সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা কেড়ে নিতে দ্বারস্ত হবেন হাইকোর্টের

মাদকসেবী সাজিয়ে সাজা, সাতকানিয়ার ইউএনও’র বিরুদ্ধে ডিসির কাছে নালিশ

জাহেদুল ইসলাম প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪৩ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
মাদকসেবী সাজিয়ে সাজা, সাতকানিয়ার ইউএনও’র বিরুদ্ধে ডিসির কাছে নালিশ

default

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় আলাউদ্দিন নামে এক যুবককে মাদক সেবন করে মাতলামির অভিযোগে সাত দিনের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করার ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজীব দাশ পুরকায়স্থের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগে আলা উদ্দিন দাবি করেছেন, তাকে তল্লাশি করে কোনো মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়নি। পরে পুলিশ সদস্যরা নিজেদের পকেট থেকে ইয়াবা ও গাঁজা বের করে তার কাছ থেকে উদ্ধার দেখিয়ে ইউএনওর কাছে উপস্থাপন করেন।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাতের এ ঘটনার পর কারাভোগ শেষে আলাউদ্দিন ডোপ টেস্ট করিয়েছেন। তার দাবি, ওই পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এসেছে। ডোপ টেস্টের প্রতিবেদনসহ জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া অভিযোগে তিনি ইউএনও’র বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেছেন।

সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে আলাউদ্দিন উল্লেখ করেন, গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৮টা ১০ মিনিটে তিনি তার ভাই নাইম উদ্দিন ও প্রতিবেশী নাজিম উদ্দিনকে নিয়ে সাতকানিয়ার মৌলভীর দোকান এলাকার ‘আল মক্কা’ হোটেলে বসে নাস্তা করছিলেন। এ সময় ডিএসবি সাতকানিয়া জোনের কনস্টেবল মোজাম্মেল হোসেন তাকে তল্লাশি করবেন বলে জানান। তল্লাশির কারণ জানতে চাইলে কোনো সন্তোষজনক উত্তর দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। ওই তল্লাশিতে কিছু পাওয়া যায়নি। পরে তাকে এএসআই মতিন ও এএসআই নুর উদ্দিনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তারাও তাকে তল্লাশি করেন এবং সেখানেও কিছু পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগকারীর দাবি।

অভিযোগে আলাউদ্দিন দাবি করেন, তল্লাশির একপর্যায়ে মোজাম্মেল হোসেন তার নিজের পকেট থেকে দুটি ইয়াবার গুটি ও দুই পোটলা গাঁজা বের করে ‘পাওয়া গেছে’ বলে চিৎকার করেন। এ সময় তার ভাই নাইম উদ্দিনসহ উপস্থিত কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবাদ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীর দাবি, তারা পুলিশ সদস্যকে বলেন, ‘তুমি তোমার পকেট থেকে এগুলো বের করেছো, আমরা দেখেছি।’ এ নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে তার ভাই ও স্থানীয় লোকজনকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন আলাউদ্দিন। জনগণের বাধা সত্ত্বেও তাকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া এবং শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগকারী দাবি করেন, তাকে ইউএনওর কাছে উপস্থাপন করা হলে তিনি তার বক্তব্য শোনেননি এবং অভিযোগের বিষয়ে যাচাই-বাছাই না করেই সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বক্তব্যের ভিত্তিতে তাকে সাত দিনের কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি ৫ হাজার টাকা জরিমানাও আদায় করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

আলাউদ্দিনের দাবি, তিনি ওই ঘটনায় কোনো মাদকদ্রব্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন না এবং তাকে অন্যায়ভাবে সাজা দেওয়া হয়েছে।

কারাভোগ শেষে ঘটনার সত্যতা প্রমাণের উদ্দেশ্যে তিনি ডোপ টেস্ট করিয়েছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন। তার সঙ্গে জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেওয়া নথির তালিকায় ডোপ টেস্টের প্রতিবেদনও রয়েছে।

অভিযোগকারী দাবি করেছেন, পরীক্ষার প্রতিবেদনে মাদক গ্রহণের কোনো উপস্থিতি পাওয়া যায়নি এবং রিপোর্টটি নেগেটিভ এসেছে।

লিখিত অভিযোগে আলাউদ্দিন বলেন, পুলিশ সদস্যদের কথিত কর্মকাণ্ডের কারণে তার ও তার পরিবারের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে। এলাকায় তাকে নিয়ে নানা মন্তব্য করা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, তিনি একজন সাধারণ মানুষ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার মতো সামর্থ্য তার নেই। বর্তমানে নিজের নিরাপত্তা নিয়েও তিনি আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।

এ বিষয়ে আলা উদ্দিন জানান, মাদক সেবনের অভিযোগে তাঁকে সাজা দেওয়া হলেও সাজার আগে তাঁর ডোপ টেস্ট করা হয়নি এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের নথিতেও ডোপ টেস্টের কোনো প্রতিবেদন সংযুক্ত ছিল না। এ অবস্থায় পুলিশ সদস্যদের দেওয়া তথ্য ও উপস্থাপিত আলামতের ভিত্তিতে তাঁকে সাজা দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে দাবি করেন তিনি। অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন আলাউদ্দিন। একই সঙ্গে ইউএনও রাজীব দাশ পুরকায়স্থের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার এখতিয়ার ও ওই দিনের বিচারিক কার্যক্রমের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে প্রয়োজনীয় আইনি প্রতিকার চাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান আলাউদ্দিন। তাঁর ভাষ্য, একজন নিরপরাধ মানুষকে মাদকসেবী হিসেবে সাজা দেওয়ার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

টাকা না পেলে ফেসবুকে ছবি ছড়িয়ে দেন ওসি!

জাহেদুল ইসলাম প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১:১১ পিএম
টাকা না পেলে ফেসবুকে ছবি ছড়িয়ে দেন ওসি!

টাকা না দিলে থানায় আটক ব্যক্তিদের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীমের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, আটক ব্যক্তি বা তাঁদের পরিবারের কাছ থেকে অর্থ দাবি করা হয়। সেই অর্থ না পেলে থানায় তোলা ছবি বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও পেজে ছড়িয়ে দিয়ে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়।

একাধিক অভিযোগকারী দাবি করেছেন, আটক ব্যক্তিদের ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে একই ধরনের নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে না। তাঁদের অভিযোগ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো প্রেস রিলিজে আটক ব্যক্তির ছবি ব্লার করা অবস্থায় দেওয়া হলেও, একই ব্যক্তির অব্লার ছবি এর আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে এমন ভিন্নতা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। তাঁদের দাবি, যদি কোনো ব্যক্তির পরিচয় গোপন রাখার প্রয়োজন থাকে, তবে সেই নীতি সবক্ষেত্রেই সমানভাবে অনুসরণ করা উচিত। অন্যথায় বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ভুক্তভোগী কয়েকটি পরিবারের অভিযোগ, কোনো ব্যক্তি আটকের পর আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই তাঁর ছবি ফেসবুকে প্রকাশ হয়ে যায়। এতে আদালতে বিচার শুরুর আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার সামাজিকভাবে চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে চাকরি, ব্যবসা ও পারিবারিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে সাতকানিয়া থানায় আটক একাধিক ব্যক্তির ছবি প্রেস রিলিজ প্রকাশের আগেই ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, থানার ভেতরে তোলা ছবি কীভাবে এত দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পৌঁছে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, আমার এক স্বজনকে আটকের পর বিভিন্নভাবে টাকার কথা বলা হয়। টাকা দিতে না পারার কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখি থানায় তোলা তাঁর ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। পরে পরিচিতজনরা ফোন করে জানতে চান কী হয়েছে। এতে আমরা সামাজিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ি।

আরেক ভুক্তভোগীর ভাষ্য, আইনি প্রক্রিয়া চলার আগেই একজনের ছবি এভাবে প্রকাশ করে দেওয়া ঠিক নয়। পরে মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেও সমাজের মানুষের কাছে সেই অপবাদ থেকেই যায়।

আরেকজন অভিযোগ করেন, ছবি প্রকাশ করে সামাজিক চাপ তৈরি করা হয় বলে আমাদের মনে হয়েছে। এতে পরিবার ভয় ও মানসিক চাপে থাকে। আমরা চাই, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য বের করা হোক।

আরেক ভুক্তভোগী বলেন, কোনো ব্যক্তি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে তাঁর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া তাঁর সম্মান ও পরিবারের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

আইনজীবীদের মতে, কোনো ব্যক্তি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে তাঁকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা কিংবা তাঁর ছবি অপ্রয়োজনীয়ভাবে প্রকাশ করা ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এতে অভিযুক্ত ব্যক্তি পরবর্তীতে নির্দোষ প্রমাণিত হলেও সামাজিক ক্ষতি পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, পুলিশি হেফাজতে থাকা ব্যক্তির ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে কঠোর সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক, তদন্তাধীন বা বিচারাধীন মামলার ক্ষেত্রে এমন ছবি প্রকাশ ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মানবাধিকারের প্রশ্নও তৈরি করতে পারে।

এ বিষয়ে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীমের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে ছুটিতে থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

যদিও এর আগে কয়েকবার এ বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেছিলেন, থানা থেকে কোনো ব্যক্তির ছবি ফাঁস করা হয় না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ছবি ছড়ায়, সেগুলোর উৎস সম্পর্কে  জানা নেই।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, পুলিশ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। আইন অমান্য করার কোনো সুযোগ নেই। যদি এ ধরনের কোনো ঘটনা সত্যিই ঘটে থাকে, তাহলে বিষয়টি আমি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখব।

বান্দরবানে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:০৮ পিএম
বান্দরবানে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত

মুহাম্মদ আলী,বান্দরবান  প্রতিনিধি:

‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা ও যুব মেলাসহ নানা আয়োজনে বান্দরবানে জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে।

রবিবার (১ নভেম্বর) সকালে বান্দরবান শহরের বালাঘাটায় যুব ভবনে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম।

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কনভেনিং কমিটির আহ্বায়ক অংজাই উই চাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এসএম হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ সরদার, জেলা জামায়াতের আমীর এসএম আব্দুস সালাম আজাদ,বান্দরবান ইসলামিক ফাউণ্ডেশন উপপরিচালক মো সেলিম উদ্দিন,বান্দরবান প্রেসক্লাব সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চু,বিএনপি নেতা মো.আবু তাহের।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বান্দরবান যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক এনায়েত করিম। এ সময় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ডিপিসি মোখলেসুর রহমান, বান্দরবানের বিশিষ্ট সাংবাদিক মুহাম্মদ আলী, বালাঘাটা ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো:আলী’সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি, যুব সংগঠক ও তরুণ-তরুণীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বান্দরবান সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার লুবু প্রু মারমা।

দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত র‍্যালিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি যুব মেলায় তরুণদের কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানের বিভিন্ন সুযোগ তুলে ধরা হয়।

সভায় তরুণ উদ্যোক্তাদের মাঝে ২লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ঋণের চেক বিতরণ ও ৩টি যুব সংগঠনের নিবন্ধন সনদ প্রদান করা হয়।

বক্তারা বলেন,দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় যুবসমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠা এবং দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করতে হবে।

বান্দরবানে এবারও শীর্ষে ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:০৫ পিএম
বান্দরবানে এবারও শীর্ষে ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’

মোহাম্মদ আবুল হাশেম লামা প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ হলেও বরাবরের মতো এবারও এইচ.এস.সি পরীক্ষায় শতভাগ পাশ করে ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের বোধিছড়াস্থ ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’। এ প্রতিষ্ঠান থেকে চলতি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ৬০ জনেই পাশ করেছে। এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস পেয়েছে ১৭ জন, এতে পাশের হার শতভাগ। সে মতে জেলার অন্যান্য কলেজের চেয়ে ফলাফলে এগিয়ে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা যায়, এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় বান্দরবান জেলার ১৪ টি কলেজ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ থেকে ৩টি বিভাগে ৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন ১৪জন, এতে ‘এ’ প্লাস ৫জন ও ‘এ’ গ্রেড পায় ৯জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন ১২জন, এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস ৪জন ও ‘এ’ গ্রেড পায় ৮জন। মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষায় ৩৪জন অংশ গ্রহণ করে ‘এ’ প্লাস ৮জন, ২৫ জন ‘এ’ গ্রেড ও ১ জন ‘এ’ মাইনেস পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। প্রকাশিত ফলাফলে শতভাগ উত্তীর্ণ কলেজের মধ্যে শিক্ষার্থী ও ‘এ’ প্লাস সংখ্যায় কোয়ান্টাম কসমো কলেজের অবস্থান জেলায় শীর্ষে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছেন।

এদিকে উপজেলার সরকারী মাতামুহুরী কলেজ থেকে একই পরীক্ষায় অংশ নেন ৭৫৫জন। এর মধ্যে পাশ করে মাত্র ২৭৮জন। এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস পায় ৫জন, পাশের হার ৩৬.৮২ । চাম্বি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে পরীক্ষা দেয় ৪৯জন, এর মধ্যে পাশ করে ৬জন, পাশের হার ১২.৭৭। হেফাজতুর রহমান কলেজ থেকে পর এতে পাশের হার শরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ২৪জন শিক্ষার্থী, পাশ করে ১১জন, পাশের হার ৪৬.০০। লামা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ১৭জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ৬জন, পাশের হার ৩৫.২৯।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এ প্লাস পাওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা কলেজের হোস্টেলে ছিলাম। আমাদের শিক্ষকরা যে পরিমাণ অক্লান্ত পরিশ্রম করে সার্বক্ষনিক মনিটরিং এ রেখেছেন তাতে ভালো ফলাফল না করে উপায় নেই। তাই সকল শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

দিক-নির্দেশনা, প্রশিক্ষিত শিক্ষকদের আন্তরিক পাঠদান, বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ক্লাশ পরীক্ষা গ্রহণ, ফলাফল প্রদান এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশ-এ ফলাফল অর্জনে ভূমিকা রেখেছে বলে জানান, কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ অধ্যক্ষ ছালেহ আহমেদ।
বান্দরবান জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন জানায়, সর্বোচ্চ এ প্লাস ও শতভাগ পাশের হারে শীর্ষ স্থান অর্জন করে লামা উপজেলার ভারমূর্তি উজ্জ্বল করেছে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ। কলেজগুলোর এ র‌্যাংকিং করা হয় মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা, জিপিএ-৫ ও পাশের হারের ভিত্তিতে।