নবীন সৈনিকরা দেশবাসীকে নিরাশ করবে না
সীমান্ত রক্ষায় জীবন দিতে প্রস্তুত : বিজিবি মহাপরিচালক

দেশমাতৃকার অখণ্ডতা রক্ষায় বিজিবির নবীন সৈনিকরা প্রয়োজনে জীবন দিতে প্রস্তুত, তবে দেশের এক ইঞ্চি মাটিও হাতছাড়া হতে দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। তিনি বলেন, নবীন সৈনিকরা কখনো দেশবাসীকে হতাশ করবে না। সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে তাদের সততা ও পেশাদারিত্বই হবে জাতির নিরাপত্তার ভিত্তি।
বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বায়তুল ইজ্জতে বিজিবির ঐতিহ্যবাহী প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজে (বিজিটিসিঅ্যান্ডসি) ১০৩তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।এ সময় বিজিটিসিঅ্যান্ডসির কমান্ড্যান্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গাজী নাহিদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা
বক্তব্যের শুরুতে মহাপরিচালক ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী তৎকালীন ইপিআরের ৮১৭ জন শহীদ এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে প্রাণ হারানো সব ছাত্র-জনতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে আন্দোলনে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন তিনি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী বলেন, বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে প্রতিনিয়ত পুশইন চালিয়ে যাচ্ছে ভারত। এদের মধ্যে বাংলাদেশীসহ ভারতীয়রাও চলে আসছে। আমরা যত্রতত্র পুশইন ঠেকাতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাথে যোগাযোগ হচ্ছে, এমনকি ভারতীয় হাই-কমিশনারের সাথে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ রাখছি।’
তিনি আরো বলেন, আসন্ন নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে বিজিবি। ইতোমধ্যে বিজিবি জনবল বৃদ্ধির জন্য আরো পাঁচ হাজার সদস্য নিয়োগ দেয়ার কাজ চলছে।
সীমান্ত পাহারায় বিজিবির দায়িত্ব
তিনি বলেন, বিজিবি কেবল সীমান্ত পাহারা দেয় না, দেশের ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান, নারী ও শিশু পাচার রোধসহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায়ও বিজিবি সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।
চার মূলমন্ত্রে উদ্বুদ্ধ থাকার আহ্বান
নবীন সৈনিকদের উদ্দেশে মহাপরিচালক বলেন, মনোবল, ভ্রাতৃত্ববোধ, শৃঙ্খলা ও দক্ষতা—এই চারটি মূলমন্ত্র ধারণ করে অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে হবে। শৃঙ্খলাই একজন সৈনিকের অলংকার, আর কর্তব্যে অবিচলতা একজন প্রকৃত সৈনিকের পরিচয়।
তিনি বলেন, সততা, আনুগত্য, বুদ্ধিমত্তা, নির্ভরযোগ্যতা, তেজ ও উদ্দীপনা—এই গুণাবলি অর্জনের মাধ্যমেই নবীনরা বিজিবির মর্যাদা রক্ষা করবে এবং পূর্বসূরীদের যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করবে।
নারী সৈনিকদের প্রতি বিশেষ বার্তা
নারী সৈনিকদের উদ্দেশে মহাপরিচালক বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নারীদের অবদান অবিস্মরণীয়। আজকের নারী সৈনিকরাও বিজিবির কর্মকাণ্ডে গতি আনবে এবং বাহিনীর সুনাম ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
কুচকাওয়াজ ও পুরস্কার প্রদান
অনুষ্ঠানে সেরা চৌকস রিক্রুট হিসেবে বক্ষ নম্বর-৫৭৪ সাইফ মিয়াসহ অন্যান্য বিষয়ে কৃতিত্বপূর্ণ সৈনিকদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বিজিবি মহাপরিচালক। নবীনদের চৌকস কুচকাওয়াজের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। বলেন, “সীমান্তে দায়িত্ব পালনের সময় প্রতিপক্ষ বাহিনীর কাছে কোনো অবস্থাতেই নমনীয় হওয়া চলবে না।”
পরে চৌকসদলের সশস্ত্র সালামের মধ্য দিয়ে কুচকাওয়াজের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। এরপর বিজিবির প্রশিক্ষিত সদস্যদের ট্রিক ড্রিল এবং মনোজ্ঞ ব্যান্ড ডিসপ্লে প্রদর্শিত হয়।
৬৯৪ জন রিক্রুটের সৈনিকজীবনে পদার্পণ
প্রসঙ্গত, গত ২৬ জানুয়ারি শুরু হওয়া মৌলিক প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করে এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে সৈনিকজীবনে প্রবেশ করেন ৬৯৪ জন নবীন রিক্রুট—যাদের মধ্যে ৬৫৮ জন পুরুষ ও ৩৬ জন নারী।
অনুষ্ঠানে বিজিবি, সেনাবাহিনী, পুলিশ, বেসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।










