চট্টগ্রামমুখী মানুষের ঢল: গাড়ির সংকট, অতিরিক্ত ভাড়ায় ভোগান্তি
শুক্রবারের সাপ্তাহিক ছুটি এবং শনিবারের ঈদে মিলাদুন্নবীর সরকারি ছুটি শেষে রোববার সকাল থেকেই চট্টগ্রাম শহরমুখী মানুষের স্রোত নামে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে। বিশেষ করে সাতকানিয়ার কেরানীহাট হয়ে চট্টগ্রামমুখী যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়ে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয় পরিবহন সংকট। ফলে সকাল থেকেই দেখা দেয় চরম ভোগান্তি।
রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার পর থেকেই কেরানীহাটে চট্টগ্রামমুখী গাড়ির সংখ্যা কমে যায়। যেসব গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের। অনেক জায়গায় যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে গাড়ির জন্য। এ কারণে নারী, শিশু এবং বৃদ্ধ যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ছুটি শেষে চট্টগ্রাম শহরের অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যোগ দিতে মানুষ সকাল থেকে ছুটে আসছেন কেরানীহাটে। কিন্তু পর্যাপ্ত গাড়ি না থাকায় একদিকে যেমন তীব্র ভিড় দেখা দিয়েছে, অন্যদিকে কিছু অসাধু পরিবহন মালিক ও চালক অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন।
কেরানীহাটে অপেক্ষমাণ এক যাত্রী জানান, সাধারণত চট্টগ্রাম যেতে ৮০ টাকা ভাড়া লাগে। আজ সকালে ১৫০ টাকাও চাইছে গাড়ির হেলপাররা। গাড়ি কম থাকায় অনেকে নিরুপায় হয়ে বেশি ভাড়ায় যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
একই অভিযোগ করেন কলেজছাত্রী সুমাইয়া আক্তার। তিনি বলেন, সকাল থেকে দাঁড়িয়ে আছি, কিন্তু কোনো গাড়ি ঠিকমতো মিলছে না। যেগুলো আসছে সেগুলো অতিরিক্ত ভাড়া চাইছে। নারী যাত্রীদের কষ্টের কোনো মূল্যই নেই।
তবে যাত্রীরা আশা করছেন, বিকেলের মধ্যে গাড়ির সংখ্যা বাড়ালে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে।
পরিবহন শ্রমিকদের দাবি, যাত্রী বেশি হওয়ায় গাড়িগুলো একাধিক ট্রিপ দিচ্ছে, ফলে সময়মতো সব জায়গায় গাড়ি পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে ভাড়া বৃদ্ধির অভিযোগ অস্বীকার করেন বেশিরভাগ চালক।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, ছুটি শেষে চট্টগ্রাম শহরমুখী মানুষের চাপ বেড়ে যাওয়ায় কিছু এলাকায় সাময়িক পরিবহন সংকট দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ঠেকাতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।








