সাতকানিয়া উপজেলা ভূমি অফিসে ঘুষ বাণিজ্যের হোতা রিমন বড়ুয়া বদলি
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা ভূমি অফিস—সরকারি অফিস হলেও কাজের গন্ধের চেয়ে ঘুষের দুর্গন্ধই যেন বেশি ছড়াচ্ছিল সেখানে। ভূমি সংক্রান্ত যেকোনো কাজ করতে হলে আগে গুনতে হতো টাকার বান্ডিল। এই ঘুষ বাণিজ্যের মূল নায়ক হিসেবে অভিযুক্ত ছিলেন নাজির কাম ক্যাশিয়ার রিমন বড়ুয়া।
অবশেষে সেই রিমন বড়ুয়াকে সাতকানিয়া থেকে বদলি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখা থেকে রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর পান্না আক্তার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে রিমন বড়ুয়াকে মীরসরাই উপজেলা ভূমি অফিসে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়।
ভূমি অফিসের ভেতরের চিত্রটা যেন ঘুষের এক অঘোষিত আইনেই চলছিল। শুনানির তারিখ নির্ধারণ থেকে রায়ের কপি পাওয়া—সব ক্ষেত্রেই ঘুষ ছাড়া নড়ত না ফাইল। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শুনানির তারিখ ঠিক করতে হলে রিমন বড়ুয়ার হাতে দিতে হতো ৫ হাজার টাকা। না দিলে মাসের পর মাস ঘুরে বেড়াতে হতো অফিসে।
শুনানির পর রায়ের কপি পেতেও একই অঙ্কের ঘুষ দিতে হতো। সরকারি ফি দিলেও রিমনের পকেটে ঘুষ না দিলে কপির জন্য অপেক্ষা করতে হতো বছরের পর বছর।
নোমান নামে স্থানীয় এক ব্যাংক কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভূমি অফিসে গেলে মনে হয় আমরা দেশের নাগরিক না, ভিক্ষুক। শুনানির তারিখ নিতে ঘুষ, রায়ের কপি নিতে ঘুষ—এ কেমন রাষ্ট্র!
স্থানীয় সাংবাদিক হারুন আর রশিদ জানান, তাঁর এক আত্মীয় থেকে রিমন বড়ুয়া সাত হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, রিমন বড়ুয়া অফিসের মূল ফাইল নিয়ন্ত্রণ করতেন। তাঁর অনুমতি ছাড়া কোনো কাগজ নড়ত না। তিনি ঘুষের বিনিময়ে ফাইল “উপরে পাঠাতেন”, আর যাঁরা টাকা দিতেন না, তাঁদের ফাইল বছরের পর বছর আটকে থাকত।
রিমন বড়ুয়াকে বদলির খবর ছড়িয়ে পড়তেই সাতকানিয়ায় স্বস্তির বাতাস বইছে। কেউ বলছেন— দেরিতে হলেও ভালো সিদ্ধান্ত। কেউ আবার প্রশ্ন তুলছেন—শুধু বদলি করলেই কি সমস্যা মিটবে?
এক স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, যদি তাকে শুধু মীরসরাই পাঠিয়ে দায়িত্ব শেষ মনে করে প্রশাসন, তাহলে সে নতুন জায়গায় আবার একই কাজ শুরু করবে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়া উচিত।
সম্প্রতি দায়িত্ব নেওয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামছুজ্জামান ইতিমধ্যেই অফিসে শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বে অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া শুরু হয়েছে।








