বরযাত্রীর গাড়ি উঠল কলেজের দেয়ালে, প্রাণ হারাল বরসহ ৮ জন
একটি দিন—যে দিনটির জন্য মানুষ মাসের পর মাস অপেক্ষা করে, বছরের পর বছর স্বপ্ন বুনে চলে। সেই বিয়ের দিনই পরিণত হলো ভয়ংকর এক দুঃস্বপ্নে। ভারতের উত্তর প্রদেশের সম্বল জেলার জেবনাই গ্রামে শুক্রবারের সকালের সূর্য উঠেছিল বিয়ের আনন্দ নিয়ে। কিন্তু ঘন্টাখানেকের মধ্যেই সে আলো ঢেকে যায় কান্না আর মৃত্যুর ছায়ায়। বরসহ প্রাণ হারিয়েছেন একই পরিবারের আটজন।
আনন্দের যাত্রা পরিণত হলো শেষযাত্রায়
২৪ বছরের বর সুরুজের পরিবারের ১০ জন সদস্য একটি বলেরো গাড়িতে করে যাচ্ছিলেন সিরতৌল গ্রামে—কনের বাড়িতে। গাড়িতে ছিল তাঁর ভাবি আশা, আশার দুই বছরের শিশু কন্যা ঐশ্বর্য, ভাই মনোজের ছয় বছরের ছেলে বিষ্ণু, পরিবারের আরও কয়েকজন নারী ও শিশু। প্রত্যেকেই বিয়ের সাজে সজ্জিত। কারো চোখে ছিল খুশির দীপ্তি, কেউ আবার গল্পে মশগুল ছিলেন। কে জানত—এই যাত্রাই হবে তাঁদের শেষ যাত্রা?
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গাড়িটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে চলছিল। জনতা ইন্টার কলেজের কাছে হঠাৎই চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। ভয়ংকর গতি আর ভারসাম্যহীনতা একসঙ্গে মিলেই যেন সর্বনাশ ডেকে আনে। গাড়িটি সজোরে ধাক্কা মারে কলেজের দেয়ালে এবং মুহূর্তেই উল্টে যায়। কাঁচ ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে, আর ছড়িয়ে পড়ে রক্ত, কান্না আর হতবিহ্বলতা।
স্থানীয়রা ছুটে আসেন দুর্ঘটনার শব্দে। মুহূর্তের মধ্যেই রক্তাক্ত দেহগুলো টেনে বের করা হয় গাড়ি থেকে। সবাইকে জেবনাই কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পাঁচজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়, পরে আরও তিনজন মারা যান। বেঁচে থাকা দুজনের অবস্থাও সংকটাপন্ন—তাঁদের আলিগড়ের একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
নিহতদের নাম জানাতে গিয়ে যেন থেমে যাচ্ছে মানুষের কণ্ঠ। কেউ হারিয়েছেন ভাই, কেউ ভাবি, কেউ শিশুসন্তান। আর বর? যাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দঘন দিনটি হওয়ার কথা ছিল—সুরুজও ফিরলেন না।
দুই গ্রামে বিষাদের ছায়া
হর গোবিন্দপুর ও সিরতৌল—দুই গ্রামেই চলছে শোকের মাতম। যেখানে বাজনার শব্দ শোনা যাওয়ার কথা ছিল, সেখানে এখন কেবল কান্না আর হাহাকার। স্বজন হারানো আত্মীয়রা বাকরুদ্ধ, অনেকেই এখনও বিশ্বাসই করতে পারছেন না, সুরুজ আর ফিরবে না।
একজন প্রতিবেশী বলছিলেন, “সকাল সকাল সবাই কত খুশি ছিল। গাড়িতে উঠার সময় শিশুগুলো হাসছিল, কেউ ছবি তুলছিল। কে জানত, এমন ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছিল তাদের জন্য?”
গাড়ি ভাঙা, স্বপ্ন ভাঙা
অতিরিক্ত যাত্রী আর দ্রুতগতিই ছিল এই মৃত্যুর মূল কারণ—জানায় স্থানীয় পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অনুকৃতি শর্মা বলেন, “ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখি, গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। যাত্রীদের উদ্ধারে যা সময় লেগেছে, ততক্ষণে অনেক কিছু শেষ হয়ে গেছে।”
ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে সেই ভয়াবহ দৃশ্যের ভিডিও। অসংখ্য মানুষ শোক প্রকাশ করছেন, অনেকে আবার নিরাপদ গাড়ি চলাচল নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন।











