সাতকানিয়ার পাহাড়ের মাটি পুড়বে বাঁশখালীতে!
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার পশ্চিমে এওচিয়ার ছনখোলার উত্তর পাশে, পার্শ্ববর্তী বাঁশখালী উপজেলার সাধনপুর ইউনিয়নের লটমনি মৌজায় অবস্থিত অন্তত পাঁচটি অবৈধ ইটভাটায় এওচিয়ার পাহাড়ের মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। একই এলাকায় পাশাপাশি গড়ে ওঠা এইচবিএম ইটভাটা, ওয়ানস্টার ইটভাটা, এএসসি ইটভাটা এবং জেবিএম ইটভাটা — সবগুলোরই মাটি যাচ্ছে এওচিয়ার পাহাড় থেকে।
সূত্র জানায়, সম্প্রতি এএসসি ইটভাটার মালিকানা মোর্শেদ কোম্পানি থেকে পরিবর্তিত হয়ে লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদের শাহ আলম কোম্পানির হাতে গেছে। নতুন মালিকানা আসার পর ভাটাটি ফের প্রোডাকশনে গেছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, পূর্ব মালিক মোর্শেদ কোম্পানির বিরুদ্ধে বারবার পাহাড় কাটার অভিযোগ উঠায় পরিবেশগত জটিলতা এড়াতে তারা ভাটা ছেড়ে দেন।
জানা গেছে, ওয়ানস্টার, এএসসি, এইচবিএম ও জেবিএম — এই চারটি ইটভাটা লটমনি মৌজায় হলেও তাদের উৎপাদনের মূল কাঁচামাল আসে এওচিয়া ইউনিয়নের ছনখোলার পাহাড় থেকে। প্রশাসনিক জটিলতায় সাতকানিয়া উপজেলা প্রশাসন এওচিয়ায় পাহাড়কাটা দেখতে পেলেও লটমনি মৌজায় অভিযান চালাতে পারে না, কারণ জায়গাটি বাঁশখালী উপজেলার আওতাধীন। ফলে, এই ভাটাগুলো বারবার আইনি ঝামেলা এড়িয়ে বেপরোয়াভাবে পাহাড় কেটে মাটি সংগ্রহ করে যাচ্ছে। বিপরীতে, একই এলাকার এওচিয়ার বৈধ ভাটাগুলোকেই জরিমানা গুনতে হচ্ছে।
একজন স্থানীয় ভাটা মালিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, লটমনি মৌজার ভাটাগুলো আমাদের এলাকার পাহাড় কেটে মাটি নেয়। কিন্তু প্রশাসন তাদের কিছু করতে পারে না, কারণ তারা অন্য উপজেলার। শেষ পর্যন্ত আমরা হয়েই যাই বলির পাঁঠা।
স্থানীয়দের ভাষায়, এটি যেন প্রশাসনিক ফাঁকফোকরকে পুঁজি করে গড়ে ওঠা এক চতুর কারসাজি। যখন সাতকানিয়ার সাংবাদিকরা ভাটাগুলোতে যান, তখন মালিকরা বলেন, এটা বাঁশখালীর এলাকা, সাতকানিয়ার এখতিয়ার নেই। আবার বাঁশখালীর সাংবাদিকরা গেলে তারা দাবি করেন, আমরা মাটি আনছি সাতকানিয়া থেকে, তাই বাঁশখালীর প্রশাসন আমাদের জরিমানা করতে পারে না।
বাস্তবে, খতিয়ানগতভাবে ভিন্ন দুই উপজেলার হলেও ইটভাটাগুলোর অবস্থান একই জোনে — পাশাপাশি। এই প্রশাসনিক বিভাজনের সুযোগেই অবৈধ পাহাড়কাটা বছরের পর বছর অব্যাহত রয়েছে।
বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জামশেদুল ইসলাম বলেন, ওই এলাকার বিষয়টি আমার নজরে আছে। ইতিমধ্যে একটি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে একটি অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করে দিয়েছি। বাকিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে এরই মধ্যে এওচিয়া ইউনিয়নের পাহাড় কাটার এলাকায় যৌথ অভিযান শুরু করেছে সাতকানিয়া উপজেলা প্রশাসন ও সেনাবাহিনী। শনিবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে পরিচালিত অভিযানে পাহাড়কাটা বন্ধে কঠোর তদারকি চালানো হচ্ছে।
সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, আমরা প্রয়োজনে বাঁশখালীর প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে যৌথ অভিযান পরিচালনা করব। ওই চারটি ইটভাটাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।








