রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

লামার কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের ৭ ক্রীড়াবিদ পেলেন রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৯:২০ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
লামার কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের ৭ ক্রীড়াবিদ পেলেন রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি

মোহাম্মদ আবুল হাশেম লামা প্রতিনিধি

“ক্রীড়া হলে পেশা,পরিবার পাবে ভরসা”এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ৩০ মার্চ ২০২৬ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে ক্রীড়া কার্ড ও ভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। প্রথম ধাপে তিনি ১২৯ জন ক্রীড়াবিদের হাতে ক্রীড়া কার্ড তুলে দেন, যার মাধ্যমে র‍্যাংকিং এর ভিত্তিতে কার্ডধারী ক্রীড়াবিদরা মাসে এক লক্ষ টাকা ক্রীড়া ভাতা পাচ্ছেন। দ্বিতীয় ধাপে ১৯ এপ্রিল ২০২৬ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) অডিটোরিয়ামে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক আরও ১৭১ জন খেলোয়াড়ের হাতে ক্রীড়া কার্ড ও ভাতা তুলে দেন। দুই ধাপে এ সুবিধার আওতায় এসেছেন ৩০০ ক্রীড়াবিদ, যাদের মধ্যে রয়েছেন বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ে গড়ে ওঠা শিক্ষায়তন কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের ৭ জন।

“অলিম্পিকে সোনা আমরা জিতবই”এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে ২০১২ সালে বাংলাদেশ জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশনের সহযোগিতায় কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজে শুরু হয় “আমরা পারি জিমন্যাস্টিকস”কার্যক্রম।প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বাংলাদেশ জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশনের সহায়তায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কোচদের তত্ত্বাবধানে এই প্রতিষ্ঠানের জিমন্যাস্টরা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে আসছেন। গত এক যুগে জাতীয়ভাবে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় প্রশংসনীয় দক্ষতা ও পারদর্শিতা প্রদর্শন করে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ২১৮টি স্বর্ণসহ মোট ৫৫৬টি পদক জিতে দেশের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে কোয়ান্টাম।
পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম থানচি এলাকার জুমচাষি পরিবারের সন্তান উহাইমং মার্মা ২০১১ সালে মাত্র পাঁচ বছর বয়সে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজে ভর্তি হন। এ প্রতিষ্ঠানের জিমনেসিয়ামে ২০১৩ থেকে শুরু করেন জিমন্যাস্টিকস চর্চা। বর্তমানে তিনি এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং জাতীয় জিমন্যাস্টিকস দলের একজন চৌকস জিমন্যাস্ট।২০১০ সালে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের সূচনা শ্রেণিতে ভর্তি হন রাজীব চাকমা। ২০১২ সালে এখানেই জিমন্যাস্টিকসে হাতেখড়ি হয় তার। ২০২৪ সালে কোয়ান্টাম থেকেই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এখন তিনি পড়ছেন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। শৈশবের সেই বিদ্যাপীঠের টিনের ঘরে সীমিত সুবিধার মাঝে জিমন্যাস্টিকস চর্চা শুরু করে এখন তিনি বাংলাদেশ জাতীয় দলের জিমন্যাস্ট, অংশ নিয়েছেন অসংখ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায়।

রাঙামাটির নানিয়ার চর ইউনিয়নের গলাছড়ি গ্রামের নিঝুম খীসা ২০১০ সালে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের সূচনা শ্রেণিতে ভর্তি হন। এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৪ বছর লেখাপড়া করার পর এখান থেকেই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ২০২৪ সালে। জিমন্যাস্টিকসে তার পথচলা শুরু হয় স্কুলে পড়ার সময়েই। কোয়ান্টামের হয়ে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছেন তিনি।

সাংখেঅং খুমী কিতং বাবার হাত ধরে ২০০৫ সালে মাত্র ৩ বছর বয়সে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজে শিশু শ্রেণিতে ভর্তি হন। এখানকার জিমনেসিয়ামে তার জিমন্যাস্টিকস অনুশীলন শুরু হয়। সে-সময় থেকেই বিভিন্ন আঞ্চলিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জিমন্যাস্টিকসে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। ২০২০ সালে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন কিতং।

৩০ মার্চ ২০২৬ উহাইমং মার্মা ও রাজীব চাকমার হাতে ক্রীড়া কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এছাড়া নিঝুম খীসা ও সাংখেয়ং খুমী ১৯ এপ্রিল ২০২৬ যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকের কাছ থেকে ক্রীড়া কার্ড গ্রহণ করেন।প্রাণবন্ত পদচারণা টেবিল টেনিসেও ৩০ আগস্ট ২০২৫ কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের টেবিল টেনিস একাডেমি ভবন উদ্বোধন করা হয়। এ খেলায় আঞ্চলিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের রয়েছে অসাধারণ সাফল্য। ২০১৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত জাতীয় স্কুল ও মাদ্রাসা ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় টেবিল টেনিসে দ্বৈত (বালক) ইভেন্টে ধারাবাহিক চ্যাম্পিয়নশিপ অক্ষুণ্ণ রাখে কোয়ান্টাম। ২০২০, ২০২২ ও ২০২৩ সালে টেবিল টেনিসে দ্বৈত (বালিকা) ইভেন্টে এবং ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে একক (বালিকা) ইভেন্টে টানা চ্যাম্পিয়ন হয়ে দুটিতেই অর্জন করে হ্যাট্রিক শিরোপা।

রাঙামাটির রাজস্থলীর দুর্গম চুশাক পাড়ার খই খই সাই মার্মা বর্তমানে দেশের অন্যতম সেরা টেবিল টেনিস তারকা। ২০১৫ সালে ৮ বছর বয়সে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজে ২য় শ্রেণিতে ভর্তি হন খই খই। নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করার পর তিনি বিকেএসপি-তে স্থানান্তরিত হন। ২০১৮ সাল থেকে তিনি জেলা, উপজেলা এবং বিভাগীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে শুরু করেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের জন্য অনন্য সম্মান বয়ে আনা এই তারকা খেলোয়াড় বর্তমানে র‍্যাংকিং-এ এক নম্বর অবস্থানে রয়েছেন। ৩০ মার্চ ২০২৬ প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে মাসিক এক লক্ষ টাকার ক্রীড়া কার্ড গ্রহণ করেছেন তিনি।

২০০৮ সালে নিজ বাড়ি থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরের কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজে মাত্র ৩ বছর বয়সে সূচনা শ্রেণিতে রামহিমলিয়ান বমকে ভর্তি করে দেন তার বাবা। ২০১২ সালে শিক্ষার্থীদের টেবিল টেনিস শেখানোর উদ্যোগ গ্রহণ করে কোয়ান্টাম। তখন থেকেই তিনি আঞ্চলিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করতে থাকেন। ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকের কাছ থেকে ভাতা ও কার্ড গ্রহণ করেন রামহিম।

ছেলে ও মেয়েদের ভলিবল অনুশীলনের জন্য এ শিক্ষাঙ্গনে রয়েছে পৃথক ভলিবল মাঠ। ইতোমধ্যে কোয়ান্টামের ভলিবল খেলোয়াড়রা অর্জন করেছেন আঞ্চলিক ও জাতীয় সাফল্য। মৌমৌ খই মার্মা তাদের একজন। ২০১৬ সালে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজে ২য় শ্রেণিতে ভর্তি হন পিতৃহারা মৌমৌ খই। এখান থেকেই মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ২০২৫ সালে। জাতীয় নারী ভলিবল দলের এই কৃতী সদস্যকে ৩০ মার্চ ২০২৬ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও ক্রীড়া কার্ড প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন শিক্ষাসেবা কার্যক্রমের ইনচার্জ ছালেহ আহমেদ বলেন, “জাতিগতভাবে অলিম্পিকে স্বর্ণ জয়ের লক্ষ্যে ২০১০ সাল থেকে ‘অলিম্পিকে সোনা আমরা জিতবই’- বাক্যটিকে জাতীয় পর্যায়ে জনপ্রিয় করে তোলে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন।
তিনি আরো জানান,কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের ক্রীড়াবিদেরাও এই বাক্যটিকে নিজেদের স্বপ্ন হিসেবে লালন করছেন দীর্ঘদিন ধরে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ক্রীড়াবিদদের পেশাগত স্বীকৃতি, ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া কার্ড প্রদানের এই মহতী উদ্যোগে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে ও ক্রীড়াবিদদের মধ্যে যে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে, যে আত্মবিশ্বাস ক্রীড়াবিদদের মধ্যে তৈরি হয়েছে, তাতে বাংলাদেশও অলিম্পিকে স্বর্ণ জিতবে ইনশাআল্লাহ।”

পলাতক জীবনের অবসান

দুবাইয়ে গ্রেফতার সাবেক আইজিপি বেনজীর

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৪:০৫ পিএম
দুবাইয়ে গ্রেফতার সাবেক আইজিপি বেনজীর

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ইন্টারপোলের সহযোগিতায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেফতার হয়েছেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। রোববার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদে এ তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত ১২ জুন দুবাই পুলিশ বেনজীর আহমেদকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে তিনি সেখানে আটক রয়েছেন। দুবাইয়ের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) বাংলাদেশকে জানিয়েছে, গ্রেফতারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) আবেদন করতে হবে। সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এটি বাংলাদেশ পুলিশের জন্য একটি ঐতিহাসিক সাফল্য। অপরাধী যত প্রভাবশালী বা শক্তিশালীই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।”
জানা গেছে, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী ও দুই কন্যার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে পৃথক চারটি মামলা দায়ের করে দুদক। এসব মামলায় প্রায় ৭৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।
এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি দুদকের আবেদনের পর আদালত বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দেন। পরে আন্তর্জাতিক আইনশৃঙ্খলা সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টায় তাকে দুবাইয়ে শনাক্ত ও গ্রেফতার করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এই দুর্নীতি মামলায় বেনজীর আহমেদের গ্রেফতারকে দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জন্য বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন নজর রয়েছে তাকে কবে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা হয়।

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক ৬ লেন হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৯:৫০ পিএম
চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক ৬ লেন হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ককে বর্তমান চার লেন থেকে ছয় লেনে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, কক্সবাজার অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও পর্যটন গুরুত্ব বিবেচনায় মহাসড়কটির সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।

আজ শনিবার সন্ধ্যায় কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর বাসটার্মিনাল এলাকায় চকরিয়া উপজেলা ও পৌর বিএনপি আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। জনসভায় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান।
তারেক রহমান বলেন, প্রায় ২৫ বছর আগে তিনি যে সড়ক দেখে গিয়েছিলেন, তার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন এখনো হয়নি। এ সময়ে কক্সবাজারের গুরুত্ব বহুগুণ বেড়েছে। পর্যটন ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনার কারণে যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি হয়ে উঠেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর চালু হলে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও সম্প্রসারিত হবে। এ বাস্তবতায় চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ককে আধুনিক ও অধিক সক্ষম সড়কে রূপান্তর করা প্রয়োজন। তিনি জানান, যানবাহনের বাড়তি চাপ ও ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক চাহিদা বিবেচনায় মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করা হবে এবং শিগগিরই প্রকল্পের কাজ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
লবণচাষিদের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, উৎপাদিত লবণের ন্যায্যমূল্য থেকে অনেক চাষি বঞ্চিত হচ্ছেন। এ অবস্থার পরিবর্তনে সরকার মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেবে, যাতে চাষিরা উৎপাদিত লবণের উপযুক্ত দাম পান।
প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট নিয়ে বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি উপস্থাপিত বাজেটটি সাধারণ মানুষের কল্যাণকে গুরুত্ব দিয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর কমানো বা প্রত্যাহারের বিষয়ও বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্বাস্থ্যসেবা খাত নিয়ে তিনি বলেন, দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পর্যায়ক্রমে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি আগামী বাজেটে ৪২ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড এবং ৪০ লাখ কৃষককে কৃষি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এসব উদ্যোগ তাঁর ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ কর্মসূচির অংশ বলে উল্লেখ করেন।

চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হকের সভাপতিত্বে জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করা বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অন্যতম ছিল। পাশাপাশি লবণচাষীরা যাতে প্রতি কেজি লবণের ন্যূনতম ১৫ টাকা মূল্য পান, সে লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগের প্রশংসা করেন তিনি।
সভায় আরও বক্তব্য দেন কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না এমপি। এতে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
এর আগে একই দিন কক্সবাজার জেলার দশম উপজেলা হিসেবে নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলা ও থানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

লোহাগাড়ায় বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্বোধন

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৯:০১ পিএম
লোহাগাড়ায় বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্বোধন

রায়হান সিকদার,লোহাগাড়াঃ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বৃক্ষরোপন কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় বৃক্ষ রোপন ও চারা বিতরন করা হয়েছে।

শনিবার(১৩জুন) দুপুরে উপজেলা প্রশাসন এবং পদুয়া বনরেঞ্জ ও টংকাবতী বিটের উদ্যোগে চরম্বা মাইজবিলা এলাকায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) মোঃ বায়োজীদ-বিন-আখন্দ।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পদুয়া বনরেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ রিয়াদুর রহমান ভূঁইয়া,চরম্বা টংকাবতী বিট কর্মকর্তা ইমন বিল্লাহ, লোহাগাড়া প্রেস ক্লাব সভাপতি এম সাইফুল্লাহ চৌধুরী, উপজেলা সহকারি প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ ফয়সাল আমীর সহ গণমাধ্যম কর্মী ও বন বিভাগের স্টাফবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

একই সাথে ওই এলাকায় বনবিভাগের পক্ষ থেকে রোপনকৃত বাগানটি পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) মোঃ বায়োজীদ-বিন-আখন্দ, পদুয়া বনরেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ রিয়াদুর রহমান ভূঁইয়া,চরম্বা টংকাবতী বিট কর্মকর্তা ইমন বিল্লাহ।

ইউএনও মোঃ বায়োজীদ-বিন-আখন্দ বলেন, ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষ রোপণের গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অধিক সংখ্যক গাছ লাগানো এবং সেগুলোর পরিচর্যা করার আহ্বান জানান।

প্রসঙ্গত: কক্সবাজারের ডুলাহাজরায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্তৃক বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্বোধনের পর এ বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।