সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

আইনগত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন

আগে পুলিশে আটক, পরে ইউএনও’র মোবাইল কোর্টে সাজা

জাহেদুল ইসলাম প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৭ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
আগে পুলিশে আটক, পরে ইউএনও’র মোবাইল কোর্টে সাজা

সম্প্রতি চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে পুলিশের হাতে আটক কয়েকজনকে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সোপর্দ না করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হাজির করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়ার ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে আটক ব্যক্তিদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে বা তাঁর সামনে অপরাধ সংঘটনের সময় আটক করা হয়নি—এমন পরিস্থিতিতে তাদের পুলিশ প্রথমে আটক করে পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নিয়ে গিয়ে মোবাইল কোর্টে সাজা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে একই ধরনের একটি ঘটনায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ব্যাখ্যা চাওয়ার পর সাতকানিয়ার ঘটনাটিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

সাতকানিয়া থানা সূত্রে জানা গেছে, মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে গত ২২ সেপ্টেম্বর পুলিশ ছয়জনকে আটক করে। এরপর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ না করে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাজিব দাশ পুরকায়স্থের কার্যালয়ে হাজির করা হয়। সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাদের সাজা দেন ইউএনও।

ঘটনাটির এখানেই মূল আইনগত প্রশ্নটি তৈরি হয়েছে—পুলিশের অভিযানে আগে আটক হওয়া ব্যক্তিদের পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নিয়ে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে বিচার করা হলে, সেটি মোবাইল কোর্ট আইনের নির্ধারিত এখতিয়ার ও প্রক্রিয়ার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ?

মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯-এর ৬ ধারায় ক্ষমতাপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নির্দিষ্ট তফসিলভুক্ত অপরাধ তার “সম্মুখে সংঘটিত বা উদ্ঘাটিত” হলে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলেই আমলে নিয়ে, অভিযুক্ত ব্যক্তি অভিযোগ স্বীকার করলে আইনে নির্ধারিত দণ্ড দিতে পারেন। অর্থাৎ মোবাইল কোর্টের ক্ষমতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—অপরাধটি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে সংঘটিত বা তাঁর সামনে উদ্ঘাটিত হওয়া এবং আইনে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা।

আর আইনের ৭ ধারায় বলা হয়েছে, অভিযোগ আমলে নেওয়ার পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে লিখিতভাবে সংক্ষিপ্ত অভিযোগ গঠন করে তা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পড়ে ও বুঝিয়ে শুনাতে হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তি অভিযোগ স্বীকার করলে সেই স্বীকারোক্তি লিখিতভাবে লিপিবদ্ধ করতে হবে এবং অভিযুক্ত ও উপস্থিত সাক্ষীদের স্বাক্ষর বা টিপসই নেওয়ার বিধান রয়েছে।

সাতকানিয়ার ঘটনায় পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ছয় ব্যক্তিকে প্রথমে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে আটক করা হয়। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নিয়ে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। তাহলে আইনগতভাবে প্রশ্ন উঠতেই পারে, মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯-এর ৬ ধারায় বর্ণিত “তাহার সম্মুখে সংঘটিত বা উদ্ঘাটিত” শর্তটি কীভাবে পূরণ হলো। কারণ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যদি আটকের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকেন এবং পরে তাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করে, তাহলে সেই ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে মোবাইল কোর্টের তাৎক্ষণিক বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগের ভিত্তি কী ছিল?

ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ৬১ ধারায় বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ ছাড়া গ্রেপ্তারের পর ২৪ ঘণ্টার বেশি পুলিশ হেফাজতে রাখার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আর ১৬৭ ধারায় বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত শেষ করা সম্ভব না হলে এবং অভিযোগের ভিত্তি থাকার মতো কারণ থাকলে পুলিশকে নিকটস্থ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে মামলার ডায়েরির সংশ্লিষ্ট অংশ পাঠানোর পাশাপাশি আসামিকে সেই ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠাতে হবে।

এ কারণে সাতকানিয়ার ঘটনায় যদি ছয় ব্যক্তিকে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করে থাকে এবং পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হাজির করা হয়ে থাকে, তাহলে সেই প্রক্রিয়াটি ফৌজদারি কার্যবিধির সংশ্লিষ্ট বিধানের সঙ্গে কীভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ—তা প্রশ্নের বিষয়।

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে সম্প্রতি মাদকবিরোধী অভিযানে আটক পাঁচ ব্যক্তিকে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সোপর্দ না করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেওয়ার ঘটনায় ঘোড়াঘাট আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোস্তানছির রহমান আইনগত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর মিস কেস নং-০১/২০২৬ (ঘোড়াঘাট) মামলায় দেওয়া আদেশে তৎকালীন ওসি মো. শহিদুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। তাকে আগামী ২৭ অক্টোবর সকাল ১০টায় আদালতে স্বশরীরে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযানসংক্রান্ত জিডি, আটক ব্যক্তিদের সোপর্দকরণ, ফরওয়ার্ডিংসহ প্রয়োজনীয় নথি আদালতে উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘোড়াঘাটের আদেশে ফৌজদারি কার্যবিধির ৬১ ও ১৬৭ ধারার বিধানও উল্লেখ করা হয়েছে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, পুলিশ আটক ব্যক্তিদের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির না করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট/সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে পাঠিয়েছে। ফলে ওই প্রক্রিয়া আইন ও বিধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে।

জানা যায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর ঘোড়াঘাটের সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আব্দুল্লাহ আল-মামুন কাওসার শেখ ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করেন। ওই কার্যক্রমে পাঁচজনের মধ্যে চারজনকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং একজনকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

ঘোড়াঘাটের ঘটনার সঙ্গে সাতকানিয়ার ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিল হলো—পুলিশের হাতে আটক ব্যক্তিদের পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

আইনজীবীদের মতে, মোবাইল কোর্টের ক্ষেত্রে ঘটনাস্থল ও থানায় নিয়ে যাওয়ার পরবর্তী পর্যায় এক বিষয় নয়। কোনো অপরাধ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে উদ্ঘাটিত হলে তিনি আইনে নির্ধারিত শর্তে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারেন। কিন্তু পুলিশ আগে কাউকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়ার পর সেই ব্যক্তিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হাজির করলে সেই প্রক্রিয়ার আইনগত ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহাকারী পাবলিক প্রসিকিউটর আইনজীবী মুহাম্মদ এনামুল হক বলেন, ‘মোবাইল কোর্ট আইনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দিষ্ট ক্ষমতা রয়েছে। বিশেষ করে মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯-এর ৬ ধারায় অপরাধ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ‘সম্মুখে সংঘটিত বা উদ্ঘাটিত’ হওয়ার যে বিষয়টি বলা হয়েছে, সেটি এখানে গুরুত্বপূর্ণ। আটকের সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে না থাকলে এবং পুলিশ পরে আটক ব্যক্তিদের তাঁর কাছে নিয়ে গেলে, সেই ব্যক্তিদের মোবাইল কোর্টে বিচার করার আইনগত ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।’

এ বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাতকানিয়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীম জানান, তিনি যোগদানের পর থেকে গত এক সপ্তাহে মাদকবিরোধী অভিযানে ৩০ জনের মতো আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকজনকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হাজির করে সাজা দেওয়া হয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যদি আটকের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকেন এবং পুলিশই আগে ব্যক্তিদের আটক করে পরে তাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার বিষয়ে জানতে চাইলে মন্তব্য করতে রাজি হননি ওসি।

অন্যদিকে, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজীব দাশ পুরকায়স্থের মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

টাকা না পেলে ফেসবুকে ছবি ছড়িয়ে দেন ওসি!

জাহেদুল ইসলাম প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১:১১ পিএম
টাকা না পেলে ফেসবুকে ছবি ছড়িয়ে দেন ওসি!

টাকা না দিলে থানায় আটক ব্যক্তিদের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীমের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, আটক ব্যক্তি বা তাঁদের পরিবারের কাছ থেকে অর্থ দাবি করা হয়। সেই অর্থ না পেলে থানায় তোলা ছবি বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও পেজে ছড়িয়ে দিয়ে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়।

একাধিক অভিযোগকারী দাবি করেছেন, আটক ব্যক্তিদের ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে একই ধরনের নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে না। তাঁদের অভিযোগ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো প্রেস রিলিজে আটক ব্যক্তির ছবি ব্লার করা অবস্থায় দেওয়া হলেও, একই ব্যক্তির অব্লার ছবি এর আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে এমন ভিন্নতা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। তাঁদের দাবি, যদি কোনো ব্যক্তির পরিচয় গোপন রাখার প্রয়োজন থাকে, তবে সেই নীতি সবক্ষেত্রেই সমানভাবে অনুসরণ করা উচিত। অন্যথায় বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ভুক্তভোগী কয়েকটি পরিবারের অভিযোগ, কোনো ব্যক্তি আটকের পর আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই তাঁর ছবি ফেসবুকে প্রকাশ হয়ে যায়। এতে আদালতে বিচার শুরুর আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার সামাজিকভাবে চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে চাকরি, ব্যবসা ও পারিবারিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে সাতকানিয়া থানায় আটক একাধিক ব্যক্তির ছবি প্রেস রিলিজ প্রকাশের আগেই ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, থানার ভেতরে তোলা ছবি কীভাবে এত দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পৌঁছে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, আমার এক স্বজনকে আটকের পর বিভিন্নভাবে টাকার কথা বলা হয়। টাকা দিতে না পারার কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখি থানায় তোলা তাঁর ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। পরে পরিচিতজনরা ফোন করে জানতে চান কী হয়েছে। এতে আমরা সামাজিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ি।

আরেক ভুক্তভোগীর ভাষ্য, আইনি প্রক্রিয়া চলার আগেই একজনের ছবি এভাবে প্রকাশ করে দেওয়া ঠিক নয়। পরে মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেও সমাজের মানুষের কাছে সেই অপবাদ থেকেই যায়।

আরেকজন অভিযোগ করেন, ছবি প্রকাশ করে সামাজিক চাপ তৈরি করা হয় বলে আমাদের মনে হয়েছে। এতে পরিবার ভয় ও মানসিক চাপে থাকে। আমরা চাই, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য বের করা হোক।

আরেক ভুক্তভোগী বলেন, কোনো ব্যক্তি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে তাঁর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া তাঁর সম্মান ও পরিবারের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

আইনজীবীদের মতে, কোনো ব্যক্তি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে তাঁকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা কিংবা তাঁর ছবি অপ্রয়োজনীয়ভাবে প্রকাশ করা ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এতে অভিযুক্ত ব্যক্তি পরবর্তীতে নির্দোষ প্রমাণিত হলেও সামাজিক ক্ষতি পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, পুলিশি হেফাজতে থাকা ব্যক্তির ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে কঠোর সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক, তদন্তাধীন বা বিচারাধীন মামলার ক্ষেত্রে এমন ছবি প্রকাশ ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মানবাধিকারের প্রশ্নও তৈরি করতে পারে।

এ বিষয়ে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীমের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে ছুটিতে থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

যদিও এর আগে কয়েকবার এ বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেছিলেন, থানা থেকে কোনো ব্যক্তির ছবি ফাঁস করা হয় না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ছবি ছড়ায়, সেগুলোর উৎস সম্পর্কে  জানা নেই।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, পুলিশ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। আইন অমান্য করার কোনো সুযোগ নেই। যদি এ ধরনের কোনো ঘটনা সত্যিই ঘটে থাকে, তাহলে বিষয়টি আমি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখব।

বান্দরবানে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:০৮ পিএম
বান্দরবানে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত

মুহাম্মদ আলী,বান্দরবান  প্রতিনিধি:

‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা ও যুব মেলাসহ নানা আয়োজনে বান্দরবানে জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে।

রবিবার (১ নভেম্বর) সকালে বান্দরবান শহরের বালাঘাটায় যুব ভবনে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম।

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কনভেনিং কমিটির আহ্বায়ক অংজাই উই চাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এসএম হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ সরদার, জেলা জামায়াতের আমীর এসএম আব্দুস সালাম আজাদ,বান্দরবান ইসলামিক ফাউণ্ডেশন উপপরিচালক মো সেলিম উদ্দিন,বান্দরবান প্রেসক্লাব সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চু,বিএনপি নেতা মো.আবু তাহের।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বান্দরবান যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক এনায়েত করিম। এ সময় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ডিপিসি মোখলেসুর রহমান, বান্দরবানের বিশিষ্ট সাংবাদিক মুহাম্মদ আলী, বালাঘাটা ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো:আলী’সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি, যুব সংগঠক ও তরুণ-তরুণীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বান্দরবান সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার লুবু প্রু মারমা।

দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত র‍্যালিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি যুব মেলায় তরুণদের কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানের বিভিন্ন সুযোগ তুলে ধরা হয়।

সভায় তরুণ উদ্যোক্তাদের মাঝে ২লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ঋণের চেক বিতরণ ও ৩টি যুব সংগঠনের নিবন্ধন সনদ প্রদান করা হয়।

বক্তারা বলেন,দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় যুবসমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠা এবং দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করতে হবে।

বান্দরবানে এবারও শীর্ষে ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:০৫ পিএম
বান্দরবানে এবারও শীর্ষে ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’

মোহাম্মদ আবুল হাশেম লামা প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ হলেও বরাবরের মতো এবারও এইচ.এস.সি পরীক্ষায় শতভাগ পাশ করে ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের বোধিছড়াস্থ ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’। এ প্রতিষ্ঠান থেকে চলতি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ৬০ জনেই পাশ করেছে। এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস পেয়েছে ১৭ জন, এতে পাশের হার শতভাগ। সে মতে জেলার অন্যান্য কলেজের চেয়ে ফলাফলে এগিয়ে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা যায়, এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় বান্দরবান জেলার ১৪ টি কলেজ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ থেকে ৩টি বিভাগে ৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন ১৪জন, এতে ‘এ’ প্লাস ৫জন ও ‘এ’ গ্রেড পায় ৯জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন ১২জন, এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস ৪জন ও ‘এ’ গ্রেড পায় ৮জন। মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষায় ৩৪জন অংশ গ্রহণ করে ‘এ’ প্লাস ৮জন, ২৫ জন ‘এ’ গ্রেড ও ১ জন ‘এ’ মাইনেস পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। প্রকাশিত ফলাফলে শতভাগ উত্তীর্ণ কলেজের মধ্যে শিক্ষার্থী ও ‘এ’ প্লাস সংখ্যায় কোয়ান্টাম কসমো কলেজের অবস্থান জেলায় শীর্ষে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছেন।

এদিকে উপজেলার সরকারী মাতামুহুরী কলেজ থেকে একই পরীক্ষায় অংশ নেন ৭৫৫জন। এর মধ্যে পাশ করে মাত্র ২৭৮জন। এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস পায় ৫জন, পাশের হার ৩৬.৮২ । চাম্বি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে পরীক্ষা দেয় ৪৯জন, এর মধ্যে পাশ করে ৬জন, পাশের হার ১২.৭৭। হেফাজতুর রহমান কলেজ থেকে পর এতে পাশের হার শরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ২৪জন শিক্ষার্থী, পাশ করে ১১জন, পাশের হার ৪৬.০০। লামা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ১৭জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ৬জন, পাশের হার ৩৫.২৯।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এ প্লাস পাওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা কলেজের হোস্টেলে ছিলাম। আমাদের শিক্ষকরা যে পরিমাণ অক্লান্ত পরিশ্রম করে সার্বক্ষনিক মনিটরিং এ রেখেছেন তাতে ভালো ফলাফল না করে উপায় নেই। তাই সকল শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

দিক-নির্দেশনা, প্রশিক্ষিত শিক্ষকদের আন্তরিক পাঠদান, বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ক্লাশ পরীক্ষা গ্রহণ, ফলাফল প্রদান এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশ-এ ফলাফল অর্জনে ভূমিকা রেখেছে বলে জানান, কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ অধ্যক্ষ ছালেহ আহমেদ।
বান্দরবান জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন জানায়, সর্বোচ্চ এ প্লাস ও শতভাগ পাশের হারে শীর্ষ স্থান অর্জন করে লামা উপজেলার ভারমূর্তি উজ্জ্বল করেছে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ। কলেজগুলোর এ র‌্যাংকিং করা হয় মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা, জিপিএ-৫ ও পাশের হারের ভিত্তিতে।