সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

সিগারেট না খাওয়া যুবককে গাঁজা সেবনের অভিযোগে সাজা দিলেন ইউএনও, ডোপ টেস্টে ‘নেগেটিভ’

জাহেদুল ইসলাম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৯ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
সিগারেট না খাওয়া যুবককে গাঁজা সেবনের অভিযোগে সাজা দিলেন ইউএনও, ডোপ টেস্টে ‘নেগেটিভ’

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় মাদক সেবন করে প্রকাশ্যে মাতলামির অভিযোগে সাত দিনের কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো এক যুবকের ডোপ টেস্টে মাদকের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে। ২৯ সেপ্টেম্বর করা ওই পরীক্ষার প্রতিবেদনের পর ১৬ সেপ্টেম্বর ভ্রাম্যমাণ আদালতে দেওয়া সাজা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগী আলাউদ্দিন।

আলাউদ্দিনের অভিযোগ, গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে সাতকানিয়ার কালিয়াইশ ইউনিয়নের মৌলভীর দোকান এলাকা থেকে তাঁকে সাতকানিয়া থানার এএসআই মতিন, এএসআই নুরুদ্দীন ও কনস্টেবল মোজাম্মেল আটক করেন। পরে তাঁকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মাদক সেবন করে মাতলামির অভিযোগে সাজা দেওয়া হয়।

আলাউদ্দিনের দাবি, তাঁকে আটকের সময় ঘটনাস্থলে কোনো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত ছিলেন না। মাদক সেবনের অভিযোগের সমর্থনে কোনো ডোপ টেস্টের প্রতিবেদনও তাঁকে সাজা দেওয়ার সময় দেখানো হয়নি। এমনকি ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজার নথিতেও ডোপ টেস্টের প্রতিবেদন সংযুক্ত করা হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।

ভুক্তভোগী আলাউদ্দিনের অভিযোগ, ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে কালিয়াইশের মৌলভীর দোকান এলাকা থেকে তিন পুলিশ সদস্য তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। পরদিন ভ্রাম্যমাণ আদালতে মাদক সেবন করে মাতলামির অভিযোগে তাঁকে সাত দিনের সাজা দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, সাজার আগে কোনো ডোপ টেস্ট করা হয়নি এবং সাজার নথিতেও এর কোনো প্রতিবেদন নেই। পরে ২৯ সেপ্টেম্বর নিজ উদ্যোগে ডোপ টেস্ট করালে ফলাফল নেগেটিভ আসে। এতে মাদক সেবনের অভিযোগে দেওয়া তাঁর সাজা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে দাবি করেন আলাউদ্দিন।

পরে সাজা ভোগ করে কারাগার থেকে বের হয়ে আলাউদ্দিন পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, তিনি কখনো মাদক সেবন করেননি। এর সমর্থনে তিনি চিকিৎসা-সংক্রান্ত কাগজপত্রও দাখিল করেছেন বলে জানান।

আলাউদ্দিনের লিখিত অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, তাঁকে আটকের সময় ওই তিন পুলিশ সদস্য তাঁর কাছে কয়েকটি ইয়াবা ও গাঁজা গুঁজে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে স্থানীয় লোকজন ঘটনাটি ভিডিও করায় পুলিশ সদস্যরা তা করতে পারেননি বলে অভিযোগ তাঁর।

আলাউদ্দিনের দাবি, সাজা ভোগ করে কারাগার থেকে বের হয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর করা ডোপ টেস্টে তাঁর শরীরে মাদকের কোনো উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। তাঁর ভাষ্য, পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এসেছে।

এ সংক্রান্ত একটি মেডিকেল রিপোর্ট ও বিভিন্ন দপ্তরে দেওয়া অভিযোগের কপি এ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ২৪(৪) ধারায় বলা হয়েছে, মাদকাসক্ত ব্যক্তি শনাক্ত করার প্রয়োজনে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ডোপ টেস্ট করা যেতে পারে। ডোপ টেস্ট পজিটিভ হলে আইনের ৩৬(৪) অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।

একই আইনের ২৪(২) ও ২৪(৩)-এ দেহ পরীক্ষায় মাদকদ্রব্যের উপস্থিতি কিংবা মাদক গ্রহণ, সেবন, ব্যবহার বা প্রয়োগের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ধারায় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

অন্যদিকে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনেই মাদক অপরাধের বিচার সাধারণত এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতের মাধ্যমে হওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই আইনের ৫৭ ধারায় অবশ্য মাদকদ্রব্য অপরাধ মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯-এর অধীনেও বিচার করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯-এর ৬(১) ধারায় বলা হয়েছে, ক্ষমতাপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে কোনো তফসিলভুক্ত অপরাধ সংঘটিত বা উদ্ঘাটিত হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলেই আমলে নিয়ে অভিযুক্তের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে দণ্ড দিতে পারেন।

এ কারণে আলাউদ্দিনকে কোথায়, কখন এবং কীভাবে আটক করা হয়েছিল, আটকের সময় কী আলামত পাওয়া গিয়েছিল, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে কী উপস্থাপন করা হয়েছিল এবং সাজার নথিতে অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি কীভাবে লিপিবদ্ধ হয়েছে—এসব প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে।

আইনের ২১ ধারায় প্রকাশ্য স্থানে মাদক অপরাধের সন্দেহে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার আটক ও তল্লাশির ক্ষমতা রয়েছে। তবে ২২ ধারায় বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার, তল্লাশি, আটক ও বাজেয়াপ্তির ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির বিধান অনুসরণ করতে হবে।

ফলে শুধু পুলিশ সদস্যদের বক্তব্যের ভিত্তিতে একজনকে আটক করার পাশাপাশি পরবর্তী ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমে কী কী প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছিল—সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আইনজীবীরা বলছেন, মোবাইল কোর্টের ক্ষমতা সাধারণ ফৌজদারি আদালতের বিকল্প নয়। মোবাইল কোর্ট আইনের ৬ ধারায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে সংঘটিত বা উদ্ঘাটিত অপরাধ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে বিচার করার কথা বলা হয়েছে।

ভুক্তভোগী আলাউদ্দিন জানান, গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে কালিয়াইশের মৌলভীর দোকান এলাকা থেকে তিন পুলিশ সদস্য তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। পরদিন ভ্রাম্যমাণ আদালতে মাদক সেবন করে মাতলামির অভিযোগে তাঁকে সাত দিনের সাজা দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, সাজার আগে কোনো ডোপ টেস্ট করা হয়নি এবং সাজার নথিতেও এর কোনো প্রতিবেদন নেই। পরে সাজা ভোগ করে কারাগার থেকে বের হয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর নিজ উদ্যোগে ডোপ টেস্ট করালে ফলাফল নেগেটিভ আসে। এতে মাদক সেবনের অভিযোগে দেওয়া তাঁর সাজা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আলাউদ্দিন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য এএসআই মতিন আলাউদ্দিনকে আটকের কথা স্বীকার করেন। আটকের সময় তার কাছে কি পাওয়া গিয়েছিল জানতে চাইলে তিনি জানান, আলাউদ্দিনের কাছ থেকে ইয়াবা পাওয়া গিয়েছিল।

পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী ইয়াবা পাওয়া গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেওয়া হয় গাঁজা খেয়ে মাতলামি ও অসদাচরণ করার অভিযোগে।

বিষয়টি জানতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সাজা দেওয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজিব দাশ পুরকায়স্থকে কল করা হলেও তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

টাকা না পেলে ফেসবুকে ছবি ছড়িয়ে দেন ওসি!

জাহেদুল ইসলাম প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১:১১ পিএম
টাকা না পেলে ফেসবুকে ছবি ছড়িয়ে দেন ওসি!

টাকা না দিলে থানায় আটক ব্যক্তিদের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীমের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, আটক ব্যক্তি বা তাঁদের পরিবারের কাছ থেকে অর্থ দাবি করা হয়। সেই অর্থ না পেলে থানায় তোলা ছবি বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও পেজে ছড়িয়ে দিয়ে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়।

একাধিক অভিযোগকারী দাবি করেছেন, আটক ব্যক্তিদের ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে একই ধরনের নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে না। তাঁদের অভিযোগ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো প্রেস রিলিজে আটক ব্যক্তির ছবি ব্লার করা অবস্থায় দেওয়া হলেও, একই ব্যক্তির অব্লার ছবি এর আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে এমন ভিন্নতা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। তাঁদের দাবি, যদি কোনো ব্যক্তির পরিচয় গোপন রাখার প্রয়োজন থাকে, তবে সেই নীতি সবক্ষেত্রেই সমানভাবে অনুসরণ করা উচিত। অন্যথায় বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ভুক্তভোগী কয়েকটি পরিবারের অভিযোগ, কোনো ব্যক্তি আটকের পর আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই তাঁর ছবি ফেসবুকে প্রকাশ হয়ে যায়। এতে আদালতে বিচার শুরুর আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার সামাজিকভাবে চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে চাকরি, ব্যবসা ও পারিবারিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে সাতকানিয়া থানায় আটক একাধিক ব্যক্তির ছবি প্রেস রিলিজ প্রকাশের আগেই ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, থানার ভেতরে তোলা ছবি কীভাবে এত দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পৌঁছে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, আমার এক স্বজনকে আটকের পর বিভিন্নভাবে টাকার কথা বলা হয়। টাকা দিতে না পারার কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখি থানায় তোলা তাঁর ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। পরে পরিচিতজনরা ফোন করে জানতে চান কী হয়েছে। এতে আমরা সামাজিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ি।

আরেক ভুক্তভোগীর ভাষ্য, আইনি প্রক্রিয়া চলার আগেই একজনের ছবি এভাবে প্রকাশ করে দেওয়া ঠিক নয়। পরে মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেও সমাজের মানুষের কাছে সেই অপবাদ থেকেই যায়।

আরেকজন অভিযোগ করেন, ছবি প্রকাশ করে সামাজিক চাপ তৈরি করা হয় বলে আমাদের মনে হয়েছে। এতে পরিবার ভয় ও মানসিক চাপে থাকে। আমরা চাই, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য বের করা হোক।

আরেক ভুক্তভোগী বলেন, কোনো ব্যক্তি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে তাঁর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া তাঁর সম্মান ও পরিবারের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

আইনজীবীদের মতে, কোনো ব্যক্তি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে তাঁকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা কিংবা তাঁর ছবি অপ্রয়োজনীয়ভাবে প্রকাশ করা ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এতে অভিযুক্ত ব্যক্তি পরবর্তীতে নির্দোষ প্রমাণিত হলেও সামাজিক ক্ষতি পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, পুলিশি হেফাজতে থাকা ব্যক্তির ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে কঠোর সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক, তদন্তাধীন বা বিচারাধীন মামলার ক্ষেত্রে এমন ছবি প্রকাশ ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মানবাধিকারের প্রশ্নও তৈরি করতে পারে।

এ বিষয়ে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীমের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে ছুটিতে থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

যদিও এর আগে কয়েকবার এ বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেছিলেন, থানা থেকে কোনো ব্যক্তির ছবি ফাঁস করা হয় না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ছবি ছড়ায়, সেগুলোর উৎস সম্পর্কে  জানা নেই।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, পুলিশ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। আইন অমান্য করার কোনো সুযোগ নেই। যদি এ ধরনের কোনো ঘটনা সত্যিই ঘটে থাকে, তাহলে বিষয়টি আমি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখব।

বান্দরবানে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:০৮ পিএম
বান্দরবানে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত

মুহাম্মদ আলী,বান্দরবান  প্রতিনিধি:

‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা ও যুব মেলাসহ নানা আয়োজনে বান্দরবানে জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে।

রবিবার (১ নভেম্বর) সকালে বান্দরবান শহরের বালাঘাটায় যুব ভবনে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম।

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কনভেনিং কমিটির আহ্বায়ক অংজাই উই চাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এসএম হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ সরদার, জেলা জামায়াতের আমীর এসএম আব্দুস সালাম আজাদ,বান্দরবান ইসলামিক ফাউণ্ডেশন উপপরিচালক মো সেলিম উদ্দিন,বান্দরবান প্রেসক্লাব সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চু,বিএনপি নেতা মো.আবু তাহের।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বান্দরবান যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক এনায়েত করিম। এ সময় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ডিপিসি মোখলেসুর রহমান, বান্দরবানের বিশিষ্ট সাংবাদিক মুহাম্মদ আলী, বালাঘাটা ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো:আলী’সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি, যুব সংগঠক ও তরুণ-তরুণীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বান্দরবান সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার লুবু প্রু মারমা।

দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত র‍্যালিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি যুব মেলায় তরুণদের কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানের বিভিন্ন সুযোগ তুলে ধরা হয়।

সভায় তরুণ উদ্যোক্তাদের মাঝে ২লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ঋণের চেক বিতরণ ও ৩টি যুব সংগঠনের নিবন্ধন সনদ প্রদান করা হয়।

বক্তারা বলেন,দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় যুবসমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠা এবং দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করতে হবে।

বান্দরবানে এবারও শীর্ষে ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:০৫ পিএম
বান্দরবানে এবারও শীর্ষে ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’

মোহাম্মদ আবুল হাশেম লামা প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ হলেও বরাবরের মতো এবারও এইচ.এস.সি পরীক্ষায় শতভাগ পাশ করে ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের বোধিছড়াস্থ ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’। এ প্রতিষ্ঠান থেকে চলতি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ৬০ জনেই পাশ করেছে। এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস পেয়েছে ১৭ জন, এতে পাশের হার শতভাগ। সে মতে জেলার অন্যান্য কলেজের চেয়ে ফলাফলে এগিয়ে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা যায়, এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় বান্দরবান জেলার ১৪ টি কলেজ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ থেকে ৩টি বিভাগে ৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন ১৪জন, এতে ‘এ’ প্লাস ৫জন ও ‘এ’ গ্রেড পায় ৯জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন ১২জন, এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস ৪জন ও ‘এ’ গ্রেড পায় ৮জন। মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষায় ৩৪জন অংশ গ্রহণ করে ‘এ’ প্লাস ৮জন, ২৫ জন ‘এ’ গ্রেড ও ১ জন ‘এ’ মাইনেস পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। প্রকাশিত ফলাফলে শতভাগ উত্তীর্ণ কলেজের মধ্যে শিক্ষার্থী ও ‘এ’ প্লাস সংখ্যায় কোয়ান্টাম কসমো কলেজের অবস্থান জেলায় শীর্ষে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছেন।

এদিকে উপজেলার সরকারী মাতামুহুরী কলেজ থেকে একই পরীক্ষায় অংশ নেন ৭৫৫জন। এর মধ্যে পাশ করে মাত্র ২৭৮জন। এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস পায় ৫জন, পাশের হার ৩৬.৮২ । চাম্বি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে পরীক্ষা দেয় ৪৯জন, এর মধ্যে পাশ করে ৬জন, পাশের হার ১২.৭৭। হেফাজতুর রহমান কলেজ থেকে পর এতে পাশের হার শরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ২৪জন শিক্ষার্থী, পাশ করে ১১জন, পাশের হার ৪৬.০০। লামা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ১৭জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ৬জন, পাশের হার ৩৫.২৯।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এ প্লাস পাওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা কলেজের হোস্টেলে ছিলাম। আমাদের শিক্ষকরা যে পরিমাণ অক্লান্ত পরিশ্রম করে সার্বক্ষনিক মনিটরিং এ রেখেছেন তাতে ভালো ফলাফল না করে উপায় নেই। তাই সকল শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

দিক-নির্দেশনা, প্রশিক্ষিত শিক্ষকদের আন্তরিক পাঠদান, বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ক্লাশ পরীক্ষা গ্রহণ, ফলাফল প্রদান এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশ-এ ফলাফল অর্জনে ভূমিকা রেখেছে বলে জানান, কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ অধ্যক্ষ ছালেহ আহমেদ।
বান্দরবান জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন জানায়, সর্বোচ্চ এ প্লাস ও শতভাগ পাশের হারে শীর্ষ স্থান অর্জন করে লামা উপজেলার ভারমূর্তি উজ্জ্বল করেছে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ। কলেজগুলোর এ র‌্যাংকিং করা হয় মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা, জিপিএ-৫ ও পাশের হারের ভিত্তিতে।