সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

ঢাকা-বেইজিং ১৫ দফা যৌথ ঘোষণা, তিস্তা প্রকল্পে সহায়তা দেবে চীন

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ৬:২৪ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ঢাকা-বেইজিং ১৫ দফা যৌথ ঘোষণা, তিস্তা প্রকল্পে সহায়তা দেবে চীন

তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে (টিআরসিএমআরপি) সহায়তা দেবে চীন। বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ঘোষিত ১৫ দফা যৌথ ঘোষণাপত্রে এ কথা জানানো হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে ১৫ দফা যৌথ ঘোষণা প্রকাশ করা হয়।

যৌথ ঘোষণার প্রধান বিষয়গুলো হলো-

১. চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০২৬ সালের ২২ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত চীন সফর করেন। সফরকালে তিনি দালিয়ানে অনুষ্ঠিত নিউ চ্যাম্পিয়নসের ১৭তম বার্ষিক সভা (সামার দাভোস)-এ অংশগ্রহণ করেন।

সফরের সময় প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং জাতীয় গণকংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এসব বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তৃত মতবিনিময় হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্যে পৌঁছায় উভয় পক্ষ।
২. উভয় পক্ষ উল্লেখ করে, ১৯৭৫ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাংলাদেশ ও চীন ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিক আস্থা সুদৃঢ় করেছে, ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্ব জোরদার করেছে এবং ফলপ্রসূ বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা পরিচালনা করেছে।

চীন ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় অভিনন্দন জানায় এবং নতুন সরকারের কার্যক্রমের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করে। বাংলাদেশ মনে করে, চীনের ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাংলাদেশের জন্য নতুন উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

উভয় দেশ বিদ্যমান সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতা অংশীদারিত্বকে আরও উন্নীত করে ‘নতুন যুগে অভিন্ন ভবিষ্যতের চীন-বাংলাদেশ সম্প্রদায়’ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেয়।

৩. উভয় দেশ উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত রাখা, শাসনব্যবস্থা বিষয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় বৃদ্ধি এবং সরকার, আইনসভা ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে কৌশলগত সংলাপের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা বিষয়ে ‘২+২ সংলাপ’ চালুর সম্ভাবনা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

৪. উভয় দেশ একে অপরের মৌলিক স্বার্থ ও প্রধান উদ্বেগের বিষয়ে দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। বাংলাদেশ পুনরায় ‘এক চীন নীতি’র প্রতি অঙ্গীকার ব্যক্ত করে এবং তাইওয়ানের স্বাধীনতার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করে। বাংলাদেশ পুনর্ব্যক্ত করে যে, বিশ্বে একটিই চীন রয়েছে, তাইওয়ান চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং বেইজিং সরকারই সমগ্র চীনের একমাত্র বৈধ সরকার।

অন্যদিকে, চীন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে।

৫. বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)-এর আওতায় উচ্চমানের সহযোগিতা জোরদার এবং আধুনিকায়নের লক্ষ্য অর্জনে একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়েছে দুই দেশ। চীন বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সমন্বয় বাড়াবে এবং বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পের পাশাপাশি জনগণের জীবনমান উন্নয়নমূলক ছোট প্রকল্পেও সহায়তা দেবে। এছাড়া শিল্পায়ন, কৃষির আধুনিকায়ন এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

৬. বাণিজ্য, ই-কমার্স, শিল্প, সরবরাহ শৃঙ্খল ও বিনিয়োগে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশকে শতভাগ পণ্যে শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা দেওয়ার জন্য চীনকে ধন্যবাদ জানানো হয়। বাংলাদেশও চীনা বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

একই সঙ্গে মংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ এবং চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে উভয় দেশ।

৭. সংযোগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, সবুজ জ্বালানি, সৌর প্রযুক্তি, দুর্যোগ প্রতিরোধ ও প্রশমন এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সহযোগিতা জোরদারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে নতুন সরাসরি যোগাযোগের সম্ভাবনাও অনুসন্ধান করা হবে।

৮. সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, পানি পরিকল্পনা, জলবিদ্যাগত পূর্বাভাস, বন্যা প্রতিরোধ, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, নদী খনন এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি বিনিময়ে সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হয়েছে দুই দেশ।

চীন তার সক্ষমতা অনুযায়ী তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে (টিআরসিএমআরপি) সহায়তা দেবে। প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা দ্রুত সম্পন্ন করতে দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা যৌথভাবে কাজ করবেন। এছাড়া সামুদ্রিক বিষয়েও সহযোগিতা জোরদার করা হবে।

৯. উভয় দেশ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, সফর, প্রশিক্ষণ এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে পারস্পরিক সম্পৃক্ততা আরও জোরদারে সম্মত হয়েছে।

১০. ২০২৫ সালে চীন-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি এবং ‘চীন-বাংলাদেশ জনগণের মধ্যে বিনিময় বর্ষ’ সফলভাবে উদযাপনের প্রশংসা করা হয়েছে। উভয় দেশ গণমাধ্যম, থিংক ট্যাংক, শিক্ষা, চলচ্চিত্র, প্রকাশনা, যুব, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি খাতে জনগণের মধ্যে যোগাযোগ জোরদারে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। চীন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ অব্যাহত রাখবে।

১১. বাংলাদেশ ‘মানবজাতির অভিন্ন ভবিষ্যৎ’ গঠনের ধারণা এবং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রস্তাবিত বৈশ্বিক উদ্যোগসমূহের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। অন্যদিকে, চীন জাতিসংঘসহ বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশের বৃহত্তর ভূমিকার প্রতি সমর্থন জানিয়ে ব্রিকস এবং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও)-এর অংশীদার হওয়ার বাংলাদেশের আবেদনকে সমর্থন করেছে।

১২. উভয় দেশ জাতিসংঘকেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক আইনভিত্তিক শৃঙ্খলা এবং জাতিসংঘ সনদের নীতি ও উদ্দেশ্যের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে সমুন্নত রাখা এবং ফ্যাসিবাদ ও সামরিকবাদের পুনরুত্থানের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করার বিষয়ে একমত হয়েছে।

১৩. মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া জনগোষ্ঠীর সংকট সমাধানে চীনের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেছে বাংলাদেশ। চীনও রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করেছে এবং বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করার পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।

১৪. সফরকালে উন্নয়ন সহযোগিতা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কৃষি, শিক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একাধিক সহযোগিতা দলিল স্বাক্ষরিত হয়েছে।

১৫. প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার সফরসঙ্গীরা উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আন্তরিক আতিথেয়তার জন্য চীন সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে সুবিধাজনক সময়ে চীনের শীর্ষ নেতৃত্বকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

প্রসঙ্গত, চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শুক্রবার বিকেলে বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। এ সফরে তাঁর সঙ্গে ২৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রয়েছে।

এর আগে, ২১ জুন প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়া যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে ২২ জুন তিনি চীন সফরে যান।

সূত্র বাংলানিউজ

টাকা না পেলে ফেসবুকে ছবি ছড়িয়ে দেন ওসি!

জাহেদুল ইসলাম প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১:১১ পিএম
টাকা না পেলে ফেসবুকে ছবি ছড়িয়ে দেন ওসি!

টাকা না দিলে থানায় আটক ব্যক্তিদের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীমের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, আটক ব্যক্তি বা তাঁদের পরিবারের কাছ থেকে অর্থ দাবি করা হয়। সেই অর্থ না পেলে থানায় তোলা ছবি বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও পেজে ছড়িয়ে দিয়ে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়।

একাধিক অভিযোগকারী দাবি করেছেন, আটক ব্যক্তিদের ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে একই ধরনের নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে না। তাঁদের অভিযোগ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো প্রেস রিলিজে আটক ব্যক্তির ছবি ব্লার করা অবস্থায় দেওয়া হলেও, একই ব্যক্তির অব্লার ছবি এর আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে এমন ভিন্নতা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। তাঁদের দাবি, যদি কোনো ব্যক্তির পরিচয় গোপন রাখার প্রয়োজন থাকে, তবে সেই নীতি সবক্ষেত্রেই সমানভাবে অনুসরণ করা উচিত। অন্যথায় বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ভুক্তভোগী কয়েকটি পরিবারের অভিযোগ, কোনো ব্যক্তি আটকের পর আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই তাঁর ছবি ফেসবুকে প্রকাশ হয়ে যায়। এতে আদালতে বিচার শুরুর আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার সামাজিকভাবে চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে চাকরি, ব্যবসা ও পারিবারিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে সাতকানিয়া থানায় আটক একাধিক ব্যক্তির ছবি প্রেস রিলিজ প্রকাশের আগেই ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, থানার ভেতরে তোলা ছবি কীভাবে এত দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পৌঁছে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, আমার এক স্বজনকে আটকের পর বিভিন্নভাবে টাকার কথা বলা হয়। টাকা দিতে না পারার কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখি থানায় তোলা তাঁর ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। পরে পরিচিতজনরা ফোন করে জানতে চান কী হয়েছে। এতে আমরা সামাজিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ি।

আরেক ভুক্তভোগীর ভাষ্য, আইনি প্রক্রিয়া চলার আগেই একজনের ছবি এভাবে প্রকাশ করে দেওয়া ঠিক নয়। পরে মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেও সমাজের মানুষের কাছে সেই অপবাদ থেকেই যায়।

আরেকজন অভিযোগ করেন, ছবি প্রকাশ করে সামাজিক চাপ তৈরি করা হয় বলে আমাদের মনে হয়েছে। এতে পরিবার ভয় ও মানসিক চাপে থাকে। আমরা চাই, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য বের করা হোক।

আরেক ভুক্তভোগী বলেন, কোনো ব্যক্তি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে তাঁর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া তাঁর সম্মান ও পরিবারের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

আইনজীবীদের মতে, কোনো ব্যক্তি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে তাঁকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা কিংবা তাঁর ছবি অপ্রয়োজনীয়ভাবে প্রকাশ করা ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এতে অভিযুক্ত ব্যক্তি পরবর্তীতে নির্দোষ প্রমাণিত হলেও সামাজিক ক্ষতি পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, পুলিশি হেফাজতে থাকা ব্যক্তির ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে কঠোর সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক, তদন্তাধীন বা বিচারাধীন মামলার ক্ষেত্রে এমন ছবি প্রকাশ ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মানবাধিকারের প্রশ্নও তৈরি করতে পারে।

এ বিষয়ে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীমের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে ছুটিতে থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

যদিও এর আগে কয়েকবার এ বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেছিলেন, থানা থেকে কোনো ব্যক্তির ছবি ফাঁস করা হয় না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ছবি ছড়ায়, সেগুলোর উৎস সম্পর্কে  জানা নেই।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, পুলিশ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। আইন অমান্য করার কোনো সুযোগ নেই। যদি এ ধরনের কোনো ঘটনা সত্যিই ঘটে থাকে, তাহলে বিষয়টি আমি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখব।

বান্দরবানে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:০৮ পিএম
বান্দরবানে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত

মুহাম্মদ আলী,বান্দরবান  প্রতিনিধি:

‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা ও যুব মেলাসহ নানা আয়োজনে বান্দরবানে জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে।

রবিবার (১ নভেম্বর) সকালে বান্দরবান শহরের বালাঘাটায় যুব ভবনে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম।

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কনভেনিং কমিটির আহ্বায়ক অংজাই উই চাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এসএম হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ সরদার, জেলা জামায়াতের আমীর এসএম আব্দুস সালাম আজাদ,বান্দরবান ইসলামিক ফাউণ্ডেশন উপপরিচালক মো সেলিম উদ্দিন,বান্দরবান প্রেসক্লাব সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চু,বিএনপি নেতা মো.আবু তাহের।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বান্দরবান যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক এনায়েত করিম। এ সময় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ডিপিসি মোখলেসুর রহমান, বান্দরবানের বিশিষ্ট সাংবাদিক মুহাম্মদ আলী, বালাঘাটা ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো:আলী’সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি, যুব সংগঠক ও তরুণ-তরুণীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বান্দরবান সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার লুবু প্রু মারমা।

দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত র‍্যালিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি যুব মেলায় তরুণদের কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানের বিভিন্ন সুযোগ তুলে ধরা হয়।

সভায় তরুণ উদ্যোক্তাদের মাঝে ২লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ঋণের চেক বিতরণ ও ৩টি যুব সংগঠনের নিবন্ধন সনদ প্রদান করা হয়।

বক্তারা বলেন,দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় যুবসমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠা এবং দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করতে হবে।

বান্দরবানে এবারও শীর্ষে ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:০৫ পিএম
বান্দরবানে এবারও শীর্ষে ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’

মোহাম্মদ আবুল হাশেম লামা প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ হলেও বরাবরের মতো এবারও এইচ.এস.সি পরীক্ষায় শতভাগ পাশ করে ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের বোধিছড়াস্থ ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’। এ প্রতিষ্ঠান থেকে চলতি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ৬০ জনেই পাশ করেছে। এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস পেয়েছে ১৭ জন, এতে পাশের হার শতভাগ। সে মতে জেলার অন্যান্য কলেজের চেয়ে ফলাফলে এগিয়ে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা যায়, এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় বান্দরবান জেলার ১৪ টি কলেজ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ থেকে ৩টি বিভাগে ৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন ১৪জন, এতে ‘এ’ প্লাস ৫জন ও ‘এ’ গ্রেড পায় ৯জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন ১২জন, এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস ৪জন ও ‘এ’ গ্রেড পায় ৮জন। মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষায় ৩৪জন অংশ গ্রহণ করে ‘এ’ প্লাস ৮জন, ২৫ জন ‘এ’ গ্রেড ও ১ জন ‘এ’ মাইনেস পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। প্রকাশিত ফলাফলে শতভাগ উত্তীর্ণ কলেজের মধ্যে শিক্ষার্থী ও ‘এ’ প্লাস সংখ্যায় কোয়ান্টাম কসমো কলেজের অবস্থান জেলায় শীর্ষে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছেন।

এদিকে উপজেলার সরকারী মাতামুহুরী কলেজ থেকে একই পরীক্ষায় অংশ নেন ৭৫৫জন। এর মধ্যে পাশ করে মাত্র ২৭৮জন। এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস পায় ৫জন, পাশের হার ৩৬.৮২ । চাম্বি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে পরীক্ষা দেয় ৪৯জন, এর মধ্যে পাশ করে ৬জন, পাশের হার ১২.৭৭। হেফাজতুর রহমান কলেজ থেকে পর এতে পাশের হার শরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ২৪জন শিক্ষার্থী, পাশ করে ১১জন, পাশের হার ৪৬.০০। লামা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ১৭জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ৬জন, পাশের হার ৩৫.২৯।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এ প্লাস পাওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা কলেজের হোস্টেলে ছিলাম। আমাদের শিক্ষকরা যে পরিমাণ অক্লান্ত পরিশ্রম করে সার্বক্ষনিক মনিটরিং এ রেখেছেন তাতে ভালো ফলাফল না করে উপায় নেই। তাই সকল শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

দিক-নির্দেশনা, প্রশিক্ষিত শিক্ষকদের আন্তরিক পাঠদান, বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ক্লাশ পরীক্ষা গ্রহণ, ফলাফল প্রদান এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশ-এ ফলাফল অর্জনে ভূমিকা রেখেছে বলে জানান, কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ অধ্যক্ষ ছালেহ আহমেদ।
বান্দরবান জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন জানায়, সর্বোচ্চ এ প্লাস ও শতভাগ পাশের হারে শীর্ষ স্থান অর্জন করে লামা উপজেলার ভারমূর্তি উজ্জ্বল করেছে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ। কলেজগুলোর এ র‌্যাংকিং করা হয় মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা, জিপিএ-৫ ও পাশের হারের ভিত্তিতে।