ধানমন্ডির ফ্ল্যাট বরাদ্দ বাতিল, নীতিমালা ভাঙার প্রমাণ দুদক ও গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের তদন্তে
রাতের ভোটের ১২ কারিগরের পুরস্কার কেড়ে নিল সরকার
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজধানীর ধানমন্ডির এক বহুতল নির্মাণাধীন ভবনে ১২ জন প্রভাবশালী সাবেক আমলা ও বিচারককে নীতিমালাবহির্ভূতভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল রাজকীয় ফ্ল্যাট। মঙ্গলবার (৯ জুলাই) সেই বিতর্কিত বরাদ্দ বাতিল করেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।
গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নীতিমালা লঙ্ঘন করে প্রভাব খাটিয়ে এসব ফ্ল্যাট বণ্টনের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। দুদক ও গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের আলাদা দুই তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের ২৭৪তম বোর্ড সভায় বরাদ্দ বাতিলের সিদ্ধান্ত আসে।
ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার ৬ নম্বর সড়কের ৬৩ নম্বর বাড়িটি সরকারের পরিত্যক্ত সম্পত্তি ছিল। সেখানে নির্মাণাধীন ১৪ তলা ভবনের ১২টি ফ্ল্যাট বিতরণ করা হয়েছিল সাবেক প্রভাবশালী আমলাদের মধ্যে। কিন্তু ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত বছর ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরই এসব বরাদ্দকে ঘিরে অভিযোগ জমা পড়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)।
দুদকে জমা অভিযোগে বলা হয়, ২০১৮ সালের নির্বাচনে ‘দিনের ভোট রাতে নেওয়ার অপকর্মে’ অংশগ্রহণকারী সচিব পদমর্যাদার ১২ কর্মকর্তাকে পুরস্কার হিসেবে এসব ফ্ল্যাট দেওয়া হয়। এই অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্তে নামে দুদক। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণও মেলে। পরে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ নিজস্ব কমিটি গঠন করে বিষয়টি যাচাই করে একই ধরনের অনিয়ম নিশ্চিত করে।
বরাদ্দ বাতিল হওয়া ১২ কর্মকর্তার তালিকা:
১. মো. জহুরুল হক – সাবেক বিচারক ও দুদক কমিশনার (৪,১০৫ বর্গফুট)
২. মো. মোজাম্মেল হক খান – সাবেক সচিব ও দুদক কমিশনার (৪,৩০৮ বর্গফুট)
৩. মো. ইউনুসুর রহমান – সাবেক সিনিয়র সচিব (২,৩১৫ বর্গফুট)
৪. এম এ কাদের সরকার – সাবেক সচিব (২,০৪৯ বর্গফুট)
৫. আসলাম আলম – সাবেক সিনিয়র সচিব (২,০৪৯ বর্গফুট)
৬. আকতারী মমতাজ – সাবেক সচিব (২,০৪৯ বর্গফুট)
৭. মো. সিরাজুল হক খান – সাবেক সচিব (২,৩১৫ বর্গফুট)
৮. মো. মঞ্জুরুল বাছিদ – সাবেক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ (২,৩১৫ বর্গফুট)
৯. সৈয়দ আমিনুল ইসলাম – সাবেক রেজিস্ট্রার জেনারেল ও জেলা জজ (২,০৪৯ বর্গফুট)
১০. অধ্যাপক নেহাল আহমেদ – সাবেক মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (২,০৪৯ বর্গফুট)
১১. মো. আনিছুর রহমান – সাবেক সিনিয়র সচিব ও নির্বাচন কমিশনার (২,৩১৫ বর্গফুট)
১২. এস এম গোলাম ফারুক – সাবেক সিনিয়র সচিব (২,০৪৯ বর্গফুট)
মূল বার্তা:
২০১৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে “দিনের ভোট রাতে নেওয়া” কৌশলের মূল কারিগর হিসেবে চিহ্নিত এই ১২ জনকে পুরস্কৃত করে শেখ হাসিনা সরকার। তবে সেই পুরস্কার ফিরিয়ে নিয়েছে বর্তমান প্রশাসন।










