চীন থেকে অত্যাধুনিক সারফেস-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্রের (এসএএম) বিশাল চালান হাতে পেয়েছে ইরান
অপরিশোধিত তেলের বিনিময়ে ইরানকে ভয়ংকর আকাশ প্রতিরক্ষা দিল চীন
মধ্যপ্রাচ্যের দুই বৈরী রাষ্ট্র ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষের অবসান হয়েছে ১২ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছালেও ইরান এখনও সেই চুক্তিকে পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছে না। তেহরানের আশঙ্কা, ইসরায়েল যে কোনো সময় আবার হামলা চালাতে পারে। সেই শঙ্কা থেকেই বড় ধরনের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান।
আরব গোয়েন্দা সূত্রগুলোর বরাতে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই জানায়, যুদ্ধবিরতির ঠিক পরপরই চীন থেকে ইরানে পৌঁছেছে অত্যাধুনিক সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল (এসএএম) সিস্টেমের একটি বিশাল চালান। এ চালানে রয়েছে HQ-9 ও HQ-16 মডেলের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাটারি, যা ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব চীনা ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যক্ষমতা এতটাই শক্তিশালী যে, ইরানের আকাশসীমার ৩০০ কিলোমিটারের মধ্যে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের প্রবেশ কঠিন হয়ে পড়বে। ইসরায়েলি হামলায় বিধ্বস্ত প্রতিরক্ষা কাঠামো পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে এ সরঞ্জাম হস্তান্তর হয়েছে বলে জানান এক কর্মকর্তা।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা আরও জানান, ইরান বর্তমানে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে দ্রুতগতিতে কাজ করছে এবং তাদের এই অগ্রগতি সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রকেও অবহিত রাখা হয়েছে। জানা গেছে, ক্ষেপণাস্ত্রের বিনিময়ে চীনের কাছে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করছে ইরান।
উল্লেখযোগ্যভাবে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চীন নিয়মিতভাবে তৃতীয় দেশের মাধ্যমে ইরানি তেল আমদানি করে চলেছে। এই বাণিজ্যিক সম্পর্কই এখন দুই দেশের কৌশলগত জোটকে আরও মজবুত করছে।
এর আগে ইসরায়েল ইরানের অভ্যন্তরে সামরিক বিজ্ঞানী ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র লক্ষ্য করে বিধ্বংসী হামলা চালায়। তবে পাল্টা হামলায় ইরানও ইসরায়েলের তেলআবিব ও হাইফার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হানে।
বর্তমানে ইরান রাশিয়ার তৈরি এস-৩০০ ছাড়াও নিজস্ব প্রযুক্তির ‘খোরদাদ’ ও ‘বাভার-৩৭৩’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা পরিচালনা করছে। তবে সেগুলো মার্কিন স্টেলথ যুদ্ধবিমান F-35 প্রতিরোধে পর্যাপ্ত নয় বলেই মনে করা হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে চীনা HQ-9 এবং HQ-16 প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষায় বড় পরিবর্তন আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চীন ইতিমধ্যে পাকিস্তান ও মিসরের মতো মিত্র দেশগুলোকে এসব ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছে। এখন ইরানে এসব অস্ত্র হস্তান্তর মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।










