সাতকানিয়ায় প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী
দিনব্যাপী আয়োজিত মেলা চার ঘণ্টায় শেষ
জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ উপলক্ষে সাতকানিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উদ্যোগে বুধবার (২৬ নভেম্বর) একটি দিনব্যাপী প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। ঘোষণামতে, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মেলা চলার কথা। কিন্তু বাস্তবে দুপুর গড়ানোর আগেই স্টলগুলো গুটিয়ে যেতে থাকে, লোকজন সরে যায়, এবং মাত্র চার ঘণ্টার মাথায় প্রদর্শনী কার্যত শেষ হয়ে যায়।
প্রদর্শনী মাঠে সকাল ১০টার দিকে গেলে দূর থেকেই দেখা যাচ্ছিল বড়-বড় ব্যানার আর কিছু অস্থায়ী স্টল। কিন্তু কাছে যেতেই চোখে পড়ে, দর্শনার্থীর সংখ্যা হাতেগোনা। যেখানে সাধারণত এমন আয়োজনগুলোয় শিক্ষার্থী, স্থানীয় পরিবার, কৌতূহলী মানুষ, খামারি—সবাই ভিড় করেন, সেখানে মাঠজুড়ে তেমন মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি।
কিছু স্টলে দুই-একটি ছাগল, হাঁস-মুরগি বা দু-একটি খামারের খাদ্য–উৎপাদন রাখা হলেও সেগুলোর সামনে দর্শনার্থীর তেমন দেখা পাওয়া যায়নি। যেন ‘মেলা’ নয়, বরং আনুষ্ঠানিকতা পালনের জন্য খোলা একটি প্রদর্শনী।
এক তরুণ বলেন, এটাকে মেলা বললে ভুল হবে। এখানে মানুষ নেই, প্রচার নেই, প্রদর্শনযোগ্য জিনিস নেই। শুধু ব্যানার টাঙালেই তো মেলা হয় না।
স্থানীয়দের অভিযোগ—প্রাণিসম্পদ দপ্তর কোনো প্রচারণাই চালায়নি। খামারি এক্সটেনশন বিভাগের সাধারণত প্রচারণা, মোবাইল প্রচার, ইউনিয়ন পরিষদের ঘোষণা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট—এসব থাকে। কিন্তু এবার সেসব কিছুই ছিল না।
এক বয়স্ক কৃষক বলেন, আমি পাশের ইউনিয়নে থাকি। মেলা হচ্ছে—জানলাম বাজারে এসে লোকজনের মুখে। এর আগে তো কিছুই জানতে পারিনি।
মেলায় অংশ নেওয়া দুই খামারি জানান, তারা ভেবেছিলেন অন্তত উপজেলার বড় খামারগুলো আসবে, নতুন প্রযুক্তি ও উন্নত প্রাণিসম্পদ প্রদর্শিত হবে, পশুপালন নিয়ে আলোচনা হবে।
কিন্তু তাদের ভাষায়— এমন ফাঁকা আয়োজন দেখিনি। কয়েকটা স্টলে দুই-একটা পশু, আর তিন-চারজন কর্মকর্তা—এতেই পুরো মেলা। খামারি বা দর্শনার্থীর উপস্থিতি হলে অন্তত আলোচনা হতো।
বেলা ১০টার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামছুজ্জামান এবং প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা মেলায় উপস্থিত হন। তারা স্টল ঘুরে দেখেন এবং প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন, স্থানীয় খামারিদের ভূমিকা ও সরকারের সহায়তা নিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।
কিন্তু সমস্যা হলো—যাদের উদ্দেশে বক্তব্যগুলো দেওয়া, তারা খুব কম সংখ্যায় উপস্থিত ছিলেন। পুরো অনুষ্ঠানটি কাগজে-কলমে ‘মেলা’ হলেও বাস্তবে ছিল একটি সীমিত-উপস্থিতির আনুষ্ঠানিকতা।
দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকজন স্টল-দায়িত্বপ্রাপ্ত ইতোমধ্যে তাদের স্টল গুটিয়ে নিচ্ছেন।
কারণ জানতে চাইলে এক স্টলকর্মী বলেন— মানুষই নেই। অতিথিরা চলে গেছেন। এখন আর এখানে বসে থাকার মানে নেই।
এমন অগোছালো আয়োজন দেখে দর্শনার্থী থেকে শুরু করে অংশগ্রহণকারী সবাই প্রশ্ন তুলেছেন— যদি দুপুর শেষ হওয়ার আগেই সব শেষ করে ফেলতে হয়, তাহলে দিনব্যাপী বলার প্রয়োজন কী? বরাদ্দের টাকা খরচ দেখাতে? নাকি শুধু আনুষ্ঠানিকতা পালনের জন্য?
এক সমাজকর্মী বলেন, প্রাণিসম্পদ খাত উন্নয়ন বলতে শুধু ব্যানার টাঙানো আর দুইজন অতিথি নিয়ে ছবি তোলা বোঝালে চলবে না। খামারিদের অন্তর্ভুক্তি, মানুষের অংশগ্রহণ—এসব ছাড়া প্রদর্শনী হয় না।
মেলার আয়োজন, প্রচারের অভাব, অংশগ্রহণের দুর্বলতা এবং নির্ধারিত সময়ের আগে প্রদর্শনী বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।











