শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

পুলিশের প্রতিবেদন

গোপালগঞ্জে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই, ২০২৫, ৮:৫৭ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
গোপালগঞ্জে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব

গোপালগঞ্জে বুধবার (১৭ জুলাই) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সহিংসতায় চারজন নিহত এবং পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিকসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। পুলিশের এক সরকারি প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনটি বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে গণমাধ্যমে সরবরাহ করা হয়।

মরদেহ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

প্রতিবেদনে বলা হয়, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নিহত চারজনের মরদেহ জোরপূর্বক জেলা হাসপাতাল থেকে ছিনিয়ে নেয় একদল উচ্ছৃঙ্খল জনতা। এখন পর্যন্ত পুলিশের নেতৃত্বে যৌথবাহিনী নাশকতার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি

বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গোপালগঞ্জ জেলায় এক হাজার ৫০৭ জন পুলিশ সদস্য, সেনাবাহিনী ও বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন কারফিউ জারি করেছে। পুলিশের মতে, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ।

সংঘর্ষের পটভূমি

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ‘জুলাই অভ্যুত্থান’ স্মরণে ১–৩০ জুলাই পর্যন্ত ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি পালন করছে। এরই অংশ হিসেবে ১৬ জুলাই ঘোষিত হয় ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচি এবং একই দিনে সকাল ১১টায় গোপালগঞ্জ পৌর উন্মুক্ত মঞ্চে একটি জনসমাবেশের আয়োজন করে এনসিপি।

বরিশাল থেকে দলের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেনসহ অন্যান্য নেতারা গোপালগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দেন।

আগাম হামলা ও সহিংসতা

সকাল থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে ছিল। কিন্তু সকাল সাড়ে ৯টায় গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার উলপুর এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের একদল সন্ত্রাসী পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালায় এবং একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে একজন পুলিশ পরিদর্শকসহ তিনজন আহত হন।

এরপর একাধিক স্থানে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সড়ক অবরোধ ও অগ্নিসংযোগ করে।

কংশুর বাসস্ট্যান্ডে সড়কে গাছ ফেলে আগুন জ্বালানো হয় এবং ইএনও’র গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

কোটালীপাড়ায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ২৮০০-৩০০০ জন সড়কে ব্যারিকেড দেয়।

কাঠি বাজার এলাকায় ছাত্রলীগের মামুনের নেতৃত্বে আরও একটি অবরোধ তৈরি হয়।

সমাবেশে হামলা

দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতারা সভাস্থলে পৌঁছানোর আগেই ৫০-৬০ জন ছাত্রলীগ কর্মী ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সমাবেশ মঞ্চে হামলা চালায়। চেয়ার ও ব্যানার ভাঙচুর করা হয়।

এসময় শহরের সাতপাড় বাজার এলাকায় আরও দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ও দুটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

সংঘর্ষ ও প্রাণহানি

পরে বিকেল ৩টার দিকে লঞ্চঘাট এলাকায় এনসিপির গাড়িবহর আটক করে ছাত্রলীগের কর্মীরা। সেনাবাহিনী ও পুলিশ তাদের শান্ত করার চেষ্টা করলে উচ্ছৃঙ্খল জনতা ইট-পাটকেল ছুঁড়তে থাকে এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এনসিপি নেতাকর্মী, পুলিশ ও সেনা সদস্যরা এতে আক্রান্ত হন।

এই সহিংসতায় চারজন নিহত হন এবং পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিকসহ প্রায় অর্ধশতাধিক আহত হন। হামলাকারীরা গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারসহ সরকারি স্থাপনায়ও আক্রমণ চালায়।

নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত

পরিস্থিতির অবনতি হলে এনসিপি নেতাদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে বিকাল ৪টা ৫৮ মিনিটে যৌথ বাহিনীর সহায়তায় তারা বাগেরহাট হয়ে খুলনার উদ্দেশে গোপালগঞ্জ ত্যাগ করেন।

 

পার্বত্য অঞ্চলের কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়নে কফি ও কাজুবাদাম চাষের অপার সম্ভাবনা: মন্ত্রী সাচিং প্রু এমপি

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:১৪ পিএম
পার্বত্য অঞ্চলের কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়নে কফি ও কাজুবাদাম চাষের অপার সম্ভাবনা: মন্ত্রী সাচিং প্রু এমপি

নিজস্ব প্রতিবেদক :

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের অনাবাদী ও টিলা জমিতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কফি এবং কাজুবাদাম চাষের মাধ্যমে পাহাড়ি কৃষকদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও ভাগ্যোন্নয়ন সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী রাজপুত্র সাচিং প্রু এমপি। এ লক্ষ্যে পার্বত্য অঞ্চলের কফি ও কাজুবাদাম চাষ সম্প্রসারণে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।

আজ (০৭ নভেম্বর) বান্দরবান জেলার চিম্বুক ও রুমায় আয়োজিত পরিচ্ছন্নতা অভিযানকালে চিম্বুক রেঞ্জের বাবুপাড়ায় স্থানীয় এক কৃষক উদ্যোক্তার কফি প্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

কৃষকদের প্রযুক্তিগত ও নীতিগত সহায়তার আশ্বাস দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু এমপি বলেন, স্থানীয় পাহাড়ি কৃষকদের কফি ও কাজুবাদাম গবেষণা, উন্নয়ন এবং সম্প্রসারণ প্রকল্পের মাধ্যমে চাষাবাদ থেকে শুরু করে ফসল সংগ্রহ পর্যন্ত সমন্বিত প্রযুক্তি ও সার্বিক সহায়তা সুনিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের অনাবাদী ও টিলা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে কফি বাগান গড়ে তুলতে আমরা চাষীদের নিরবচ্ছিন্নভাবে উদ্বুদ্ধ করে যাচ্ছি।

পাহাড়ে কৃষিকাজ ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় পানির সংকট সমাধানের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী সাচিং প্রু আরও জানান, ম্রো পাড়াগুলোতে পানির সংকট নিরসনে ইতিমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন সময়ে পানির ট্যাংক সরবরাহ করা হয়েছে। মন্ত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকেও পানিবাহী ট্রাকের মাধ্যমে পাহাড়ি এলাকায় নিয়মিত পানি সরবরাহ করা হচ্ছে এবং এই কার্যক্রম সারা বছর অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

মন্ত্রী সাচিং প্রু আরও উল্লেখ করেন, কেবল দৈনন্দিন পানির চাহিদা পূরণই নয়, পাহাড়ের ফলজ বাগান ও কৃষিতে পর্যাপ্ত সেচ সুনিশ্চিত করতে ঝিরিগুলো সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে সারা বছর পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখার কাজ চলছে।

পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

পরবর্তীতে মন্ত্রী রুমা উপজেলার লংবাইতং পাড়া বৌদ্ধবিহার প্রাঙ্গণে আয়োজিত সীমা বিহার উৎসর্গ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।

‘সবার আগে বাংলাদেশ’৭ নভেম্বরের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ গড়ার আহ্বান পার্বত্য মন্ত্রীর

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:১১ পিএম
‘সবার আগে বাংলাদেশ’৭ নভেম্বরের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ গড়ার আহ্বান পার্বত্য মন্ত্রীর

আবুবকর ছিদ্দিক

ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বান্দরবান জেলা বিএনপির উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিবসটি ঘিরে জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আবেগ-উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।

শনিবার বিকেলে বান্দরবান জেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী রাজপুত্র সাচিং প্রু। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বান্দরবান জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক মোহাম্মদ ওসমান গনি।

র‌্যালিতে জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নেন। বিভিন্ন স্লোগান ও ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে নেতা-কর্মীরা র‌্যালিতে অংশগ্রহণ করেন। পরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য এবং দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শ নিয়ে আলোচনা করা হয়।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ৭ নভেম্বরের চেতনা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অন্যতম প্রেরণা। ১৯৭৫ সালের গভীর সংকটময় মুহূর্তে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতিকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। সেই চেতনা ধারণ করে বহুদলীয় গণতন্ত্র সুসংহত করা, অর্থনৈতিক মুক্তি, সাম্য, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী রাজপুত্র সাচিং প্রু বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া ‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই স্লোগানের সঙ্গে বাংলাদেশের সব জনগণ একাত্মতা প্রকাশ করতে পারে। দেশের স্বার্থ ও জনগণের অধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে রাজনৈতিক আদর্শ ও দর্শন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, ৫০ বছর পরও তা প্রাসঙ্গিক। তিনি যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, বর্তমান প্রজন্ম এমনকি পরবর্তী প্রজন্মও সেই বাংলাদেশ দেখতে চায়। জিয়াউর রহমান তাঁর সময়ে যে দূরদর্শী চিন্তা ও রাষ্ট্রভাবনা তুলে ধরেছিলেন,পার্বত্য চট্টগ্রাম বান্দরবানে ম্রো জনগোষ্ঠীর জন্য শহীদ রাষ্ট্রপতি সবসময় কাজ করে গিয়েছেন। তা আগামী দিনেও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে ধারণ করে আগামী দিনে তারা এগিয়ে যাবেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দেশকে উন্নত ও শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে তারা কাজ করে যাচ্ছেন।

অনুষ্ঠানে বান্দরবান জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাচশৈ প্রু, মুজিবুর রশীদ, আব্দুল মাবুদ, মশিউর রহমান মিঠুন, আব্দুল কুদ্দুস, মো. নেজাম চৌধুরী, জেলা যুবদলের সভাপতি জহির উদ্দিন মাসুম, সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম চৌধুরীসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিএনপি নেতৃবৃন্দ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর বিএনপি ক্ষমতায় ফেরার পর এবারের ৭ নভেম্বরকে ঘিরে বান্দরবানে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে বাড়তি উচ্ছ্বাস ও আবেগ লক্ষ্য করা গেছে। র‌্যালি ও আলোচনা সভাকে কেন্দ্র করে দলটির নেতা-কর্মীদের মধ্যে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।

‘Gen Z Satkania’ পেজে আপত্তিকর ভিডিও দিয়ে মানুষের সম্মানহানির অভিযোগ মানিকের বিরুদ্ধে

জাহেদুল ইসলাম প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৩ পিএম
‘Gen Z Satkania’ পেজে আপত্তিকর ভিডিও দিয়ে মানুষের সম্মানহানির অভিযোগ মানিকের বিরুদ্ধে

পরিবারের সদস্য, স্বামী-স্ত্রী, ভাই-বোন কিংবা আত্মীয়-স্বজনকে নিয়ে পার্ক, বাজার, শপিংমল, মেলা বা বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে ঘুরতে যাওয়ার মুহূর্ত গোপনে ভিডিও ধারণ করে কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ভিডিও সংগ্রহ করে আপত্তিকর ও ইঙ্গিতপূর্ণ অডিও সংযুক্ত করে ফেসবুকে প্রচারের অভিযোগ উঠেছে ‘Gen Z Satkania’ নামের একটি ফেসবুক পেজের বিরুদ্ধে। এসব ভিডিওর কারণে নিরীহ মানুষ সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হচ্ছেন, পারিবারিক সম্পর্কে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হচ্ছে এবং অনেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, পেজটিতে নিয়মিত এমন ভিডিও প্রকাশ করা হয় যেখানে বাজারে হাঁটা, মেলায় ঘোরাফেরা, রেস্তোরাঁয় বসা কিংবা রাস্তায় চলাচলের সাধারণ দৃশ্যকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়। ভিডিওগুলোর সঙ্গে এমন অডিও, সংলাপ বা ক্যাপশন জুড়ে দেওয়া হয়, যা দেখে দর্শকদের কাছে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা নারীর চরিত্র ও সম্পর্ক নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অনেক সময় একজন নারী তার ভাই, স্বামী, আত্মীয় বা সহকর্মীর সঙ্গে থাকলেও ভিডিও এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যেন তারা অনৈতিক সম্পর্কে জড়িত। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের কটূক্তি, ট্রল ও অপমানজনক মন্তব্যের শিকার হতে হয়।

অনেক ক্ষেত্রে ভিডিও ধারণের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কোনো ধরনের অনুমতি নেওয়া হয় না। আবার কিছু ভিডিও টিকটক, ফেসবুক বা অন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ডাউনলোড করে নতুনভাবে সম্পাদনা করে প্রকাশ করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। ভিডিওর আসল প্রেক্ষাপট বদলে দিয়ে বিভ্রান্তিকর উপস্থাপনা করার কারণেই ক্ষোভ বাড়ছে।

একাধিক ভুক্তভোগী জানান, ভিডিও প্রকাশের পর আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও পরিচিতজনের কাছে বিব্রতকর প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে। কেউ কেউ সামাজিক অনুষ্ঠানে যাওয়া কমিয়ে দিয়েছেন। কয়েকজন জানান, পরিবারের ভেতরেও এসব ভিডিও নিয়ে অশান্তির সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলছেন, ডিজিটাল মাধ্যমে কাউকে নিয়ে হাস্যরস করা আর কাউকে ইচ্ছাকৃতভাবে সামাজিকভাবে অপমান করা এক বিষয় নয়। বিনোদনের নামে কারও ব্যক্তিগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তারা এ ধরনের কনটেন্টের বিরুদ্ধে কার্যকর নজরদারি ও আইনগত পদক্ষেপের দাবি জানান।

অনুসন্ধানে একাধিক সূত্রের প্রাপ্ত তথ্য মতে, ‘Gen Z Satkania’ পেজটি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রশক্তির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মো. সাঈদ হোসেন মানিক পরিচালনা করেন। অভিযোগ রয়েছে, পেজে ভিডিও প্রকাশ করে সম্মানহানির পর কেউ যোগাযোগ করে ডিলিট করে দিতে বললে তাদের কাছ থেকে অর্থ আদায়েরও চেষ্টা করা হয়।

এ প্রতিবেদকের কাছে থাকা কয়েকটি ছবিতে দেখা যায়, কয়েক হাজার ফলোয়ার পূর্ণ হওয়ায় ‘Gen Z Satkania Celebration’ লেখা একটি কেক কেটে তা উদযাপন করা হচ্ছে। ছবিগুলো সংশ্লিষ্ট পেজে এবং মো. সাঈদ হোসেন মানিকের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টেও প্রকাশ করা হয়েছে। ছবিতে তাকে কয়েকজনের সঙ্গে কেক কাটতে দেখা যায়। এসব ছবি থেকে পেজটির নিয়ন্ত্রণ সাঈদ হোসেন মানিকের কাছে রয়েছে প্রমাণ পাওয়া যায়।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কারও অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত ভিডিও ধারণ, তা সম্পাদনা করে বিভ্রান্তিকরভাবে প্রকাশ করা, কিংবা মানহানিকর অডিও বা ক্যাপশন যুক্ত করে প্রচার করা প্রমাণিত হলে তা দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ভুক্তভোগীরা প্রয়োজনীয় ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা আদালতের শরণাপন্ন হতে পারেন।

অভিযোগের ব্যাপারে মো. সাঈদ হোসেন মানিকের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারও ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করে যদি মানহানি, হয়রানি বা বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে তদন্ত করা হয়। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইনের আওতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।