প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর হওয়া উচিত: জাতীয় ঐকমত্যে জামায়াতের প্রস্তাব
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, একজন ব্যক্তি যেন জীবদ্দশায় সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্তই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
রোববার (২২ জুন) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ধাপের সংলাপের পঞ্চম দিনে এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের তিনি জানান, সংখ্যাগত মেয়াদের চেয়ে নীতিগতভাবে একটি ঐকমত্যে পৌঁছানো জরুরি যে—একজন ব্যক্তি যেন তার সারাজীবনে ১০ বছরের বেশি সময় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে না থাকেন।
ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, “এ ধরনের একটি সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের রাজনীতিতে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।” তিনি জানান, প্রস্তাবটি তিনটি রাজনৈতিক দল বাদে অধিকাংশ দলের সমর্থন পেয়েছে।
তিনি আরও ব্যাখ্যা করে বলেন, “যতবারই কেউ প্রধানমন্ত্রী হন না কেন, তার মোট কার্যকাল যেন জীবদ্দশায় ১০ বছরের বেশি না হয়। আমাদের দেশে সাধারণত দুই পূর্ণ মেয়াদ মিলিয়ে ১০ বছর হয়, সেটিকেই গ্রহণযোগ্য সময়সীমা হিসেবে ধরা যেতে পারে।”
এর আগে সকাল সাড়ে ১১টায় ফরেন সার্ভিস একাডেমির মিলনায়তনে সংলাপটি শুরু হয়, যেখানে ৩৩টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
কমিশনের সূত্র অনুযায়ী, এদিনের আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ নির্ধারণ ছাড়াও রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য, সাংবিধানিক পদে নিয়োগে কমিশনের ভূমিকা, সরাসরি নির্বাচন, নারী প্রতিনিধিত্বসহ নানা কাঠামোগত সংস্কার নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন প্রথম ধাপে গত ২০ মার্চ থেকে ১৯ মে পর্যন্ত ৩৩টি রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে ৪৫টি সংলাপ সম্পন্ন করে। এরপর ২ মে থেকে শুরু হয় দ্বিতীয় ধাপের সংলাপ, যার উদ্বোধন করেন কমিশনের সভাপতি ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।










