সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

কানে কম শোনেন ওসি, ভোগান্তিতে সেবাপ্রার্থীরা

জাহেদুল ইসলাম প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ১০:২৯ এম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কানে কম শোনেন ওসি, ভোগান্তিতে সেবাপ্রার্থীরা

একটি নারী সংক্রান্ত অভিযোগ জানাতে সাতকানিয়া থানায় গিয়েছিলেন স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি। তাঁর ভাষ্য, যে বিষয়টি এক মিনিটেই বলা সম্ভব, সেটি বোঝাতে তাঁকে প্রায় ১৫ মিনিট সময় ব্যয় করতে হয়েছে। একই কথা কয়েকবার পুনরাবৃত্তি করার পরও কাঙ্ক্ষিত সাড়া পাননি। একপর্যায়ে পাশের এক পুলিশ কর্মকর্তাকে বিষয়টি বোঝাতে চাইলে ওসি তাঁকে থামিয়ে দিয়ে নিজেকেই বলতে বলেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই জনপ্রতিনিধি বলেন, ১৭টি ইউনিয়নের মানুষের নিরাপত্তা ও সেবার দায়িত্বে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ থানার প্রধান কর্মকর্তা যদি এভাবে মানুষের কথা শুনতে না পারেন, তাহলে সাধারণ মানুষ কীভাবে সেবা পাবে?

এমন অভিযোগ শুধু একজনের নয়। সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ সেবাপ্রার্থীদের মধ্যে নানা ধরনের অভিযোগ জমা হচ্ছে। তাঁদের দাবি, ওসির শ্রবণ সমস্যা ও আচরণগত কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে থানায় গিয়ে কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন অনেকেই।

স্থানীয় এক রাজনৈতিক দলের নেতা অভিযোগ করে বলেন, ওসিকে কোনো বিষয় জানাতে গেলে অনেক সময় তিনি স্পষ্টভাবে শুনতে পান না। একই কথা বারবার বলতে হয়। আবার পুনরায় বললে তিনি বিরক্তি প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, কখনো কখনো মানুষের সঙ্গে কথাবার্তার ধরনও অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। জনসেবামূলক একটি পদে থেকে মানুষের সঙ্গে আরও ধৈর্যশীল আচরণ প্রত্যাশিত।

আরেক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, একদিন যে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে, পরদিন একই বিষয়ে গেলে মনে হয় তিনি আগের কথাগুলো মনে করতে পারছেন না।

ওই ব্যক্তি বলেন, রাতে ফোনে পুরো ঘটনা শুনে থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। পরদিন থানায় গিয়ে একই কথা বললে তিনি বলেন, এটা নিজেরাই সমাধান করতে পারেন। এমন দ্বৈত অবস্থানে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, থানার প্রশাসনিক দুর্বলতার সুযোগে এলাকায় অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে। প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া, জায়গা-জমি নিয়ে সংঘর্ষ, ডাকাতির চেষ্টা ও অপহরণের মতো একাধিক ঘটনায় দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

এছাড়া গত ৩০ মে গভীর রাতে কেরানীহাট এলাকায় পুলিশের একটি চেকপোস্টকে ঘিরেও প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী। তাঁদের দাবি, ওইদিন রাত ১২টার পর কেরানীহাট বাজার এলাকায় অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে ঢাকা থেকে আসা একের পর এক বাস থামানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওসির পছন্দমতো আসন না পাওয়ায় বিভিন্ন বাসে তল্লাশির নামে দীর্ঘ সময় ধরে যানবাহন আটকে রাখা হয়।

ফলে রাত ১টার দিকে কেরানীহাট বাজার এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে একটি বাসে পছন্দসই আসন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হন বলে দাবি করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন যানবাহন আটকে রাখায় ওই এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৩১ মে কাঞ্চনা ইউনিয়নের ফুলতলা এলাকায় জায়গা-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন ও গুলির ঘটনা ঘটে। এছাড়া ৪ জুন পূর্ব ছদাহা এলাকায় একটি গরুর খামারে ডাকাতির চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। একই দিনে এক কিশোর অপহরণের অভিযোগও সামনে আসে। এসব ঘটনায় দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সাতকানিয়ার মতো জনবহুল একটি উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মূল দায়িত্ব থানার ওপর। কিন্তু সেবাপ্রার্থীদের একাংশ যদি থানায় গিয়ে নিজেদের কথা ঠিকভাবে উপস্থাপন করতেই হিমশিম খান, আর গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ নিষ্পত্তিতে ধীরগতি থাকে, তাহলে জনমনে আস্থার সংকট তৈরি হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং থানার সেবার মান আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করতে হবে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে সাতকানিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, শারীরিক সমস্যা থাকতেই পারে। তবে জনগণকে যথাযথ সেবা দিতে হবে। যদি কোনো সেবাপ্রার্থী সমস্যার সমাধান না পেয়ে ফিরে যান, তাহলে সেটি অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।

টাকা না পেলে ফেসবুকে ছবি ছড়িয়ে দেন ওসি!

জাহেদুল ইসলাম প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১:১১ পিএম
টাকা না পেলে ফেসবুকে ছবি ছড়িয়ে দেন ওসি!

টাকা না দিলে থানায় আটক ব্যক্তিদের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীমের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, আটক ব্যক্তি বা তাঁদের পরিবারের কাছ থেকে অর্থ দাবি করা হয়। সেই অর্থ না পেলে থানায় তোলা ছবি বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও পেজে ছড়িয়ে দিয়ে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়।

একাধিক অভিযোগকারী দাবি করেছেন, আটক ব্যক্তিদের ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে একই ধরনের নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে না। তাঁদের অভিযোগ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো প্রেস রিলিজে আটক ব্যক্তির ছবি ব্লার করা অবস্থায় দেওয়া হলেও, একই ব্যক্তির অব্লার ছবি এর আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে এমন ভিন্নতা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। তাঁদের দাবি, যদি কোনো ব্যক্তির পরিচয় গোপন রাখার প্রয়োজন থাকে, তবে সেই নীতি সবক্ষেত্রেই সমানভাবে অনুসরণ করা উচিত। অন্যথায় বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ভুক্তভোগী কয়েকটি পরিবারের অভিযোগ, কোনো ব্যক্তি আটকের পর আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই তাঁর ছবি ফেসবুকে প্রকাশ হয়ে যায়। এতে আদালতে বিচার শুরুর আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার সামাজিকভাবে চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে চাকরি, ব্যবসা ও পারিবারিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে সাতকানিয়া থানায় আটক একাধিক ব্যক্তির ছবি প্রেস রিলিজ প্রকাশের আগেই ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, থানার ভেতরে তোলা ছবি কীভাবে এত দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পৌঁছে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, আমার এক স্বজনকে আটকের পর বিভিন্নভাবে টাকার কথা বলা হয়। টাকা দিতে না পারার কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখি থানায় তোলা তাঁর ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। পরে পরিচিতজনরা ফোন করে জানতে চান কী হয়েছে। এতে আমরা সামাজিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ি।

আরেক ভুক্তভোগীর ভাষ্য, আইনি প্রক্রিয়া চলার আগেই একজনের ছবি এভাবে প্রকাশ করে দেওয়া ঠিক নয়। পরে মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেও সমাজের মানুষের কাছে সেই অপবাদ থেকেই যায়।

আরেকজন অভিযোগ করেন, ছবি প্রকাশ করে সামাজিক চাপ তৈরি করা হয় বলে আমাদের মনে হয়েছে। এতে পরিবার ভয় ও মানসিক চাপে থাকে। আমরা চাই, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য বের করা হোক।

আরেক ভুক্তভোগী বলেন, কোনো ব্যক্তি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে তাঁর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া তাঁর সম্মান ও পরিবারের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

আইনজীবীদের মতে, কোনো ব্যক্তি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে তাঁকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা কিংবা তাঁর ছবি অপ্রয়োজনীয়ভাবে প্রকাশ করা ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এতে অভিযুক্ত ব্যক্তি পরবর্তীতে নির্দোষ প্রমাণিত হলেও সামাজিক ক্ষতি পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, পুলিশি হেফাজতে থাকা ব্যক্তির ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে কঠোর সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক, তদন্তাধীন বা বিচারাধীন মামলার ক্ষেত্রে এমন ছবি প্রকাশ ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মানবাধিকারের প্রশ্নও তৈরি করতে পারে।

এ বিষয়ে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীমের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে ছুটিতে থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

যদিও এর আগে কয়েকবার এ বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেছিলেন, থানা থেকে কোনো ব্যক্তির ছবি ফাঁস করা হয় না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ছবি ছড়ায়, সেগুলোর উৎস সম্পর্কে  জানা নেই।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, পুলিশ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। আইন অমান্য করার কোনো সুযোগ নেই। যদি এ ধরনের কোনো ঘটনা সত্যিই ঘটে থাকে, তাহলে বিষয়টি আমি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখব।

বান্দরবানে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:০৮ পিএম
বান্দরবানে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত

মুহাম্মদ আলী,বান্দরবান  প্রতিনিধি:

‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা ও যুব মেলাসহ নানা আয়োজনে বান্দরবানে জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে।

রবিবার (১ নভেম্বর) সকালে বান্দরবান শহরের বালাঘাটায় যুব ভবনে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম।

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কনভেনিং কমিটির আহ্বায়ক অংজাই উই চাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এসএম হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ সরদার, জেলা জামায়াতের আমীর এসএম আব্দুস সালাম আজাদ,বান্দরবান ইসলামিক ফাউণ্ডেশন উপপরিচালক মো সেলিম উদ্দিন,বান্দরবান প্রেসক্লাব সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চু,বিএনপি নেতা মো.আবু তাহের।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বান্দরবান যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক এনায়েত করিম। এ সময় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ডিপিসি মোখলেসুর রহমান, বান্দরবানের বিশিষ্ট সাংবাদিক মুহাম্মদ আলী, বালাঘাটা ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো:আলী’সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি, যুব সংগঠক ও তরুণ-তরুণীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বান্দরবান সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার লুবু প্রু মারমা।

দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত র‍্যালিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি যুব মেলায় তরুণদের কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানের বিভিন্ন সুযোগ তুলে ধরা হয়।

সভায় তরুণ উদ্যোক্তাদের মাঝে ২লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ঋণের চেক বিতরণ ও ৩টি যুব সংগঠনের নিবন্ধন সনদ প্রদান করা হয়।

বক্তারা বলেন,দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় যুবসমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠা এবং দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করতে হবে।

বান্দরবানে এবারও শীর্ষে ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:০৫ পিএম
বান্দরবানে এবারও শীর্ষে ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’

মোহাম্মদ আবুল হাশেম লামা প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ হলেও বরাবরের মতো এবারও এইচ.এস.সি পরীক্ষায় শতভাগ পাশ করে ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের বোধিছড়াস্থ ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’। এ প্রতিষ্ঠান থেকে চলতি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ৬০ জনেই পাশ করেছে। এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস পেয়েছে ১৭ জন, এতে পাশের হার শতভাগ। সে মতে জেলার অন্যান্য কলেজের চেয়ে ফলাফলে এগিয়ে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা যায়, এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় বান্দরবান জেলার ১৪ টি কলেজ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ থেকে ৩টি বিভাগে ৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন ১৪জন, এতে ‘এ’ প্লাস ৫জন ও ‘এ’ গ্রেড পায় ৯জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন ১২জন, এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস ৪জন ও ‘এ’ গ্রেড পায় ৮জন। মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষায় ৩৪জন অংশ গ্রহণ করে ‘এ’ প্লাস ৮জন, ২৫ জন ‘এ’ গ্রেড ও ১ জন ‘এ’ মাইনেস পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। প্রকাশিত ফলাফলে শতভাগ উত্তীর্ণ কলেজের মধ্যে শিক্ষার্থী ও ‘এ’ প্লাস সংখ্যায় কোয়ান্টাম কসমো কলেজের অবস্থান জেলায় শীর্ষে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছেন।

এদিকে উপজেলার সরকারী মাতামুহুরী কলেজ থেকে একই পরীক্ষায় অংশ নেন ৭৫৫জন। এর মধ্যে পাশ করে মাত্র ২৭৮জন। এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস পায় ৫জন, পাশের হার ৩৬.৮২ । চাম্বি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে পরীক্ষা দেয় ৪৯জন, এর মধ্যে পাশ করে ৬জন, পাশের হার ১২.৭৭। হেফাজতুর রহমান কলেজ থেকে পর এতে পাশের হার শরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ২৪জন শিক্ষার্থী, পাশ করে ১১জন, পাশের হার ৪৬.০০। লামা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ১৭জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ৬জন, পাশের হার ৩৫.২৯।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এ প্লাস পাওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা কলেজের হোস্টেলে ছিলাম। আমাদের শিক্ষকরা যে পরিমাণ অক্লান্ত পরিশ্রম করে সার্বক্ষনিক মনিটরিং এ রেখেছেন তাতে ভালো ফলাফল না করে উপায় নেই। তাই সকল শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

দিক-নির্দেশনা, প্রশিক্ষিত শিক্ষকদের আন্তরিক পাঠদান, বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ক্লাশ পরীক্ষা গ্রহণ, ফলাফল প্রদান এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশ-এ ফলাফল অর্জনে ভূমিকা রেখেছে বলে জানান, কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ অধ্যক্ষ ছালেহ আহমেদ।
বান্দরবান জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন জানায়, সর্বোচ্চ এ প্লাস ও শতভাগ পাশের হারে শীর্ষ স্থান অর্জন করে লামা উপজেলার ভারমূর্তি উজ্জ্বল করেছে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ। কলেজগুলোর এ র‌্যাংকিং করা হয় মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা, জিপিএ-৫ ও পাশের হারের ভিত্তিতে।