বাহাদুর ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ আয় এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে দুদকের মামলা
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সাবেক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উ শৈ সিং ও তাঁর স্ত্রী মে হ্লা প্রু’র বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সাড়ে ১২ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ এবং ৭৩ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে উ শৈ সিং ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে দুদক।
আসামিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪- এর ২৭(১) ধারা মোতাবেক মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে এবং দন্ডবিধির ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
এর আগে গেল ফেব্রুয়ারিতে বীর বাহাদুর উ শৈ সিং, স্ত্রী মে হ্লা প্রু ও তাদের সন্তান উ সিং হাই, থোওয়াই শৈ ওয়াং ও ম্যা ম্যা খিং ভেনাসের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেওয়া হয়।
আবেদনে বলা হয়, বীর বাহাদুর উ শৈ সিংয়ের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন রয়েছে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট উ শৈ সিং ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা দেশত্যাগের চেষ্টা করছেন। এ জন্য অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া প্রয়োজন।
এদিকে গেল বছরের ৫ আগষ্ট বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনের মুখে ফ্যাসিষ্ট হাসিনা ভারতে পালিয়ে যায়। তার আগে ও পরে তার অনেক মন্ত্রী এবং আ’লীগ ছাত্রলীগ নেতা ভারতসহ বিভিন্ন দেশে পালিয়ে যায়। ড. মো: ইউনুস এর নেতৃেত্বে অন্তর্বতীকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহন করার পর আ’লীগ নেতা কর্মী ও মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে জুলাই গনহত্যা,গুম,খুন এবং বিদেশে টাকা পাচার,জ্ঞাত আয় বর্হিভুত সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা দায়ের করে। এসব মামলায় প্রায় শতাধিক আ’লীগ নেতা কর্মী ও সাবেক মন্ত্রী আটক হয়ে জেলে বন্দী রয়েছে। অপর দিকে
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সাবেক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উ শৈ সিং আ’লীগের কেন্দ্রী কমিটির গুরুত্বপুর্ন পদে থাকার পাশা পাশি ১৯৯১ সাল থেকে টানা সাত বার বান্দরবান ৩০০ নং আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একাধারে তিনি ছিলেন দুই মেয়াদে দশ বছর পাবর্ত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান, পাঁচ বছর পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও পরের পাঁচ বছর একই মন্ত্রনালয়ের পুর্ন মন্ত্রীর দায়ীত্বে ছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বীর বাহাদুর দীর্ঘ বছর ধরে সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী এবং পুর্ন মন্ত্রীর পদে থাকার সুবাধে দুর্নীতির মাধ্যমে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি আয় করেছেন। তার রয়েছে বান্দরবানে দুটি বিলাস বহুল বহুতল ভবন,বিশাল এলাকা জুড়ে পাঁচ তারকা মানের ভেনাস রির্সোট,শত শত একর রাবার বাগান,মৎস প্রজেক্ট,ভুমি ও গাড়ি ব্যবসা। এছাড়াও তার দুই ছেলে পড়া লেখা করেন অষ্ট্রেলিয়া ও কানাডা। এক মাত্র মেয়ে পড়া লেখা করছেন ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজে। বীর বাহাদুরের রয়েছে কানাডার বেগম পাড়ায় বাড়ি, মালেশিয়ায় জুতার ফ্যাক্টরী,মিয়ারমারে গাড়ির শো রুম ও নেপালে বিলাস বহুল একাধিক বাড়ি ও সম্পদ। এত দুর্নীতির পরেও বীর বাহাদুরকে আইনের আওতায় না আনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। এছাড়াও বিগত ১৭ বছর বীর বাহাদুরের স্ত্রী মেহ্লা প্রু ‘র নিয়ন্ত্রনে ছিল বান্দরবান এলজিইডি,উন্নয়ন বোর্ড,গনপূর্ত বিভাগ,পার্বত্য জেলা পরিষদ ও সড়ক ও জনপদ বিভাগ। এসব দপ্তরের ঠিকাদারী কাজ ১০% কমিশন নিয়ে ভাগবাটোয়ারা করতেন মেহ্লা প্রু নিজেই। এই ভাবে বিগত ১৭ বছর তিনি দুই হাতে কামিয়েছেন কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা। তাছাড়াও সরকারী বিভিন্ন দপ্তরে চাকরী নিয়োগ ও বদলী বানিজ্যের মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা।
এদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সাবেক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উ শৈ সিং ও তাঁর স্ত্রী’র বিরুদ্ধে দুদকের মামলা দায়েরের খবর ছড়িয়ে পড়লে বান্দরবানের সর্বস্তরের জনতার মাঝে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়।










