১১ সেপ্টেম্বরের পর ক্রোক
৫ দিনের মধ্যে সরাতে হবে কেরানীহাটে সড়কের উপর থাকা অকেজো ট্রাক-ডাম্পার
দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রাণকেন্দ্র সাতকানিয়ার কেরানীহাট ছুঁয়ে যাওয়া চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ও কেরানীহাট-বান্দরবান মহাসড়ক ধরে প্রতিদিন হাজারো গাড়ি ছুটে চলে। কিন্তু সড়কের এক পাশ দখল করে দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রাখা অকেজো ট্রাক ও ডাম্পারের কারণে যানজট, দুর্ঘটনার ঝুঁকি আর নানামুখী ভোগান্তিতে জর্জরিত স্থানীয় মানুষ। অসহায়ত্বের চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়ে এবার সরাসরি মাঠে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন।
রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মহাসড়কের বিভিন্ন স্পটে অকেজো গাড়ি ফেলে রাখার বিরুদ্ধে অভিযান চালায় সাতকানিয়া উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে এ অভিযানে গাড়িগুলোর সামনে একের পর এক নোটিশ টাঙিয়ে দেওয়া হয়। নোটিশে স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করা হয় — ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে গাড়ি সরাতে হবে। না সরালে গাড়ি ক্রোক করা হবে, নেওয়া হবে আইনি ব্যবস্থা।
মহাসড়কের উপর অকেজো গাড়ি পড়ে থাকার কারণে বছরের পর বছর ধরে স্থানীয়দের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ গাড়িগুলোর কারণে রাস্তার পাশে জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ছে। বড় যানবাহন চলাচলে বেগ পেতে হচ্ছে, দুর্ঘটনার ঝুঁকিও প্রতিনিয়ত বাড়ছে।
স্থানীয়রা বলছেন, এ উদ্যোগ সফল হলে মহাসড়কের পাশে চলমান বিশৃঙ্খলা কিছুটা হলেও কমবে। তবে নিয়মিত মনিটরিং না থাকলে পরিস্থিতি আবারও পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আলমগীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাস্তার পাশে বড় বড় ট্রাক ও ডাম্পার পড়ে থাকে। রাতে আলো কম থাকলে চালকেরা অনেক সময় এ গাড়িগুলো দেখতে পান না। এরই মধ্যে কয়েকটি ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটেছে। বড় দুর্ঘটনা ঘটার আগে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার ছিল অনেক আগেই।
চালক মো. হাছান জানান, গাড়ি চালাতে গিয়ে এসব অকেজো গাড়ির জন্য মহাসড়কের প্রশস্ত অংশ ব্যবহার করতে পারছেন না।
এগুলো সরিয়ে দিলে রাস্তা কিছুটা ফাঁকা হবে, গাড়ি চলাচল সহজ হবে। না হলে যানজট আর দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকে যাবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অনেকদিন ধরে দেখা যাচ্ছে গাড়ি ফেলে রাখা হয়েছে। বারবার বলার পরও কোনো সাড়া মেলেনি। তাই বাধ্য হয়ে নোটিশ টাঙাতে হলো। ১১ সেপ্টেম্বরের পর আর কোনো অনুরোধ নয়, সরাসরি গাড়ি ক্রোক করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, মহাসড়ক কোনো ব্যক্তির মালিকানাধীন জায়গা নয়। এটি জনসাধারণের জন্য। কেউ যদি নিজের ইচ্ছামতো এটিকে অকেজো গাড়ির গুদাম বানাতে চায়, তবে প্রশাসন তা কোনোভাবেই বরদাশত করবে না।








