সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

প্রকৃতির শত্রু প্রকৌশলী সবুজ কুমার দে

গাছ কেটে উন্নয়ন দেখানোর প্রক্রিয়া এলজিইডি’র

জাহেদুল ইসলাম প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৫, ৯:৩১ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
গাছ কেটে উন্নয়ন দেখানোর প্রক্রিয়া এলজিইডি’র

চট্টগ্রামের দক্ষিণের জনবহুল উপজেলা সাতকানিয়া। চারপাশে পাহাড়, নদী আর শত শত গাছের ছায়ায় ঘেরা এই অঞ্চলের মানুষ প্রকৃতিপ্রেমী হিসেবেই পরিচিত। এই উপজেলার প্রাণকেন্দ্র সাতকানিয়া উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে রাস্তার মাথা পর্যন্ত একটি চার কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক—যা বরাবরই ছিল শান্ত, ছায়াঘেরা, প্রশান্তিময় এক চলাচলের পথ। কিন্তু এখন সেই সড়কজুড়ে ঝুলছে এক ভয়ংকর শিরোনাম—“গাছ কাটবে এলজিইডি”।

‘চট্টগ্রাম বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ (সিডিডব্লিউএসপি)’ নামে একটি প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এই সড়ক প্রশস্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হচ্ছে, উপজেলা সদরের সংযোগ উন্নয়ন। কিন্তু বাস্তবে এটি কোনো প্রধান সড়ক নয়।

তারপরও, ৮ কোটি ৪৭ লাখ ৭৯ হাজার টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নে এখন এলজিইডি প্রস্তুত ৭৮২টি ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ কেটে ফেলতে। এবং এই প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন উপজেলা প্রকৌশলী সবুজ কুমার দে—যার বক্তব্য অনুযায়ী, “উন্নয়নের স্বার্থে কিছু গাছ কাটা অনিবার্য।” কিন্তু স্থানীয়দের প্রশ্ন—উন্নয়ন নাকি ধ্বংস?

২০২৪–২৫ অর্থবছরের এই প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন উপজেলায় সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ হাতে নেয় এলজিইডি। কিন্তু প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সংযোগ সড়কগুলোর উন্নয়ন। সাতকানিয়ার যে সড়কটিতে এখন গাছ কাটার প্রস্তুতি চলছে—তা উপজেলা সদরের প্রধান সংযোগ নয়।

বাসিন্দাদের ভাষায়, এ পথ দিয়ে সরকারি দপ্তরের কিছু কর্মকর্তা ও কিছু শিক্ষার্থী যাতায়াত করেন, কিন্তু সাধারণ মানুষ বেশি ব্যবহার করে রাস্তার মাথা–বাঁশখালী সড়ক।

সাতকানিয়া পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রবিউল আলম বলেন, এই সড়কটি মূল যাতায়াতপথ নয়। উপজেলার অধিকাংশ মানুষ অন্য সড়ক ব্যবহার করে। অথচ এখানে কোটি কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে শুধু কিছু গাছ কেটে প্রশস্ত করার জন্য। এটি অযৌক্তিক ও অপচয়মূলক উন্নয়ন।

এলজিইডির প্রকল্প নথি অনুযায়ী, সড়কটির কাজ পায় কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার মেসার্স বসুন্ধরা নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ঠিকাদার কাজ শুরুর অনুমতি পায় ২০২৫ সালের জুনে, এবং প্রকল্প শেষ করার সময়সীমা নির্ধারিত হয় ২০২৬ সালের ডিসেম্বর। কিন্তু প্রকল্প শুরুর পর তিন মাসেও মাঠপর্যায়ে কোনো বড় কাজ হয়নি—শুরু হয়েছে শুধু “গাছ কাটার প্রস্তুতি”।

উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে রাস্তার মাথা পর্যন্ত হেঁটে গেলে চোখে পড়ে সবুজের মেলা। ডালপালা মেলে দাঁড়িয়ে থাকা শত শত আম, জাম, ছাতিয়ান, বকুল, নিম, সেগুন, মহুয়া, কর্পূর, কাঁঠাল, মেহগনি ও ঔষধি গাছ। গরমের দিনে এই রাস্তা দিয়ে চললে সূর্যের তীব্র রোদ তেমন স্পর্শ করে না। পুরো সড়ক যেন প্রকৃতির ছায়াঘেরা এক টানেল। কিন্তু এখন সেই ছায়াঘেরা রাস্তার পাশে লাল দাগ টানা হয়েছে প্রতিটি গাছে। লাল রঙের দাগ মানেই মৃত্যুবার্তা—যতক্ষণে ঠিকাদারি করাত চলবে, ততক্ষণে হারিয়ে যাবে এই সবুজ আচ্ছাদন।

দক্ষিণ ঢেমশার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, এই গাছগুলো শুধু সৌন্দর্য বাড়ায়নি, বাতাস ঠান্ডা রাখত। রোদে মানুষ এই গাছের নিচে বিশ্রাম নিত। এখন সেগুলো কেটে ফেলা হবে—তাহলে আমাদের শ্বাস নেওয়ার বাতাসও গরম হয়ে যাবে।

তিনি যোগ করেন, উন্নয়ন চাই, কিন্তু পরিবেশ ধ্বংস করে নয়। নতুন গাছ লাগালেও সেই গাছ বড় হতে অন্তত দশ বছর লাগবে। এই দশ বছর আমরা কিসে বাঁচব?

সাতকানিয়ার স্থানীয় প্রকৃতিপ্রেমী ও পরিবেশ আন্দোলন কর্মী মলিন বড়ুয়া বলেন, উন্নয়ন হোক, কিন্তু সেটা যেন প্রকৃতি হত্যার মাশুলে না হয়। প্রতিটি গাছ একেকটি প্রাণ। সবুজ কুমার দে সাহেব বলছেন, এক গাছের বদলে দুই গাছ লাগাবেন। কিন্তু সেটি কোথায় লাগাবেন? কে দেখবে? এই গাছগুলো ছিল জীবন্ত ছায়া, পাখির আশ্রয়। সেগুলো কেটে দিলে এলাকার জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হবে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের মাদার্শা রেঞ্জ কর্মকর্তা নাজমুল হোসেন বলেন, উপজেলা চত্বর থেকে রাস্তার মাথা পর্যন্ত ৭৮২টি গাছ পরিমাপ করা হয়েছে। এর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ লাখ ১৮ হাজার ৯৪২ টাকা। এই মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট ও আয়কর যোগ হবে। এরপর এলজিইডি কর্তৃপক্ষ দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে গাছগুলো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করতে পারবে। অর্থাৎ, সবুজ বিক্রির প্রশাসনিক অনুমতি এখন শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা।

এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী সবুজ কুমার দে বলেন, সড়কের প্রস্থ ১২ ফুট থেকে ১৮ ফুট করা হচ্ছে। ফলে কিছু গাছ কাটা লাগবে। কিন্তু চিন্তার কিছু নেই—আমরা প্রতিটি কাটা গাছের বদলে দুটি করে নতুন গাছ লাগাব।

তার এই বক্তব্য নিয়ে স্থানীয়রা তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। তাদের মতে, যে সংস্থা গাছ লাগানোর কথা বলে সেটিই এখন করাত চালাচ্ছে—এ যেন নিজেরই সন্তান হত্যা। তারা বলছেন, যে প্রকৌশলীর নামে সবুজ, সে-ই আজ সবুজ হত্যা করছে।

পরিবেশবিদরা বলছেন, এলজিইডির কথিত ‘দুই গাছ লাগানোর’ পরিকল্পনা মূলত লিখিত কাগজেই থেকে যাবে। কারণ সড়ক উন্নয়নের পর একই স্থানে পুনরায় গাছ লাগানোর জায়গাই থাকবে না। তাদের মতে, এলজিইডি সব সময় উন্নয়নের নামে স্থানীয় প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংসের পথ বেছে নেয়। সবুজ কুমার দে–র নেতৃত্বে এই প্রকল্প তারই ধারাবাহিকতা।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, সাতকানিয়ার এই সড়ক থেকে ৭৮২টি গাছ কেটে ফেলা হলে তাপমাত্রা গড়ে ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়বে। এছাড়া পাখি, কাঠবিড়ালি, বাদুড়, মৌমাছির মতো ক্ষুদ্রপ্রাণীরা আশ্রয় হারাবে। তাদের মতে, একটি এলাকায় ৫০০টির বেশি গাছ কাটলে সেটি পরিবেশ বিপর্যয়ের শামিল। এখানে প্রায় ৮০০ গাছ কাটা হবে—এটি চরম অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত।

উপজেলার তরুণ সংগঠক মো. সায়েদ হোসেন মানিক বলেন, এই গাছগুলো আমাদের শৈশবের অংশ। প্রতিটি গাছে পাখির বাসা, শিশুরা খেলে। এখন সেগুলো কেটে দিলে সাতকানিয়া আর সাতকানিয়া থাকবে না।

অন্যদিকে কৃষক আবদুল হালিম বলেন, আমাদের জমির পাশ দিয়ে গাছগুলো ছিল। গরমে সেই ছায়া ফসল বাঁচাত। এখন সূর্যের তাপে জমিও পুড়ে যাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাতকানিয়ার মতো গ্রামীণ এলাকায় বড় আকারের বৃক্ষনিধন হলে তা শুধু স্থানীয় নয়, বরং আঞ্চলিক পরিবেশেও প্রভাব ফেলে। বাতাসে ধূলিকণার পরিমাণ বাড়বে, সড়কের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে, মানুষের হাঁপানি ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা বাড়বে।

চিকিৎসকদের মতে, যখন গাছ কেটে সড়ক খোলা হয়, তখন সূর্যের তাপমাত্রা সরাসরি মানুষের শরীরে পড়ে। এটি স্থানীয়ভাবে ‘হিট আইল্যান্ড এফেক্ট’ তৈরি করে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ভয়ংকর।

টাকা না পেলে ফেসবুকে ছবি ছড়িয়ে দেন ওসি!

জাহেদুল ইসলাম প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১:১১ পিএম
টাকা না পেলে ফেসবুকে ছবি ছড়িয়ে দেন ওসি!

টাকা না দিলে থানায় আটক ব্যক্তিদের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীমের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, আটক ব্যক্তি বা তাঁদের পরিবারের কাছ থেকে অর্থ দাবি করা হয়। সেই অর্থ না পেলে থানায় তোলা ছবি বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও পেজে ছড়িয়ে দিয়ে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়।

একাধিক অভিযোগকারী দাবি করেছেন, আটক ব্যক্তিদের ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে একই ধরনের নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে না। তাঁদের অভিযোগ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো প্রেস রিলিজে আটক ব্যক্তির ছবি ব্লার করা অবস্থায় দেওয়া হলেও, একই ব্যক্তির অব্লার ছবি এর আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে এমন ভিন্নতা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। তাঁদের দাবি, যদি কোনো ব্যক্তির পরিচয় গোপন রাখার প্রয়োজন থাকে, তবে সেই নীতি সবক্ষেত্রেই সমানভাবে অনুসরণ করা উচিত। অন্যথায় বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ভুক্তভোগী কয়েকটি পরিবারের অভিযোগ, কোনো ব্যক্তি আটকের পর আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই তাঁর ছবি ফেসবুকে প্রকাশ হয়ে যায়। এতে আদালতে বিচার শুরুর আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার সামাজিকভাবে চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে চাকরি, ব্যবসা ও পারিবারিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে সাতকানিয়া থানায় আটক একাধিক ব্যক্তির ছবি প্রেস রিলিজ প্রকাশের আগেই ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, থানার ভেতরে তোলা ছবি কীভাবে এত দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পৌঁছে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, আমার এক স্বজনকে আটকের পর বিভিন্নভাবে টাকার কথা বলা হয়। টাকা দিতে না পারার কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখি থানায় তোলা তাঁর ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। পরে পরিচিতজনরা ফোন করে জানতে চান কী হয়েছে। এতে আমরা সামাজিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ি।

আরেক ভুক্তভোগীর ভাষ্য, আইনি প্রক্রিয়া চলার আগেই একজনের ছবি এভাবে প্রকাশ করে দেওয়া ঠিক নয়। পরে মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেও সমাজের মানুষের কাছে সেই অপবাদ থেকেই যায়।

আরেকজন অভিযোগ করেন, ছবি প্রকাশ করে সামাজিক চাপ তৈরি করা হয় বলে আমাদের মনে হয়েছে। এতে পরিবার ভয় ও মানসিক চাপে থাকে। আমরা চাই, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য বের করা হোক।

আরেক ভুক্তভোগী বলেন, কোনো ব্যক্তি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে তাঁর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া তাঁর সম্মান ও পরিবারের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

আইনজীবীদের মতে, কোনো ব্যক্তি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে তাঁকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা কিংবা তাঁর ছবি অপ্রয়োজনীয়ভাবে প্রকাশ করা ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এতে অভিযুক্ত ব্যক্তি পরবর্তীতে নির্দোষ প্রমাণিত হলেও সামাজিক ক্ষতি পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, পুলিশি হেফাজতে থাকা ব্যক্তির ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে কঠোর সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক, তদন্তাধীন বা বিচারাধীন মামলার ক্ষেত্রে এমন ছবি প্রকাশ ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মানবাধিকারের প্রশ্নও তৈরি করতে পারে।

এ বিষয়ে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীমের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে ছুটিতে থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

যদিও এর আগে কয়েকবার এ বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেছিলেন, থানা থেকে কোনো ব্যক্তির ছবি ফাঁস করা হয় না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ছবি ছড়ায়, সেগুলোর উৎস সম্পর্কে  জানা নেই।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, পুলিশ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। আইন অমান্য করার কোনো সুযোগ নেই। যদি এ ধরনের কোনো ঘটনা সত্যিই ঘটে থাকে, তাহলে বিষয়টি আমি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখব।

বান্দরবানে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:০৮ পিএম
বান্দরবানে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত

মুহাম্মদ আলী,বান্দরবান  প্রতিনিধি:

‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা ও যুব মেলাসহ নানা আয়োজনে বান্দরবানে জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে।

রবিবার (১ নভেম্বর) সকালে বান্দরবান শহরের বালাঘাটায় যুব ভবনে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম।

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কনভেনিং কমিটির আহ্বায়ক অংজাই উই চাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এসএম হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ সরদার, জেলা জামায়াতের আমীর এসএম আব্দুস সালাম আজাদ,বান্দরবান ইসলামিক ফাউণ্ডেশন উপপরিচালক মো সেলিম উদ্দিন,বান্দরবান প্রেসক্লাব সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চু,বিএনপি নেতা মো.আবু তাহের।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বান্দরবান যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক এনায়েত করিম। এ সময় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ডিপিসি মোখলেসুর রহমান, বান্দরবানের বিশিষ্ট সাংবাদিক মুহাম্মদ আলী, বালাঘাটা ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো:আলী’সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি, যুব সংগঠক ও তরুণ-তরুণীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বান্দরবান সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার লুবু প্রু মারমা।

দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত র‍্যালিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি যুব মেলায় তরুণদের কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানের বিভিন্ন সুযোগ তুলে ধরা হয়।

সভায় তরুণ উদ্যোক্তাদের মাঝে ২লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ঋণের চেক বিতরণ ও ৩টি যুব সংগঠনের নিবন্ধন সনদ প্রদান করা হয়।

বক্তারা বলেন,দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় যুবসমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠা এবং দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করতে হবে।

বান্দরবানে এবারও শীর্ষে ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:০৫ পিএম
বান্দরবানে এবারও শীর্ষে ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’

মোহাম্মদ আবুল হাশেম লামা প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ হলেও বরাবরের মতো এবারও এইচ.এস.সি পরীক্ষায় শতভাগ পাশ করে ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের বোধিছড়াস্থ ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’। এ প্রতিষ্ঠান থেকে চলতি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ৬০ জনেই পাশ করেছে। এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস পেয়েছে ১৭ জন, এতে পাশের হার শতভাগ। সে মতে জেলার অন্যান্য কলেজের চেয়ে ফলাফলে এগিয়ে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা যায়, এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় বান্দরবান জেলার ১৪ টি কলেজ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ থেকে ৩টি বিভাগে ৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন ১৪জন, এতে ‘এ’ প্লাস ৫জন ও ‘এ’ গ্রেড পায় ৯জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন ১২জন, এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস ৪জন ও ‘এ’ গ্রেড পায় ৮জন। মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষায় ৩৪জন অংশ গ্রহণ করে ‘এ’ প্লাস ৮জন, ২৫ জন ‘এ’ গ্রেড ও ১ জন ‘এ’ মাইনেস পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। প্রকাশিত ফলাফলে শতভাগ উত্তীর্ণ কলেজের মধ্যে শিক্ষার্থী ও ‘এ’ প্লাস সংখ্যায় কোয়ান্টাম কসমো কলেজের অবস্থান জেলায় শীর্ষে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছেন।

এদিকে উপজেলার সরকারী মাতামুহুরী কলেজ থেকে একই পরীক্ষায় অংশ নেন ৭৫৫জন। এর মধ্যে পাশ করে মাত্র ২৭৮জন। এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস পায় ৫জন, পাশের হার ৩৬.৮২ । চাম্বি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে পরীক্ষা দেয় ৪৯জন, এর মধ্যে পাশ করে ৬জন, পাশের হার ১২.৭৭। হেফাজতুর রহমান কলেজ থেকে পর এতে পাশের হার শরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ২৪জন শিক্ষার্থী, পাশ করে ১১জন, পাশের হার ৪৬.০০। লামা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ১৭জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ৬জন, পাশের হার ৩৫.২৯।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এ প্লাস পাওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা কলেজের হোস্টেলে ছিলাম। আমাদের শিক্ষকরা যে পরিমাণ অক্লান্ত পরিশ্রম করে সার্বক্ষনিক মনিটরিং এ রেখেছেন তাতে ভালো ফলাফল না করে উপায় নেই। তাই সকল শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

দিক-নির্দেশনা, প্রশিক্ষিত শিক্ষকদের আন্তরিক পাঠদান, বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ক্লাশ পরীক্ষা গ্রহণ, ফলাফল প্রদান এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশ-এ ফলাফল অর্জনে ভূমিকা রেখেছে বলে জানান, কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ অধ্যক্ষ ছালেহ আহমেদ।
বান্দরবান জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন জানায়, সর্বোচ্চ এ প্লাস ও শতভাগ পাশের হারে শীর্ষ স্থান অর্জন করে লামা উপজেলার ভারমূর্তি উজ্জ্বল করেছে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ। কলেজগুলোর এ র‌্যাংকিং করা হয় মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা, জিপিএ-৫ ও পাশের হারের ভিত্তিতে।