহাজারী হাইওয়ে থানার ওসি সালাহ উদ্দিন চৌধুরী জানান, পুলিশ গিয়ে গাছের গুঁড়ি সরিয়ে আগুন নেভায় এবং সড়ক সচল করে। তবে প্রায় আধাঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল।
সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, আমি সেনাবাহিনী নিয়ে যাওয়ার আগেই পুলিশ অবরোধকারীদের সরিয়ে দিয়েছে। ভবিষ্যতে অবরোধের চেষ্টা করলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।











