জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের ত্রৈমাসিক র্যাংকিংয়ে চট্টগ্রামে শীর্ষে সাতকানিয়া
default
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমে এবার সারা দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছে চট্টগ্রাম জেলা। আর জেলার ১৫টি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি ও দক্ষতা দেখিয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছে সাতকানিয়া উপজেলা।
এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক পরিকল্পনা, ইউনিয়ন পর্যায়ে নিবন্ধন ব্যবস্থার তদারকি, নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি, এবং প্রযুক্তিনির্ভর কর্মপদ্ধতি। উপজেলা প্রশাসন বলছে—এই অর্জন স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করেছে।
আগে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের জন্য ইউনিয়ন অফিসে গিয়ে ফরম পূরণ, নথি জমা ও সিল-মোহরের ঝামেলায় অনেক সময় লেগে যেত। এখন সেই চিত্র বদলে গেছে।
সরকারি “জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন তথ্য সেবা (BDRIS)” সফটওয়্যারের মাধ্যমে সব নিবন্ধন এখন রিয়েল টাইমে হচ্ছে। নাগরিকরা অনলাইনে আবেদন করতে পারছেন, এবং ইউনিয়ন সচিব যাচাই করে তা অনুমোদন দিচ্ছেন।
সাতকানিয়ার ১৭টি ইউনিয়নের প্রতিটি সচিবই এখন এই নিবন্ধন ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ডিজিটালভাবে পরিচালনা করছেন। এতে নিবন্ধনের সময় ও ভোগান্তি উভয়ই কমে এসেছে।
বাংলাদেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রম প্রথম শুরু হয় ২০০৪ সালে। ২০১০ সালে এটি বাধ্যতামূলক হয় এবং ২০২০ সালে সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তরিত হয়।
তবে এখনো অনেক জেলায় এই কার্যক্রমে ধীরগতি রয়েছে—বিশেষ করে পাহাড়ি, চরাঞ্চল ও নদীবিধৌত এলাকায়। সেই প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামের প্রথম স্থান অর্জনকে প্রশাসন এক ঐতিহাসিক সাফল্য হিসেবে দেখছে।
সাতকানিয়ার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা রোজিনা আক্তার নামে এক নবজাতকের মা বলেন, আগে মনে হতো জন্ম নিবন্ধন করা অনেক ঝামেলার। এখন ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে আধঘণ্টার মধ্যে সনদ হাতে পেয়েছি। মোবাইলেও এসএমএস আসে।
অন্যদিকে ঢেমশা ইউনিয়নের বাসিন্দা সবুজ, যিনি সম্প্রতি তাঁর মাতার মৃত্যু নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন, বলেন, আগে মৃত্যু নিবন্ধন করতে মাসখানেক লেগে যেত। এখন অফিসে একবার গিয়ে অনলাইনে করেই পেয়েছি সনদ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, আমরা এই কাজটিকে শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব হিসেবে দেখি না; এটা মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার অংশ। ইউনিয়ন পরিষদ সচিবদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিয়েছি, প্রতিটি ইউনিয়নে অনলাইন নিবন্ধনের নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি, এবং মাসিক মনিটরিং রিপোর্ট বাধ্যতামূলক করেছি।
তিনি আরও বলেন, নাগরিকরা এখন বুঝতে পারছেন, জন্ম নিবন্ধন শুধু স্কুলে ভর্তি নয়, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, সরকারি সেবা—সব কিছুরই মূল চাবিকাঠি। তাই মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিবন্ধনের দিকে ঝুঁকছেন।








