ছাত্রসমাবেশে তারেক রহমান
“কথার রাজনীতি নয়, চাই জীবনমান উন্নয়ন”
রাজনীতিতে বিভেদ, প্রতিহিংসা নয়—জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার রাজনীতি করতে চায় বিএনপি। এমন ঘোষণাই দিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
রবিবার (৩ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে ছাত্রদলের ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান, শোক ও বিজয়ের প্রথম বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে আয়োজিত ছাত্রসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন তারেক রহমান।
তারেক রহমান বলেন, “বাংলাদেশ আজ একটি পরিণত রাষ্ট্র। এ দেশে আর কথার রাজনীতি চলবে না, জনগণ চায় গুণগত পরিবর্তন। বিএনপি সেই রাজনীতি চায়, যা মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং মানবিক মানুষ গড়ার ভিত্তি গড়ে তুলবে। জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরের পথেই হাঁটবে বিএনপি।”
শিক্ষানীতির বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, “বর্তমান ‘ফ্যাসিস্ট চক্র’ শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সন্ত্রাসীদের আস্তানায় পরিণত করা হয়েছে। বিএনপি শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে চায়। বিশেষ করে স্কুল থেকেই ব্যবহারিক ও কারিগরি শিক্ষা চালু করা দরকার। এতে শিক্ষার্থীরা বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করবে এবং শিক্ষাজীবন শেষে আর বেকার থাকবে না।”
ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সাহস ও আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, “জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্রদলের শত শত নেতা-কর্মী হতাহত হয়েছে, প্রায় ২ হাজার নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন। এত সাহসী মায়ের সন্তানদের নিয়ে যে সংগঠন, তাকে কেউ দমিয়ে রাখতে পারবে না।”
তিনি আরও বলেন, “ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধে উচ্চকিত হয়ে বিএনপি আগামী দিনে এমন এক রাজনৈতিক ধারা তৈরি করতে চায়, যেখানে মানবিকতা হবে কেন্দ্রবিন্দু। শিক্ষায় গুণগত পরিবর্তন, কর্মমুখী কারিকুলাম এবং কর্মসংস্থান হবে রাজনীতির মূল লক্ষ্য।”
সমাবেশের শুরুতে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলামের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান উদ্বোধন হয়। এরপর পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
সভাপতিত্ব করেন ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন। সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু ও আসাদুজ্জামান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল ও শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানীসহ অনেকে।










